পোস্টগুলি

পরিবার লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বড় দিনে বাড়িতে বড়দা

ছবি
বড় দিনে বাড়িতে বড়দা - আহা ব্যাপার টা আর কিছুই না। মেসি মূর্তি দেখে আমাদের ও ইচ্ছে হোলো কিছু মূর্তি বানাই। আমরা কপি পেস্ট করিনা মেসি ,শুধু অনুপ্রেরণা হলেই খুশী। জানিনা মেসি বড়দিনে কলকাতা বাসী কে বলেছে কিনা - ওরা জানেনা কি ভুল করছে , ওদের ক্ষমা করে দাও, আমি বরং  সিংহ দেখতে আম্বানি চিড়িয়াখানা যাই। এদিকে কালান্তরে কলকাতা চিড়িয়াখানার বড় হয়ে যাওয়া সিংহ শাবক দের অনুপ্রেরণায় এমন জোরে ঘরে বল ছুড়ে মেরেছি তাতে হাল্ক এর কোমর ভেঙ্গে খান-খান : সাথে সাথে যদিও বলেছি আই এম নট ট্যারা-"হাতের" রিস্ট !বরং বললাম “কম্পিত তনুদল , ছুড়েছি ক্রিকেট বল , শ্যাম হাল্ক এর কোমর এখন কর্তিত কলা “! ব্যাস সাথে সাথে সন্ধ্যা রায় আর ব্রুস্লি মিশেলে একটা ককটেল শুরু হোলো- কান্না ক্যারাটের দোল দোলানো পৌষ মাসের ক্যালানো: “আমার হাল্ক কেনো ভেঙ্গেছ উ উ উ সাথে ইয়াআ হুঁ হু “। তখন আর কি রক্ষে করো ভগবান বাঁচাও এই প্রাণ - ইনভেনশন ইস মা মাটি নেসেসিটি- দিলাম অনুপ্রেরণা জুড়ে। কোমর এর উপর সবুজ বল লাগালাম ধরে। - এই দেখ হাল্ক গেছে, রোনাল্ডো এসেছে! যুবভারতীর প্রবেশ পথ থেকে সোজা এখানে ল্যান্ড করিয়েছি। যাই হোক মেসি ভ...

বাবার নাম বন্ধুরা ভোলে না!

স্কুল এর উঁচু ক্লাসে কিংবা কলেজ লাইফে নিজের বাবার নাম দিনে একবার লেখা বা বলা হলো কি হোলো না, কিন্ত একাধিক বার একাধিক অন্য অনেক মুখ থেকে শোনা যেত। মানে প্রত্যেকে নিজের বাবার নাম এর থেকে বন্ধুদের বাবার নাম বেশী বার উচ্চারণ করতো। সে ভালো ব্যপার! কিন্তু এর পরে প্রত্যেক বাবার নামের সাথে এক একটি উপমা জুড়ে যেত, এটা ছিল বাবা দের নতুন নামকরণ পর্ব-  বুদ্ধি খাটিয়ে সন্তানদের বন্ধুরা কেমন যেন পুনঃ অন্নপ্রাশনের ব্যবস্থা করছে নামকরণের মাধ্যমে । এই নাম গুলো এমন হতে হবে, যার নাম বা উদ্দ্যেশে করা হবে তিনি কিন্তু সন্মুখে কোনোদিনও জানবেন না- এই নীতি টা মোটামুটি সবাই মেনে চলবে,  কিন্ত তার সন্তান যেন ভালো ভাবে জানে, বোঝে এবং যতো জানে ততো লুচির মতোন ফুলে ওঠে! বাবার নতুন নামকরণের ভাবসম্প্রসারণ শুনে সেই সন্তান ও বাধ্য হোতো আমেরিকার মতো পার্ল হারবার ধ্বংসের পরে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে নামতে। এই নব নামকরণে কি যে প্রবল উৎসাহ, এ  আবহমান কাল ধরে বয়েই চলেছে ।  পুনশ্চ: তবে একটা বয়সের পরে গিয়ে সেই নতুন নাম গুলো দেখা যায় ছেদ পড়ছে, আসলে সন্তান দের চুল পাকছে আর নতুন নামের মালিকরা তারার দেশে বড্ড তাড়াতাড়ি ...

জামাই আজি গ্রহান্তরের জীব। মহানন্দে সাজে জামাইর জিভ।।

জামাই ষষ্ঠী তে নিজেকে কেমন একটা দানিকেনের চরিত্র মনে হয়। দানিকেন মানে ঐ যে সেই সব ব্যপার যেখানে দেবতারা গ্রহান্তরের জীব। জামাই ষষ্ঠীর পুণ্য লগ্নে যখন শ্বশুর বাড়ি ল্যান্ড করি প্রতিবারই কেমন একটা দেবতার মর্ত্যে আগমন এর মতো  আবেশ ঘিরে ধরে। বছর এর এই দিনটা মিস করা তাই একদম অসম্ভব হয়ে যায়। ভানুর সেই জীবন্ত মানুষ এর মতো বলতে ইচ্ছে হয় - পুণ্যি ভোগ করছি। আহা, ভোগ মানে পরমব্রতর নতুন "ভোগ" ওয়েব সিরিজ না যেখানে চেয়ে চেয়ে বলতে হবে- ভোগ দাও, খাব। বরং সম্পূর্ণ বিপরীত এক মহাযজ্ঞ চলতেই থাকে। একের পর এক খাবার আসতে থাকে গরম উনুন থেকে নেমে। শ্বশুর বাড়িতে বাবা মা যেন গুপী বাঘার মতো হাতে হাতে তালি দিচ্ছে আর একের পর এক ভিন্ন মাছ, বিভিন্ন মাংস, পঞ্চব্যঞ্জন, মিষ্টি উড়ে উড়ে আসছে। চারিদিকে শুধু খাবার খবর, ব্রেকিঙ নিউজ এর মতো আছড়ে পড়ছে। ঘুমোতে যাওয়ার আগে খাওয়া, ঘুম থেকে উঠে খাওয়া, আহা সে কি অনন্য অনুভূতি। শ্বশুর মশাই সকাল সাড়ে পাঁচটায় খাসি আনতে চলে গেছে, শাশুড়ি মা সকালে সকল উনুন ধরিয়ে দিয়েছে আর আমি সকাল ৯ টায় ঘুম ভেঙে উঠে দেখি সে এক আনন্দ আয়োজন "যা বৃথা আমাকে ছাড়া"! তবে বারো বছরে এই ব্যপার টা...

সময়ের সাথে একটু-একটু করে এক-একটা বছরের দুটো কথা .. শুভ জন্মদিন

ছবি
সময়ের সাথে একটু-একটু করে এক-একটা বছরের দুটো কথা ..  ১ ।  তখন তোমার মাস্টার্স এর সময়। সাগর অতিক্রমে নব উদ্যমে নব যাত্রার অপেক্ষায়।।  ২ । সেদিন ছিলো বছর শেষ এর রাঙা চৈত্রমাস। নতুন ব্যাচের বায়োলজি দিদিমনি রূপে হোলো আত্মপ্রকাশ।।  ৩। সিঁথির সিন্দুর আর পশ্চিমবঙ্গে সিঙ্গুর, ভবিষ্যতে প্রভাব সুদূর।। ৪। দিদি নম্বরে কোনো এক যুগে যাওয়ার সুযোগ হোলো। অপেক্ষা করে, "এইবার বলো"। ৫ । কত না পরিশ্রমে আমার, এ জীবন ধন্য হোলো। বহু যুদ্ধের পরে নতুন রূপে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন অর্জিত হোলো।।  ৬ ।আমি চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী, তোমায় দেখেছি বৃটিশ মিউজিয়মে তোমায় দেখেছি ট্রাফলগর স্কোয়ারে।।  ৭। এসব কি দেখলাম , ইস!! উরিব্বস, এটা লস ভেগাস!!! ৮। এ জীবনে যতো "টুকু" চেয়েছি।   মনে হয় সব পেয়ে গিয়েছি।। ৯। যখন সময় থমকে দাড়ায় । অসম্ভব চ্যালেঞ্জ নিতে মন সায় দেয়।। ১০। শ্বেত-শুভ্র মনে , এই হাসির স্পর্শ থাকুক প্রতিক্ষণে।। ১১। আনন্দিত মুহূর্তক্ষণ- শুভ জন্মদিন ফিরে ফিরে আসুক...

হর্ষে মেতে বছর পরে হাজির হলেম হট্টমেলার দেশে।

ছবি
ছুটির সকালে শহরের শীতলতম দিনেও লেপ-কম্বল ছাড়বেন কি ছাড়বেন না এই দোনোমনা কাটিয়ে আপনি কিছুতেই যখন অনন্ত শয্যা ত্যাগ করতে পারছেন না হঠাৎ ই টুং করে আপনার মনের কোণে উদয় হলো : "আরে আজ অফিস বন্ধু রা তো আমার জন্য অপেক্ষমান - বেঁধে দিয়েছে সময় ধরে গন্তব্যে উপস্থিতির নিদান"। ব্যস,সাথেসাথে আপনি পড়িমড়ি করে উঠে পড়লেন "ওঠো গো ভারত লক্ষ্মী" বলে- ছাড়ো ছাড়ো শয্যা। উঠেই ব্যস্ততার সাথে ছুটোছুটিও শুরু হোলো আপনার। যেন-তেন প্রকারেণ অফিস বন্ধু দের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে পৌছতেই হবে ! কিন্তু যদি"সাধিতে মনের সাধ,ঘটে যদি পরমাদ": আপনি এইবার একটু চিন্তা গ্র্স্ত হলেন- যদি সময়ে পৌছতে না পারেন সেক্ষেত্রে লাল কালি কিন্তু সদা জাগ্রত চির উদ্যত - দেরীতে পৌছলে আপনি আজ  হয়ত কিছু হারাবেন! এরপরেই আপনি এইবার নিজেকে নিজে এক প্রচন্ড ধাক্কা দিলেন : না আজ, এসব নিয়ে ভাবনার কোনো অবকাশ নেই!  আজ কোনো হার নয়, আজ শুধুই জেতার দিন। "হারকে জিত্নে ওয়ালো কো বাজিগর কহেতে হ্যায়"- আত্মবিশ্বাসে ভরপুর মনের হর্ষে কয়েক লক্ষ হর্সের পাওয়ারে চার্জড হয়ে আপনি এইবার সেজেগুজে সপরিবারায়-সবাহনায় বেড়িয়ে পড়লেন।    আচ্ছ...

প্রথম বছরের গিফ্ট অব ম্যজাই

ছবি
তারপর, ভূতেদের আশীর্বাদ নিয়ে ভবিষ্যতের উদ্দেশ্য যাত্রা তো শুরু করল দুজনে মিলে ২৩ শে নভেম্বর ২০১২। একে একে দুজনেই অনেক গুলো নতুন-নতুন ডাক-সম্বোধন-সম্পর্ক খুঁজেও পেলো, বেশ নতুন আনন্দে এগিয়ে চলল সম্পর্কের তরী! এরপরেই,হ্যা ঠিক এক বছরের মাথায় হোলো সেই ঐতিহাসিক ভূল! ঠিক ধরেছেন, প্রথম বিবাহবার্ষিকী দিনটি তেই! একটি অত্যন্ত প্র্য়োজনীয় শিক্ষাও পেল ছেলেটি, জীবন পথের "সারপ্রাইজ" ! একবছরের মাথায় দুজনেই ভাবলো প্রথম বিবাহবার্ষিকী টা অন্য রকম ভাবে উদযাপন করা যাক! মেয়েটি ভেবেছিল হয়ত সবাই কে নিয়ে মিলেমিশে একটি দিন গল্প-খাওয়াদাওয়া এবং আনন্দ-আড্ডা এভাবেই চিরাচরিত পথে পালিত হোক। কিন্তু সেটা হোলো না, কারণ ছেলেটি ভেবেছিল একটু ইউনিক কিছু করলে কেমন হয়!সেই ক্লাস টুয়েলভ এ পড়া "গিফ্ট অব ম্যজাই"এর মতন "সারপ্রাইজ" দিলে কেমন হয়! মেয়ে টাও যখন শুনল তার পতিদেব , পত্নীর মন বুঝে সারপ্রাইজ দিতে উদ্যত তখন সেও বেশ উত্তেজিত, তার মনের মতন সত্যি কিছু হতে চলেছে! কিন্তু সে নিজেও কল্পনা করেনি তার পতিদেবের কল্পনা শক্তি এতোটাই উর্বর! যাই হোক, সেই বিশেষ দিনে অর্থাৎ ২৩ তারিখ সকাল-সকাল সারপ্রাইজের প্ল...

পিতা পুত্রের বয়সের সমষ্টি শাহরুখ খান।

ছবি
"বেটে কো হাত লাগানে সে প্যহেলে বাপসে বাত কর" এই সংলাপ টি এখন আমসমুদ্র হিমাচলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, খুবই জনপ্রিয় সংলাপ। কিন্তু এই সংলাপ টা আজ আমার ব্যবহারিক পারিবারিক জীবনে হঠাৎ এক অত্ভুৎ সব পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। কি ভাবে?শুনতে চান, আচ্ছা  বলছি তাহলে! তার আগে বলি- আজ আমি, আমার পুত্র আর সহধর্মিণীর সাথে জওয়ান দেখে এলাম ভর দুপুরে।সিনেমা দেখে সবাই খুব খুশী ,তিনজনেই বেশ উপভোগ করেছি সিনেমাটি। এর আগে শেষ বার যখন শাহরুখ খানের সিনেমা সিনেমা হলে বসে দেখেছিলাম তখনো লিটিল মাস্টার ধরাধামে অবতীর্ণ হয়নি- ফ্যান দেখেছিলাম তখন। তারপর দীর্ঘ সাত-আট বছর অতিক্রম করে দুই থেকে তিন হয়ে একসাথে দেখলাম শাহরুখের সিনেমা। তা, সে যাই হোক এখন সেই বিচিত্র কাহিনী তে ফেরাযাক। একটু আগে পুত্র কে তার মা পড়তে বসিয়েছে। কিন্তু জওয়ান দিনে কি আর  টেবিল-গ্রামার-যোগ-গুণ-বাংলা বানানে মন বসে তার ? ধ্যামকুঢ়াকুঢ় করে মনে "বে করার করকে মুঝে" বেজেই চলেছে তার সপ্তবর্ষীয় শিশু মনে। সাথে রায় মার্টিন এর মতন প্রশ্ন এর পাহাড়। এটা কেন হোলো, ওটা কি ছিল! এবং, শেষে পড়বনা -পড়বনা ,ছুটি দাও করতে করতে হঠাত সেই কথা টা কানের বারান্দা দিয়...

চোখ তুলে দেখো না পিকনিকে এসেছি: ❤অফিস পিকনিক ❤ জিন্দাবাদ

ছবি
আচ্ছা বলুন তো, বনভোজনে এসে সদ্য মধ্য বয়স্ক মানুষ কি ভাবে ? সত্যি বলতে অনেক চরিত্র ভিন্ন মননে, অনেক কিছুই ভাবে। শুনবেন নাকি সেই ভিন্ন চরিত্রের মধ্যে কিছু কিছু  বিচিত্র কাহিনী? চলুন তবে , শুরু করা যাক তাহলে। বনভোজনের উৎসাহে, মহোৎসাহী মানুষটি আগের দিন রাতেই ঠিক কর নেয় পরের দিন সে বেরোবে সকাল-সকাল। কাকভোরে উঠে পড়বে আর হা-রে-রে করে আছড়ে পড়বে পিকনিক স্পটে আমফানের গতিতে! কিন্তু মানুষ ভাবে এক , সত্যি হয় আরেক! সকালে ঘুম ভেঙ্গে আবিষ্কার করে রোদ উঠেগেছে ঝিলমিলিয়ে গাছের ডালে ডালে : সকাল সবে ৯ টা বেজে গেছে; ব্যস বিনা এলার্মেই স্বপ্নপাত! পূর্বরাতের পিকনিকে শীঘ্র অংশগ্রহণের পূর্বরাগ কখন যে গভীর নিন্মচাপে পরিণত হয়েছে ধরতেই পারবেন না। যাই হোক এর পর সেই মানুষটাই ধনুকের জ্যা মুক্ত বাণের মতন লাফ দিয়ে ছিটকে বেরিয়ে পড়ে অনেকটা ঠিক টাইটানিক শুরুর সিনে জ্যাক এর মতন স্পিডে দৌড় দেয় সোজা পিকনিক স্পটের দিকে, যদিও সময় যত এগোতে থাকে টিফিনের লুচি ততই ধীরে ধীরে শীত ঘুমে ঘুমিয়ে পড়ে। যাই হোক শীতের সকালে শীতল লুচির কুচি খেয়েও হঠাৎ মনে-শরীরের মধ্যে এক আমূল পরিবর্তন আসে। নিজেকে মনে হয় এইত বারো-কি-তেরো, একদিকে নরম...

জাদুঘরে দুই জাদু : কৈ মিল গায়া।।

ছবি
স্কুল ক্লাস নিয়ে উঠেই হঠাৎ একজনের মনে এল আজ তিনজন মিলে কোথাও ভ্রমণ করলে কেমন হয়! পুত্র কে সেই পরিকল্পনা জানাবার সাথে সাথে তৎক্ষণাৎ তার তরফ থেকে নাকচ!  কারণ, সে দাদুর বাড়ির বর্ষশেষ এর "যেমন খুশী থাক" থেকে নিজেকে বিরত করতে চাইল না। অগত্যা বাকি দুই জনে মিলে ঠিক হোল: সব তীর্থ এক বার, কিন্তু যীশু পুজোর অন্তিমে পার্ক স্ট্রিটই  হোক প্ল্যান ঘোরবার। সেই মত শনিবারের বার বেলায় তারা পৌছে গেল পার্ক স্ট্রিট!! কিন্তু টাইমিং টাই এমন বদখত হোল যে, আলোর নীচে অপূর্ব সে আলো; সূয্যি মামা এত আলো ছড়িয়ে দিল যে পার্ক স্ট্রিটের টুনি তখন দিবানিদ্রায়  মগ্ন। হায় হায় - অতকিম! হঠাৎ সূর্যের প্রখর রুদ্রে , দুই জনের মস্তিষ্কে ক্যাপ্টেন স্পার্ক উঁকি দিল।  "ধূপ-ধূপ" করে চেচিয়ে উঠে হাতে হাতে তালি দিয়ে নিজেরা হয়ে গেল "জাদু "।  মনে পড়ল কৈ মিল গায়া !   : অনেক দিন পর, খুদে জাদুকর আসার পর থেকে এইভাবে ভর দুপুরে হঠাৎ প্ল্যান, হঠাৎ অনিশ্চিত ভাবে বেরোন এইগুলো তো সব ইতিহাসের পাতায় লুকিয়ে পড়েছিল। তাই দুই জাদু নিজদের মধ্যে বলে উঠল "আমাদের যে দিন গেছে আজ তা কি শুধুই গেছে, না! একদম না,  আজ সেইসব...

"দশ বছরের ভিতের ভবিষ্যত"

ছবি
"ভূতের ভবিষ্যত" : নামে খুব রোম্যান্টিক সিনেমা বেরিয়েছে; চলো দেখতে যাবে ? ছেলেটা বেশ মধুমাখা সুরে বলেছিল মেয়েটাকে! মেয়েটাও রাজি। বিয়ে ঠিক হয়েছে সুতরাং এইবার একটা সিনেমা দেখাই যেতে পারে একসাথে। বিয়ের আগে এই একটিই সিনেমা দুজ্নে একসাথে দেখেছিল। যাক, দুজ্নেই চলল সিনেমা দেখতে। সিনেমা তো শুরু হোল। একএক করে পর্দা সরছে কিন্তু রোম্যান্টিকতা কোথায়? শুধু হাসাহাসি ,মজা র পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহে। ছেলেটা মনে মনে প্রমাদ গুণল। বুঝল উদম উদ্যমে ডুবিয়েছে। রোম্যান্টিক এর নামে কমেডি সিনেমা দেখাতে এনেছে। চারদিকে শুনছিল এই সিনেমা টা বেশ ভালো হয়েছে ব্যস ভেবে নিয়েছে রোম্যান্টিকই হবে। ঐ যুগে ভালো সিনেমা মানেই রোম্যান্টিকতার  স্পর্শ সে ভির-জারা  হোক বা স্বদেশ হোক শুধু রোম্যান্টিকতার সংজ্ঞা-মাত্রা ভিন্ন থেকে ভিন্নতর হবে। কিন্তু এই সিনেমায় তো সেইসবের নাম গন্ধই নেই। এইবার নিশ্চিত ভাবে ঝগড়া শুরু হবেই হবে। হাফ টাইমের আগেই না বেড়িয়ে যায়। কিন্তু  হঠাৎ পাশে তাকিয়ে দেখল মেয়েটাও খিল খিল করে হাসছে এক-একটি দৃশ্য দেখে! অবাক হয়ে আস্তে আস্তে মেয়েটা কে বলল : মনে হচ্ছে এটা সেরকম রোম্যান্টিক সিনেমা না, ...

"চল, হয়ে যাবে !"

ছবি
"চল, হয়ে যাবে !"  বার বার এই কথাটা মনে পড়ছে, মনে আসছে। নিজের কাছের মানুষ চলেগেলে, হঠাৎ হারিয়ে গেলে প্রাথমিক ধাক্কাটা চলতে থাকে দুই'তিন-চার দিন নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে : একটা ঘোরের মতন!  তারপর- ধীরে ধীরে শূন্যতার বাণী সময়ের প্রলেপ লাগিয়ে দেয় হৃদয়ের অকস্মাৎ ক্ষতস্থানে, দগদগে ঘা হয়ত প্রকাশিত হয়না কিন্তু স্মৃতির অতলে বাস করে চিরতরে,  সাথে থেকে যায় কিছু প্রশ্ন? কেন ও কিভাবে? কিভাবে একটা ছেলে চরম অভাব থেকে পৌছে গেল এক অভ্রলিংহ সাফল্যে?  না , সেই ভাবে একটা পড়ার আদর্শ পরিবেশ বলতে যা বোঝায় তা কোনোদিনই তার ছিল না। ভাড়া বাড়িতে পরিবারের ৯ জন মানুষ এর সাথে একটা ঘরে থেকে ছেলেটার লড়াই শুরু। ডাল ভাত এর বাস্তবিক প্রয়োজনীয়তার সামনে বিরিয়ানি স্বপ্নতো অলীক, সেরকম কোনো বস্তু যে পৃথিবীতে আছে এটাই জানা ছিল না! ১২ ক্লাসে উঠেও জানত না শামি কাপুর ছেলে না মেয়ে! আসে পাশে পাড়ার মানুষের কাজে ফাই ফরমাসে হাসি মুখে এগিয়ে যেত। ইংরেজির নাম শুনলে উল্টোদিকে দৌড় দিত!   হঠাৎ এই জীবন ধারাপাতে সেই ছেলেটাই পাশা পাল্টে দিল, একের পর এক রূপকথা র জন্ম দিল।  ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট এন্ট্রান্স এ...

ঘরের ভিতর স্কুলের লড়াই।।

"আমাদের স্কুলের সামনে তোদের স্কুল ধর্তব্যের মধ্যেই আসে না" কথাটা ছোটপুত্র অনিল এর উদ্দেশ্যে বলেই অবসর প্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী সুবিমল বাবু একটা ব্যঙ্গমিশ্রিত হালকা হাসির রেশ মুখের মধ্যে ছড়িয়ে দিলেন। অনিল নিজের ল্যাপটপে মুখগুজে কাজ করতে-করতে কথাটা শুনল; তারপরেই সশব্দে ল্যাপটপের কি-বোর্ডে এন্টার টিপে বাবার  দিকে ঘুরে বসল, বেশ রাগত-স্বরে গম্ভীরভাবে বলে উঠল: "কি বললে, আমার স্কুল ধর্তব্যের মধ্যেই আসেনা, বলছি নিজে হিসেব পত্তর এর কাজ করেও এই হিসেব মেলাতে পারোনা কেন? " সুবিমল বাবু ভুরুকুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন : স্কুলে আবার কিসের হিসেব মেলবন্ধন করব? বুঝলাম না-রে। আনিল মুচকি হেসে বলল:  হ্যা, স্কুলের হিসেব বললে তখন আর তুমি কিছুই বোঝোনা। প্রতিবার আসো বানর রাজ সুগ্রীবএর মতন আমাকে বালির মতন উত্যক্ত করতে, আর আমি যেই স্কুলের রেজাল্ট এর হিসেব তুলে ধরি তখন পালাই-পালাই করো।  সুবিমল বাবু এই শুনে হোহো করে হেসে উঠে বলল : আরে রেজাল্ট নিয়ে কথা বলিস না তুই, আমাদের স্কুল অঞ্চলের মধ্যে প্রতিবার মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকে-জয়েন্ট এ নিয়মিত প্রথম হয়, সর্বোচ্চ নম্বরটা - সেরা র‌্যাঙ্ক আমাদের স্কুলের থেকেই এই...

লুডো যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র গুটি।।

পুত্র এখন লুডো খেলতে শিখেছে, এবং খেলার সাথে সাথে বেশ উত্তেজিত হয়ে যায় । প্রথম প্রথম তার ঠাকুমা ,দাদু , মা কে বশ করে ভালো ই ম্যাচ ফিক্স করত।  ঘরের মাঠে স্বঘোষিত নিয়ম হল  ছেলের গুটি বড় রা খাবে না, গুটি খাবার চাল গুলো বাদ, তাকে কেউ হারাতে পারবে না। জয় হবে শুধু হীরক রাজের। তো রাজ্য স্তরে বেশ চলল এই বোঝাপড়া টা। যতক্ষণ না কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে বলল এইবার খেলা হবে। একদিন আমি আর ভাই দেখলাম কাজ তাড়াতাড়ি মিটে গেছে। দুজনেই যোগ দিলাম লুডো খেলায়। ছেলে, ছেলের মা, দাদু এক টিম; ঠাকুমা আরেক টিম; কাকাই আরেক টিম আর বাবা মানে আমি আরেক টিম। শুরু হল লুডো র লড়াই।  প্রথমে বেশ কিছু দান দিয়ে ছেলে এগিয়ে এল। একে একে ঠাকুমা ও তার কাকাই ও বেরিয়ে পড়ল দিগ্বিজয় করতে। আমি মোটামুটি কুয়োর ব্যাঙ। সব পড়ছে 6 পড়ছে না। ওয়েটিং লিস্ট এ দাড়িয়েই রইলাম। যাই হোক কিছু দূর গিয়ে দেখলাম ঘটোত্কচ  কর্ন বিষম যুদ্ধ হচ্ছে। ভাইপো দুম করে কাকাইর সব গুটি ঘরে ফেরত পাঠিয়ে দিল । সে কি উল্লাস তার।   ওদিকে ঠাকুমার গুটি যেই তার গুটি খাবে খাবে করছে সাথে সাথে ছেলের হৃদয়ে মোটাভাই এর আবির্ভাব হল। "মি তুমি কি আমায় খাবে, আমরা প্...

প্রথম ভয় : প্রথম জয়।।

ছবি
আখ্যান এক শ্রীমান এর। শ্রীমান বাড়িতে বাইরে এতই শান্ত মাঝে তার বাবা মা ভাবে নিজেদের নাম  পরিবর্তন করে কেশরী- অঞ্জনি রাখবে।  ছেলে পুরো জয় বজরংবলী টাইপ। কিন্তু সেই সব অশোক বন উৎপীড়ন এর সাহস তত ক্ষণ ই তার থাকে যতক্ষন মা সাথে আছে। মা সাথে না থাকলে  "মণী হারা ফণি" হয়ে এমন চিৎকার করে মনে হয় "পবন পুত্র" থেকে "রাবণ" এর রূপান্তর হলো । যাই হোক , বছর খানেক ধরে একটু আধটু চেষ্টা করা হল যেন হনু প্রবৃত্তি ছেড়ে মানুষ হয় । মা ভাবল আবৃত্তি তে চেষ্টা করলে কেমন হয় ? ভবনা অনুসারে পরিকল্পনা হল । 🙏🏼কথামালা সঙ্গীতা🙏🏼 ম্যাডাম এর তত্ত্বাবধানে এবং কৃপায়  ❤বিদিশা আবৃত্তি কেন্দ্রে❤ ঠাই হল সদ্য ৫ উত্তীর্ণ শ্রীমান এর। বেশ মজার ছলে ক্লাস চলল এগিয়ে বছরভর। এর পর এল সেই বিশেষ ঘোষণা। ম্যাডাম জানালেন উনি "পঞ্চকন্যা" শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান করতে চলেছেন এবং সেখানে শ্রীমান এর অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এই অব্ধি ঠিক ছিল , তবে ম্যাডাম আরেকটু জুড়ে দিলেন :  "একা একা স্টেজ এ 40 মিনিট থাকতে হবে। সাথে মা থাকবে না শুধু আবৃত্তি ক্লাস এর বন্ধু দিদি দাদ...

বজ্রপাত এর পূর্বাভাস

ছবি
বাজ পড়া শুরু হলে আজকাল আমাদের বাড়িতে কি হয় !!! পরিবারের কার কাধে কি গুরু দায়িত্ব পড়ে ।। ভাই এই ব্যপারে "সাবজেক্ট ম্যাটার এক্সপার্ট " । ঘরে বসে  ভাবতে থাকে সুইচ গুল কি ভাবে বন্ধ করতে হবে । মানে  এসব করার আগে ঝড়ের গতি মেঘ এর দিক দেখে পরিকল্পনা করে এগোতে এগোতে ঝড় শেষ। তাও হেড ফোন না লাগান থাকলে  !!!! আর হেড ফোন লাগান থাকলে ঝড় যে এসেছিল নীরবে বাবা নামক ফায়ারওয়াল ঐ সময় ডেস্কটপ বন্ধ করতে দেবে না। যুক্তি : আর্থেন করা আছে।  পেছন থেকে মা এর এলার্ট নটিফিকেশন : আজকে ক্ম্পুটার গেল। তারপর দেখ কি করি ।।হ্যা  মা তারপরেই গল্পের বই বা পেপার এ মগ্ন মৈনাক। ছেলে (টুকু) আর  স্ত্রী, ছোট বড় দুই  স্ক্রাম ম্যানেজার। কি কি বন্ধ হল, কি কি বন্ধ হল না সেই আপডেট প্রতি সেকেন্ড এ পাবলিস করে চেচিয়ে মাইকিং করে  ।। হ্যা শেষে রঞ্জিত মল্লিক এর মতন মঞ্চে এলেম আমি। গ্লোবাল ভেরিয়েবেল এর মত দৌড়তে হয়  ।  গরুড় পক্ষীর মতন ডানা মেলে পাম্প, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, ডিশ ওয়াশ , রান্না ঘর  মেশিন এর প্লাগ গুলো খুলতে যাই ।  শুধু ডেস্কটপ বন্ধ করতে গিয়ে বিষ্ণুর অমৃত রক্ষার র মতন...