হর্ষে মেতে বছর পরে হাজির হলেম হট্টমেলার দেশে।
ছুটির সকালে শহরের শীতলতম দিনেও লেপ-কম্বল ছাড়বেন কি ছাড়বেন না এই দোনোমনা কাটিয়ে আপনি কিছুতেই যখন অনন্ত শয্যা ত্যাগ করতে পারছেন না হঠাৎ ই টুং করে আপনার মনের কোণে উদয় হলো : "আরে আজ অফিস বন্ধু রা তো আমার জন্য অপেক্ষমান - বেঁধে দিয়েছে সময় ধরে গন্তব্যে উপস্থিতির নিদান"। ব্যস,সাথেসাথে আপনি পড়িমড়ি করে উঠে পড়লেন "ওঠো গো ভারত লক্ষ্মী" বলে- ছাড়ো ছাড়ো শয্যা। উঠেই ব্যস্ততার সাথে ছুটোছুটিও শুরু হোলো আপনার। যেন-তেন প্রকারেণ অফিস বন্ধু দের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে পৌছতেই হবে ! কিন্তু যদি"সাধিতে মনের সাধ,ঘটে যদি পরমাদ": আপনি এইবার একটু চিন্তা গ্র্স্ত হলেন- যদি সময়ে পৌছতে না পারেন সেক্ষেত্রে লাল কালি কিন্তু সদা জাগ্রত চির উদ্যত - দেরীতে পৌছলে আপনি আজ হয়ত কিছু হারাবেন! এরপরেই আপনি এইবার নিজেকে নিজে এক প্রচন্ড ধাক্কা দিলেন : না আজ, এসব নিয়ে ভাবনার কোনো অবকাশ নেই! আজ কোনো হার নয়, আজ শুধুই জেতার দিন। "হারকে জিত্নে ওয়ালো কো বাজিগর কহেতে হ্যায়"- আত্মবিশ্বাসে ভরপুর মনের হর্ষে কয়েক লক্ষ হর্সের পাওয়ারে চার্জড হয়ে আপনি এইবার সেজেগুজে সপরিবারায়-সবাহনায় বেড়িয়ে পড়লেন।
আচ্ছা,
এতটা পড়ে এইবার একবার ভাবুনতো: ছুটির দিন বলে আপনাদের সাথে আলাপন শুরু হোলো; আবার এদিকে অফিস বন্ধু অপেক্ষমান; সময়ে উপস্থিতির চিন্তা ; লাল কালির খোঁচা; আবার সময়ের মধ্যে না পৌছতে পারলেও কুছ পরোয়া নেই! আপনি সপরিবারে হাসতে হাসতে গন্তব্যের দিকে রকেটের বেগে ধাবমান! আপনি নিজেও এইবার অনুধাবন করছেন: অফিসের গন্ধ গন্তব্যে থাকলেও, এতো নিয়মিত অফিস রুটিন না। তাহলে বলুনতো - ছুটির দিনে অফিস বন্ধুর ডাকে সাড়া দিতে চললেন টা কোথায়?
ও, বুঝতে পেরেছেন! হ্যা, একদম ঠিক ধরেছেন; আপনার আজকের গন্তব্য হোলো আপনার একান্ত আপন: "অফিস পিকনিক"। তাই, একদিকে যখন দুরুদুরু বুকে ভাবছেন সময়ে না পৌছলে প্রাতরাশ পাতিহাঁস হয়ে গোলডিম পেড়ে দেবে আবার পরমুহূর্তেই মনে মনে ভাবতে পারছেন : কোনো পরোয়া নেই! টিফিন মিস হবে তো কি? সারাদিনের ধেয়ে আসা দামোদরের মতন আনন্দ তো আর মিস হবে না! ব্যস এই মন্ত্রে স্নাত হয়ে এরপর সারাদিন আপনি দেখবেন শুধু জিতেই চলেছেন। হ্যা, আপনার অফিস বন্ধুরাও কিন্তু সবাই জিতছে, একসাথে মিলেমিশে জিতছে : এ শুধু জয়ের দিন, এ লগন শুধুই জেতার। কিভাবে? আসলে : বলছোড়া-ক্রিকেট -ফুটবল- ব্যাডমিন্টন-পাসিং দ্য বল- মিউজিক্যাল চেয়ার যতই ভিন্ন-ভিন্ন খেলার নাম হোক আসলে খেলা ছিল একটাই- "একতা"ই। আসল খেলাটাই তো হোলো একসাথে মিশে গিয়ে মেতে ওঠা- একটু ধুলো-মাটি মেখে, কনকনে শীতে ঘেমে সোয়েটার খুলে- চেচিয়ে-লাফিয়ে হঠাৎ চোখ খুলে নিজেদের মুক্ত বিহঙ্গ হিসাবে খুঁজে পাওয়া। আজ সারাদিন কাজের কোনো নাগপাশ নেই! কাল রাত অব্ধি যে মানুষ গুলো আপনার সাথে আপনার পাশে মিটিং-কল-টার্গেট-পেন্ডিং ওয়ার্ক- এর বিষম চাপে রাম গরুড়ের মতন আচরণ করেছে সেই সব অফিস বন্ধুরা সপরিবারে সবাই আজ প্রাণ খুলে হাসছে ; লাফাচ্ছে দৌড়চ্ছে। অফিস জীবনে কেবিনে বন্দী, হাসি ভুলে থাকা হল্লা রাজারা সব ফাঁকা মাঠে আজ হাওয়া খাচ্ছে, সবাই সুখী হচ্ছে। আর উপর থেকে "আয়রে আয়, আয়রে আয় " বোলে এক এক করে আনন্দ মুহূর্ত গুলো মিষ্টি সময়ের হাত ধরে সবার উপর বর্ষিত হচ্ছে টুপটুপ করে একরাশ ভালোলাগার অঙ্গীকার সমেত। অনুভবে আপনিও মনের কোণে বলে উঠলেন : আর যেখানে যাওনারে ভাই সপ্তসিন্ধুপার,অফিস পিকনিকের সুখ স্মৃতি ফিরে আসুক জীবনে বারং বার - একদিনের এই বাৎসরিক পিকনিক, স্মৃতির খাতায় লিখে দিলো শীতের দুপুরের আলতো স্পর্শে নলেন গুড়ের মিষ্টি অফিসের স্বাদ।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ
(পুনশ্চ: দ্বিতীয় বর্ষে হর্ষে মেতে আমাদের অফিস পিকনিক : সবাই অনেক মজা করেছি আজ। বাচ্চারা - বড়ো রা সব আজ মিলেমিশে এক হয়ে খুব আনন্দ হয়েছে। অর্নবদা র "অনুপ্রেরণা"য় অরিন্দম দা, পৃথা এবং বাকি সবাই খুব সুন্দর ভাবে পিকনিক কে সাফল্য মণ্ডিত করেছে - সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন। )
আগের পর্বের লিঙ্ক আগের বছরের স্মৃতি : https://avrasoura.blogspot.com/2023/01/blog-post_8.html
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন