পোস্টগুলি

নিজের মন থেকে পাওয়া আড়াই নম্বর এর লড়াই আজো চলে পুরোদমে!

ছবি
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র মন স্পর্শ করে গেল, কিন্তু মর্ম স্পর্শ করলো কি? - এই রে, এই তো সবে মিলে নিশ্চয়ই বলবেন আরে তুই পাগল নাকি ভাই- এতো সুন্দর প্রশ্ন, এতো বোধমূলক বিষয়ে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখার ব্যপার এটা মনে মেনে নিয়েও মর্মে স্পর্শ করছে না?  আহা, তাহলে ছোট করে দুটি কথা বলি একদম নিজের কথা। এই যে প্রশ্নে এতো গুলো স্বকীয় লেখার বিষয় উঠে এসেছে দেখে পুলকিত হচ্ছেন, একটি বার পিছনে চেয়ে দেখুন, আপনি বাংলা কিংবা ইংলিশ কিংবা যে কোন মাতৃভাষার পরীক্ষা দেওয়ার সময়ে কোন রচনা টা লিখতেন? ভাবুন ভাবুন, এই তো মনে আসছে- বিজ্ঞানের অবদান, আশীর্বাদ না অভিশাপ, কিংবা জীবনের লক্ষ্য। সেই সময়ে একটা সেফ রুট সবাই নিতাম, চেনা জানা রচনা মুখস্ত করে উগরে দেওয়া খাতায়। পরীক্ষক স্যারেরা একটি গড় নম্বর দিতেন রচনায়, ব্যস আমার আপনার গল্প শেষ।  রচনা তে স্বকীয় কিছু বিষয় ভিত্তিক প্রশ্ন থাকতো, কিন্তু প্রায় সিংহভাগ সেটা এড়িয়ে চলত, একটা নিয়ম হয়ে গিয়েছিল রচনা কমন পড়লো কি না! সেফ রুট এসকেপ!! আজ সেই ধ্যান ধারনা নিয়ে বেড়ে উঠে যাদবপুরের প্রশ্ন দেখে যদি মনে হয় ইশস, আমাদের সময়ে যদি এরকম প্রশ্ন থাকতো- আসলে অফ বিট রচ...

ইচ্ছেপূরণ- বিশ্বকাপ কার্টুন পঠন পাঠন!

ছবি
ইচ্ছেপূরণ- বিশ্বকাপ কার্টুন পঠন পাঠন! সেই মহেন্দ্রক্ষণ এর গল্প -যখন ছেলের বই বাবা শনিবার ভর দুপুরে হস্তগত করে ডুবে যায়! এই বইটি সে জন্মদিনে তার কাকাইর তরফে স্পেশাল উপহার হিসেবে পেয়েছে- বিশ্বকাপ স্পেশাল উপহার অফার!! এদিকে বই এর প্রচ্ছদ ও বিষয় দেখে তার বাবা মাঝে মধ্যেই উঁকি ঝুঁকি দিয়েছে বইটা দেখবার জন্য- একে বিশ্বমাস তাতে ফুটছে দুনিয়া কাপে। যাই হোক ,এতদিন সে বই টা একদম ছাড়েনি- আর বাবাও পড়তে পারেনি। কিন্তু কাল চক্র বদলে গেল হঠাত! ছেলের ক্লাস টেস্ট শুরু এবং সাথে সাথে রুল জারি হয়ে গেল; মা বলে উঠল এবার ফুটবল চিন্তা দূর হোক! কিন্তু বৃথা আশা, সে আপাতত ফুটবলের মধ্যে ডুবে আছে দিনরাত! এদিকে এই সমস্যা সমাধানে এবার বাবা এগিয়ে এলো- ছেলের পক্ষ নিয়ে বললো হ্যাঁ দিনে একটা খেলা দেখা হোক তার বেশী না, আর মায়ের পক্ষ নিয়ে বললো পড়ার বই এর বাইরে আপাতত আর কিছু পড়া চলবে না! ব্যাস পলাশীর প্রান্তরে ক্ষমতার শিফট হয়ে গেল- ছেলে বাধ্য হয়ে মেনে নিল একটা ম্যাচ দেখার চুক্তি। তারপর? বিরস বদনে বাংলা বিহার উড়িষ্যার মসনদ তুলে দেওয়ার মতো ব্যাপার - বাধ্য হয়ে সম্পদ তুলে দিল বাবার হাতে! ব্যাস সুযোগ বুঝে শনিবার...

চেনা অচেনা অরুণাচলে পর্ব- ১

ছবি
লামা পর্ব- ক। ছোট্ট লামা পাঠ শেষে ফিরে আসে,খেলে আর ছোটে খ । পাঠ শেষে ফিরে আসে লামা সবে দলে দলে, সেদিনের মতো বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ, ফিরে চলে আসে মঠে। গ। গভীর গম্ভীর আলোচনায় মগ্ন দুই মন ঘ। কাননে কুসুমকলি সকল ই ফুটিল ঙ। তাওয়াং বৌদ্ধ স্কুল- লামা রা এখানে পড়াশুনা করে আগের পর্বে বৌদ্ধ দেব দেবী  দর্শন তো হোলো, কিন্তু মানুষ কোথায়? মানুষ ই তো, দেব, দেবী, দৈত্য,রাক্ষস, খোক্কস ,পুরাণ , পুজো, রীতিনীতি তৈরী করে। চলুন এবার অরুণাচল এর প্রধান দুই মানব বৈচিত্রের দিকে একটু নজর দেই। আজকে একবার ঘুরে দেখি লামা দের বিষয় - বম্বডিলা আর তাওয়াং দুই মনেস্ট্রি তেই দেখেছি ক্ষুদে লামা দের। তারা পড়ছে, খেলছে , হুটোপুটিও করছে একদম ক্ষুদে গুলো। তখন মনে প্রশ্ন জাগলো এই ছোট বয়সে এদের পরিবার থেকে দূরে কেন সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এতে পরিবার এর কি ভূমিকা, বৌদ্ধ সমাজের কি ভূমিকা, এঁরা চাইলে কি আবার গৃহী দুনিয়াতে ফিরতে পারে? লোকাল কিছু মানুষের থেকে আর এদিক সেদিক নেট খূঁজে যা বুঝলাম এই লামা হবার প্রক্রিয়া টাও বৌদ্ধ ধর্মের মতোই সহজ সরল মধ্যম পর্যায়ের। যাওয়া আসার সুয...

আমরা আজকে যুদ্ধ জিতিনি, প্রতিদ্বন্দীর মন জিতেছি!

ছবি
আমরা আজকে যুদ্ধ জিতিনি, প্রতিদ্বন্দীর মন জিতেছি! সাথে একটা না প্রায় দেড় টা প্রজন্ম কে জিতিয়েছি। অনেক বার দুই, শেষ ল্যাপ এ গুরপ্রীত এর ভুল দৌড় কিংবা তারপর অন্ধকারে ডুব দেওয়া - শেষ একদম শেষ অন্ধকার, না সমর্থক রা শেষ হয়নি। হয়না। দীর্ঘ বাইশ বছর, ভাবুন তো কি দীর্ঘ কি অসীম ধৈর্য নিয়ে বসেছিলাম আমরা! আজ ফায়ার এর ফিরে আসার দিন। না আজ আমি কিছু অন্য অভিজ্ঞতা বলবো-  আজ মোহনবাগানের বন্ধুরা খেলা শুরুর আগে এসে বলে যাচ্ছে- "আজ তোরা জিতে ফের", এই আবেগ কোথায় রাখবো? ফেস্বুকে প্রবল মোহন বাগান সমর্থক বলছেন আপনারা জিতুন! প্রতিদ্বন্দী এসে বলছে- ওঠ, বন্ধু বল টা ধর, গোল টা দে। এই মুহূর্ত গুলো ঘটেছে! হ্যা এই মুহূর্ত গুলোই চ্যম্পিয়ন।  ওহ, হ্যা! অফিস যাওয়ার আগে যে জার্সি টা নিয়ে গিয়েছিলাম ব্যাগে, সেটা আজ সগর্বে গায়ে জড়িয়ে আছি , জার্সি মানেই মা! ©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২১ মে ২০২৬। ইস্ট বেঙ্গল জেতার পর। জেতার আগে 

অপেক্ষা, অবসান! লাল সাদা- সেই ভিনদেশী অজানা বন্ধুর জন্য আজকের লেখা!

ছবি
অপেক্ষা, অবসান! লাল সাদা- সেই ভিনদেশী অজানা বন্ধুর জন্য আজকের লেখা! ২০১৪ সাল, লণ্ডন্নের রাস্তায় ঘুরছি। ট্রাফালগার স্কোয়ারে লোকে লোকরণ্য- এর মধ্যে হঠাৎ দেখি এক বয়স্ক মানুষ একটা লাল সাদা পতাকা বুকে আঁকড়ে ধরে আছে, একটা সাইড দেওয়াল খুঁজছে সেটা টানাবে বলে। ফুটবল সম্পর্কে একটু আধটু উৎসাহ থাকায় গিয়ে ওনাকে সটান জিজ্ঞেস করলাম- আজ কি আর্সেনল কিছু জিতেছে? উনি যেন ধড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন প্রশ্ন টা শুনে- "হ্যা আমরা বহু দিন পরে একটা কাপ জিতেছি।" খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম একটা অনামী কাপ জিতেছে ওনার দল বহু দিন পর। তারপর? উনি এমন একটা কথা বললেন যা যেকোন দলের ফ্যান সারা জীবন বলতে চাইবেন-  "অনেক দিন আমরা কিছু জিতি নি, আজ ভালো লাগছে জিতে। আমি আজন্ম অপেক্ষা করবো আমার দল জেতার জন্য, আমার বয়স ৭৪, আজকের পরে জানি না আবার কবে জিততে পারবো, আপনি কি আমাকে ফ্ল্যাগ টা টানাতে একটু সাহায্য করবেন?" - জীবনে রাস্তায় কোনো ফ্ল্যাগ না টানানো হাত দুটো অজান্তে হ্যা বলে দিল! আজ দীর্ঘ বাইশ বছর পরে আর্সেনল বৃটিশ কুলের ফুটবল শিরোমণি জিতেছে- প্রিমিয়র লীগ। সেই ৭৪ এর রাস্তার অজানা ইংরেজ বন্ধু, জানি না আপনি বেঁচে আছ...

পুণ্য হোক, পূর্ণ হোক

ছবি
পুণ্য হোক, পূর্ণ হোক জীবনের রঙ্গমঞ্চে প্রথম নাটক , যাক উতরে গেছে ভালো ভাবেই। রবীন্দ্র দিনে ঠাকুর স্মরণ হোক এভাবে- স্কুলের নাটকে প্রকাশ ভুতু র বাবা র ভূমিকায়, সেই  "পেটে ও পিঠে" নাটকে। পুনশ্চ- অভিনেতার বাবা ও যতদূর ক্লাস ফাইভেই এই নাটক টা পড়েছিল  স্কুলের পাঠ্য বইয়ে, আজ তার পুত্র বাবা সেজে সেই নাটক মঞ্চস্থ করছে সেই ক্লাস ফাইভেই। ঐ আর কি, কেউ পড়ে কেউ আরেকটু এগিয়ে মঞ্চস্থ করে- রবি ঠাকুর বয়ে যায় প্রজন্মের উত্তরণে- এইভাবেই এগোতে থাকুক বাংলার মন বাংলার ঘরে যত ভাই বোন- পুণ্য হোক, পূর্ণ হোক হে- না-আজ ভগবান না বলে বলি হে প্রাণের ঠাকুর রবি ঠাকুর। ১। নাটকের মঞ্চে, পিতার ভূমিকায় অবতীর্ণ। (ভিডিও টা পাওয়া গেছে স্কুল সাইট থেকে, এক মোবাইল থেকে আরেক মোবাইলে ধরা হয়েছে) ২। নাটক শেষে অভিবাদন - শুনলাম স্কুলের খুদে দর্শক রা খুব উপভোগ করেছে নাটক এবং তারা হেসে লুটোপুটি- শেষে করতালি সহযোগে অভিনন্দন! ৩। এই লাল সাদা ফুল গুলো ছাত্রের মা রাত্রি জেগে বানিয়ে দিয়েছে - নাটকের আগের দিন সে এক হুলস্থূল ব্যপার, যাক ঠাকুরের পুজোয় নিবেদিত হয়েছে এই রাত জাগা কাজ। ৪। পিতা র ভূমিকায় মঞ্চে...

এসো আমার ঘরে এসো বাহির হতে অরুণাচলে- পর্ব ১,২,৩,৪,৫

ছবি
জঙ্গ ফলস- কেউ যেন পাহাড় এর উপর ওপার থেকে উল্টে দিয়েছে এক বিশাল জল কলস! ২২ - এপ্রিল ২০২৬ সেলা পাস এর অপরূপ সৌন্দর্য দেখে তাওয়াঙ্গ এর দিকে চলেছি, রৌদ্রজ্বল আকাশ হঠাৎ ট্রাভেলর টা বাঁক নিয়ে ঢুকে গেল এক গলি পাহাড়ি পথে। কি অদ্ভুৎ, একটু একটু গাড়ি এগোচ্ছে আর কেমন মেঘ কুয়াশার আস্তরণ ঘিরে ধরছে, একটু পরে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টির মতো ছাঁট আসছে জানালা দিয়ে। শেষ বাঁক টা ঘুরতেই হঠাৎ দেখি আকাশ থেকে আছড়ে পড়ছে জলের স্রোত, মিশে যাচ্ছে নদীর ধারায়, চলে যাচ্ছে কোন সুদূরে পাহাড়ের আঁকে বাঁকে। ১। হঠাৎ মনে হোলো, আকাশ যেন নেমে আসছে জলের স্রোতে ঝর্ণা বেগে ২। কোনো একদিন ঠিক এরকম একটা প্রকৃতির গল্প লিখতে চাই, বুঝতে পারি; ধরতে পারি না- চোখ বুঝলে দেখতে পাই, আর চোখ খুললে- আরেকবার ফিরে যেতে চাই! ৩। দুই ধারে দুই ধারা, উৎস এক পাহাড়, অন্ত্য এক নদী,উপকরণ এক জল, পার্থক্যে শুধু দুই পথে বয়ে চলা।। ঝর্ণা গুলোর গতি মানুষের মতোই তাই না, কতো আলাদা প্রবাহ,ভিন্ন গতি , অনেক বৈচিত্রময় কিন্তু শেষে সব ধারা মিশে শুধু একক ঝর্ণা নামেই পরিচয়! ৪। একটু দূর থেকে, দেখছি ঝর্ণা পাহাড় নদী একসাথে, পুরোটা মন ভরে। ...