পোস্টগুলি

উঠল বাই তো?ঝুলন সাজাই ।

ছবি
উঠল বাই তো? ঝুলন সাজাই । ব্যাপারটা হচ্ছে ঝুলন , এতো যুগ বাড়ির বাবা মা কাকাই দের গল্পে ঘুরে বেড়াত। “জানিস আমরা ছোটবেলায় মেলার পুতুল গুলো দিয়ে এরকম ওরকম সাজাতাম”, “বন্ধুরামিলে মিশে করতাম”। এতযুগ ধরে বছর বছর এই গল্প শুনে তার আজ ইচ্ছে হোলো চলো ঝুলন সাজাই।  বললাম- আরে ঝুলন তো সেই রবিবার থেকে শুরু হয়েছে। আজ সাজালে অনেক গুলো দিন তো মিস করে ফেললি। - মানে ওই আর কি, অভিভাবক সুলভ কোনও কাজে হ্যাঁচকা টানের বড় বদ অভ্যেস! আজ আপাতত মোবাইল ছেড়ে আপন মনে সাজালো একে একে। একা হাতে সামলেছে, তবে ওই আর কি বড়দিনের গাছ দিয়েদিয়েছে রাধাকৃষ্ণের সামনে- যাই হোক কৃষ্টে আর খ্রিষ্টে তফাত নাই রে ভাই! ২৬ আগস্ট ২০২৬ ঝুলন এর প্রথম পদক্ষেপে দশাবতার কার্ড, প্রথম পদক্ষেপ মানে সিঁড়ির প্রথম ধাপে রেখেছে দশ অবতার কে। যা বুঝলাম ঝুলন এর প্রথম দুই স্টেপে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করেছে । ওই আর কি দশবতার কে সামলে যদি বা কেউ ঢুকতে যায় ইন্ডিয়ান সৈন্য দের দেখতে পাবে ! পাশে কাশ্মীর এর শিকারা! কাশ্মীর ভ্রমণ কালে একসাথে সুন্দর আর সৈন্য দুটোই দেখেছে বছর চার আগে! সেটাই ভেসে উঠেছে। তারপর ন...

তবুও কৃষ্ণ কে আসতে হয়- একটা কুরুক্ষেত্রের জন্য!

তিনি যখন জন্ম গ্রহণ করছেন তখন সে রাতে জন্মানো আরেক শিশু কন্যা সেই মুহূর্তেই জীবনের শেষ প্রহর গুণছে। একজন বাঁচবে একজন মরবে। আহা শুধু একজন? একটু ভেবে দেখুন - নারী পুরুষ এর দ্বন্দ্ব সরিয়ে সেখানে প্রকাশ পাবে এক অন্য  রূপ! আগে ছয় পর্যায়ে ছয় জন চলে গেছে, তারাও পুরুষ ছিল; সেই দিন আরেক নারীও চলে গেল- আসলে সাত টা প্রাণ চলে গেল এক অন্যায় অত্যাচারীর হাতে। সেই অত্যাচারী সাজাও পেলো,  তিনি বড়ো হয়ে সেই অত্যাচারের শিকড় উপড়ে দিলেন, তারপর? না গল্প শেষ নয়- আরেকটু চলুক গল্প? এবার ফিরে দেখাযাক সেই মানুষ টার সেই জন্মে সব থেকে বড়ো রাজনৈতিক কূটনীতি লড়াই যার বিরুদ্ধে বিপরীতে লড়েছিল, সেই লোকটার বৃত্তান্তে- শকুনি। সে ছিল পরিবারের সবার ছোট ভাই, তার বোন কে জোর করে এক জন্মান্ধের সাথে বিয়ে দেওয়া হোলো, প্রতিবাদ করায় পিতা সহ বাকি নিরানব্বই ভাই কে কারাগারে নিক্ষেপ করা হোলো - এক মানুষ সমান খাবার দেওয়া হোলো একশ এক জন কে, পিতা সহ বাকি নিরানব্বই জন সেই খাদ্য ছোট ভাইকে খাইয়ে নিজেরা শেষ হয়ে গেল, ছোট ভাই পরিবারে ঘটে যাওয়া একের পর এক অন্যায়ের প্রতিবাদে কুরু বংশ ধ্বংস করবে শপথ গ্রহণ করলো। আচ্ছা তার বিরুদ্ধে এই অন্যায় ট...

লোহার বাসর ঘর রিকোয়েরমেন্ট ডেলিভারি আর বাগ

ছবি
শিব ঠাকুর বিশ্বকর্মা কে রেফার করল চাঁদ সওদাগর এর কাছে। বিশ্বকর্মা প্রজেক্ট সাইন করে বললো- হ্যাঁ স্যার যা ঘর বানিয়ে দেব কিচ্ছু ঢুকবে না। চাঁদ বললো আহা , না না এমন ভাবে বানাও যাতে আমার পুত্র আর পুত্রবধূ অন্তত ঢুকতে পারে। বিশ্বকর্মা মাথা চুলকে বুঝল রিকোয়ারমেন্ট- মানুষ ঢুকবে বাকি কিছু “sir” এ বাদ । ব্যাস শুরু হয়ে গেল, ঢাই ঢাই লোহার ঘর রেডি হচ্ছে। বিশ্বকর্মার ত্রুটিবিহীন কোড দেখে মা মনসা চাপে পড়ে গেছে ।সোজা মনসা কি বাত শুরু করল রবিবার সকালে -ভাই বিশু, পুরো কোডে একটা বাগ না রাখলে তোকে দুইবেলা এনাকন্ডা আর অজগর দিয়ে মালিশ করব কিন্তু। বিশ্বকর্মা চাপে পড়ে গেছে, দুটো দেশী বিদেশী সাপ যদি দলাই মালাই করে সেটা ভীম বলরাম সহ্য করে নেবে, কিন্তু ওর পক্ষে সম্ভবপর নয় । মনসা র কথা টা কাটাবার চেষ্টা করলো।- কিন্তু জেনেশুনে সিকিউরিটি ব্রেক করানো কি ঠিক হবে ম্যাডাম, এথিকস এর ব্যাপার! সেই শুনে মা মনসা হো হো করে হেসে বললো- তোর আবার এথিক্স? বেশী বললে জগন্নাথ ফাইল টা নারদ কে ওপেন করতে বলবো? (দেব মূর্তি বানাতে দিয়েছে , কিন্তু হঠাত স্টেটাস কলে ভিডিও অন করায় কাজ অর্ধেক করে জগন্নাথ এর নামে ফুল অদৃশ্য) এই কথা উ...

বন্ধুত্ব আর সিস্টেম হিডেন ফাইল সিডি রাইট

ছবি
আমরা ফ্রেন্ডশিপ ডে পালন করতাম কি না মনে নেই, তবে হ্যা পরীক্ষার আগে দল বেঁধে পড়তাম, মানে সারা সেম এর পড়া স্রেফ ১৫ দিনে তুলতে হবে। এবার এতো চাপের মধ্যে মন অন্যদিকে যাতে ডাইভার্ট না হয় তাই কম্পিউটর (ওটা ডেকস্টপ উইন্ডজ 2000 সিরিজ এর প্রাথমিক বিদ্যালয়)  এর সিস্টেম ফোল্ডার এর দশ টা সাগর নদী পেরিয়ে তৈরী লুকানো ফোল্ডার টাও পরীক্ষার আগে আদর করে বলতো, আহা আমি কি চলে যাচ্ছি? আপাতত পড় পাস কর তার পর নীল সাদা অনেক রঙ্গীন ছবি দেখতে পাবি। যাই হোক, এইভাবে কোনো এক সেমে পরীক্ষা শেষ হোলো। ক্লান্ত শ্রান্ত এক বন্ধু, হতাশ জীবনে আশার আলো জ্বালো বলে সে যুগের মহার্ঘ্য  মোশারবিয়ার এর একটি cd দিয়ে বললো- সিস্টেম ফোল্ডার এ ধন সম্পদ যা আছে পাচার করো জলদি! যাই হোক, সেই বন্ধুকে রাইট করে দিলাম। এরপর পরীক্ষা শেষের সেদিন গভীর রাত, ২ ! রিলায়েন্স মোবাইল চেচিয়ে উঠেছে, ফোন ধরেছি। ওপার থেকে ভেসে আসে কি মধুর সব বাণী, পুরো ভালোবাসা আহা ভাষা কি খাসা!! আমি কিন্তু সেই সব ভাষা শুনেও নিবিষ্ট চিত্তে স্থিত বুদ্ধ- শুধু মুচকি হেসে উত্তর দিলাম দেখ কেমন লাগে! সে ঐ শুনে আরো রেগে বলতে থাকল- সেম শেষ, তোকে নতুন সিডি দিলাম ভালো সিস্ট...

নিজের মন থেকে পাওয়া আড়াই নম্বর এর লড়াই আজো চলে পুরোদমে!

ছবি
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র মন স্পর্শ করে গেল, কিন্তু মর্ম স্পর্শ করলো কি? - এই রে, এই তো সবে মিলে নিশ্চয়ই বলবেন আরে তুই পাগল নাকি ভাই- এতো সুন্দর প্রশ্ন, এতো বোধমূলক বিষয়ে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখার ব্যপার এটা মনে মেনে নিয়েও মর্মে স্পর্শ করছে না?  আহা, তাহলে ছোট করে দুটি কথা বলি একদম নিজের কথা। এই যে প্রশ্নে এতো গুলো স্বকীয় লেখার বিষয় উঠে এসেছে দেখে পুলকিত হচ্ছেন, একটি বার পিছনে চেয়ে দেখুন, আপনি বাংলা কিংবা ইংলিশ কিংবা যে কোন মাতৃভাষার পরীক্ষা দেওয়ার সময়ে কোন রচনা টা লিখতেন? ভাবুন ভাবুন, এই তো মনে আসছে- বিজ্ঞানের অবদান, আশীর্বাদ না অভিশাপ, কিংবা জীবনের লক্ষ্য। সেই সময়ে একটা সেফ রুট সবাই নিতাম, চেনা জানা রচনা মুখস্ত করে উগরে দেওয়া খাতায়। পরীক্ষক স্যারেরা একটি গড় নম্বর দিতেন রচনায়, ব্যস আমার আপনার গল্প শেষ।  রচনা তে স্বকীয় কিছু বিষয় ভিত্তিক প্রশ্ন থাকতো, কিন্তু প্রায় সিংহভাগ সেটা এড়িয়ে চলত, একটা নিয়ম হয়ে গিয়েছিল রচনা কমন পড়লো কি না! সেফ রুট এসকেপ!! আজ সেই ধ্যান ধারনা নিয়ে বেড়ে উঠে যাদবপুরের প্রশ্ন দেখে যদি মনে হয় ইশস, আমাদের সময়ে যদি এরকম প্রশ্ন থাকতো- আসলে অফ বিট রচ...

ইচ্ছেপূরণ- বিশ্বকাপ কার্টুন পঠন পাঠন!

ছবি
ইচ্ছেপূরণ- বিশ্বকাপ কার্টুন পঠন পাঠন! সেই মহেন্দ্রক্ষণ এর গল্প -যখন ছেলের বই বাবা শনিবার ভর দুপুরে হস্তগত করে ডুবে যায়! এই বইটি সে জন্মদিনে তার কাকাইর তরফে স্পেশাল উপহার হিসেবে পেয়েছে- বিশ্বকাপ স্পেশাল উপহার অফার!! এদিকে বই এর প্রচ্ছদ ও বিষয় দেখে তার বাবা মাঝে মধ্যেই উঁকি ঝুঁকি দিয়েছে বইটা দেখবার জন্য- একে বিশ্বমাস তাতে ফুটছে দুনিয়া কাপে। যাই হোক ,এতদিন সে বই টা একদম ছাড়েনি- আর বাবাও পড়তে পারেনি। কিন্তু কাল চক্র বদলে গেল হঠাত! ছেলের ক্লাস টেস্ট শুরু এবং সাথে সাথে রুল জারি হয়ে গেল; মা বলে উঠল এবার ফুটবল চিন্তা দূর হোক! কিন্তু বৃথা আশা, সে আপাতত ফুটবলের মধ্যে ডুবে আছে দিনরাত! এদিকে এই সমস্যা সমাধানে এবার বাবা এগিয়ে এলো- ছেলের পক্ষ নিয়ে বললো হ্যাঁ দিনে একটা খেলা দেখা হোক তার বেশী না, আর মায়ের পক্ষ নিয়ে বললো পড়ার বই এর বাইরে আপাতত আর কিছু পড়া চলবে না! ব্যাস পলাশীর প্রান্তরে ক্ষমতার শিফট হয়ে গেল- ছেলে বাধ্য হয়ে মেনে নিল একটা ম্যাচ দেখার চুক্তি। তারপর? বিরস বদনে বাংলা বিহার উড়িষ্যার মসনদ তুলে দেওয়ার মতো ব্যাপার - বাধ্য হয়ে সম্পদ তুলে দিল বাবার হাতে! ব্যাস সুযোগ বুঝে শনিবার...

চেনা অচেনা অরুণাচলে পর্ব- ১

ছবি
লামা পর্ব- ক। ছোট্ট লামা পাঠ শেষে ফিরে আসে,খেলে আর ছোটে খ । পাঠ শেষে ফিরে আসে লামা সবে দলে দলে, সেদিনের মতো বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ, ফিরে চলে আসে মঠে। গ। গভীর গম্ভীর আলোচনায় মগ্ন দুই মন ঘ। কাননে কুসুমকলি সকল ই ফুটিল ঙ। তাওয়াং বৌদ্ধ স্কুল- লামা রা এখানে পড়াশুনা করে আগের পর্বে বৌদ্ধ দেব দেবী  দর্শন তো হোলো, কিন্তু মানুষ কোথায়? মানুষ ই তো, দেব, দেবী, দৈত্য,রাক্ষস, খোক্কস ,পুরাণ , পুজো, রীতিনীতি তৈরী করে। চলুন এবার অরুণাচল এর প্রধান দুই মানব বৈচিত্রের দিকে একটু নজর দেই। আজকে একবার ঘুরে দেখি লামা দের বিষয় - বম্বডিলা আর তাওয়াং দুই মনেস্ট্রি তেই দেখেছি ক্ষুদে লামা দের। তারা পড়ছে, খেলছে , হুটোপুটিও করছে একদম ক্ষুদে গুলো। তখন মনে প্রশ্ন জাগলো এই ছোট বয়সে এদের পরিবার থেকে দূরে কেন সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এতে পরিবার এর কি ভূমিকা, বৌদ্ধ সমাজের কি ভূমিকা, এঁরা চাইলে কি আবার গৃহী দুনিয়াতে ফিরতে পারে? লোকাল কিছু মানুষের থেকে আর এদিক সেদিক নেট খূঁজে যা বুঝলাম এই লামা হবার প্রক্রিয়া টাও বৌদ্ধ ধর্মের মতোই সহজ সরল মধ্যম পর্যায়ের। যাওয়া আসার সুয...