নিজের মন থেকে পাওয়া আড়াই নম্বর এর লড়াই আজো চলে পুরোদমে!
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র মন স্পর্শ করে গেল, কিন্তু মর্ম স্পর্শ করলো কি? - এই রে, এই তো সবে মিলে নিশ্চয়ই বলবেন আরে তুই পাগল নাকি ভাই- এতো সুন্দর প্রশ্ন, এতো বোধমূলক বিষয়ে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখার ব্যপার এটা মনে মেনে নিয়েও মর্মে স্পর্শ করছে না? আহা, তাহলে ছোট করে দুটি কথা বলি একদম নিজের কথা। এই যে প্রশ্নে এতো গুলো স্বকীয় লেখার বিষয় উঠে এসেছে দেখে পুলকিত হচ্ছেন, একটি বার পিছনে চেয়ে দেখুন, আপনি বাংলা কিংবা ইংলিশ কিংবা যে কোন মাতৃভাষার পরীক্ষা দেওয়ার সময়ে কোন রচনা টা লিখতেন? ভাবুন ভাবুন, এই তো মনে আসছে- বিজ্ঞানের অবদান, আশীর্বাদ না অভিশাপ, কিংবা জীবনের লক্ষ্য। সেই সময়ে একটা সেফ রুট সবাই নিতাম, চেনা জানা রচনা মুখস্ত করে উগরে দেওয়া খাতায়। পরীক্ষক স্যারেরা একটি গড় নম্বর দিতেন রচনায়, ব্যস আমার আপনার গল্প শেষ। রচনা তে স্বকীয় কিছু বিষয় ভিত্তিক প্রশ্ন থাকতো, কিন্তু প্রায় সিংহভাগ সেটা এড়িয়ে চলত, একটা নিয়ম হয়ে গিয়েছিল রচনা কমন পড়লো কি না! সেফ রুট এসকেপ!! আজ সেই ধ্যান ধারনা নিয়ে বেড়ে উঠে যাদবপুরের প্রশ্ন দেখে যদি মনে হয় ইশস, আমাদের সময়ে যদি এরকম প্রশ্ন থাকতো- আসলে অফ বিট রচনা, আমাদের প্রশ্নপত্রেও থাকতো। আমাদের শিক্ষক রাও দিতেন একটু আলাদা স্বাদের রচনা প্রশ্ন, সাথে কমন রচনা ।কিন্তু সিংহভাগ কমন রচনা বেছে নিত।
পুনশ্চ- এবার একটা নিজের কথা বলি, ক্লাস সেভেন অব্ধি আমিও সেম রুটে চলতাম কমন রচনার পথে। ক্লাস সেভেন এর হাফ ইয়ার্লি তে একটা রচনা এলো তোমার নিজের ভ্রমণ নিয়ে লেখো, পাশে জ্বল জ্বল করছে বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ, পোখরান পরমাণু, র মতো কমন কিছু রচনা। হঠাৎ কি যে এক ভূত মাথায় চাপলো নিজের তৎকালীন রিসেন্ট ভ্রমণ কাহিনী টা লিখে দিলাম। নিজেও বুঝিনি কি লিখলাম কিন্তু বুঝলাম, কিন্তু যা লিখলাম ভিতর থেকে লিখলাম। বাইরে বেড়িয়ে এসে মা কে বলতেই মা প্রথমে বেশ রেগে গেল, তোকে বাকি কমন রচনা এইভাবে তৈরী করালাম ,কি লিখ্লি ? বললাম কি লিখেছি। মা শুনে বললো হ্যাঁ ঠিক আছে, তবে পড়া গুলোই মুখস্ত লিখতে পারতি। বুঝলাম আমার লেখাটা মা বুঝেছে।যাই হোক, খাতা বেরোলো , আমাদের বাংলার স্যর Subhabrata DasGupta খাতা দেখেছেন, ১০ এ আড়াই পেলাম- ওটাই হায়েস্ট, আমার পরের নম্বর বোধ হয় দেড় ছিল। স্যর ডেকে বললো রচনা টা তে অনেক পরিবর্তন দরকার, প্রচুর বানান ভুল, ঠিক করতে হবে এগুলো, একটু ভালো হওয়ার জন্য - তবে উনি খুশী হয়েছেন নিজে থেকে লিখেছি দেখে। একটা কনফিডেন্স পেলাম। এরপরে শিবাঞ্জন স্যর, Anjan Ghosh স্যর, Subhabrata Chakraborty স্যর , রাজা দা, আরো স্যারেরা নিজে থেকে লেখার বিষয়ে বলতেন, বোঝাতেন।
ও হ্যা, এরপর আর কোনোদিন কোনো পরীক্ষায় চেনা জানা কমন রচনা লিখিনি, মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিকের দিনেও সেম। ও হ্যা আরেকটা বিষয়- ক্লাস সেভেন এর পর এটা সব থেকে বেশী সাপোর্ট করতো মা, আনকমন রচনা মন থেকে লেখা। আজও সেটাই লিখি, মানে ঐ চেষ্টা করি আর কি, স্যর এর দেওয়া দশে আড়াই নম্বর টার কাছাকাছি থাকার, ওর বেশী পাবো ও পারবো না, হয়তো।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ৫ জুলাই ২০২৬
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন