এসো আমার ঘরে এসো বাহির হতে অরুণাচলে- পর্ব ১,২,৩,৪,৫
জঙ্গ ফলস- কেউ যেন পাহাড় এর উপর ওপার থেকে উল্টে দিয়েছে এক বিশাল জল কলস!
২২ - এপ্রিল ২০২৬
সেলা পাস এর অপরূপ সৌন্দর্য দেখে তাওয়াঙ্গ এর দিকে চলেছি, রৌদ্রজ্বল আকাশ হঠাৎ ট্রাভেলর টা বাঁক নিয়ে ঢুকে গেল এক গলি পাহাড়ি পথে। কি অদ্ভুৎ, একটু একটু গাড়ি এগোচ্ছে আর কেমন মেঘ কুয়াশার আস্তরণ ঘিরে ধরছে, একটু পরে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টির মতো ছাঁট আসছে জানালা দিয়ে। শেষ বাঁক টা ঘুরতেই হঠাৎ দেখি আকাশ থেকে আছড়ে পড়ছে জলের স্রোত, মিশে যাচ্ছে নদীর ধারায়, চলে যাচ্ছে কোন সুদূরে পাহাড়ের আঁকে বাঁকে।
১। হঠাৎ মনে হোলো, আকাশ যেন নেমে আসছে জলের স্রোতে ঝর্ণা বেগে
২। কোনো একদিন ঠিক এরকম একটা প্রকৃতির গল্প লিখতে চাই, বুঝতে পারি; ধরতে পারি না- চোখ বুঝলে দেখতে পাই, আর চোখ খুললে- আরেকবার ফিরে যেতে চাই!
৩। দুই ধারে দুই ধারা,
উৎস এক পাহাড়, অন্ত্য এক নদী,উপকরণ এক জল,
পার্থক্যে শুধু দুই পথে বয়ে চলা।।
ঝর্ণা গুলোর গতি মানুষের মতোই তাই না, কতো আলাদা প্রবাহ,ভিন্ন গতি , অনেক বৈচিত্রময় কিন্তু শেষে সব ধারা মিশে শুধু একক ঝর্ণা নামেই পরিচয়!
৪। একটু দূর থেকে, দেখছি ঝর্ণা পাহাড় নদী একসাথে, পুরোটা মন ভরে।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ১৩ মে ২০২৬
সে-লা(পাস) এ কিছু ছবি - ২২ এপ্রিল ২০২৬।
আগের দিন ছিল শুধু মাত্র প্রকৃতির ছবি, কিন্তু সেই প্রকৃতি যদি অবলোকন না করি তাহলে নিজের কাছে সেই প্রকৃতি অসম্পূর্ণ- তাই প্রকৃতির সাথে মিলে মিশে কিছু অনুভূতি যা হবে পাথেয় জীবন স্মৃতি।
১। আজ মন পরিপূর্ণ, উচ্ছ্বসিত - এক গুচ্ছ মনে রাখার মতো প্রকৃতি আজ লেন্স বন্দী হয়েছে।
২। তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফেরে, ও গো মা, প্রকৃতি বাহির অপরূপ রূপে!
৩। যাত্রাপথে প্রথম বরফ স্পর্শ- খেলার জগৎ শুরু!
৪। সেলা লেকের ধারে , দৃষ্টি চরে বেড়ায় কোন সুদূরে।
৫। হাসি মুখে স্বাগত হে অপরূপ প্রকৃতি- মন প্রাণ ভরে অনুভব করি।
৬। একবুক ভর্তি পাহাড়, বরফ আর লেক নিয়ে ফিরে আসি ঘরে, এই সম্পদ একান্ত আপন, একান্তে খূঁজে পাই নিজেরে।
৭। তারপর মেঘ নেমে এলো লেকের মাঝে
৮। সে বহুদূর ঘুরে, বহু স্টেপ ভেঙ্গে নেমেছি সবে, ওঠার সময়ে বোঝা গেছে নামা কতো সহজ, ওঠা কতো কঠিন!
৯। অপরূপ প্রকৃতি দুই চোখ ভরে দেখি।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ১১ মে ২০২৬
সে-লা(পাস)- এই অভিজ্ঞতা খাস, জীবন এর পথে চলন, প্রতিফলন আর অনুধাবন। ২২ এপ্রিল ২০২৬
১। সন্ধিক্ষণ প্রতিফলন- যদি আমি ঐ দুই পাহাড়ের মাঝে থাকতাম কিছুতেই এই সন্ধিক্ষণ প্রতিফলন দেখতে পেতাম না- জীবনে কিছু সন্ধিক্ষণে প্রতিফলন দেখা জরুরি, একটু দূর থেকে- যেখানে ওঠা নামা দূর থেকে দেখা যায়, অনুধাবন করা যায় চড়াই উতরাই!
২। এমন একটা বাঁক জীবনের জন্য তুলে রাখা থাকুক, যেখানে গেলে খূঁজে পাওয়া যাবে অনুভূতির অমূল্য রতন!
৩। আসলে উল্টে দিলে যা ছিল সব থেকে নীচে সেই আবার শিখর তৈরী করে- শেখায় শিখর প্রতিফলনে!
৪।এক অসীম নিস্তব্ধতার ভিতরে নিজের অস্তিত্ব খূঁজে পাওয়া, প্রতিটি নিশ্বাস এর শব্দ শুনতে পাওয়া, আর এক বুক পাহাড়ি শ্বাস, কিছু বরফ এই নিয়েই আবার পথ চলা- পথ চলতে হবে জানতে হবে দেখতে হবে শিখতে হবে , ক্ষুদ্র পদক্ষেপ শেষ হবার আগে অব্ধি এগোতে হবে জীবন কে খুঁজতে!
©️ Dhruba Jyoti Ghosh ছবি গুলো তুলেছে, ভিডিও টা Avrajyoti Ghosh ।
বম্বডিলা - কিছু মজা হাসি উ লা লা। ২১ এপ্রিল
১। হঠাৎ মনে হোলো এই ল্যাম্প পোস্ট টা ঘিরে ফেলি ধরি, কিছু একটা নাম না জানা কিছু কাজ করি
২। আনন্দে খেলে বেড়ায় ছোটে এদিক ওদিক পানে
৩। ছবি ধরার কোনো এক বিরামে ধরা দিলো সে ফ্রেমে
৪। বম্বডিলার পথে কোনো এক কুয়াশা ভেজা ঝর্ণার কোণে।
৫। এই ছবি টা আপলোড এর কারণ একটু ভিন্ন- এই একই ফ্রেমে কতো জন কতো ভাবে পোজ দিচ্ছে, (প্রথমে খেয়াল করিনি, তারপর দেখলাম)।।
৬। একজন ক্যামেরা সেট করতে করতে বাকি দের বোম্বডিলা মনেস্ট্রি মোটামুটিভাবে ঘোরা শেষ। দুই জন ক্যামেরার সামনে অধীর আগ্রহে ঘুর ঘুর করছে কিন্তু সে ছবি আর উঠছে না। আরেকজন আনন্দে জুতো খুলে এমন দৌড়াদৌড়ি করছে লাস্ট এ জুতো খূঁজে পাচ্ছে না।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ৩ মে ২০২৬
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন