ইচ্ছেপূরণ- বিশ্বকাপ কার্টুন পঠন পাঠন!
ইচ্ছেপূরণ- বিশ্বকাপ কার্টুন পঠন পাঠন!
সেই মহেন্দ্রক্ষণ এর গল্প -যখন ছেলের বই বাবা শনিবার ভর দুপুরে হস্তগত করে ডুবে যায়! এই বইটি সে জন্মদিনে তার কাকাইর তরফে স্পেশাল উপহার হিসেবে পেয়েছে- বিশ্বকাপ স্পেশাল উপহার অফার!! এদিকে বই এর প্রচ্ছদ ও বিষয় দেখে তার বাবা মাঝে মধ্যেই উঁকি ঝুঁকি দিয়েছে বইটা দেখবার জন্য- একে বিশ্বমাস তাতে ফুটছে দুনিয়া কাপে। যাই হোক ,এতদিন সে বই টা একদম ছাড়েনি- আর বাবাও পড়তে পারেনি। কিন্তু কাল চক্র বদলে গেল হঠাত! ছেলের ক্লাস টেস্ট শুরু এবং সাথে সাথে রুল জারি হয়ে গেল; মা বলে উঠল এবার ফুটবল চিন্তা দূর হোক! কিন্তু বৃথা আশা, সে আপাতত ফুটবলের মধ্যে ডুবে আছে দিনরাত! এদিকে এই সমস্যা সমাধানে এবার বাবা এগিয়ে এলো- ছেলের পক্ষ নিয়ে বললো হ্যাঁ দিনে একটা খেলা দেখা হোক তার বেশী না, আর মায়ের পক্ষ নিয়ে বললো পড়ার বই এর বাইরে আপাতত আর কিছু পড়া চলবে না! ব্যাস পলাশীর প্রান্তরে ক্ষমতার শিফট হয়ে গেল- ছেলে বাধ্য হয়ে মেনে নিল একটা ম্যাচ দেখার চুক্তি। তারপর? বিরস বদনে বাংলা বিহার উড়িষ্যার মসনদ তুলে দেওয়ার মতো ব্যাপার - বাধ্য হয়ে সম্পদ তুলে দিল বাবার হাতে! ব্যাস সুযোগ বুঝে শনিবার দুপুরে বাবা দখল নিল সম্পদের ,ছুটির মেজাজে মজে গেল বিশ্বকাপের ইতিহাসে!
পুনশ্চ- আহা কি যে মহা সম্পদ পেয়েছি, কার্টুন আকারে সব বিশ্বকাপ, সেরা মুহূর্ত, জয়, পরাজয়, ভাগ্য দুর্ভাগ্য মুহূর্ত গুলো উঠে এসেছে বই এর পাতায়! কত যুগ পরে কার্টুন দেখলাম পড়লাম- ৯৪ থেকে ২০০২ এর ঘটনা গুলো আস্বাদন করলাম, আহা আহা! সত্যিই বইটা ভালো লাগলো! ওহ হ্যা ৭-১ ও আছে, ভগবানের হাত ও আছে এই ঝুলিতে! ও হ্যাঁ ওদিকে আরেকটা ৭-১ চলছে এক মা আর পুত্রের মধ্যে- একজন রেগে বলছে কিছুই পড়িস নি , এবার ডুববি, আরেকজন ভ্যার রেফারি খুঁজছে প্রমাণ এর জন্য যে সে পড়েছে!!
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ! ৪ জুলাই ২০২৬
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন