চোখ তুলে দেখো না পিকনিকে এসেছি: ❤অফিস পিকনিক ❤ জিন্দাবাদ
আচ্ছা বলুন তো, বনভোজনে এসে সদ্য মধ্য বয়স্ক মানুষ কি ভাবে ? সত্যি বলতে অনেক চরিত্র ভিন্ন মননে, অনেক কিছুই ভাবে। শুনবেন নাকি সেই ভিন্ন চরিত্রের মধ্যে কিছু কিছু বিচিত্র কাহিনী? চলুন তবে , শুরু করা যাক তাহলে।
বনভোজনের উৎসাহে, মহোৎসাহী মানুষটি আগের দিন রাতেই ঠিক কর নেয় পরের দিন সে বেরোবে সকাল-সকাল। কাকভোরে উঠে পড়বে আর হা-রে-রে করে আছড়ে পড়বে পিকনিক স্পটে আমফানের গতিতে!
কিন্তু মানুষ ভাবে এক , সত্যি হয় আরেক!
সকালে ঘুম ভেঙ্গে আবিষ্কার করে রোদ উঠেগেছে ঝিলমিলিয়ে গাছের ডালে ডালে : সকাল সবে ৯ টা বেজে গেছে; ব্যস বিনা এলার্মেই স্বপ্নপাত!
পূর্বরাতের পিকনিকে শীঘ্র অংশগ্রহণের পূর্বরাগ কখন যে গভীর নিন্মচাপে পরিণত হয়েছে ধরতেই পারবেন না।
যাই হোক এর পর সেই মানুষটাই ধনুকের জ্যা মুক্ত বাণের মতন লাফ দিয়ে ছিটকে বেরিয়ে পড়ে অনেকটা ঠিক টাইটানিক শুরুর সিনে জ্যাক এর মতন স্পিডে দৌড় দেয় সোজা পিকনিক স্পটের দিকে, যদিও সময় যত এগোতে থাকে টিফিনের লুচি ততই ধীরে ধীরে শীত ঘুমে ঘুমিয়ে পড়ে।
যাই হোক শীতের সকালে শীতল লুচির কুচি খেয়েও হঠাৎ মনে-শরীরের মধ্যে এক আমূল পরিবর্তন আসে। নিজেকে মনে হয় এইত বারো-কি-তেরো, একদিকে নরম কচি অজ সেদ্ধ আর অন্যদিকে ফুটবল পড়ে থাকতে দেখে নিজের মনেই গেয়ে ওঠে :
"আজ হাসি হাসি খাব রাশি রাশি খাসি।
তার আগে ফুটবলে পা দিয়ে হয়ে উঠব মেসি।।"
ব্যস বাসনা থেকেই ক্রিয়ার উদ্রেক; ভীম বেগে সবার হাড় হিম করে এমন একটা দৌড় দেয় বল নিয়ে- যে নিজের শরীরের কলকব্জা গুলো তারস্বরে বলে উঠবে: "সাধ আর সাধ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য এই লোকটা আজকেও বুঝলনা!"
এইভাবে মিনিট দশেকেই লম্ফঝম্প করে পিকনিকের মেসি হরিদাসী মাসি হয়ে জিভ বের করে হাফাতে হাফাতে বলবে: ফুটবল টা কি আর সত্যি এই বয়সে হয় ? তারপরেই, আচম্বিতে পাশে ক্রিকেট এর বল গড়িয়ে যেতে দেখেই অবচেতনে বলে উঠবে : ওহ লভলি, এবার আমি হবো কিং কোহলি!
যাই হোক মেসি, কোহলি সাজার সাথে সাথে তার দুই হাতও সমানে চলবে , আরে না সব্যসাচী না , এখানে বিষয় টাই অন্য। মানে এক হাতে ক্রিকেট বল ছুড়বে তো অন্য হাতে ফিশ বল - চিকেন পকোড়া ঘুরবে ; একই স্থানে একই কালে একই পাত্রে মাল্টিটাস্কিং এর একটি সুন্দর উদাহরণ সৃষ্টি করবে।
এইভাবে মজায় আনন্দে পিকনিক উপভোগ করতে করতে সবাই যখন খেতে বসবে দেখতে পাবে ৪৯ জন আমিষ এর সাথে এক জন নিরামিষ খেতে বসেছে, তখন দেশের গণতান্ত্রিক উদাহরণ এর সুন্দর উদাহরণ এর সাথে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ এর উদাহরণ ও হবে ।
না না , প্রাণী হত্যা সংরক্ষণ নিয়ে বলছি না আপনাদের, বা ঐ এক জন নিরামিষাষী কিন্তু একদমই সংখ্যালঘু না ,
সেই নিরামিষ আহারী মানুষটিই হল সেই মুহূর্তের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি! সবাই অন্তত সেই মানুষ টিকে একটি খাসির টুকরো চিবোতে চিবোতে একবার হলেও সম্ভাষিত করবে: ও আপনি আজ ভেজ খাচ্ছেন। সেই মানুষটিও পরম তৃপ্তি তে ধোকা খেয়ে মাথা দোলাতে দোলাতে বলেওঠে: খাবার তো নিমিত্ত মাত্র, আসল হোল পিকনিকের মজা। সবাই এক সাথে সাধুবাদ সমস্বরে বলে ওঠে একদম ঠিক , আসছে বছর আবার হবে!
তবে গল্প এইখানেই শেষ নয়, পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সেই মানুষ গুলো আবিষ্কার করে আগের দিনের ৭-৮ ঘন্টার পিকনিক অনেক ভালো লাগার স্মৃতি-মুহূর্ত তৈরি করেছে, অনেক দৌড়-ঝাপ, অচেনা অজনা মানুষ এর সাথেও এক নিমিষে মিশে যাওয়ার আনন্দ উপভোগ করেছে। এটাই তো প্রাপ্তি, ওহ! না আরেকটা প্রাপ্তিও হয়েছে। হাটু ব্যথা- কাধে ব্যথা; পা চলছে না; হাত ও ঘুরছে না - আসলে একই অঙ্গে একই সময়ে মেসি-কোহলি-ফেডেরার-হৃত্বিক তো শুধু পিকনিকেই সম্ভব, তাই না!
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।।
[উপরের বর্ণনা ছিল সার্বিক, এইবার যে বর্ণনা তা হল একটি নির্দিষ্ট সুপ্ত বাসনা পূর্ণ হবার:
সত্যি বলতে ১৩‐১৪ বছরের নিজের চাকরী জীবনে দেখেছি পরিবারের বাকি রা সরকারি ক্ষেত্রে, ব্যাঙ্কে বা স্কুলে পিকনিক করত আমি পরিবারের সদস্য হিসেবে জুড়ে যেতাম।
বন্ধু , পাড়া বা আত্মীয়ের মধ্যেও পিকনিক হোত।
কিন্তু নিজের পেশায় ভাবতাম আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি তে পার্টি হয় ,
কিন্তু দিনভর সপরিবারে পিকনিক তো হয়না। ভেবেছিলাম হয়ত হবেও না কোনোদিন। সেই না আজকে ভেঙ্গে হ্যা হোল,
❤আজকে আমাদেরও পিকনিক হোল পরিবার বর্গ কে নিয়ে❤ মধ্যমগ্রামের গঙ্গানগরে।
ধন্যবাদ 🤝❤Arnab Basu দা, Arindam দা, Poulami, Himadri দা❤🤝। এই ভালোলাগার একটা মুহূর্ত স্মৃতি তৈরী হোল তোমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ll
:: আর হ্যা অবশ্যই প্রায় সবার যোগদানে- মিলে সুর মেরা তুমহারা হয়েছে- খুব মজা হয়েছে।
যাদের আজকে পেলাম না অবশ্যই পরের আয়োজনে পেয়ে যাব 🤝 ]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন