জামাই আজি গ্রহান্তরের জীব। মহানন্দে সাজে জামাইর জিভ।।

জামাই ষষ্ঠী তে নিজেকে কেমন একটা দানিকেনের চরিত্র মনে হয়। দানিকেন মানে ঐ যে সেই সব ব্যপার যেখানে দেবতারা গ্রহান্তরের জীব। জামাই ষষ্ঠীর পুণ্য লগ্নে যখন শ্বশুর বাড়ি ল্যান্ড করি প্রতিবারই কেমন একটা দেবতার মর্ত্যে আগমন এর মতো  আবেশ ঘিরে ধরে। বছর এর এই দিনটা মিস করা তাই একদম অসম্ভব হয়ে যায়। ভানুর সেই জীবন্ত মানুষ এর মতো বলতে ইচ্ছে হয় - পুণ্যি ভোগ করছি। আহা, ভোগ মানে পরমব্রতর নতুন "ভোগ" ওয়েব সিরিজ না যেখানে চেয়ে চেয়ে বলতে হবে- ভোগ দাও, খাব। বরং সম্পূর্ণ বিপরীত এক মহাযজ্ঞ চলতেই থাকে। একের পর এক খাবার আসতে থাকে গরম উনুন থেকে নেমে। শ্বশুর বাড়িতে বাবা মা যেন গুপী বাঘার মতো হাতে হাতে তালি দিচ্ছে আর একের পর এক ভিন্ন মাছ, বিভিন্ন মাংস, পঞ্চব্যঞ্জন, মিষ্টি উড়ে উড়ে আসছে। চারিদিকে শুধু খাবার খবর, ব্রেকিঙ নিউজ এর মতো আছড়ে পড়ছে। ঘুমোতে যাওয়ার আগে খাওয়া, ঘুম থেকে উঠে খাওয়া, আহা সে কি অনন্য অনুভূতি। শ্বশুর মশাই সকাল সাড়ে পাঁচটায় খাসি আনতে চলে গেছে, শাশুড়ি মা সকালে সকল উনুন ধরিয়ে দিয়েছে আর আমি সকাল ৯ টায় ঘুম ভেঙে উঠে দেখি সে এক আনন্দ আয়োজন "যা বৃথা আমাকে ছাড়া"! তবে বারো বছরে এই ব্যপার টা এখন শচীন এর শুরুর দিকে মারকুটে ব্যাটিং আর চল্লিশ এর দিকে ব্যাটিং এর মতো হয়ে গেছে। এতো খাবার যা বছর দশ আগেও ধস নামিয়ে দিতাম এখন খেতে বসে মনে হয় নিউটনের বাক্যি বলছি- খাদ্য সাগরের সাইড লাইনে অল্প অল্প খেয়ে এখন আর হাবুডুবু খেতে পারিনা! কি আর করা যাবে, ঘ্রাণ দর্শন আর আয়োজনে ৭৫:২৫ কাটমানি ভোজন হবে ধরেই এখন এগিয়ে যেতে হচ্ছে।  কিন্তু তাই বলে কি সেই সব লোভনীয় খাবার অব্যবহৃত থাকছে? না, একদমই না। এখন এক শেওয়াগ সাথ দিচ্ছে শচীন  কে; সে এসে বলে যাচ্ছে- বাবা, দিদু আর মা দেখলাম কলাপাতাও এনেছে। তার মানে আজ  পাতুড়িও হবে, সাথে খাসির মাংস ও আছে। আমি পতুড়ি শুনে ভিমরী খেয়ে ভাবছি পেট টা এইবার তুবড়ির মতোন ফুলে উঠে ধুম পটাশ হবে মনে হয় ,কিন্তু মা ষষ্ঠীর সম্পদ অভয় দিচ্ছে-  বাবা আজ দুপুরে সাটিয়ে খেলা হবে। আমি আর কি বলি- মনে মনে আমারও পরাণ ও আজ বলে বেড়ায় -

আজ হাসি হাসি জামাই খাবে খাসি,
দেখবে ভারতবাসী।।

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ১ জুন ২০২৫

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"