পিতা পুত্রের বয়সের সমষ্টি শাহরুখ খান।

"বেটে কো হাত লাগানে সে প্যহেলে বাপসে বাত কর" এই সংলাপ টি এখন আমসমুদ্র হিমাচলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, খুবই জনপ্রিয় সংলাপ। কিন্তু এই সংলাপ টা আজ আমার ব্যবহারিক পারিবারিক জীবনে হঠাৎ এক অত্ভুৎ সব পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। কি ভাবে?শুনতে চান, আচ্ছা  বলছি তাহলে!

তার আগে বলি- আজ আমি, আমার পুত্র আর সহধর্মিণীর সাথে জওয়ান দেখে এলাম ভর দুপুরে।সিনেমা দেখে সবাই খুব খুশী ,তিনজনেই বেশ উপভোগ করেছি সিনেমাটি। এর আগে শেষ বার যখন শাহরুখ খানের সিনেমা সিনেমা হলে বসে দেখেছিলাম তখনো লিটিল মাস্টার ধরাধামে অবতীর্ণ হয়নি- ফ্যান দেখেছিলাম তখন। তারপর দীর্ঘ সাত-আট বছর অতিক্রম করে দুই থেকে তিন হয়ে একসাথে দেখলাম শাহরুখের সিনেমা। তা, সে যাই হোক এখন সেই বিচিত্র কাহিনী তে ফেরাযাক। একটু আগে পুত্র কে তার মা পড়তে বসিয়েছে। কিন্তু জওয়ান দিনে কি আর  টেবিল-গ্রামার-যোগ-গুণ-বাংলা বানানে মন বসে তার ? ধ্যামকুঢ়াকুঢ় করে মনে "বে করার করকে মুঝে" বেজেই চলেছে তার সপ্তবর্ষীয় শিশু মনে। সাথে রায় মার্টিন এর মতন প্রশ্ন এর পাহাড়। এটা কেন হোলো, ওটা কি ছিল! এবং, শেষে পড়বনা -পড়বনা ,ছুটি দাও করতে করতে হঠাত সেই কথা টা কানের বারান্দা দিয়ে মনেতে ঢুকল আকুল করিল প্রাণ ই! ছেলে চেচিয়ে তার মাকে উদ্দেশ্য করে বলছে - "বেটে কো হাত লাগানে সে প্যহেলে বাপসে বাত কর" !আমি, না মানে; হঠাৎ ছেলের মুখে এরকম বাণী শুনে চমকে উঠেছি! যুগপত ওর মা আরো বিস্মিত এবং তার থেকেও বেশী ক্রোধান্বিত! "কি বলছিস কি" ,সিনেমার ডায়লগ দিচ্ছিস আমাকে। তোর মজা দেখাচ্ছি!"

ঠিক সেই মুহূর্তে পুত্র আমার পিছনে দাড়িয়ে আমার শরণাগত । আমিও ভাবলাম না, অবোলা শিশু আমার কাছে সাহায্য চাইছে, ঠিক আছে পরিস্থিতির উপর নিয়ন্ত্রণ টানার প্রচেষ্টা করি। সরকার পক্ষের সাথে একটু জওয়ান এর মতন  মীমাংসা করি।
আমি খুব ধীরস্থিরশান্ত ভাবে নরম সুরে, পুত্র কে আড়ালে রেখে মা কে বোঝাতে শুরু করলাম:
"হমম, ওর এইভাবে বলা টা  ঠিক হয়নি। আহ, তুমিও না বাচ্চা ছেলের কথায় রেগে যাচ্ছ! ও কি তোমাকে সরকার পক্ষ হিসাবে আর নিজেকে নিপীড়িত জনগণ হিসাবে ভাবতে পারে, ওর কি সেই বোধ আছে যে সরকার এর দিকে আঙ্গুল তুলবে?
ও তোমাকে ঐ সব না, অন্য কিছু ভেবেই বলেছে।"
সহধর্মিণী ভ্রূকুঞ্চিত করে শীতল স্বরে জিজ্ঞাসা করল: "অন্য কিছু ভেবে বলেছে? তার মানে? কি ভেবে কি বলেছে ও? "
আমি একটু থেমে, তারপর হেসে হাল্কা স্বরে বললাম: "আসলে বুঝলে গিন্নি, ও তোমাকে বিজয় সেতুপতি ভেবেছে, নিজেকে বাচ্চা শাহরুখ আর আমাকে বাবা শাহরুখ ভেবেছে, শিশুমন সহজ সরল ভাবেই ভাবে।"
কিন্তু , এ, এ কি হোলো? আমি মীমাংসা করতে গিয়ে যা হোলো সেটা তো, অনভিপ্রেত ছিল! পুত্রের মা হঠাত করে গান্ধী দিবসে অহিংস ভাবে বলে উঠল: "জওয়ান দেখে খুব উত্তেজনা বেড়েছে দেখছি তোমাদের দুই বাবা ছেলের! ঠিক আছে আজ রাতের বিশেষ খবর : নিজেদের খাবার নিজেরাই জোটাও। আমি নাকি বিজয় সেতুপতি! আরে পুরো পরিবারে আমি শাহরুখের সব থেকে বড় ফ্যান! আর আমাকে ভিলেন বানিয়ে দিল!
ঠিকআছে, আমি অহিংসমতে সম্পূর্ণ অরন্ধন পালন করছি। বাবা-ছেলে বোঝ এইবার কি খাবে! বিনামেঘে বজ্রপাত, রাত অনেক হয়েছে এখন কি ভাবে কি করব! ভাবতে ভাবতেই দেখি ছেলে ফোন টা এগিয়ে দিচ্ছে। আমি অবাক হয়ে বললাম কি ব্যপার ফোন দিয়ে কি হবে?

ছেলে নেচে উঠে বলল:

পহেলে কিয়ে ছাইয়া ছাইয়া,
আব করে তাতা থৈয়া,
বাবা আমি সুইগি জোমটো এপ ইন্সটল কর দিয়া!
ব্যস, আমিও আনন্দে নেচে বললাম রামাইযা ভস্তাভাইয়া; লাল বাহাদুর শাস্ত্রী কে স্মরণ করে বলে উঠলাম: "জয় জওয়ান, জয় কিষাণ!
তারপর আর  কি, খাবার এসে গেল। ছোট ছোট পরিবারে বড়বড় রাগ গলে জল হয়ে গেল, কিন্তু পুত্রের মা খাবার টেবিলে বলে উঠল: "পিকচার অভি বাকি হ্যয় দোস্ত", বাসন গুলো মেজে ফেলো এইবার!
ছেলে এইবার হঠাৎ দল পরিবর্তন করে মায়ের কোলে উঠে এঁটো বাসন গুলোর দিকে তাকিয়ে  বাসন গুলো কে উদ্দেশ্য করে বলছে "বেটে কো হাত লাগানে সে প্যহেলে বাপসে বাত কর"।।

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"