প্রথম ভয় : প্রথম জয়।।

আখ্যান এক শ্রীমান এর। শ্রীমান বাড়িতে বাইরে এতই শান্ত মাঝে তার বাবা মা ভাবে নিজেদের নাম  পরিবর্তন করে কেশরী- অঞ্জনি রাখবে।  ছেলে পুরো জয় বজরংবলী টাইপ।
কিন্তু সেই সব অশোক বন উৎপীড়ন এর সাহস তত ক্ষণ ই তার থাকে যতক্ষন মা সাথে আছে। মা সাথে না থাকলে  "মণী হারা ফণি" হয়ে এমন চিৎকার করে মনে হয় "পবন পুত্র" থেকে "রাবণ" এর রূপান্তর হলো ।
যাই হোক , বছর খানেক ধরে একটু আধটু চেষ্টা করা হল যেন হনু প্রবৃত্তি ছেড়ে মানুষ হয় । মা ভাবল আবৃত্তি তে চেষ্টা করলে কেমন হয় ? ভবনা অনুসারে পরিকল্পনা হল । 🙏🏼কথামালা সঙ্গীতা🙏🏼 ম্যাডাম এর তত্ত্বাবধানে এবং কৃপায়  ❤বিদিশা আবৃত্তি কেন্দ্রে❤ ঠাই হল সদ্য ৫ উত্তীর্ণ শ্রীমান এর। বেশ মজার ছলে ক্লাস চলল এগিয়ে বছরভর। এর পর এল সেই বিশেষ ঘোষণা। ম্যাডাম জানালেন উনি "পঞ্চকন্যা" শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান করতে চলেছেন এবং সেখানে শ্রীমান এর অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এই অব্ধি ঠিক ছিল , তবে ম্যাডাম আরেকটু জুড়ে দিলেন :
 "একা একা স্টেজ এ 40 মিনিট থাকতে হবে। সাথে মা থাকবে না শুধু আবৃত্তি ক্লাস এর বন্ধু দিদি দাদা রা থাকবে।" 
 এই ঘোষণা ঘোষ এর ঘরের মধ্যে এক ইউক্রেন রাশিয়া পরিস্থিতি র উন্মেষ করল।  মা রাশিয়া হয়ে ছেলে কে যুদ্ধে নামাবে , আর ছেলে ইউক্রেন হয়ে  বিভিন্ন প্রশ্ন বানে আর কান্নায় যুদ্ধ থেকে ফেরার হবার  প্ল্যান করবে।
প্রশ্ন১: মা ম্যাডাম বলল আমাকে একা থাকতে হবে, তুমি কি আমাকে ম্যাডাম এর কাছে রেখে চলে আসবে , [চোখের ঈশান কোণে জল] আর কখ্নো নিতে আসবে না ? 
উত্তর: রেখে আসব কেন!!!? আবৃত্তি হলেই নেমে আসবি। বাড়ি চলে আসব ।
প্রস্ন২ : মা তোমরা যদি আমাকে তুলে দিয়ে রাস্তায় চলে যাও[ঘন্টায়  40 কিমি বেগে হাওয়া সহ বৃষ্টি শুরু]? 
 উত্তর: হঠাৎ রাস্তায় যাব কেন, তুই আবৃত্তি করবি শুনব। ভিডিও করব।
প্রশ্ন 3: ভিডিও কে করবে বাবা? 
{হ্যা  আমি বাবা রুপী  জাতিসংঘ , মাঝে মাঝে এই সব ভিডিও তোলা, ক্রিকেট খেলার মতন সমাজ সেবামূলক কাজের জন্যই আমার ডাক পড়ে } 
উত্তর : হ্যা।
হঠাৎ আমফান শুরু "ভয় করছে । আমি কবিতা করব না,,, আ আ আ!!!!!!" 
আমি মনে মনে ভাবলাম আমায় ভিডিও র দায়িত্ব দিলে এত কাদছে নাকি, আগ বাড়িয়ে বললাম" না না  ভিডিও মা করবে" ।
ব্যস পুর ফুলটস পেয়েছে, " মা ভিডিও করলে আমাকে দেখবে কে!!! মা আমি যাবনা" । যাই হোক ছেলে র মা দুর্বাসা র মতন তাকিয়ে  তাকিয়ে হিড়িম্বার মতন প্রায় আমাকে গিলতে এল।। 
সব দোষ অভ্র ঘোষ হয়ে শেষে মা ছেলে দুজনে এক হল। 
এর পর অনেক দিন ধরে বুঝিয়ে বাবা সোনা  কাগের ছানা বকের ছানা করে শেষে আজকে সে মঞ্চে উত্তীর্ণ হল। 

আজ কি বলেছে না বলেছে র থেকেও আমরা শুধু ভেবেছি ছেলে টা একা একা দাড়াতে পারবে তো। যা খুশী বল ,কিন্তু ভ্যাঁ ভ্যাঁ করিস না বাপ আমার, ভয় পাস না। 

যাই হোক শেষ অব্ধি সৌরজ্যোতি ঘোষ  মঞ্চে ❤দাড়িয়েছে❤। ❤আবৃত্তি ও করেছে❤। ভালো  মন্দ এর বিচার এই বয়সে করবই না। অন্তত মা কে ছাড়া মঞ্চে উঠেছে, নিজের কাজ সেরেছে ভয় টা জয় করেছে এটাই পরিতৃপ্তির।

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"