পোস্টগুলি

জুন, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

প্রথমে সংক্ষেপে ৩ নম্বরের টিকা লিখে তারপর ১৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন বিস্তারিত লেখো।।

 তোদের দেশের এই পানীয় টা কিন্ত একঘর ভাই :  বলেই সৌম্য এক একনিমিষে গ্লাস শেষ করে শাল এর কোলে বসলো। পলাশ এর দিকে তাকিয়ে বলল:  কিরে বিপ্লবী, একটা গান ধর তো। এই শালের বনে গান না হলে জমে নাকি রে! উদাস পলাশ আকাশের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিল:  তুই যা টানছিস তোর এখন গিটারের টুং টাং এ কিছু হবে টবে না। যা গিয়ে সুনীল কে বল তোর জন্য লাইভ নাচা গানা র ব্যবস্থা করে দেবে। সৌম্য একটু ভ্যাবাচাকা খেয়ে বলল :  বাব্বা কি রেলা মাইরি তোর! একটা গান করতে বললাম আর তুই সুনীল এর দিকে পয়েন্ট করে দিলি। পলাশ গম্ভীরভাবে বলল : আমি যে ধরনের গান করি তাতে বিপ্লববাদ, সমাজে চেতনা বোধ এর জন্ম দেয়, তোর মতন মদ্য মাতাল কে এই গান শুনিয়ে লাভ নেই, তোর জন্য হাঁড়িয়া মহুয়া খেয়ে ঐ পিন্দরে পলাশের বন আমার দ্বারা হবে না! "দেখলি সুনীল, দেখলি কি সব ফালতু কথা বলে যাচ্ছে। ও বড় বিপ্লবী আমার, কি যে বিপ্লব করে সে তো জানাই আছে । বুকের মধ্যে চে এর ছবি লটকে   আগডুম বাগডুম বলে বেড়ায়। আরে মদের ব্যপারে তুই কি বুঝবি রে! দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস তোরা মানিস নাকি। জানিস পুরাকালে ঋষি রা সোমরস পান করত। এই জঙ্গলে তো সো...

দলছুট এর দলে ফেরা ।।

ছবি
"যাব তাহলে? ওদের কি মনে আছে আমাকে? কি করে মনে থাকবে; অসম্ভব ! ১৮‐২০ টা বছর তো কম কথা নয়। এর মধ্যে কারোর সাথে তেমন দেখাও হয়নি বিশেষ, ঐ সোস্যাল সাইটেই যা কথাহয় এই বছর দুই।কে জানে সেই টান টা কি আছে আর ?  একটা আড়ষ্টতা থেকেই যাবে এখন সামনে গিয়ে দাঁড়ালে। পরিস্থিতি টা ঠিক মেলাতে পারব না পূর্বস্মৃতির সাথে। তার থেকে থাক, যাবনা! কাটিয়েই দেই এইবার।" আপনমনে কথা গুলো বলে শুভ্র অস্থির ভাবে পায়চারি শুরু করল নীলচে আলোর ঘরে। পাশের খাটে  স্ত্রী-পুত্র ততক্ষণে দিনের শেষে ঘুমের দেশে চলে গেছে। খুব অস্থির লাগছে ,  মন উচাটন : যাব "না" টা কি সত্যি মনের ভিতর থেকে আসছে? কে জানে ! ভাবতে ভাবতে খাটে শরীর টা এলিয়ে দেয় শুভ্র। চোখ টা লেগে আসছে : রোল নম্বর তিন: উপস্থিত স্যর। রোল নম্বর চার: উপস্থিত স্যর । রোল নম্বর পাঁচ : ... রোল নম্বর পাঁচ:: স্যরর.. ও এসেছে কিন্তু এখনো ক্লাসে ঢুকতে পারেনি ঐ দেখুন : ক্লাস মনিটর ঋদ্ধি জানাল । এসেছে কিন্তু ক্লাসে ঢোকেনি এর মানে টা কি? নাম ডাকার খাতা থেকে মুখ তুলে ক্লাস টিচার তাকালেন। মনিটর ঋদ্ধি বলল : স্যর ও ক্লাসে আসেনি কিন্তু স্কুলে এসেছে। গেটে বাহাদু...

পদ্মা আমার মা

"কি বলছিস? এটা কি সম্ভব! ঐ ভয়ংকর নদীতে সেতু হবে কি ভাবে? এপার ওপার দেখা যায়না রে সোনাই।" বিস্ময়ের সাথে পুত্র সোনাই কে বলল রাণী দেবী । সোনাই মুচকি হেসে বলছে :  মা এমন ভাবে বলছ যেন সমুদ্রের উপর সেতু হচ্ছে! ওতো একটা নদী ছাড়া আর কিছুই না। আজকাল আটলান্টিক এর উপর নরওয়ে তে ব্রীজ আছে, আমাদের ব্রহ্মপুত্র নদ এর উপর বিশাল ব্রীজ হয়েছে,চীনে কি বিশাল বিশাল সব বাঁধ হয়েছে, আরে  আমাদের গঙ্গার তলায় মেট্রো হয়েছে। পদ্মায় ব্রীজ তৈরীকরা আর এমন কি ব্যাপার তাহলে। মা ছেলের দিকে তাকিয়ে বলল :  আমি তো ব্রহ্মপুত্র বা আটলান্টিক দেখিনি সোনাই কিন্তু সেই ভয়ংকর উত্তাল পদ্মা দেখেছি। উফফ কি ভয়ঙ্কর সেই রাত ভাবলেও এখনো বুক কেপে ওঠে আমার! সোনাই মায়ের মুখে এক ফ্যাকাশে আতঙ্কের ছবি দেখতে পায়। আস্তে আস্তে জিজ্ঞেস করল কি হয়েছিল মা , এ ভাবে মুখ শুকিয়ে  যাচ্ছে কেন তোমার ? পদ্মার কথা শুনে। মা বললেন শোন তাহলে বলছি: আমার বয়স তখন ৭ কি ৮। এপারে তখনো পুরোপুরি আসিনি আমরা।আমার বাবা দেশভাগের পরে কলকাতায় একটা বাড়ি কিনে রেখেছে। সেখানে তোর বড় মাসি আর বড় মামা কে নিয়ে দাদু থাকত। মা মেজদি, ছোটভাই আর আমাকে নিয়ে বাকি জ্ঞাতি দ...

২৩ এর লেসার ইভিল।।

"২৩ এর লেসার ইভিল" কে বলতো মোহন? মোহন বিরক্ত হয়ে বলল উফফ তুই আবার ঘুরেফিরে সেই এক বিষয়ে ঢুকছিস পলাশ, এই বিষয়ে কোনো কথাই বলব না। কলেজে দেখলি তো এই ব্যাপার গুলো নিয়ে কিভাবে ঝামেলা হচ্ছে। রাস্তাঘাটে এই সব করিস না। মোহন অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বসলো । পলাশ মোহন দুই বন্ধুই বিজ্ঞান শাখার ছাত্র,  প্রতিদিন একসাথেই চন্দননগর থেকে কলকাতায় যাতায়াত করে তাই ট্রেনে বাসে অনেকটা সময় গল্প করেই কাটিয়ে দেয় । পলাশ বলে : আরে ভাই এটা অন্য প্রেক্ষিতে বলছি। মোহন বলে ওঠে : আর আমার প্রেক্ষিত শুনে কাজ নেই। সেই তো ঘুরে ফিরে "সুনার বাংলা", "বহিরাগত" এই গুলোতেই ঠেকবে। পলাশ সম্মতির সাথে বলে:  অবশ্যই এই শব্দ গুলোই আসবে কিন্তু সময় টা আজকের হিসেবে না! মোহন মুখ ভেংচে বলল হ্যা আজকের কেন হবে ? বলেই তো দিলি ২৩ এর; মানে সামনের বছরের। পলাশ বলল সব সময় সামনেই দেখবি ভাই? মাঝে মাঝে একটু পিছন পানে তাকিয়ে দেখ- পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন। মোহন বলল না ভাই ক্ষমা কর, তোর পেছনে  ফিরে দেখা মানেই সেই আগের বছর এর ইস্যু কে কি করেছে, করেনি আমার আর দরকার নেই জেনে।পলাশ মিটিমিটি হেসে বলল গুটিগুটি পায়ে আরেকটু পিছি...

দ্রোণ পর্বে সূর্যাস্ত আইন। একুশ মাঝে মিশে গেল ফাইন ।।

দ্রোণ পর্বে সূর্যাস্ত আইন। একুশ মাঝে মিশে গেল ফাইন ।। "আজকেও বিকেলের মধ্যে কাজ শেষ হল না তোর? কোনোদিনই তো সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারিস না, কূর্ম অবতার তুই একটা। বইগুলো এখনও বাধিয়ে উঠতে পারলি না সময়ের মধ্যে? জানিস না প্রতিদিন সন্ধ্যেসন্ধ্যে ডেলিভারি দিতে হয়। কি যে টুকুর টুকুর করিস। দাড়া, তোর ব্যবস্থা করছি আমি।" - কথাটা বলেই রণেন চৌধুরী নিজের টেবিলে ঘ্যাট হয়ে বসল। বসেই আবার হাঁক পাড়ল : এই বিশু যা দুটো চা বলে দে সামনের দোকানে। সিদ্ধার্থ বাবু আপনি চা খাবেন তো? সিদ্ধার্থ বাবু সম্মতি জানাল। বিশু মুখ কালি করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল চা আনতে। ওর ভাগ্যে চা নেই! কোনোদিনই চা থাকেনা  ওর বরাতে,কিন্ত ওকেই বয়ে বয়ে আনতে হয়। রণেন চৌধুরী এই বই বাধাই দোকানের মালিক । প্রায় ৩০ বছর হয়ে গেল এই দোকানে।  কলেজ স্ট্রিট এর অনেক দোকানদার,ক্রেতা , পাঠাগার  তার কাস্টমার ; বিশেষ করে পুরনো বই বাধাই এর অর্ডার আসে দোকানে। আশেপাশে আরো দুটো দোকান থাকলেও এই মাস ছয় সাতেক হলো হঠাৎ যেন লক্ষীর পদধূলি তে ধন্য হয়েছে দোকান। অর্ডার বহুগুণ বেড়ে গেছে। দোকান এর সব সময়ের কর্মচারী সিদ্ধার্থ বাবু একা সামলে উঠতে পারছিলেন না...

প্রাণ ভরিয়ে ভলিনী ছিটিয়ে !

আজকে পিতৃ দিবস। মানে বিশুদ্ধ মার্কিন মতে আজ বাবাদের দিন। হ্যা,বছরে এক দিন এর জন্য বাবা কে উপলক্ষ করে আনন্দ উৎসব।  বাবারাও মনেমনে বেশ খুশী আজকে,  চারিদিকে তারা  বাবা, শ্বশুর রূপে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন বৈদ্যুতিন সমাজ মাধ্যমে। কি সুন্দর ওয়াহ ওয়াহ লাগছে চারদিকে: ছুটির দিনে সদ্য চাকরি পাওয়া সুনীলও ফেসবুক ঘাটতে ঘাটতে ভাবল আমিও বাবা বন্দনা করি তাহলে , কিন্তু কিভাবে করব? আচ্ছা একটা কাজ করি। ছোট বেলা থেকে বাবার শেখানো কিছু নীতি জ্ঞান প্রকাশ করি বরং। ওদিকে কালকে রাতে যা ঘটে গেছে তার রেশ টাও যে কাটছে না এখনো!! সুনীল লিখতে বসল : না বাবা , প্রথমেই এতসব বলছি না যে তুমি ছিলে তাই আজ আমি এইখানে পৌছেছি, মানে এটা তো ধ্রুব সত্যই যে ভূগোলকে আমি এলাম তার কারণ তুমিই; আবার বড় হয়ে উঠলাম সেটাও তোমার ছায়াতেই, মানে এটা তো সত্যি তাই বলে আর শব্দ বর্ধন করি কেন? এসব বলছি না । বলছি দুটো বিশেষ বিষয় এর ব্যপারে । অন্য অনেক বিষয় এর মতন এই দুটো বিষয়ও আমি আর আমার ভাই অনিল, আমার বাবার থেকে শিখেছি বা বলা ভালো শেখার প্রচেষ্টা করেছি; কিন্তু ব্যবহারিক প্রয়োগ হয়েছে ভিন্ন থেকে ভিন্নতর । সেই বিষয় দুটোই একটু আধটু আলোচ...

লিডার এর জন্মদিন কবে?

আচ্ছা নেতাজী র জন্মদিন কবে, বা গান্ধীজি র জন্ম দিন কবে? ভাবছেন এসব আবার কি প্রশ্ন । এতো সবাই জানে , সবাই মানে যেদিন এই নমস্য মানুষ রা ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছেন সেদিনই তো জন্মদিন।। কিন্তু সত্যি কি লিডার এর সেদিনই জন্মদিন? সত্যি কি লিডার হিসেবে সেদিন তার জন্ম দিন নাকি সেই বিশেষ দিন বিশেষ ঘটনা যেদিন আসমুদ্রহিমাচল মেনে নিয়েছিল আজ থেকে এই আমার জনের গণের মনের অধিনায়ক, আজকের এই ঘটনার পর আমার মনে এক লিডার এর জন্ম হল, আজকেই এর জন্মদিন। জটিল হয়ে যাচ্ছে বিবরণ! কি সব বলছি? না না ব্যাপার টা  একদমই সাধারণ, চলুন এই বৃষ্টির সন্ধ্যায় একটা আড্ডাই হয়ে যাক এই নিয়ে। আচ্ছা, আপনার কর্মক্ষেত্রে বা জীবনে চলার পথে বেশ কিছু সময় দেখেছেন আপনি একটি সমষ্টি গত প্রয়াসে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ব্রতী হয়েছেন। সেই সমষ্টিতে একজন মাথা থাকেন । আপনি হয়ত ভাবেন এই মনুষ্য টি আছে আমার নাড়ি নক্ষত্র ধরে কাজে ফাঁকি দিচ্ছি কিনা সেইটা দেখার জন্য, সাথে উপর মহল এ জানান দেওয়া এই দল এক মহাযজ্ঞতে সামিল। আপনি মনে মনে হয়ত জানেন  এই যাগযজ্ঞ তে মাথাটি  হলেন নিশ্চুপ অবতার! কিন্তু আড়ালে হাসেন অন্তর্যামী ।। এইবার সেই মাথার মর্ত্য আবির্...

বাহিরে বারি ঝরে। অন্তর শুদ্ধ করে ।।

বাহিরে বারি ঝরে। অন্তর শুদ্ধ করে ।। দুপুর থেকেই মেঘের ঘনঘটায় আকাশ মুখ ঢেকেছে। অফিস এর ধুলোমাখা ফাইল এর পেছনে পেল্লাই ইংরেজ আমলের জানালা । এই পুরনো সওদাগরী অফিসে একটা সদ্যস্নাত সবুজ ঝলক এনে দিয়েছে বর্ষার পিঙ্গল মেঘ। চারদিকে সবাই মুঠোফোন গগনে গরজে মেঘ- এর আগমনী বার্তা তুলে সমাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। তবে না , সবাই না। "আষাঢ়ের শুরুতেই মেঘ টা ঢুকল তাহলে"! একটু চিন্তিত ভাবেই মধ্য বয়সের দেবেশ বিড় বিড় করে বলে উঠল। আজকেও কি তাহলে একই ব্যাপার হবে ? অস্থির হয়ে উঠল মন টা!! দেবেশ এর কাজ আজকের মতো হয়েই এসেছে, ভাবছে বেরিয়ে পড়বে সন্ধ্যের আগেই বাড়ি ফিরবে। এমনিতেই কালকে অনেক রাত অব্ধি থেকে একটা কাজ করেছে সবাই মিলেমিশে, আজ সকালে খবর এস্ছে সেই পরিশ্রম সাফল্য পেয়েছে। তাই অফিসে সবার আজ বেশ খুশীর মেজাজ । হঠাৎ অফিস বন্ধু রাহুল এসে বলল:  চল ভাই আজ একটু বসি দুজনে,  এই সুন্দর দিনে আষাঢ়স্য দ্বিতীয় দিবসে আনন্দ করি মনের হর্ষে । আজ একটু সোমরস না হলে উদযাপন টাই হবে না। রাহুল কে অবাক করে দেবেশ বলল :  না ভাই আজ যাব না ইচ্ছে নেই। রাহুল বিস্মিত হয়ে বলল: মানে, তোর আজকে হঠাৎ অরুচি হল কেন রে? কালকেই ত...

চেয়ে চেয়ে দেখি সারাদিন । রাজনীতি তে বাজারের ঋণ ।।

আচ্ছা আপনি কি রাজনীতি পছন্দ করেন ? কিন্তু কোন পক্ষ ঠিক বুঝতে পারছি না। পাঁচ দিন ধরে দেখে যাচ্ছি এক এক দিন এক এক দলের পক্ষে মত দিচ্ছেন। প্রথম দিন ভাবলাম লাল, পরের দিন ভাবলাম না এত লাল না গেরুয়া । ওমা পরের দিন দেখি কিসের গেরুয়া ; এত পুরো সবুজ সাথী ;মনে হল চক দে ইন্ডিয়ার শেষ পেনাল্টি হচ্ছে বামেও না ডানেও না একেবারে মাঝে । ও বাবা!!! তার পরেও চেঞ্জ : কালকে দেখি হাত টান মানে হাতের উপর ও টান টা বেশ গভীর। আবার আজকে দেখছি বেশ আমি কারোর না কেউ আমার না নোটার পক্ষে কথা বার্তা বলছেন। বলছি মশাই আপনি কি চান বলুন তো, থুড়ি কাকে চান বলুন তো?  একটু উষ্মার সাথে কথা গুলো বলে প্রায় জুড়িয়ে যাওয়া চায়ে এক চুমুক দিলেন অবসর প্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী সুবলবাবু। "ইসশশ চা টা একদম ঠান্ডা হয়ে গেছেরে, হরি আরেকবার রিপিট কর তো, কি কমল বাবু অসুবিধা নেই তো। ততক্ষণে আপনার এই মাল্টিপার্টি প্রীতির কারণ টাও একটু বুঝিয়ে দিন। হরি অর্ডার শুনেই এক গাল হেসে বলল :  হ্যা হ্যা দিচ্ছি ৬ কাপ চা তো, আপনেরা গল্প করেন । হরি জানে এই দলটা বিকেল থেকে সন্ধ্যে অব্ধি বেঞ্চে বসে অনেক আলোচনা করে । সবাই অব্সৃত চাকুরিজীবী এনারা। প্রতিদিন সান্ধ্য...

"পাচ্ছে হাসি হাসছি তাই । নিজের বেলা কোনো দোষ নাই ।।"

কি অনাসৃষ্টি বলুন দেখি , ভাবলেই কেশ দণ্ডায়মান। তুই ছুড়ি একটা ইংরাজি বলতে পারিস না, আবার ধর্মঘট করছিস। তোর মা ক্ষেপে গিয়ে বলছে মেয়ে ইংরাজি তে বার্তা পাঠায় সে তো পাশ করবেই। আরে দূর দূর তোরা কি বুঝলি কেন তোরা ফেল করেছিস? ঐ যে বিজ্ঞ বিচিত্র সর্ব ব্যাপী জ্ঞানী কাকু কে দেখছিস; তোর "আমরেলা" র ব্যপারে বিশেষ জ্ঞান প্রদর্শন করছে মাথা দুলিয়ে ঘাড় নাড়িয়ে।  সে কিন্তু মোবাইল ব্যবহার করেও তোকে বার্তা পাঠায় সুন্দর ইংরেজি তে। ইংরেজি টা শেখ রে মেয়ে , চল তোকে একটু শেখানোর প্রচেষ্টা করি। জলদি পড় কাকু কি বার্তা দিয়েছে। ছোট বেলায় আমরা জোরে জোরে পড়তাম। তুই জোরেই পড় । দেখি চেষ্টা করে; পড়তে পারিস কিনা  ইংরাজি। "amo bala achi . Tui ki krchs? English jans  na, laja hche tder pajamma dake"  :: আমো বাল আ আছি, তুই কি ক্রছস। ইংলিশ জান্স না, ল্যজা হ্ছে টিদের পাজামা ডাকে" কি ! কি পড়ছিস ? তুই কি বাংলাও পড়তে পারছিস না: ছি: ।  কাকু কিন্ত ১০ বছরে মোবাইল থেকে বাংলা লিখতে শিখে গেছে, ইংরেজি হরফে লেখে বাংলা । সেটাও বুঝঝিস না ছি:। আহা ব্যাপার টা বোঝ, কাকু কে তো আর কোনো পরীক্ষা দিতে হবে না তাই তো ক...

১২ ই জুন : অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি!

না না জন্মের থেকে আমি বিক্ষুব্ধ স্বদেশভূমি সেভাবে দেখিনি, কিন্তু গ্লানির্ভবতি ভারত এর রূপ দেখেছি। কি ভাবছেন নিশ্চয়ই নেহেরু-নেতাজী , দেশ ভাগ, বিভিন্ন সময়ের কিম্ভূত রাজনীতি, বেকারত্ব, আর্থিক প্রতারণা এই গুলোই গ্লানির বিষয় হিসেবে পুনরায় বকবক করে যাব। না, আমি ঠিক এই গুলো নিয়ে বিশেষ বলব না আজকে। অন্য আরেকটা বিষয় নিয়ে একটু বলি? যদি অভয় দেন বলেই ফেলি। সোমবার উফফ দিনটা কেন আসে? আরামের ঘুম টা ভেঙ্গে প্রথম এই কথা টাই মাথায় এল সমীরের। সমীর একটি বহুজাতিক সংস্থায় কাজ করে । এখনই শুরু হবে পাইপাই করে টানা দৌড় আর চলবে সেই শুক্রবার রাত অব্ধি। যাই হোক সকালের কাজকর্ম সেরে একটু লাফালাফি করে কফি নিয়ে খবরের কাগজের পাতায় চোখ বোলাতে না বোলাতেই  হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠল টিং টং । রিমা ; সমীরের স্ত্রী বলল : মনে হয় কাজের দিদি এল, একটু দরজাটা খুলে দাওতো।  আমি সব্জি কাটছি আর মা রান্না বসিয়েছে। অগত্যা বেজার মুখে পেপার তুলে রেখে সিঁড়ি দিয়ে নেমে সমীর উন্মুক্ত দ্বার নীতি নিল। দিদি হাসিহাসি মুখে ঢুকল। সাথে লাল টুকটুকে ফ্রক পরা একটা পুচকে মেয়ে এসেছে । সমীর জিজ্ঞেস করল : দিদি ও কে? তোমার মেয়ে নাকি? দিদি হেসে বলল ...

"তথ্যপ্রযুক্তি আর বিয়ের সম্বন্ধ"

এ আবার কি বিষয়!!! কোথায় এক গোমড়া মুখো গুরুগম্ভীর প্রযুক্তির আলোচনা আর কোথায় এক আনন্দ উৎসব,দুটি মন দুটি প্রাণের মিলন , দুই পরিবার এর "হাম সাথ সাথ হ্যয়" এর সূচনা। এই দুটো কি কখনো এক আসনে বসতে পারে নাকি! অসম্ভব ব্যাপার তো এটা। কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলে দেখবেন তথ্যপ্রযুক্তি ও বিয়ের সাদৃশ্য সত্যিই অপূর্ব। কিন্তু কি ভাবে? না না, আলোচনা একদমই গুরুগম্ভীর ভাবে এগোবে না। এই বিবরণ হবে মাধ্যমিকে কূনোব্যাঙ এর পৌষ্টিক তন্ত্রের একটি সচিত্র বিবরণ এর ন্যায় স্বচ্ছ।  আচ্ছা বিয়ের জন্য প্রথমেই কি করতে হয় বলুন তো? পূর্বরাগ থাকলে প্রণয় নিবেদন আর তা না হলে পাত্রপাত্রীর সন্ধান। তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও একদম এক ব্যাপার। তথ্যপ্রযুক্তি তে প্রধান বিষয় হল প্রজেক্ট এবং এই প্রজেক্ট কে ঘরে নিয়ে আসা হয় নববধূর মতন, পর্যায় গুলো একটু উন্মোচন করলেই সম্পূর্ণ বুঝে যাবেন। শুধু এক্ষেত্রে পাত্র ছাদনা তলাতেই প্রথম নববধু কে দেখে, অনেকটা ১৮০০ শতকের বঙ্গ সমাজের মতন:  বাবার পছন্দ করা পাত্রী কে বিবাহ বাসরে দর্শন। প্রথমেই ক্লায়েন্ট বিবাহযোগ্যার গুরুজনদের মতন  বিজ্ঞপন দিয়ে একটি চিঠি পাঠায় যে একটি সুলক্ষণা তনয়া স্বরূপ সম্ভাব...

কুবাক্য যদি বা কয় । কুমানব কথাপি নয় ।।

কি ভাবছেন? কুবাক্য ,কুমানব এই সব লিখছি তার মানে লেখাতে নীল সাদা মেঘে রোদ্দুর এল গুণগুণিয়ে।  না , একদম ই না। যা গরম উফ্ফ; রোদ, নীল-সাদা তো এখন চাই না; একটু বারি ধারাই চাই। যাই হোক কুবাক্য নিয়ে একটা অভিজ্ঞতার কথাই বলি তাহলে।। বছর ১৮ আগের কথা। সবে কলেজ এ উঠেছি। অনেক নতুন নতুন বন্ধু হয়েছে। কেউ অন্য শহর তো কেউ অন্য জেলা থেকে এসেছে । ছোটন এর সাথে আমার পরিচয় এই পর্বেই। ছোটন এর রেজাল্ট বেশ ভালো, সাথে মায়া মাখানো একটা মুখ। দেখলে বন্ধু কম ভাই বেশী মনে হত। যাই হোক ভালো বন্ধুত্ব হল ওর সাথে।  ইঞ্জিনিযরিং কলেজ , সেই হিসেবে উচু ক্লাসের দাদাদিদি রা পরিচয় পর্ব নামক ঐ একটু আধটু মজা করছে, নতুন নতুন দুই, তিন ,চার অক্ষর এর ইন্টারেষ্টিং ইন্টারভিউ হচ্ছে। আমি কিছুটা পরিচিত সেই সব শব্দ ভাণ্ডার এর সাথে ,মোটামুটি পাশ মার্ক পাচ্ছি। অসুবিধায় পড়ল ছোটন, একে খুব ভালো ছেলে, যে  "বউএর ভাইএর এক কথায় প্রকাশ" শুনলে জিভ কাটে তাকে পরীক্ষায় ডাকল দাদাদিদি রা। দেবশিশু তো নাকাল এর একশেষ, তিন চার তো দূর, দুই অক্ষর এই আটকে গেল  । শাস্তি স্বরূপ ভিআইপি রোড এ প্রতি মিনিট এ গাড়ি গুনে চেচিয়ে চেচিয়ে বলে সেদিন এর মতন ...

"বর্ষা দাড়াল দমদমে"

ভ্যাপসা গরম পড়েছে । প্রত্যেক টা লোক চাতক এর মতন বসে আছে কবে বর্ষা আসবে, আর ভাসবে? মনের মধ্যে গব্বর সম চেচিয়ে বলছে "কব হ্যায় বরিষ"।সত্যি তো কবে এই বঙ্গভুমে বৃষ্টি প্রবেশ করবে?  বর্ষা র আগমন নিয়ে বিখ্যাত কবি ব্যক্তিত্ব রা কত কিই না বলে গেছেন, করে গেছেন । কেউ লিখেছেন "আষাঢ়স্য প্রথমদিবসে মেঘমাশ্লিষ্টসানুং" তো কেউ বলেছেন "গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা" , কেউ  আবার মেঘ মন্দ্র স্বরে গেয়েছেন  "আষাঢ়, কোথা হতে আজ পেলি ছাড়া। মাঠের শেষে শ্যামল বেশে ক্ষণেক দাঁড়া ॥" , আরেকজন তো সিনেমাতে দেখিয়েই দিলেন বর্ষার প্রবেশ : গ্রামের পথের ধারে পুকুর পাড়ে ইন্দ্রলুপ্ত চকচকে টাকে টপ টপ করে বর্ষার প্রথম জল পড়ল,  বাংলার পাতাও নড়ল। একটু পরে মা দুর্গা নবকুমারীর সাজে ভিজে উঠল । যাই হোক আমি হলাম অতি সাধারণ ডেলি প্যাসেঞ্জার। তাই আমার কাছে বর্ষা আসে বনগা শাখার রেলগাড়ির মতন ভঙ্গিমায়।। কিভাবে ? বলছি শুনুন::  প্রথম ঘোষণা :  দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু আরব ও বঙ্গোপসাগর এর উপর দিয়ে শীঘ্রই বইতে চলেছে। জন সাধারণ কে জানান হচ্ছে এই বার মেঘদূত কালিদাস এর ফুলপঞ্জিকা না মেনে ৭-১০ দিন আগেই ঢুকে গেছে ।  ...

"আগামীকাল ৫ জুন কি করব ? ভাবছি"

আরে হ্যা, এ বছর তো জামাই সেজে ষষ্ঠী পালন করবই, শেষ দুই বছর মিস করেছি।। কিন্তু যে থাপ্পড় যে শিক্ষা টা এই দিন বাজারের এক দোকানি ভাই এর থেকে পেয়েছিলাম সেটা কি করে ভুলব? ভুলব না কোনো দিনই। কি হয়েছিল? বছর পাঁচেক আগে রাতে অফিস থেকে ফিরছি। অফিস ফেরত পথে আমার একটা অত্ভুৎ শখ বিরাটি বাজার ঘুরে ঘুরে টুক টুক করে কলা টা মুলো টা কেনা। কিনি কম , কিম্তু সব দোকান ভর্তি সাজানো আনাজ, মাছ, ফল এই গুলো দেখতে বেশ ভালো লাগে। আর কতো দোকানি দাদা, মাসি,কাকু, বৌদি , ভাই, বোন, দাদু : আরো  কত রকমের যে ডাক সম্পর্ক তৈরী হয়ে যায়। তাদের কারোর বাড়ি ফুলিয়া তো কারোর বাড়ি হাসনাবাদ আবার কেউ কেউ স্থানীয়। তো এদের খবরাখবর, কি ভাবে আসে যায় এই গুলো নিয়েও মাঝে মধ্যে গল্প হয় , এক সুন্দর মানসিক আদান প্রদান ।  যাই হোক, সেদিন একএক করে দোকান ঘুরছি,কথাও হচ্ছে ফল সব্জি কেনা কাটিও চলছে । আমার হাতে এক এক করে ব্যাগ জমা হচ্ছে। নিজেকে মধ্যম পাণ্ডব বা হাল্ক এর মতন মনে হচ্ছে, দুই হাতে গোটা ৬ প্লাস্টিক এর ব্যাগ।  যদিও এই ব্যাগ দেওয়া নিয়ে কয়েকদিন আগেই পৌরসভা নির্দেশিকা জারি করেছে : পাতলা প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করা চলবে না। কে পাত্...

"রেজাল্ট এর জয় বীরু আর মৌসিজী "

চার দিকে আজকে একটা বেশ রেজাল্ট রেজাল্ট ভাব । এর মধ্যে অনেক জ্ঞানী গুনী সাধারণ মানুষ এর বিশেষ জ্ঞান এর বার্তা ছড়িয়ে আছে, কিন্তু আমার বিষয় টা অন্য, আমি এক জন কে বিশ্বাস করেছিলাম কিন্তু সে একদম কথা রাখেনি। এই ঘটনা পনের বছর আগের। কলেজে সারা বছর আমি এত পড়াশুনা করতাম যে পরীক্ষার এক দেড় সপ্তাহ আগেই মনে হত এইবার বই টা কিনতেই হবে। কমন রুম , ক্যান্টিন এ সময় কাটিয়ে শিয়রে সমন কালে বই যোগাড় করতাম। ছোট বেলার ছাত্রবন্ধু  বড় বেলায় ম্যাট্রিক্স নাম নিয়ে আমার গাণ্ডীব হত নেক্সট দশ পনের দিনের জন্য ।  যাই হোক পরীক্ষা কি ভাবে হত সেই বৃত্তান্ত আরেকদিন । আজকে বলছি তৃতীয় সেমেস্টার এর রেজাল্ট বেরিয়েছে সেই ঘটনার কথা। যথারীতি  টেনে টুনে সেবার লাইন ওফ কন্ট্রোল পার করেছি কিন্তু নম্বর এর যা অব্স্থা পুরো আজকের শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি।  বাড়িতে কিছু বলি টলি নি। মা প্রতিদিনই সিবিআই জেরা করছে আর আমি সততার সাথে বলে যাচ্ছি  এই কারণেই দেশ এর এই হাল মা; কেউ সময়ের কাজ সময়ে করে টরে না , সব ফাকিবাজ নম্বর ওয়ান ।। এইবার রেজাল্ট কিছু বেরোবে না পরের বার একসাথে দুই সেমেস্টার এর ফল দেবে । মা অবাক হয়ে বলল এরকম হয় না...

"ছোড় আয়ে হাম ...পেয়ার কে ওয় পল "

প্রচন্ড গরম লাগছে । দর দর করে ঘামছে। জল খাচ্ছে । প্রচন্ড অসুবিধা  হচ্ছে, খুব কষ্ট হচ্ছে বোঝা যাচ্ছে। তবুও জীবনের গান গেয়ে চলেছেন ।  কিন্তু মানুষ গুলো সরল না!!!!! পাস পেয়েছি যে। কেন ছাড়ব । ৩০০০ জনের যায়গায় ৫০০০ জন ঢুকব। অক্সিজেন এর দায় আমাদের নাকি। গরম এর দায়  আমাদের নাকি, এক বার ঢুকেছি যখন পুরো দেখব।  কি দেখবি? কি দেখলি । এক অঙ্কুশ হীন মত্ত করী র মতন দাড়িয়ে দেখলি সেই প্রাচীন সত্য টা :  "যোগ্যতম জিতবে" । কিন্তু যে মানুষ টা তোদের এই লড়াইয়ে ই ছিল না,  যে মানুষ টার সব থেকে বেশী অক্সিজেন দরকার ছিল তার জন্য রাখলি না ছিটে ফোটাও?    যে লোকটা কালকে সর্ব সমক্ষে বলেছে এ কে?সেই লোক টা সারাজীবন যেমন গরল দহনে জ্বলবে তার থেকেও বেশী জ্বলবে আমাদের  মতন পাস ভোগী মন গুলো!!!  আমরা ফ্রিএর পাস পেলে এমন ভাবে হামলে পড়ি বনের হিংস্র পশু ও এই ভাবে জীবন ধারণের জন্য  লড়তে লজ্জা পায়। একবার ও ভেবে দেখিনা স্থান কাল পাত্র মিলছে কিনা!!!! এই মেলা আদতে সম্ভব কিনা। আমাদের শেলফি, স্ট্যাটাস আপডেট, আমার আনন্দ অন্য কার কি অসুবিধা হল কিনা তাতে বয়েই গেল ,আমি তো জিতে গেলাম। আ...

"বীরপুরুষ থেকে সাপুড়ে"

সে প্রায় দুই আড়াই যুগ আগের কথা। বোধ হয় প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণী তে উঠেছি। স্কুলে গরমের ছুটি পড়ে গেছে ।ঐ সময় পাড়ায় পাড়ায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর একটা বাতাবরণ তৈরী হত। আমাদের পাড়াতেও শুরু হল এই উৎসব এর মহড়া।  সায়ক দা র মা, বাবা সহ পুরো পরিবারই সাংস্কৃতিক : কেউ তবলা বাজায় কেউ গান করে তো কেউ আবৃত্তি। পড়ায় এই গুরুদায়িত্ব পড়ল তাদের ই উপর। কাকিমা বেশ দায়িত্ব নিয়ে আমাদের মতন কচিকাচা দের জড়ো করে এক এক জন কে বলে দিল এক একটা কবিতা আবৃত্তি করতে হবে, গাইতে হবে বা নাচতে হবে। আমি পড়লাম কবিতা পাঠের  দলে। আমার এক বন্ধু গোবিন্দ ও এল দলে। গোবিন্দ আমার একদম পাশের বাড়ির বন্ধু, এটা ওর দাদুর বাড়ি,এখানে থেকেই পড়াশুনা করে । ওর মাসি খুব কড়া ,পারলে ওকে সারাদিন পড়ায় ।  যাই হোক এক এক করে কবিতা নির্বাচন করা হল কে কোনটা বলবে। গোবিন্দ পেল "কুমোর পাড়ার গরুর গাড়ি " , আর আমার ভাগ্যে পড়ল "বীরপুরুষ"। প্রথমেই আমার একটু রাগ হল সায়ক দা র মা কাকিমা র উপর, আমার কুমোর পাড়া মুখস্থ ছিল কিন্তু এখন আবার নতুন কবিতা মুখস্থ করতে হবে। যাই হোক এইবার শুরু হল প্রস্তুতি পর্ব। গোবিন্দ ওর মাসির তত্বাবধানে কুমোর পড়ার গরুর গা...

লুডো যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র গুটি।।

পুত্র এখন লুডো খেলতে শিখেছে, এবং খেলার সাথে সাথে বেশ উত্তেজিত হয়ে যায় । প্রথম প্রথম তার ঠাকুমা ,দাদু , মা কে বশ করে ভালো ই ম্যাচ ফিক্স করত।  ঘরের মাঠে স্বঘোষিত নিয়ম হল  ছেলের গুটি বড় রা খাবে না, গুটি খাবার চাল গুলো বাদ, তাকে কেউ হারাতে পারবে না। জয় হবে শুধু হীরক রাজের। তো রাজ্য স্তরে বেশ চলল এই বোঝাপড়া টা। যতক্ষণ না কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে বলল এইবার খেলা হবে। একদিন আমি আর ভাই দেখলাম কাজ তাড়াতাড়ি মিটে গেছে। দুজনেই যোগ দিলাম লুডো খেলায়। ছেলে, ছেলের মা, দাদু এক টিম; ঠাকুমা আরেক টিম; কাকাই আরেক টিম আর বাবা মানে আমি আরেক টিম। শুরু হল লুডো র লড়াই।  প্রথমে বেশ কিছু দান দিয়ে ছেলে এগিয়ে এল। একে একে ঠাকুমা ও তার কাকাই ও বেরিয়ে পড়ল দিগ্বিজয় করতে। আমি মোটামুটি কুয়োর ব্যাঙ। সব পড়ছে 6 পড়ছে না। ওয়েটিং লিস্ট এ দাড়িয়েই রইলাম। যাই হোক কিছু দূর গিয়ে দেখলাম ঘটোত্কচ  কর্ন বিষম যুদ্ধ হচ্ছে। ভাইপো দুম করে কাকাইর সব গুটি ঘরে ফেরত পাঠিয়ে দিল । সে কি উল্লাস তার।   ওদিকে ঠাকুমার গুটি যেই তার গুটি খাবে খাবে করছে সাথে সাথে ছেলের হৃদয়ে মোটাভাই এর আবির্ভাব হল। "মি তুমি কি আমায় খাবে, আমরা প্...

"🇮🇳দেশের খেয়া তরী তোমাকে বইতে পারে না" :

ছবি
সানুকি মারু জাহাজ এর দৃশ্যপট থেকে ধীরে ধীরে খিদিরপুর ডক দিগন্তে মিশে গেল। জাহাজের এখন  কোনো পিছুটান নেই সদ্য ছেড়ে আসা বন্দর এর প্রতি, কিন্তু দায়িত্ব কর্তব্য আছে গন্তব্য ও আছে, আর আছে ছেড়ে আসা বন্দর এর স্মৃতি, প্রতিজ্ঞা  । বছর ২৯ এর এক মানুষ নির্লিপ্তভাবে দেখে নিল চার দিকের অতল জলসম্ভার । রবি ঠাকুর এর আত্মীয় হয়ে জাহাজে সফর করছে ,একটু তো কাব্য গদ্য সাহিত্য  মনে আসবেই  পি .এন. ঠাকুর এর!!! ওহ এই টা তো জাহাজের জন্য ধার করা নাম! হ্যা এতদিন দেশে অন্য সাহিত্য চর্চা ই করেছেন তিনি। উচ্চশিক্ষিত হয়ে ব্রিটিশ এর চাকরী নিয়ে ভারত থেকে ব্রিটিশ কেই ভাঙার গদ্য রচনা করলেন নিভৃতে। ১৯১২ সালে ব্রিটিশ ভারতের প্রধান বড়লাট হার্ডিঞ্জ কে হাতির পিঠে সর্বসমক্ষে রাজপথে বোম মেরে জখম করার নিখুত পরিকল্পনা সফল হল। চার দিকে খোজ খোজ কে আছে এর পিছনে। তিনি কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে পরের দিন ব্রিটিশ এর কাজে গেলেন। এমন কি নিজের গুপ্ত পরিকল্পনা র সাফল্য আস্বাদন করে প্রকাশ্যে হার্ডিঞ্জ এর উপর  হামলার বিরোধিতা করলেন!!!!   তিনি এটা মাথায় গেথে নিয়েছিলেন লোহা লোহা কে কাটে। প্রবল শক্তিধর ব্র...

।। 🙏🏼মঙ্গল🙏🏼 ❤গামলা🤔 ।।

ছবি
 মঙ্গল চন্ডী গামলায় ডুবে গেল। বিস্ময়কর তাই না!!!  এত্ত বড় সাত সমুদ্র কমলে কামিনী থেকে কি করে গামলার মধ্যে চলে এল ঠাকুর। তবে গোড়ার থেকেই বলি আমার দেখা এই মঙ্গলচন্ডী ঠাকুরএর পূজো র কথা, তার ভাসান এর কথাও।। ছোট্ট সময় মঙ্গলচন্ডী পুজোর দিন সক্কাল সক্কাল মা র হাত ধরে দিদুন বাড়ি যেতাম ট্রেনে করে । পাইকপাড়ার মণীন্দ্র রোডের  বাড়ি টা তখন লোকে লোকারন্য। ৪  থেকে ৫ ঘর পরিবার আত্মীয়ের মতন(পরে শুনেছিলাম সবাই ভাড়াটে) মিলে মিশে থাকত। দুই মামা দুই মাসি বড়দাদু দিদুন মিলে ৬ জন এর জন্য বরাদ্দ এক ঘরে পূজো হত হৈ হৈ করে,প্রতিবেশী আত্মীয় সবাই একসাথে ।  তারপর দুলে দুলে দিদুন এর ব্রতকথা " বামুন সৈ এর কথা "। ওদিকে আমি তাকিয়ে রইলাম দই মিষ্টি র দিকে। ব্রত কথা শেষ হতেই আক্রমণ।।  এরপর ঠাকুর চলল টালা পার্কে র পুকুরে টাল খেয়ে ডুব দিতে। বড় মাসীমুনী বুঝিয়ে দিল এই পুকুরের নিচে ঠাকুরের বাড়ির রাস্তা আছে। ঠাকুর ডুব দিয়ে বাড়ি চলে যায়। পরের দৃশ্য শেয়ার্ড ভাড়া বাড়ি থেকে দিদুন এর বিরাটি তে সিঙ্গেল ভাড়া বাড়ি। দিদুন এর পরিবার একটু বেড়ে গেছে।  বড় মাইমা র সাথে ঘরে তখন ছোট্ট ম...