লিডার এর জন্মদিন কবে?
আচ্ছা নেতাজী র জন্মদিন কবে, বা গান্ধীজি র জন্ম দিন কবে? ভাবছেন এসব আবার কি প্রশ্ন । এতো সবাই জানে , সবাই মানে যেদিন এই নমস্য মানুষ রা ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছেন সেদিনই তো জন্মদিন।। কিন্তু সত্যি কি লিডার এর সেদিনই জন্মদিন?
সত্যি কি লিডার হিসেবে সেদিন তার জন্ম দিন নাকি সেই বিশেষ দিন বিশেষ ঘটনা যেদিন আসমুদ্রহিমাচল মেনে নিয়েছিল আজ থেকে এই আমার জনের গণের মনের অধিনায়ক, আজকের এই ঘটনার পর আমার মনে এক লিডার এর জন্ম হল, আজকেই এর জন্মদিন। জটিল হয়ে যাচ্ছে বিবরণ! কি সব বলছি? না না ব্যাপার টা একদমই সাধারণ, চলুন এই বৃষ্টির সন্ধ্যায় একটা আড্ডাই হয়ে যাক এই নিয়ে।
আচ্ছা, আপনার কর্মক্ষেত্রে বা জীবনে চলার পথে বেশ কিছু সময় দেখেছেন আপনি একটি সমষ্টি গত প্রয়াসে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ব্রতী হয়েছেন। সেই সমষ্টিতে একজন মাথা থাকেন । আপনি হয়ত ভাবেন এই মনুষ্য টি আছে আমার নাড়ি নক্ষত্র ধরে কাজে ফাঁকি দিচ্ছি কিনা সেইটা দেখার জন্য, সাথে উপর মহল এ জানান দেওয়া এই দল এক মহাযজ্ঞতে সামিল। আপনি মনে মনে হয়ত জানেন এই যাগযজ্ঞ তে মাথাটি হলেন নিশ্চুপ অবতার! কিন্তু আড়ালে হাসেন অন্তর্যামী ।।
এইবার সেই মাথার মর্ত্য আবির্ভাব তিথি তে আপনারা দল বেধে ননীসম কেক আনেন, সেই কেক খান অনেকে আবার মুখমণ্ডলের পরিচর্যাও করেন সানন্দে। তারপর সেই দিন টি ততদিন মনে রাখেন বা রাখার চেষ্টা করেন এক চেনা মানুষের জন্মদিন হিসেবে। কিন্তু......
ভাবুন তো সেই দিন টা কি হৃদয়ে স্থান পেয়েছে আপনার? নাকি সেটি একটি তথ্য হয়ে মস্তিষ্কের ২কোটি ৫০ লক্ষ জিবি-র এক কোণে ধুলোমেখে শুয়ে থাকে? বরঞ্চ এই মানুষ টার সেই লিডার হয়ে ওঠার বিশেষ দিন টার পূর্ণ বিবরণ মনে থাকলেও তারিখ টা হয়ত মনে নেই!!
আপনি বলেই দিলেন: আরে ঐ দাদা ঐ দিদি কে আমাদের মনে আছে; উফফ কিভাবে সবার সাথে লড়ে সেদিন আমার পাশে ছিলেন বা,
ঐ মানুষ টা একার কাধে দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছিলেন যখন মোক্ষম সময়ে বাকি দল দিশেহারা একা হাতে সামাল দিয়ে পথ দেখিয়েছিলেন কি ভাবে সমস্যার সমাধান হবে। আপনার মনে সেইদিন থেকেই জন্ম নিল এক লিডার এর, আপনি অঙ্গিকার করলেন এই মানুষটার উপর আমি নির্ভয়ে চলতে পারি যেখানে খুশী। ওহহ দেখেছেন এই আলোচনা করছি কিন্তু কোনো রেফারেন্সই দিচ্ছি না। উদাহরণ দিয়েই বোঝাই ।
এক ক্রিকেট ম্যাচ এ দলের প্রধান চার-পাঁচ মহারথী ফিরে গেছে সাজঘরে, সাঝ নেমেছে দেশের মনে । এই ম্যাচ না জিতলে শ্রেষ্ঠত্বের আসন থেকে বিদায় নিশ্চিৎ । এই দুর্যোগ মাথায় নিয়ে দলের মাথা নামলেন মাঠে;
তারপর তার ধনুক থেকে ছিটকে বেরোল এক এক করে ব্রহ্মাস্ত্র, পাশুপাত , টঙ্কারে কেপে উঠল সবুজ গালিচা । যে বিপক্ষ এতক্ষণ দাঁত নখ বের করে হিংস্র পশুর মতন চীরে দিচ্ছিল তার দলের মনোবল; সেই বিপক্ষের সামনে নটরাজ তান্ডব নৃত্য শুরু করলেন।
যখন তিনি স্বেদদলিত অপরাজিত হয়ে ফিরলেন : দেখলেন পুরো দল এর চোখে বিস্ময়, শ্রদ্ধা, তার হয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে জিতে ফিরবার আগুন ঝরছে।
তিনি মাথা থেকে উন্নীত হলেন লিডারে।
পুরো দল, পুরো দেশ দেখল এক লিডার এর জন্ম!!
জন্মদিন হল তার পৃথিবীতে আসার দিন কিন্তু হৃদয়ে স্থান পেল তার সেই বিখ্যাত ঘটনাটা যখন :
"দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল,
ভূলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল,
আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান, হও আগুয়ান,
হাঁকিছে ভবিষ্যত।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি,
নিতে হবে তরী পার!! "
আজ সেই বিখ্যাত অপরাজিত ১৭৫ এর দিন : ১৮ ই জুন ১৯৮৩।।
এক ক্যাপ্টেন এর লিডার হয়ে ওঠার দিন।। কপিল দেব নিখঞ্জ সারা ভারত কে আজকেই দেখিয়েছিলেন কিভাবে লিডার এর জন্ম হয়, একটা দল কিভাবে লিডার এর আদর্শে নিজেদের রাঙিয়ে নিয়ে স্বাধীনতার পরে জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন ছিনিয়ে নিয়ে আসতে পারে (২৫ শে জুন ১৯৮৩)।।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন