"রেজাল্ট এর জয় বীরু আর মৌসিজী "
চার দিকে আজকে একটা বেশ রেজাল্ট রেজাল্ট ভাব । এর মধ্যে অনেক জ্ঞানী গুনী সাধারণ মানুষ এর বিশেষ জ্ঞান এর বার্তা ছড়িয়ে আছে, কিন্তু আমার বিষয় টা অন্য, আমি এক জন কে বিশ্বাস করেছিলাম কিন্তু সে একদম কথা রাখেনি। এই ঘটনা পনের বছর আগের।
কলেজে সারা বছর আমি এত পড়াশুনা করতাম যে পরীক্ষার এক দেড় সপ্তাহ আগেই মনে হত এইবার বই টা কিনতেই হবে। কমন রুম , ক্যান্টিন এ সময় কাটিয়ে শিয়রে সমন কালে বই যোগাড় করতাম। ছোট বেলার ছাত্রবন্ধু বড় বেলায় ম্যাট্রিক্স নাম নিয়ে আমার গাণ্ডীব হত নেক্সট দশ পনের দিনের জন্য ।
যাই হোক পরীক্ষা কি ভাবে হত সেই বৃত্তান্ত আরেকদিন । আজকে বলছি তৃতীয় সেমেস্টার এর রেজাল্ট বেরিয়েছে সেই ঘটনার কথা। যথারীতি টেনে টুনে সেবার লাইন ওফ কন্ট্রোল পার করেছি কিন্তু নম্বর এর যা অব্স্থা পুরো আজকের শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি।
বাড়িতে কিছু বলি টলি নি। মা প্রতিদিনই সিবিআই জেরা করছে আর আমি সততার সাথে বলে যাচ্ছি এই কারণেই দেশ এর এই হাল মা; কেউ সময়ের কাজ সময়ে করে টরে না , সব ফাকিবাজ নম্বর ওয়ান ।। এইবার রেজাল্ট কিছু বেরোবে না পরের বার একসাথে দুই সেমেস্টার এর ফল দেবে । মা অবাক হয়ে বলল এরকম হয় নাকি?
বেশ ঘ্যাম নিয়ে বললাম আরে ইঞ্জিনিয়ারিং এ এরকম ই হয় , রাস্তা ব্রীজ এর প্ল্যান হয় কিন্তু সব পাকাপোক্ত করে বানাতে সময় লেগে যায় দেখো না!!
আমাদের লেখা গুলো স্যর রা কম্পুটার এ পড়বে তো , এই গুলো থেকে অনেক নতুন আইডিয়া বেরোবে। তাই দেরি করছে। হয়ত দেখবে আমার আইডিয়া টা সবার বেশ ভালো লাগল।
মা বেশ একটা বিস্মিত হয়ে বলল আমাদের সময়ে বি এস সি তে তো এরকম হত না!!!
ওদিকে আরেকটা সাইড ম্যানেজ করতে হচ্ছে। আমার বাড়ির কাছে থাকা দুই কলেজ বন্ধু পার্থ দুর্জয় কে । আমরা তিনজন একসাথেই কলেজ যাই ঘুরি ফিরি ;থ্রি ইডিয়টস এর মতই। হয়েছে কি এরা দুজনেই এবার বেশ ভালো রেজাল্ট করেছে । এক জন যদি আমেরিকার অর্থনীতি হয় তো অরেকজন ভারতের , আর আমি তো তখন দেউলিয়া শ্রীলংকা। ধরোধরো গলায় বললাম "ভাই বাড়িতে কেউ সামনের এক মাস আসবি না, এলে কেস খেয়ে ভূত হয়ে যাব, বাড়িতে আমি রেজাল্ট এর কথা বলিনি। দুজনেই কাকার চায়ের দোকানের অগ্নিকে সাক্ষী রেখে বলল একদম ই যাব না। নে চা খাওয়া।। "
এর ঠিক তিন দিন পরের ঘটনা । এদিক ওদিক চরে রাত ৯ টার দিকে বাড়ি ঢুকেছি, দেখি মা চেয়ার নিয়ে ঢোকার মুখেই বসে আছে । মুখে একটা অত্ভুৎ হাসি। জিগ্গেস করল : কিরে সারা সন্ধ্যে কোথায় ছিলি?
আমি বললাম আরে তিন বন্ধু মিলে জান না পড়ি আমরা। সামনের বছর ক্যাম্পসিং আছে ,প্ল্যান করছিলাম।
মা বলল ও আচ্ছা, ভালো তা সবাই মিলেই প্ল্যান করছিলি?
আমি বললাম হ্যা,আরে ওদের তো হুশ ই নেই আমিই টেনে টুনে বসাচ্ছি।
মা টান টান হয়ে বলল ও রেজাল্ট বেরোয় নি তো তোদের?
আমার মনে একটা কু গাইল। এরকম ঘরে ঢোকার পরই পরপর মধ্যগতিতে ইনসুইং ইয়র্কার আসছে কেন ? নিশ্চয়ই কিছু হয়েছে।
বললাম ও তোমাকে বলাই হয়নি অনেকের আসতে আসতে রেজাল্ট বেরচ্ছে, যাদের ঐ লেখা ভাল তাদের টা বেরতে শুনলাম একটু দেরি হচ্ছে। এসব তো আগেই বলেছি। আবার জিগ্গেস করছ কেন?
মা হঠাৎ গম্ভীর হয়ে বলল : হ্যা তোর বন্ধু পার্থ এসছিল। এসে বলেছে ওর রেজাল্ট বেরিয়েছে। দুর্জয় এর ও রেজাল্ট বেরিয়েছে। তোদের ক্লাসের সবার রেজাল্ট ই বেরিয়ে গেছে।
বলে মা হন হন করে চলে গেল মুখ টা ভিসুভিয়াস এর মতন।
আমার তো পুরো ধরণী দ্বিধা হও অব্স্থা । আউট হয়ে ভ্যাবাচাকা খেয়ে দাড়িয়ে আছি। ভাবছি আমি কার কে আমার!!!!!
দু মিনিট পরে একটু হুশ ফিরতেই ঘরে গিয়ে পার্থ কে ফোন, কিন্তু ব্যটা ধরল না।
দুর্জয় কে ফোন করতেই পুরো আগুন ঝরিয়ে দিলাম যা ঘটেছে পুরো বললাম।
দুর্জয় শুধু বলল : হ্যা পার্থ আরো বলেছে তুই আমাদের বাড়ি আসবার নাম করে বেরস তারপর এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াস। এই তো পার্থ আমার সামনেই বসে!!! বলে দুজ্নেই হো হো করে হাসতে থাকল আর ফোনটা কেটে গেল।
টিভিতে শোলে র সিন হচ্ছে: জয় বিয়ের সম্ব্ন্ধ করতে গেছে মৌসিজী র কাছে।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন