"ছোড় আয়ে হাম ...পেয়ার কে ওয় পল "
প্রচন্ড গরম লাগছে । দর দর করে ঘামছে। জল খাচ্ছে । প্রচন্ড অসুবিধা হচ্ছে, খুব কষ্ট হচ্ছে বোঝা যাচ্ছে। তবুও জীবনের গান গেয়ে চলেছেন ।
কিন্তু মানুষ গুলো সরল না!!!!!
পাস পেয়েছি যে। কেন ছাড়ব । ৩০০০ জনের যায়গায় ৫০০০ জন ঢুকব। অক্সিজেন এর দায় আমাদের নাকি। গরম এর দায় আমাদের নাকি, এক বার ঢুকেছি যখন পুরো দেখব।
কি দেখবি? কি দেখলি । এক অঙ্কুশ হীন মত্ত করী র মতন দাড়িয়ে দেখলি সেই প্রাচীন সত্য টা : "যোগ্যতম জিতবে" । কিন্তু যে মানুষ টা তোদের এই লড়াইয়ে ই ছিল না, যে মানুষ টার সব থেকে বেশী অক্সিজেন দরকার ছিল তার জন্য রাখলি না ছিটে ফোটাও?
যে লোকটা কালকে সর্ব সমক্ষে বলেছে এ কে?সেই লোক টা সারাজীবন যেমন গরল দহনে জ্বলবে তার থেকেও বেশী জ্বলবে আমাদের মতন পাস ভোগী মন গুলো!!!
আমরা ফ্রিএর পাস পেলে এমন ভাবে হামলে পড়ি বনের হিংস্র পশু ও এই ভাবে জীবন ধারণের জন্য লড়তে লজ্জা পায়। একবার ও ভেবে দেখিনা স্থান কাল পাত্র মিলছে কিনা!!!! এই মেলা আদতে সম্ভব কিনা।
আমাদের শেলফি, স্ট্যাটাস আপডেট, আমার আনন্দ অন্য কার কি অসুবিধা হল কিনা তাতে বয়েই গেল ,আমি তো জিতে গেলাম। আমিই দু চোখ ভরে দেখলাম, শুনলাম কিম্তু তাতে অন্য কারোর যায় যদি যাক প্রাণ, তাতে কি। এটাই তো আমার জয় ? তাই না!!!!!
সিট ভর্তি হবার পরেও আমরা আজও বাদুড় ঝোলা হয়ে বাসে উঠি, ট্রেনে যাই , আরে ধুর আমাদের কাছে এসব কোনো ব্যাপার নাকি, জলদি দৌড়চ্ছি যে ।
হ্যা দু চার জন কখনও সখনও বাইরে পড়ে যায়, পোস্টে বাড়ি খায়, গরমে স্ট্রোক এর কবলে পড়ে বাড়ি ফেরেনা। আমি, আমরা তো ফিরি। এই ভাবেই চালিয়ে যাই আমরা , আবার এরকম ভাবেই ঝাপিয়ে পড়ব নতুন উদযাপনের কিছু এলে, নিজেদের লড়াইয়ে যোগ্যতমের উদবর্তন এ জিতব কিন্তু যার জন্য এই লড়াই সেই শ্রেষ্ঠ তম কে হারাব ।
সত্যি তো আমরা "ছোড় আয়ে হাম ওয় গলিয়া"। যেখানে এখনো ইদুর দৌড় নেই, আমিত্বের অহঙ্কার নেই, আছে যার যেটুকু প্রাপ্য অধিকার সেই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা। আমরাই তো পঞ্চায়েত দেখে চোখের কোন ভিজিয়ে পরের দিন সকলেই আবার সবাই সবার প্রতিদ্বন্দী হৈ ।।
আসলে আমি নিজেই নিজের সাথে লড়ছি। আমি ই আমার গত কালকের থেকে আরো একটু বেশী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছি নিজের।।
ভুলে যাই কাল হয়ত ছিল "পল, পেয়ার কে পল" যা আজ হারিয়ে ফেলেছি।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন