"আগামীকাল ৫ জুন কি করব ? ভাবছি"
আরে হ্যা, এ বছর তো জামাই সেজে ষষ্ঠী পালন করবই, শেষ দুই বছর মিস করেছি।। কিন্তু যে থাপ্পড় যে শিক্ষা টা এই দিন বাজারের এক দোকানি ভাই এর থেকে পেয়েছিলাম সেটা কি করে ভুলব? ভুলব না কোনো দিনই। কি হয়েছিল?
বছর পাঁচেক আগে রাতে অফিস থেকে ফিরছি। অফিস ফেরত পথে আমার একটা অত্ভুৎ শখ বিরাটি বাজার ঘুরে ঘুরে টুক টুক করে কলা টা মুলো টা কেনা। কিনি কম , কিম্তু সব দোকান ভর্তি সাজানো আনাজ, মাছ, ফল এই গুলো দেখতে বেশ ভালো লাগে। আর কতো দোকানি দাদা, মাসি,কাকু, বৌদি , ভাই, বোন, দাদু : আরো কত রকমের যে ডাক সম্পর্ক তৈরী হয়ে যায়। তাদের কারোর বাড়ি ফুলিয়া তো কারোর বাড়ি হাসনাবাদ আবার কেউ কেউ স্থানীয়। তো এদের খবরাখবর, কি ভাবে আসে যায় এই গুলো নিয়েও মাঝে মধ্যে গল্প হয় , এক সুন্দর মানসিক আদান প্রদান ।
যাই হোক, সেদিন একএক করে দোকান ঘুরছি,কথাও হচ্ছে ফল সব্জি কেনা কাটিও চলছে । আমার হাতে এক এক করে ব্যাগ জমা হচ্ছে। নিজেকে মধ্যম পাণ্ডব বা হাল্ক এর মতন মনে হচ্ছে, দুই হাতে গোটা ৬ প্লাস্টিক এর ব্যাগ।
যদিও এই ব্যাগ দেওয়া নিয়ে কয়েকদিন আগেই পৌরসভা নির্দেশিকা জারি করেছে : পাতলা প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করা চলবে না।
কে পাত্তা দেয়!!!! ধুসস। এই সব নিয়ম কেউ মানে নাকি। এরা বলছে বলুক গিয়ে, আমার কি । আইন কে বুড়ো আঙ্গুল দেখানো তেই তো মজা। আমি কি অফিস ফেরত পথে বাজার করব না নাকি? দরকার হলে দু চার টাকা বেশী দিয়ে মোটা প্লাস্টিক এর ব্যাগ নিয়ে নিলেই হবে। আমিও তাদের ই দলে,, কে পাত্তা দেয়, থোড়াই কেয়ার।
যাই হোক শসা কিনতে ঢুকলাম এক দোকানে। দোকান দার ভাই শসা মেপে দিয়ে বলল দাদা ব্যাগ দাও ঢেলে দেই। আমি বললাম আরে : ব্যাগ আবার কোথায় পাব এখন অফিস ফেরত? একটা প্লাস্টিক ব্যাগ দিয়ে দাও।
দোকানদার বলল: আমার কাছে তো প্লাস্টিক ব্যাগ নেই, কি করে দেব?
আমিও একটু বিরক্তির সুরে বললাম ব্যাগ নেই তো কি করে নেব, ২ টাকা দিচ্ছি আমাকে অন্য দোকান থেকে এনে দাও একটা ব্যাগ।
দোকান দার বলল: সেটা অসম্ভব দাদা। আমি প্লাস্টিক এর ব্যাগ আর দেব না আমার দোকান থেকে। আমার গরু টা কদিন আগে মরে গেছে খুব কষ্ট পেয়ে। ডাক্তার বলেছিল ওর ভিতর নাকি প্লাস্টিক জমে গেছিল, আমার আদরের প্রাণী টা কে এই প্লাস্টিক কেড়ে নিয়েছে। আমি আর এই পাপ করব না।
আমি বললাম ধুর, রাখ তোমার শসা, আমি চললাম।
দোকানদার ডেকে বলল : " দেখুন দাদা এই প্লাস্টিক ভালো না। আপনার হাতে যে প্লাস্টিক গুলো আছে এইগুলো তো আপনি বাড়ি গিয়ে বাইরেই ফেলে দেবেন, সেইগুলো তো ড্রেন আটকাবে না হলে গরু ছাগল খেয়ে নেবে না বুঝে।হয় জল জমবে সবার অসুবিধা হবে না হলে অবোলা প্রাণী গুলো কষ্ট পাবে । তোমরা লেখাপড়া জানা শিক্ষিত ভদ্র জন একটু বোঝো দাদা, আমার থেকে শসা নেবেন না তাতে আমার ক্ষতি হবে , আমি বাধা কাস্টমার হারাব কিন্তু প্লাস্টিক আমি কোনোদিন ই দিতে পারব না।"
কথা টা শুনে মনে হল কেউ আমাকে একটা বিরাশি সিক্কার থাপ্পড় মারল, আর এই থাপ্পড় টা আমার গালের থেকেও মনে এসে ধাক্কা দিল। সত্যি তো অবিবেচক এর মতন নিজেই আইন অমান্য করছি, সবার ক্ষতি করছি, প্রকারন্তরণে অন্য প্রাণীর কষ্টের কারণ হচ্ছি। এই প্লাস্টিক গুলো বয়ে নিয়ে যাচ্ছি কিন্তু সেই গুলো তো নষ্ট করছি না। শুধু পরিবেশ এর বোঝা বাড়িয়ে যাচ্ছি।
না আর না!!! কোনো মতেই প্লাস্টিক এর এই অপব্যবহার বাড়াব না।
এইবার থেকে ব্যাগ নিয়েই বেরোতে হবে। প্লাস্টিক বাড়িতে এলে পুরসভার ভ্যাট এই ফেলতে হবে। এটা তো আমি করতেই পারি, এটা এতদিন কেন করিনি।
দোকানি কে বললাম তোমার থেকেই নেব । একটু দাড়াও বাড়ি থেকে ব্যাগ নিয়ে আসি।
দোকানি বলল আবার বাড়ি ঢুকে আপনি শুধু এই শসা র জন্যে ব্যাগ নিয়ে আসবে দাদা? এক কাজ কর আজকে তোমাকে আমি একটা কাগজের ঠোঙাতেই দিচ্ছি একটু কষ্ট করে নিয়ে যাও।
আমি বললাম হ্যা ভাই তাই দাও। আর ধন্যবাদ।
দোকানদার হেসে কাগজের ঠোঙায় আরেকটা শসা বেশী ঢুকিয়ে দিল। হয়ত এটাই ওর ধন্যবাদ।।
বাড়ির দিকে ফিরতি একলা পথে নিজের মনে ভেসে উঠল সুনির্মল বসুর কয়েকটা লাইন
"বিশ্ব-জোড়া পাঠশালা মোর,
সবার আমি ছাত্র,
নানান ভাবের নতুন জিনিস,
শিখছি দিবারাত্র"
এরপর থেকে চেষ্টা করেছি বাজারের ব্যাগ নিয়ে বেরোবার, বাড়িতে কম প্লাস্টিক আনবার আর বাধ্য হয়ে আনলেও পুরসভার ভ্যাট এ সেই প্লাস্টিক কে পৌছে দেবার।। এটুকু চেষ্টা আমরা করতেই পারি তাই না?
৫ ই জুন 🌍বিশ্ব🌏 পরিবেশ🔥💧🌬🌌🏝 ❤🤝🌳দিবস🙏🏼 ।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন