"বর্ষা দাড়াল দমদমে"

ভ্যাপসা গরম পড়েছে । প্রত্যেক টা লোক চাতক এর মতন বসে আছে কবে বর্ষা আসবে, আর ভাসবে? মনের মধ্যে গব্বর সম চেচিয়ে বলছে "কব হ্যায় বরিষ"।সত্যি তো কবে এই বঙ্গভুমে বৃষ্টি প্রবেশ করবে? 
বর্ষা র আগমন নিয়ে বিখ্যাত কবি ব্যক্তিত্ব রা কত কিই না বলে গেছেন, করে গেছেন । কেউ লিখেছেন "আষাঢ়স্য প্রথমদিবসে মেঘমাশ্লিষ্টসানুং" তো কেউ বলেছেন "গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা" , কেউ  আবার মেঘ মন্দ্র স্বরে গেয়েছেন 
"আষাঢ়, কোথা হতে আজ পেলি ছাড়া।
মাঠের শেষে শ্যামল বেশে ক্ষণেক দাঁড়া ॥" , আরেকজন তো সিনেমাতে দেখিয়েই দিলেন বর্ষার প্রবেশ : গ্রামের পথের ধারে পুকুর পাড়ে ইন্দ্রলুপ্ত চকচকে টাকে টপ টপ করে বর্ষার প্রথম জল পড়ল,  বাংলার পাতাও নড়ল। একটু পরে মা দুর্গা নবকুমারীর সাজে ভিজে উঠল ।
যাই হোক আমি হলাম অতি সাধারণ ডেলি প্যাসেঞ্জার। তাই আমার কাছে বর্ষা আসে বনগা শাখার রেলগাড়ির মতন ভঙ্গিমায়।। কিভাবে ? বলছি শুনুন:: 

প্রথম ঘোষণা : 
দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু আরব ও বঙ্গোপসাগর এর উপর দিয়ে শীঘ্রই বইতে চলেছে। জন সাধারণ কে জানান হচ্ছে এই বার মেঘদূত কালিদাস এর ফুলপঞ্জিকা না মেনে ৭-১০ দিন আগেই ঢুকে গেছে ।    

ঘোষণা শুনে মন টা বেশ পুলকিত। যাক আসছে, সে আসছে । কিন্তু এই ভাবে অরো ৩-৪ দিন কেটে গেল। গরম এর অস্বস্তি তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। 
রাতে ছাদে উঠে বেশ জোরাল হাওয়াও পাচ্ছি, আর দেখছি ছোট ছোট ধূসর মেঘেরা দল বেধে উড়ে যাচ্ছে। 
স্টেটাস দিচ্ছি : দেখছ চার দিকে একটা ওয়াও ওয়াও ব্যাপার।  ফিলিং লাইক যক্ষ ওয়েটিং ফর মোক্ষ।। ভাবলাম সে এসেই গেছে । এত কালো মেঘ উড়ছে যখন বৃষ্টি হবেই হবে।
এটা পুরো অফিস ফেরত ট্রেন এ ওঠার আনন্দ, ট্রেন যেন তীব্র গতিতে নিমেষে শিয়ালদহ থেকে দমদমে ঢুকল। আর ১৫ মিনিটে বাড়ি পৌঁছাব।  

এর মধ্যেই হল দ্বিতীয় ঘোষণা: 
আরব সাগরীয় মৌসুমী বায়ু কেরালায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আন্দামান এ আগেই হয়েছে। বাংলায় বৃষ্টি ঘটাবে বঙ্গোপসাগরীয় মৌসুমী বায়ু যা পৌছতে আরো কিছু সময় লাগবে।
হঠাৎ মনে হল ভবিষ্যতের কথা ভেবে বেশী আনন্দিত হয়েছি ; লাফিয়েছি , তাই আর কি এবার বোঝ ঠেলা। 
দমদম স্টেশনে অফিস ফেরত বনগা লোকাল আর নড়ছে না। দয়াপরবশ হয়ে আমাদের বনগা লাইন রুপী বঙ্গোপসাগর মেন লাইন রুপী আরব সাগর কে যায়গা করে দিচ্ছে। ভ্যাপসা গরমে ট্রেনের ভিতর হা করে দাড়িয়ে দেখছি মেন লাইন এর ট্রেন গুলো হুস হুস করে চলে যাচ্ছে,  আর আমাদের  লাইনের ট্রেন নড়ছেই না।
 
এইভাবে তীব্র দহনে আরো  তিন-চার দিন কাটল।  উপরে উড়ন্ত মেঘ দেখে আবার আশায় বুক বাধলাম যাক এইবার মেঘ বাবাজী অন্তত
"কালে মেঘা কালে মেঘা র মতন পানি বর্ষাবে", ওমা কোথায় কি। কিছুই হয় না। 
গা জ্বালিয়ে দিয়ে হঠাৎ আবার ঘোষণা হল : বঙ্গোপসাগরীয় মৌসুমী বায়ু অরূণাচল এ ধাক্কা দিয়েছে, ওখানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে এর পর উত্তর বঙ্গে শুরু হবে তার পর আমার বাড়িতে !!!!!!!

শুনেই নিজের মনে মনে বললাম : মৌসুমী বায়ু তোর কোনো আক্কেল নেই? একবার বাড়ির উপর দিয়ে উড়ে উড়ে যাবি , পাহাড়ে ধাক্কা খাবি তারপর সারা পাড়া বেরিয়ে  সব শেষে ঘরে ঢুকবি!  
কেন রে ভাই যাবার সময় ভিজিয়ে দিয়ে যাও এবার ভিজিয়ে দিয়ে যাও।। 
মেনলাইন এর দাদাগিরি মেনে নিয়েও অফিস ফেরত দমদম স্টেশনে সেদ্ধ হয়ে দেখলাম বনগা লাইন এ মাল গাড়ি পাস করিয়ে দিল। বর্ষা ঘরে এলনা এখনো, দমদমেই দাড়িয়ে পড়ল।।
⛈🌧
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"