পোস্টগুলি

আজতো ষষ্ঠী: কাজ শেষ হবে তো?

আহা, আজকেই যত রাজ্যের সফটওয়্যার কোডের বাগ গুলোর ইকিড় মিকিড় খেলতে হবে! মনের সুখে ট্রেড-সেন্টার এর ট্যুইন টাওয়ারের মতন ঝুরঝুর করে ভেঙ্গে পড়ছে! তাই দেখে আহ্লাদিত হল্লার ক্লায়েন্ট মন্ত্রী আবার লোভও দেখাচ্ছে, "ডেভলপার মশাই; এই কোড-কোড যুদ্ধ টা আজ খেলে নাও, তারপরেই কাল থেকে তোমার ছুটি!" অবুঝ মন হল্লা রাজার সহজ বিশ্বাসের স্টাইলে বলে উঠল "সত্যি ছুটি হবে আমার!" এদিকে কোডের বাগ গুলো আজ নাগ সেজে নেচে-নাচিয়ে দুর্গাপঞ্চমী কে নাগপঞ্চমীতে পরিণত করল দেখছি। তবুও যাক, হাজার হোক বাস্তুসাপ তো! পোষ মানল; কাগের ছানা বগের দলা বলে আদর করতেই: লোভ দেখলাম, " আজ আর দুষ্টু করেনা, ভালো বাগ না তোমরা? এখন চুপ করে শুয়ে পড়োতো ; গভীর রাত হয়েগেছে, আচ্ছা প্রডাকশন ডেপ্লয়মেন্ট এর দিন খুব খেলা হবে।এখন গুড বয়ের মতন শুয়ে পড়ো "। শেষ অব্ধি, বাবুরাম সাপুড়ের ঝুলিতে ঢুকে পাঁচ দিনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোলো: এই নাগ-বাগ ছুটবে না, হাটবে না এমনকি সফটওয়্যার কে কাটবেও না দশমী অব্ধি.. যাইহোক, এখন মনে হচ্ছে স্বর্গীয় অনুভূতি: "লগিং অফ ল্যাপটপ"। এই ছুটি শুরু মুহূর্ত টাই প্রতীক্ষার .. বুকের ভিতর টা...

"মধু কৈটভ মশারি বিধ্বংসী ।মহিষাসুর নিদ্রা গ্রাসী"।।

ছবি
বীরেন্দ্র কৃষ্ণের মোহ মিশ্রিত উদাত্ত আহ্বানে মহামায়া প্রতি বছর নিশ্চিতভাবে জাগ্রত হন। হ্যা ঠিক এই ভাবেই কাউকে ঘুম থেকে ডেকে দিতে হয়, "তুমি জাগো জাগো" - বলে সুর করে, সুন্দর ভাবে। কিন্তু সবার কপালে থুড়ি মানবিক এলার্মে কি এমন সমধুর ডাক এসে পৌছায়? হয়ত অনেকের ক্ষেত্রেই পৌছায় না! এবং সেই ক্ষেত্র গুলিতেই সৃষ্টি রসাতলে যাবার উপক্রম হয়। কিভাবে? এই দেখুন একই মহিষাসুর বধের ক্ষেত্রে দেবী কে জাগিয়ে তুলছে কে? - বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। আর ওদিকে সুন্দর যোগনিদ্রাতুর বিষ্ণু কে ডেকে তোলার দায়িত্ব পড়ল কার উপর? না , দুই অশান্ত দুষ্টু মধু-কৈটভ এর উপর। আচ্ছা, ভেবে দেখুন তো এই অন্যায়-অবিচার কি শুধু দেব দেবীর মধ্যেই কি সীমাবদ্ধ? না, একদম না! আমার আপনার ঘরে-ঘরে পরিবারে সেম টু সেম দেখা যায়, পরিবারের সদস্য রা ভিন্ন রূপে ভিন্ন ভাবে মধু কৈটভ, বিষ্ণু-ব্রহ্মা  রূপে অবতীর্ণ হয়ে নিদ্রাভঙ্গ করেন। কিভাবে? আচ্ছা, চলুন তাহলে দেখি এই ঘটনা গুলো কি ভাবে ঘটে! এই ধরুন সারা রাত ধরে ফেসবুক করে-নেটফ্লিক্স ঘেঁটে, আরও কত কি জ্ঞানের বিষয়ে মাথা ঘামিয়ে, বাড়ির কর্ম কুশলী যুবকটি ছুটির দিন সকাল বেলায় অকাতরে ঘুমোচ্ছে। অনেকটা যে...

পিতা পুত্রের বয়সের সমষ্টি শাহরুখ খান।

ছবি
"বেটে কো হাত লাগানে সে প্যহেলে বাপসে বাত কর" এই সংলাপ টি এখন আমসমুদ্র হিমাচলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, খুবই জনপ্রিয় সংলাপ। কিন্তু এই সংলাপ টা আজ আমার ব্যবহারিক পারিবারিক জীবনে হঠাৎ এক অত্ভুৎ সব পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। কি ভাবে?শুনতে চান, আচ্ছা  বলছি তাহলে! তার আগে বলি- আজ আমি, আমার পুত্র আর সহধর্মিণীর সাথে জওয়ান দেখে এলাম ভর দুপুরে।সিনেমা দেখে সবাই খুব খুশী ,তিনজনেই বেশ উপভোগ করেছি সিনেমাটি। এর আগে শেষ বার যখন শাহরুখ খানের সিনেমা সিনেমা হলে বসে দেখেছিলাম তখনো লিটিল মাস্টার ধরাধামে অবতীর্ণ হয়নি- ফ্যান দেখেছিলাম তখন। তারপর দীর্ঘ সাত-আট বছর অতিক্রম করে দুই থেকে তিন হয়ে একসাথে দেখলাম শাহরুখের সিনেমা। তা, সে যাই হোক এখন সেই বিচিত্র কাহিনী তে ফেরাযাক। একটু আগে পুত্র কে তার মা পড়তে বসিয়েছে। কিন্তু জওয়ান দিনে কি আর  টেবিল-গ্রামার-যোগ-গুণ-বাংলা বানানে মন বসে তার ? ধ্যামকুঢ়াকুঢ় করে মনে "বে করার করকে মুঝে" বেজেই চলেছে তার সপ্তবর্ষীয় শিশু মনে। সাথে রায় মার্টিন এর মতন প্রশ্ন এর পাহাড়। এটা কেন হোলো, ওটা কি ছিল! এবং, শেষে পড়বনা -পড়বনা ,ছুটি দাও করতে করতে হঠাত সেই কথা টা কানের বারান্দা দিয়...

"ঈশ্বরের দুই পংক্তির শক্তিশেল"।।

ছবি
আচ্ছা সেদিন যদি তিনি পরাশর সংহিতার এই শ্লোকটি  খুঁজে না পেতেন অথবা পরাশর মুনি লিখতেই ভূলে যেতেন, তাহলে কি হোতো বলুন তো? ঐ যে, ঐ লাইনটার কথা বলছিলাম  "নষ্টে মৃতে প্রব্রজিতে, ক্লীবে চ পতিতে পতৌ",  যার অর্থ: "স্বামী নিখোঁজ হলে বা তাঁর মৃত্যু হলে, নপুংসক আর পতিত হলে তাঁর স্ত্রী আবার বিয়ে করতে পারেন।" বিদ্যাসাগর মশাই এর যা অদম্য জেদ ছিলো তিনি নিশ্চিত ভাবে আরো গভীর অনুসন্ধানে ব্রতী হোতেন। হয়ত, আরো আরো দেরী হোতো, হয়ত আরো কিছু অভাগার ললাটে দুর্দশার মেঘ ছেয়ে যেতো!  তৎসত্ত্বেও বিদ্যাসাগর শাস্ত্র পুরাণ এর মধ্যে থেকেই উদাহরণ খুঁজতেন, কেন? তিনি তো চাইলেই সহজেই আইন প্রণেতা ইংরেজ এর সামনে সহজ সরল ভাবে বিদেশী উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে পারতেন।  তবুও, প্রশ্ন জাগে সত্যি বুঝত কি? না, মানে যাদের জন্য এই আইন এবং যে রক্ষণশীল গোঁড়ামির বিরুদ্ধে এই আইন কেউই বিদেশি উপমায় বিশেষ কিছু হয়ত বুঝতই না। বিদ্যাসাগর বিদ্যার আধার ছিলেন,  তিনি ব্যুত্পত্তিতে এই অমোঘ সত্য অনুধাবন করেছিলেন: তিনি প্রজ্ঞাদৃষ্টির আলোকে বুঝেছিলেন: শুধু প্রবল জ্ঞান ,নারী জাতির উত্থানের প্রচেষ্টা এবং অদম্য জে...

লগিং অফ, "আর কেউ পাবেনা, পাবে না, পাবে না! আমাকে আর পাবে না।"

ছবি
লগিং অফ, "আর কেউ পাবেনা, পাবে না, পাবে না! আমাকে আর পাবে না।" ইমেল টা টুপ করে ঝেড়েফেলে চুপচাপ নিজের ডেস্ক ছেড়ে এক্সিট গেটের দিকে এগিয়ে চলল বিশ্ব। যাওয়ার পথে ঝকঝকে "অমরাবতী" কেবিন থেকে ইন্দ্র দার বজ্র এপ্লিকেশনের নিওনের  বিজ্ঞাপনের আলোটা শেষবারের মতন মুখের উপর ছিটকে এসে পড়ল। এতদিনের চেনাজানা যাওয়া-আসার পথটা ছেড়ে মোবাইল টা সাইলেন্টে রেখে ধীরে ধীরে বিশ্বে অন্তর্লীন হোলো "বিশ্ব"। ওদিকে লাঞ্চের শেষে মৃদুমন্দ্র গজেন্দ্র গতিতে হেলেদুলে ডেস্কে পৌছে গেছে অফিসকুল। আলগোছে কম্পিউটর স্ক্রিনের প্রথম ইমেল দেখেই সবার চক্ষু চড়কগাছ! ভেসে উঠেছে, সাবজেক্ট লাইন : বিদায় বন্ধু , ইমেল সেন্ড ফ্রম বিশ্ব।  প্রিয় বন্ধুরা,                  বিদায়। হ্যা এই হতচকিত ও আচম্বিত বার্তায় হয়ত তোমরা উদ্বেলিত, তবুও আমাকে চলে যেতেই হোতো। তোমরা জানতে চাইছ কেন? কি এমন ঘটলো যে এই বিচ্ছেদ সিদ্ধান্ত নিতে হোলো? হমম, আসলে নিতে বাধ্য হলাম। কেন বাধ্য হলাম? বিস্মিত হচ্ছো বন্ধুরা! আচ্ছা জল্পনার নিরসন করেই বলছি। এই তথ্যপ্রযুক্তি অফিস খোলার প্রথম দিন থেকে এক একটি কাজে নিজেকে সম্পূর্ণ নি...

ওরা কাজ করে ,মাঠে মাঠে।

ছবি
কেমন খেলা দেখলেন বলুন? উফ্ফ, কি ভাবেই না পাকিস্তান কে দুরমুশ করে জিতলাম বলুনতো। ২২৮ রানের জয়, কখনো কোহলির হাত থেকে বিদ্যুত গতির ওভার বাউন্ডারির হাফভলি তো অন্যদিকে রাহুল এর ভীষণ হুল! এদিকে কুলদীপ এর ভেল্কির জাদু প্রদীপ তো আরেক দিকে বুম্রার মারাত্মক সুইং, পাকিস্তান একদম দিশেহারা। আমি-আপনি-আমরা সবাই মনেমনে খুব আহ্লাদিত-আপ্লুত, আহা কি সব মুহূর্ত দিয়ে গেল ওরা। ওরা কারা বলুনতো? কারা আবার:  কোহলি-রাহুল-কুলদীপ-বুম্রা-রোহিত- গিল, এরাই হবে! আহা, না , আমি এই অদ্য নমস্য দের কথা বলছি না। ওদের কথা বলছি! কিন্তু, আপনি কি সত্যি ওদের চেনেন? মানে ঐ যে, যারা, আজ আপনাকে আনন্দ দিল, আনন্দের মুহূর্ত টা প্র্স্তুত করে দিলো! ওদের কে চেনেন না বলছেন! নাম জানেন? ও নাম জানেন না, চেনেনও না! ওরা কোথায় থাকে, সেটা কি জানা আছে? দেখুন, একটু একটু করে ভাবনা টা এগিয়ে পিছিয়ে দেখুন- মনে হয় ওদের অবস্থান চিন্হিতকরণ করতে পারবেন, ওদের আপনি আজ-কাল দেখেছেন। ওহ হ্যা! ওদের পরিচয়টাই তো বাকি রয়ে গেছে। আসলে ওরা থাকে বলেই "ইন্ডিয়া" ম্যাচ জেতে, "জওয়ান" সুপার ডুপার হিট করে , "চন্দ্রযান" উড়ে বেড়ায়, দেশ-বিশ্...

বহে নিরন্তর অনন্ত শিক্ষাধারা

যে সকল আদর্শ শিক্ষকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পাথেয় করে যুগে যুগে প্রণম্য শিক্ষককুল সমাজকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন নিরন্তর ;সেরকমই,কিছু আদর্শ পৌরাণিক শিক্ষক চরিত্র নিয়ে আজকের আলোচনার ক্ষেত্র। বিখ্যাত কিছু শিক্ষা গুরুদের শিক্ষাদানের নৈতিক অব্স্থান।  আমাদের দেশে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের স্থানে যদি কোনো চরিত্রকে সন্ধান করি প্রথমেই কোন নাম টা ভেসে ওঠে? আপনি ভাবছেন? ও, খুঁজেও পেয়েছেন। হ্যা, একদম ঠিক ভেবেছেন। সকল গুরুর শ্রেষ্ঠ গুরু হিসাবে অর্জুনের গুরু দ্রোণাচার্য্য ই আমাদের দেশে সর্বজন স্বীকৃত। দ্রোণ একজনকেই সর্বশ্রেষ্ঠ ছাত্র হিসাবে বেছে নিয়েছেন, তাঁকেই সব ঢেলে দিয়েছেন; যেখানে একের পরিবর্তে "তিন" বিখ্যাত ছাত্রের গুরু হিসাবে পরিচিত হবার সম্ভাবনাও ছিল উজ্জ্বলঅরুণ ! তিনি কুরুকুল এর ভবিষ্যত রক্ষার যুক্তির ঢালে- অন্নঋণের দায়ে , বাকি দুই কৃতী সম্ভাবনাময় ছাত্র কে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। তবুও তার বিশেষ কৃতিত্ব তিনি যাকে সর্বশ্রেষ্ঠ তৈরী করবেন ভেবেছিলেন তাঁকেই শেষ ধাপে সসম্মানে উত্তীর্ণ করেছেন।  তাহলে একবার টি একটু ভেবে দেখুন এই ধারা কি শিক্ষা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো সমাজে?  - "গুরু যে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি...