ওরা কাজ করে ,মাঠে মাঠে।
কেমন খেলা দেখলেন বলুন? উফ্ফ, কি ভাবেই না পাকিস্তান কে দুরমুশ করে জিতলাম বলুনতো। ২২৮ রানের জয়, কখনো কোহলির হাত থেকে বিদ্যুত গতির ওভার বাউন্ডারির হাফভলি তো অন্যদিকে রাহুল এর ভীষণ হুল! এদিকে কুলদীপ এর ভেল্কির জাদু প্রদীপ তো আরেক দিকে বুম্রার মারাত্মক সুইং, পাকিস্তান একদম দিশেহারা।
আমি-আপনি-আমরা সবাই মনেমনে খুব আহ্লাদিত-আপ্লুত, আহা কি সব মুহূর্ত দিয়ে গেল ওরা। ওরা কারা বলুনতো?
কারা আবার: কোহলি-রাহুল-কুলদীপ-বুম্রা-রোহিত- গিল, এরাই হবে! আহা, না , আমি এই অদ্য নমস্য দের কথা বলছি না। ওদের কথা বলছি!
কিন্তু, আপনি কি সত্যি ওদের চেনেন? মানে ঐ যে, যারা, আজ আপনাকে আনন্দ দিল, আনন্দের মুহূর্ত টা প্র্স্তুত করে দিলো!
ওদের কে চেনেন না বলছেন! নাম জানেন? ও নাম জানেন না, চেনেনও না! ওরা কোথায় থাকে, সেটা কি জানা আছে? দেখুন, একটু একটু করে ভাবনা টা এগিয়ে পিছিয়ে দেখুন- মনে হয় ওদের অবস্থান চিন্হিতকরণ করতে পারবেন, ওদের আপনি আজ-কাল দেখেছেন। ওহ হ্যা! ওদের পরিচয়টাই তো বাকি রয়ে গেছে।
আসলে ওরা থাকে বলেই "ইন্ডিয়া" ম্যাচ জেতে, "জওয়ান" সুপার ডুপার হিট করে , "চন্দ্রযান" উড়ে বেড়ায়, দেশ-বিশ্ব এগিয়ে চলে!
বুঝলেন, ওরা ছিল বলেই আজ কোহলি-রাহুলের শত ঝঙ্কারে পিনাক টংকারে মুখরিত হোলো ক্রিকেট বিশ্ব। কেন?
আচ্ছা, আজ কাল কেউ কি কল্পনা করতে পেরেছিল যে চরম প্রতিকূল প্রকৃতিতে আদৌ কোনো খেলা শেষ পর্যন্ত সম্পন হবে? ওরা কিন্তু হাল ছাড়েনি বন্ধু!
আজকের ওরা: "কলম্বো মাঠের কর্মী"- রা দিনরাত এক করে প্রকৃতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ঐ বিশাল মাঠটিকে খেলার উপযুক্ত করে তুলেছে। সেই মাঠেই অসাধ্যসাধন করেছেন একদিকে আমাদের খেলোয়াড় রা, আর আরেকদিকে নিভৃতে সেই নাম না জানা বিশ্বকর্মারা!
ওদের কারোর নাম কেউ জানবে না কোনোদিন! ওদের শুধু যুগে যুগে খুঁজে পাওয়া যায়: কোনোদিন হয়ত অনুভুত হবে মিশরে পিরামিডের পাথরের খাঁজে শুকিয়ে যাওয়া শ্বেদ বিন্দু কণায় ওদের মমির নিভৃতে ক্রন্দন। অথবা- যমুনার স্রোতে, শেতশুভ্র তাজমহলের প্রতিবিম্বে ফুটে ওঠে ওদের ভাগ্যে একলব্যের বৃদ্ধাঙ্গুলি ! ওরা তবুও থাকে। ওরাই আছে। ওদের জন্যেই কীর্তি গুলো রচিত হবে।
শুধু ওদের জন হেনরীরর হাতুড়ির খোঁজ কেউ জানতে পারবে না, মনে রাখবে না। তবুও ওরা ভবিষ্যতেও থাকবে, নীরবে কাজ করে যাবে অসাধ্যসাধনের মন্ত্রে ব্রতী হয়ে। অন্যের সাফল্য কীর্তির চিঠি পৌছে যাবে ওদের রানার পথে,রানার এর চিঠি কেই বা লিখবে!- কারণ,কবির ভাষায়:
"ওরা কাজ করে ,
দেশে দেশান্তরে...
দুঃখ সুখ দিবসরজনী
মন্দ্রিত করিয়া তোলে জীবনের মহামন্ত্রধ্বনি
শত শত সাম্রাজ্যের ভগ্নশেষ-‘পরে
ওরা কাজ করে।"-
প্রণাম হে কর্মবীর
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন