পোস্টগুলি

ছাদের থেকে ঐ দেখা যায়, সবুজ নবীন পাহাড়

ছবি
ছাদের থেকে ঐ দেখা যায়, সবুজ নবীন পাহাড় সমতলের বাসিন্দার চলার পথে জীবনের কোনো এক বাঁকে যদি হঠাৎ এক টুকরো পাহাড়-জল উঁকিঝুঁকি দেয় সেই মূহূর্ত টা সার্থক মূহূর্ত হিসেবে অন্তরে ফ্রেমবন্দী হয়। জীবনে আয় ব্যায়  , কর্ম কে ধর্ম মনে করে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যাওয়া কর্তব্য বোধের সাথে মনের গহীনে একটি চাপা চাহিদা থাকে- "আনন্দ পাওয়া"। এই আনন্দ আপোসহীন অনাবিল। অনন্ত মাঝে রঙ দে বসন্তী সটাইলে সে ভিতর থেকে গেয়ে ওঠে- "আভি আভি হুয়া ইয়েকিন, কি আগ মুঝ্মে হ্যায়- রুবা রু" । তাই ঘর ছাদ জানালা থেকে পাহাড় দেখলে বাঙালি সব পেয়েছির দেশে চলে যায় সেই মূহূর্তে। সেই স্মৃতি থেকে যায় আজীবন। ©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ১০ জুলাই ২০২৫। পুনে। ইমেলের বার্তা আজ অনেক বেশী কৃত্রিম, মেঘ, সেতো প্রাকৃতিক সৃষ্টি মহা আদিম।। ল্যাপটপের উইন্ডোজ ভার্সানের সাথে দেওয়াল জোড়া উন্মুক্ত জানালা টা পাশাপাশি মিশে বসে গেছে। ল্যাপটপের ইমেল কে মেঘরাজ টুক করে উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখে নিলো। ইমেল হেসে বললো- মেঘরাজ, আমার ল্যাপটপের ছুটি আজ। তুমি আমাকে পৌছে দেবে গন্তব্যে?  দাও না ভাই একটু বার্তা টা পৌছে, আমাকে নিয়ে যাবে উড়িয়ে? আমি শুনি আমি উ...

বাবার নাম বন্ধুরা ভোলে না!

স্কুল এর উঁচু ক্লাসে কিংবা কলেজ লাইফে নিজের বাবার নাম দিনে একবার লেখা বা বলা হলো কি হোলো না, কিন্ত একাধিক বার একাধিক অন্য অনেক মুখ থেকে শোনা যেত। মানে প্রত্যেকে নিজের বাবার নাম এর থেকে বন্ধুদের বাবার নাম বেশী বার উচ্চারণ করতো। সে ভালো ব্যপার! কিন্তু এর পরে প্রত্যেক বাবার নামের সাথে এক একটি উপমা জুড়ে যেত, এটা ছিল বাবা দের নতুন নামকরণ পর্ব-  বুদ্ধি খাটিয়ে সন্তানদের বন্ধুরা কেমন যেন পুনঃ অন্নপ্রাশনের ব্যবস্থা করছে নামকরণের মাধ্যমে । এই নাম গুলো এমন হতে হবে, যার নাম বা উদ্দ্যেশে করা হবে তিনি কিন্তু সন্মুখে কোনোদিনও জানবেন না- এই নীতি টা মোটামুটি সবাই মেনে চলবে,  কিন্ত তার সন্তান যেন ভালো ভাবে জানে, বোঝে এবং যতো জানে ততো লুচির মতোন ফুলে ওঠে! বাবার নতুন নামকরণের ভাবসম্প্রসারণ শুনে সেই সন্তান ও বাধ্য হোতো আমেরিকার মতো পার্ল হারবার ধ্বংসের পরে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে নামতে। এই নব নামকরণে কি যে প্রবল উৎসাহ, এ  আবহমান কাল ধরে বয়েই চলেছে ।  পুনশ্চ: তবে একটা বয়সের পরে গিয়ে সেই নতুন নাম গুলো দেখা যায় ছেদ পড়ছে, আসলে সন্তান দের চুল পাকছে আর নতুন নামের মালিকরা তারার দেশে বড্ড তাড়াতাড়ি ...

জামাই আজি গ্রহান্তরের জীব। মহানন্দে সাজে জামাইর জিভ।।

জামাই ষষ্ঠী তে নিজেকে কেমন একটা দানিকেনের চরিত্র মনে হয়। দানিকেন মানে ঐ যে সেই সব ব্যপার যেখানে দেবতারা গ্রহান্তরের জীব। জামাই ষষ্ঠীর পুণ্য লগ্নে যখন শ্বশুর বাড়ি ল্যান্ড করি প্রতিবারই কেমন একটা দেবতার মর্ত্যে আগমন এর মতো  আবেশ ঘিরে ধরে। বছর এর এই দিনটা মিস করা তাই একদম অসম্ভব হয়ে যায়। ভানুর সেই জীবন্ত মানুষ এর মতো বলতে ইচ্ছে হয় - পুণ্যি ভোগ করছি। আহা, ভোগ মানে পরমব্রতর নতুন "ভোগ" ওয়েব সিরিজ না যেখানে চেয়ে চেয়ে বলতে হবে- ভোগ দাও, খাব। বরং সম্পূর্ণ বিপরীত এক মহাযজ্ঞ চলতেই থাকে। একের পর এক খাবার আসতে থাকে গরম উনুন থেকে নেমে। শ্বশুর বাড়িতে বাবা মা যেন গুপী বাঘার মতো হাতে হাতে তালি দিচ্ছে আর একের পর এক ভিন্ন মাছ, বিভিন্ন মাংস, পঞ্চব্যঞ্জন, মিষ্টি উড়ে উড়ে আসছে। চারিদিকে শুধু খাবার খবর, ব্রেকিঙ নিউজ এর মতো আছড়ে পড়ছে। ঘুমোতে যাওয়ার আগে খাওয়া, ঘুম থেকে উঠে খাওয়া, আহা সে কি অনন্য অনুভূতি। শ্বশুর মশাই সকাল সাড়ে পাঁচটায় খাসি আনতে চলে গেছে, শাশুড়ি মা সকালে সকল উনুন ধরিয়ে দিয়েছে আর আমি সকাল ৯ টায় ঘুম ভেঙে উঠে দেখি সে এক আনন্দ আয়োজন "যা বৃথা আমাকে ছাড়া"! তবে বারো বছরে এই ব্যপার টা...

দুই কুসুম- ওরা হিন্দু না মুসলিম জিজ্ঞাসে কোনজন? পরিচয় ভারতীয় অগ্নিকন্যা।।

ছবি
পাকিস্তান বিষধর সাপ এর মাধ্যমে ধর্ম জিজ্ঞেস করে প্রিয়জনের সামনে মেরে ভেবেছিল- ধর্ম দিয়ে উসকে হিন্দু-মুসলিম বিভাজন করে ভারত কে ভাঙ্গবে। আজকে কি দেখছে পাকিস্তান? ১। প্রথমে হঠাৎ শোকে ভেঙ্গে কিছু মানুষ হিন্দু মুসলিম বিভেদ করে তেতে উঠলেও আবার আজ এক হয়ে গেল। অনেকেই ভেবেছে আমরা-ওরা, কিন্তু এই ভাবনা টা এদেশের মাটিতে ক্ষণস্থায়ী, প্রতিবেশীর মতো মৌলবাদী না। যেই মুহূর্তে বুঝল প্রবল প্রতিশোধ দরকার, প্রত্যাঘাত প্রয়োজনে এক হয়ে গেলো। ২। বিজেপি-সিপিআইএম-তৃণমূল-কংগ্রেস সব রাজনৈতিক দল দেশের ভিতর লড়াই করে, হ্যা ধর্ম, সেকুলার সব নিয়েই লড়াই হয়। কিন্তু দেশের সিকিউরিটি ইস্যুতে সবাই মিলে মিশে এক হয়ে গেলো। নরেন্দ্র মোদি র সাথে রাহুল গান্ধী মিটিং করেছে। মমতা ব্যানার্জি , অখিলেশ সহ সব বিরোধি এক সুরে সরকার এর পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে। হতে পারে এই গণতন্ত্রে অনেক দুর্নীতি পাঁক আছে,কিন্তু দু:সময়ে কি জাদুতে এই গণতন্ত্র এক হয়ে যায়! আগেও হয়েছে , পরেও হবে। ৩। ৭৬ লক্ষ জাতি , প্রায় হাজার পঞ্চাশ ভাষার কোটি কোটি ভিন্ন মানুষ ঠিক তখনই এক হয়ে যায় যখন তার ভারতীয় পরিচয়ে কেউ আঘাত হানে- পাকিস্তান ধর্ম এর ছলে বিষ ঢেলে ভারতীয় দের ...

বড়োদের দায়িত্ব বাড়ির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।

ছবি
আমাদের বাড়ির বাগানের উত্তর প্রান্তের গল্প । ওখানে, অনেক গুলো সবুজ গাছ দলা পাকিয়ে এক সবুজ সতেজ বাতাবরণ সৃষ্টি করে; এতো সবুজে মনটা ভরে যায় ছোট বেলা থেকেই। কিন্তু ওখানে একা যাওয়া বারণ ছিল। কারণ? - ওখানে মাঝে মধ্যেই এক বিষধর গোখরোর উদয় হোতো। বাগানের ইদুর, ব্যাঙ এই সব খেতে আসতো।  বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বাড়ির বড়ো কেউ লাঠি নিয়ে সাথে না থাকলে ওখানে যাওয়া নৈব নৈব চ। প্রতি সপ্তাহান্তে নিয়মিত কার্ব্লিক এসিড দেওয়া হোতো। একদিন আমি আমার ক্লাস ওয়ানের কিছু বন্ধু বাড়িতে আসায় তাদের কে সেই যায়গায় নিয়ে যাই খেলতে। গাছের আড়ালে খেলায় মাতি, বড়োরা কেউ ছিল না সাথে। হঠাত একটা সাপের লেজ দেখতে পাই আমরা, বেশ ভয় পেয়ে যাই। মা মা বলে ডাকতেই, ঠিক সেই সময়ে পিছন থেকে মা লাঠি হাতে এসে উপস্থিত। মাটি তে লাঠির বাড়ি দিতেই সাপ টা পালিয়ে গেল। আমি বকা খেলাম- কেনো বড়ো কাউকে ছাড়া ঐখানে গেছি! রাতে বাবা অফিস থেকে ফেরার পরে এই ঘটনা শুনে মার উপর রেগে গিয়েছিল, কি করে বাচ্চা রা একা ওখানে যায়? খেয়াল আর  রক্ষার দায়িত্ব ছিল বাড়িতে থাকা বড়ো দের।  মা এরপরে বুদ্ধি করে একটা মেনি কে বাগানে থাকতে দিল। একদিন দুপুরে শুনতে পেলাম মেনি প্রচ...

দুই বৃন্তে দুটি কুসুম দুটিই বিদ্যমান সঠিক নজরে দুইয়েরই আছে ভালোবাসার ঘ্রাণ।

ছবি
আসলে ভুল হচ্ছিল। নববর্ষের পুণ্য প্রভাতে সেই ভুল টা ভঙ্গ হোলো। দেখি একদিকে গন্ধরাজ আরেকদিকে বেল ফুল দুই ভাইই নিজের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব প্রকাশ করেছে, অনেক দিনের পরে- অনেক লড়াই শেষে। অনেক ভুলের মাশুল গুণে।প্রশ্ন জাগছে কি সেই ভুল? হ্যা, আসল ভুল টা ছিল এইদুই গাছের লালন পালন কর্তার - আমার। আর আমি ভেবে গিয়েছি এটা এই দুই গাছের লড়াই এর ভুল! আমি দুটি ভিন্ন প্রজাতি কে ভেবে এসেছি এক ঘরে এক টবে রাখলে আমাকে বেশী খাটতে হবে না! দুইয়েই ফুল দেবে আমাকে। কিন্তু দেখলাম প্রথম বছর জলের পর জল ঢাললাম, কেউই ফুল দিল না। পরের বছর দুই গাছের মধ্যে অস্তিত্ব বিস্তার এর লড়াই শুরু হোলো। বেলফুল গাছ কে ভালো বেসে, একটু খাটো চেহারা দেখে তাকে বাড়তে দিলাম, ভাবলাম দুবলা গাছ; ওকে বাড়তে দেই। দিলাম গন্ধরাজের তিনটি ডাল কেটে, আরে ওতো সাইজে বড়ো ও ঠিক সয়ে নেবে। এদিকে বেলফুল গাছ তরতর করে বেড়ে উঠলো, কিন্তু সেই বৃদ্ধি হোলো অনিয়ন্ত্রিত ভাবে, জংলী বেগে। গন্ধরাজ একডাল নিয়ে দাড়িয়ে রইল। কিছুদিন পরে দেখলাম গন্ধরাজ বহুকষ্ট সহ্য করে প্রথম ফুল ফুটিয়ে তুলল। ফুলটা হেসে আমাকে গন্ধ ছড়িয়ে বুঝিয়ে দিল আমি পালক শাসক হয়ে ঠিক কি ভুল টা করেছি! আমি গাছেদে...

হারিয়ে যাওয়া সময়ের ফ্রেমে সাদা কালো ,বছর পনেরো পরে স্মৃতি গুলো বেশ ভালো।।

হারিয়ে যাওয়া সময়ের ফ্রেমে সাদা কালো , বছর পনেরো পরে স্মৃতি গুলো বেশ ভালো।। ভিডিও লিঙ্ক: https://youtu.be/-ByFM27gtKY?si=sq62EQAMIkuIyn8L আজ লোকাল বন্ধু দের হয়াট্স এপ গ্রুপে আড্ডা দিতে গিয়ে হঠাৎ এই ভিডিও টার অস্তিত্ব মনে পড়লো। আমরা ২০০২ মাধ্যমিক, ২০০৪ উচ্চমাধ্যমিক এ বিরাটির ব্যাচ। এই ছবি গুলো তোলা হয়েছিল হয়তো কলেজ লাইফে প্রথম মোবাইল নেওয়ার পরে, তারপর ভিডিও বানিয়েছিলাম ২০০৭ এর দিকে। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সেই কালার ভিডিও সহ মোবাইলটাই চুরি হয়ে যায়। অগত্যা ব্যাকআপে থাকা এই ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট ভিডিও টা ২০০৯ ব্যাঙ্গালোর যাওয়ার আগে নিজের ইউ টিউব একাউন্টে এড করি। কিন্তু, লাস্ট ১৫ বছরে ভুলেই গিয়েছিলাম এইটা এখনো রয়েছে। আজ আলোচনা প্রসঙ্গে উত্থাপিত হওয়ায় মনে হোলো এটা টাইমলাইনে থাক। ছবি গুলো আর নেই, তাই এই ভিডিওতেই সেই সময় টা ধরা থাকুক। পুনশ্চ: এই ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট ভিডিও টা একবার ভাবলাম ভিডিও ai দিয়ে ঠিক করি একদম ঝকঝকে নতুন ভাবে। তারপর , ভেবে দেখলাম না থাক; কিছু জিনিষ তো আর্টিফিশিয়াল না হলেই ভালো। এই ভিডিওতে  কৃত্রিম রঙ লাগলে সেই বছর কুড়ি আগে ফেলে আসা ছবি গুলোর ভিতরের রঙ হারিয়ে যাবে- থাকুক...