বড়োদের দায়িত্ব বাড়ির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।
আমাদের বাড়ির বাগানের উত্তর প্রান্তের গল্প । ওখানে, অনেক গুলো সবুজ গাছ দলা পাকিয়ে এক সবুজ সতেজ বাতাবরণ সৃষ্টি করে; এতো সবুজে মনটা ভরে যায় ছোট বেলা থেকেই। কিন্তু ওখানে একা যাওয়া বারণ ছিল। কারণ? - ওখানে মাঝে মধ্যেই এক বিষধর গোখরোর উদয় হোতো। বাগানের ইদুর, ব্যাঙ এই সব খেতে আসতো। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বাড়ির বড়ো কেউ লাঠি নিয়ে সাথে না থাকলে ওখানে যাওয়া নৈব নৈব চ। প্রতি সপ্তাহান্তে নিয়মিত কার্ব্লিক এসিড দেওয়া হোতো। একদিন আমি আমার ক্লাস ওয়ানের কিছু বন্ধু বাড়িতে আসায় তাদের কে সেই যায়গায় নিয়ে যাই খেলতে। গাছের আড়ালে খেলায় মাতি, বড়োরা কেউ ছিল না সাথে। হঠাত একটা সাপের লেজ দেখতে পাই আমরা, বেশ ভয় পেয়ে যাই। মা মা বলে ডাকতেই, ঠিক সেই সময়ে পিছন থেকে মা লাঠি হাতে এসে উপস্থিত। মাটি তে লাঠির বাড়ি দিতেই সাপ টা পালিয়ে গেল। আমি বকা খেলাম- কেনো বড়ো কাউকে ছাড়া ঐখানে গেছি! রাতে বাবা অফিস থেকে ফেরার পরে এই ঘটনা শুনে মার উপর রেগে গিয়েছিল, কি করে বাচ্চা রা একা ওখানে যায়? খেয়াল আর রক্ষার দায়িত্ব ছিল বাড়িতে থাকা বড়ো দের।
মা এরপরে বুদ্ধি করে একটা মেনি কে বাগানে থাকতে দিল। একদিন দুপুরে শুনতে পেলাম মেনি প্রচণ্ড চেচাচ্ছে । বেরিয়ে দেখি- উত্তর প্রান্তে বাগানের কোণে গোখরো ফনা তুলে আছড়ে পড়ছে আর মেনি শরীর বাঁচিয়ে পাল্টা প্রত্যাঘাত করছে নখ দাঁত দিয়ে। বেশ কিছুক্ষণ যুদ্ধ করে গোখরো বেশ ক্ষত বিক্ষত হোলো। সে বিষধর এমন নিরপদ্রব স্থানে আক্রমণ এর সম্মুখীন আগে কখনো হয়নি! সেদিন সেই যে পালালো আমাদের বাগান থেকে আর ৩০ বছরে এমুখো হয়নি। যদিও দশ বছর পরে সেই মেনি হারিয়ে যায় কালের নিয়মে। মেনি সেদিন প্রচন্ড লড়াই করে গোখরো কে তাড়িয়ে দিয়েছিল। বিষধর ভয়ে আর এমুখো হয়নি জীবনে।
পুনশ্চ: বাড়ির নিরাপত্তা বড়োদের নিশ্চিত করতে হয়। বাড়ির চৌহদ্দিতে যদি হিংস্র জান্তব উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয় তখন তা থেকে পরিবার কে রক্ষার দায়িত্ব কর্তব্য বড়োদের উপরই বর্তায়। ছোট রা যাতে নিরাপত্তা বিহীন ভাবে বিষধর এর সামনে উপস্থিত না হয় বাড়ির চৌহদ্দি তে সেটা সুনিশ্চিত করা বড়ো দের কাজ। না হলে, বিষধর বিষ ঢেলে দিয়ে চলে যাবে।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২৬ এপ্রিল ২০২৪
ছবি: সংবাদপত্র ইন্টারনেট
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন