ছাদের থেকে ঐ দেখা যায়, সবুজ নবীন পাহাড়

ছাদের থেকে ঐ দেখা যায়, সবুজ নবীন পাহাড়

সমতলের বাসিন্দার চলার পথে জীবনের কোনো এক বাঁকে যদি হঠাৎ এক টুকরো পাহাড়-জল উঁকিঝুঁকি দেয় সেই মূহূর্ত টা সার্থক মূহূর্ত হিসেবে অন্তরে ফ্রেমবন্দী হয়। জীবনে আয় ব্যায়  , কর্ম কে ধর্ম মনে করে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যাওয়া কর্তব্য বোধের সাথে মনের গহীনে একটি চাপা চাহিদা থাকে- "আনন্দ পাওয়া"। এই আনন্দ আপোসহীন অনাবিল। অনন্ত মাঝে রঙ দে বসন্তী সটাইলে সে ভিতর থেকে গেয়ে ওঠে- "আভি আভি হুয়া ইয়েকিন, কি আগ মুঝ্মে হ্যায়- রুবা রু" । তাই ঘর ছাদ জানালা থেকে পাহাড় দেখলে বাঙালি সব পেয়েছির দেশে চলে যায় সেই মূহূর্তে। সেই স্মৃতি থেকে যায় আজীবন।

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ১০ জুলাই ২০২৫। পুনে।



ইমেলের বার্তা আজ অনেক বেশী কৃত্রিম,
মেঘ, সেতো প্রাকৃতিক সৃষ্টি মহা আদিম।।

ল্যাপটপের উইন্ডোজ ভার্সানের সাথে দেওয়াল জোড়া উন্মুক্ত জানালা টা পাশাপাশি মিশে বসে গেছে। ল্যাপটপের ইমেল কে মেঘরাজ টুক করে উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখে নিলো। ইমেল হেসে বললো- মেঘরাজ, আমার ল্যাপটপের ছুটি আজ। তুমি আমাকে পৌছে দেবে গন্তব্যে?  দাও না ভাই একটু বার্তা টা পৌছে, আমাকে নিয়ে যাবে উড়িয়ে? আমি শুনি আমি উড়ে চলে যাই,কিন্তু কিভাবে উড়ি, কখনো বুঝিনি! আমি আজ সত্যি উড়তে চাই, উড়ে চলে যাওয়া অনুভূতি তে ধরতে চাই। তোমার  সাথে মেঘের দেশে ঘুরে নীচের মাঠ ঘাট পাহাড় নদী দেখে ভেসে যেতে চাই। হোক না দেরী, কুছ পরোয়া নেই, আমি আজ বাঁচতে, ভাসতে চাই। ইমেলের বার্তা শুনে মেঘরাজ হেসে বললো- চলো তাহলে, যাই উড়ে দুইয়ে, যাই নিয়ে উড়িয়ে।
কিন্ত একি? মাঝে যে কাঁচের দুনিয়া জোড়া , এক জোড়া কাঁচের জানালা। একটা ল্যাপটপের কাঁচের স্ক্রিন, আরেকটা জানালার কাঁচ।  ইমেল আর মেঘ উদাস হয়ে দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে রইলো। মেঘ গলার কাছে দলা পাকানো করুণ স্বরে বলে উঠলো - আমি আজকের দুনিয়ায় যক্ষের বার্তা বইতে অপারগ। বার্তা আজ অনেক বেশী কৃত্রিম, আর আমি তো সৃষ্টি মহা আদিম। আমি তোমাকে ছুঁতে পারলামা না ইমেল, ভালো থেকো! মেঘ ভেসে চলে গেলো, আর  ইমেল? বলে উঠলো - ভালো আছি ভালো থেকো মেঘ বন্ধু। তুমি চেষ্টা তো করেছিলে এই কাঁচের দুনিয়া ভাঙ্গতে!

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ৯ ই জুলাই ২০২৫



##কাঁচের জানালা মাঝে আঁকে আলোছবি রেখা - ১

১। জানালার একদম বাম দিকে উপরের কোণে গুরু পূর্ণিমার পূর্ণ চন্দ্র ,এই আলো টা একদিকে সুন্দর, প্রাকৃতিক- কিন্তু ধরা ছোয়ার বাইরে। দূর থেকে দেখেই মন ভরে যায়। তাকে ধরি ধরি মনে করি ধরতে গেলে আর পেলেম না-

২।  জানালার বাম দিকে মাঝ বরাবর রাস্তার সাদা আলো। এই আলো গুলোর বাস্তব কার্যকারণ রয়েছে পথের ধারে। এগুলো চাঁদের মতো সুন্দর না , কিন্তু সন্ধ্যের পরে অন্ধপথে দাও আলো, পথচলতি কে বাঁচাও দুর্ঘটনা ও বিপদ এর হাত থেকে - সুরক্ষা কাণ্ডারী জাগতে থাকো।

৩। এর পর কিছু ঘরের আলো র প্রতিবিম্ব কাঁচের জানালায়। হ্যা, এরকম কিছু আলো কিছু চরিত্র ঘরের মধ্যেই থাকে। তার প্রাসঙ্গিকতা ঘরের কর্তব্যে নিমজ্জিত। কিন্তু সেই দায়িত্ব প্রতিবিম্ব রূপে প্রকাশ পায়- জানিয়ে দেয় দূরের স্বপ্নিল চাঁদ এর পাশে ঘরের আলো- সত্যি বলছি মানিয়ে ছিলো ভালো।

# পুনশ্চ: হোটেল জানালা পর্ব ১


©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ । ৯ ই জুলাই ২০২৫ , পুনে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"