পোস্টগুলি

অপত্য প্রত্যয়

"যাই বলো ভাই মিনু, আপন-আপন-ই হয়, নিজের ঔরসজাত কেউ না থাকলে এই সব আদিখ্যেতার কোনো মানেই হয়না, বুঝলে। তোদের হয়নি, ব্যস মেনে নিলেই তো হয়। এত আহ্লাদ করে আবার অন্যের বাচ্চা বাড়ি তে তোলার কি দরকার ছিল? কার না কার ঘরের থেকে কি জাত-বংশের ধারা নিয়ে এলি; কে জানে!" - বলেই থালার থেকে টুপ করে কবোষ্ণ ফিসফ্রাই টা গলাধ:করণ করলেন বোস গিন্নী। পাড়ার মহিলা মহলের মাথা মিতু বোসের কথা শুনে  আরেক প্রতিবেশী মিনু থালার দ্বিতীয় মাছটির অবশেষাংশ মৌজ করে মুখে চালান করে মাথা দুলিয়ে বলল :"যা বলেছ মিতু দি। কথায় আছেনা রক্ত; সেইটাই তো আসল গো। শেষ অব্ধি ওটাই থাকবে আর আবদ্ধ রাখবে সম্পর্কের বন্ধনে! রক্তের টান না থাকলে সব ফুস করে উড়ে চলে যাবে বলে দিলাম!  আরে,এই ক্যটারার ভাই তুমি হা করে কি দেখ্ছ-শুনছ বলোতো? ঐ মাছের পিস টা দাও তো- পেটির টা দাও। আগের টা লেজার দিক থেকে দিয়েছিলে, দাড়িয়ে আর মাছ বাছতে পারব না। তবে বুঝলে সবাই, রুমি দি আয়োজন মন্দ করেনি পাতানো মেয়ের প্রথম জন্মদিনে।" - বলেই ব্যঙ্গের হাসি হেসে আবার তৃতীয় মাছে মনোনিবেশ করল মিনু, পাড়ার বাকি গিন্নি বাহিনীও একসাথে খেতে খেতে গল্পের মতন আলোচনা-সমালোচনায়...

"জাতের শাপ, ভাতে মোচন"

"এই মে মাস টা কিন্তু যাই বলিস আমাদের দেশের-দশের একটা মনে রাখার মতন মাস, কি বলিস টুটু?" - রবিবার সকালে চায়ের টেবিলে সোনাই আলগোছে প্রশ্ন টা করল ভাই কে উদ্দেশ্য করে । প্রশ্ন শুনে টুটু অবাক হয়ে বলল :"কেন বলত? ও বুঝেছি, মে মাসে আইপিএল এর আসর বসে,তাই মে মাস টা সবাই মনে রাখে"। উত্তর শুনে সোনাই চোখ পাকিয়ে হাসতে-হাসতে বলল : "জানি, তোর ভাবনার দৌড় ঐ অব্ধিই সীমাবদ্ধ। আরে আইপিএল তো হাল আমলের বিষয়, এটা একটু পুরনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। " টুটু ভুরুকুঁচকে বলল: "পুরনো বিষয়?, হমম, ঠিক বুঝতে পারছি না তুইই বলতো, সকাল সকাল হেয়ালি করছিস কেন?" সোনাই হেসে বলল: "আরে এই মাসে সব বিখ্যাত মানুষদের জন্মদিন , সত্যজিৎ রায়-রবি ঠাকুর-রাজা রাম মোহন রায়, আরো অনেকে আছেন।" টুটু শুনে একটু গম্ভীর হয়ে বলল: "জন্ম হোক যথা তথা , কর্ম হোক ভালো; জন্মের দিন জেনে, কি হবে এই যে রাজা  রামমোহন রায় এর জন্মদিন কে মনে রাখে? বরং উনি মা-য়ের জাত কে বাঁচাতে রুখে দাড়িয়েছিলেন সেইটাই প্রধান। ওনাদের কাজ টাই আসল। এই ধর, রবি ঠাকুর যে পিরালী ব্রাহ্মণ ছিলেন সেইটা কি খুব গুরুত্বপূর্ণ নাকি তিনি তার...

বইমেলার সংগ্রহ ২০২৩

ছবি
একসাথে বিছানায় বসে অত্ভুৎ ভাবে চারু মজুমদার আর চৈতন্য গণতান্ত্রিক দাবি নিয়ে আলোচনা করছেন! চমস্কি নোট করছেন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা। হিটলার আর কাস্ত্র এসে আলোচনায় যোগ দিলেন। একটু বিতর্ক শুরু হোল! মেইন ক্যম্ফ এর উত্তরে কাস্ত্রো রেফার করল মার্কসীয় সহজ পাঠ এর শিক্ষা ।   এই দেখে বিছানার দক্ষিণে দেশের মাটিতে সুভাষচন্দ্র বসু ও জওহরলাল নেহেরু নিজেদের  -নিজদের মতপার্থক্য নিয়ে আলোচনারত । আরেকটু দক্ষিণে ৪৭ থেকে ২০১০ অব্ধি রাজার চার নীরব টেক্কা গোলাম বসে আছেন- জে পি নারায়ণ, কামরাজ , ম্যডামজী, আর লোকপাল। এরা দেখেছেন পাশে আছে রোড টু রাজধানী : ম্যাডাম জী টু মোদী!  সবার মধ্যেই এইবার একটু একটু থ্রিল আসছে কি হচ্ছে কি হবে? ইতোমধ্যে এক সৈনিক হঠাৎ বলে উঠল রাজায়-রাজায় যুদ্ধে সৈনিক এর গৈরিক ত্যাগ এর প্রত্যক্ষ বিবরণ নিজের যুদ্ধের অভিজ্ঞ্তায়: টাইগার হিল বিজয়।  "র" এর সিক্রেট মিশন ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করল আরো কিছু আধিকারিক । এদিকে সিরাজ এর সেনাপতিও বলল কিছু গুপ্ত কথা। তাই দেখে যীশু, চৈতন্য, আর নেতাজী বলে উঠলেন আমাদের শেষের প্রহর টাও একটু...

হুরর হ্যাট,হটে গেল - হেরে গেল হেট হৃদয়।

ছবি
আচ্ছা, একটি দৃশ্য কল্পনা করলে কেমন হয় :  বৈশাখী পূর্ণিমার সান্ধ্য শুভ্রালোকে প্রকৃতি সবে অবগাহন করে উঠছে , ঠিক তখনই আপনার মনে কোনো বিশেষ চিন্তা ভাবনার উদ্রেক হোলো।  আহ্হ- এই দেখ কাণ্ড, একটু ভাবতেই তো বলেছি! তাই বলে কি আপনি সত্যি ভাববেন নাকি, ধূর হয় নাকি? কত্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে আপনার। কোথাকার কে পূর্ণিমা দেখে বিগলিত-গদগদ হয়ে কি-না-কি ভাবতে বলল আর আপনি মনে গুণগুণ রবে ভাবতে বসলেন "পূর্ণিমা সন্ধ্যায় তোমার রজনী গন্ধায়" , অসম্ভব ! তার বদলে যদি একটু অন্য ধরনের কথা বলি ভাববেন নাকি?  ওহ জানতে চাইছেন সে কি এমন কথা যা ভাবতে বললেই আপনি আহ্লাদিত হয়ে একটু ভাবতে বসবেন!  আহা, সবুর করুন ধীরে চলছি, ধরে-ধরে  বলছি। কি বলেন?  তাহলে শুরু করাই যাক :  ২০২৩ এর ২রা মে এক ভদ্রলোক সিনেমা রিলিজ এর কথা ভাবলেন:  তিনি একই দিনে একটা না দুটো না তিন তিনটে নতুন সিনেমা রিলিজ করবেন! ব্যস আধুনিক ট্রেন্ডে তিনি তার সামাজিক মাধ্যমে লিখলেন:-  ভাবছি, নতুন চলচ্চিত্র "সোনার রাজার দেশ"  নন্দনকাননে  প্রকাশ করব; "জন গণের শত্রু" দেশের রাজধানী তে আর "পূজার দেবী" সবার মাঝে ইন্...

রিসেশন এর মাটিতে ডেভিড ও গোলিয়াথ

ছবি
২০২৩ এর পড়ন্ত বিকেলে তথ্যপ্রযুক্তি অফিসের টপ ফ্লোরের স্বচ্ছ জানালা দিয়ে সূর্য টা টুপ করে ডুবে গেল। একটা দীর্ঘ মিটিং শেষে কফির মগে চুমুক দিয়ে মুঠোফোনের দিকে তাকাতেই চমকে উঠল সায়ন মুখার্জি। ফেসবুকে ভেসে আসা অনেক খবরের মধ্যে একটি খবরে চোখ আটকে গেল, অস্ফুটে মুখ থেকে বেরিয়ে এল: "আবার শুরু হয়েছে?" সাথে সাথে সন্ধ্যের আবছায়ায় চোখের সামনে ভেসে উঠল একটি পুরনো চিত্রনাট্য। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাস: কুয়াশার চাদরে ঢাকা মফস্বলের এক বিয়েবাড়িতে তুমুল হট্টগোলের মধ্যে মুঠোফোন টা কেঁপে উঠল থরথর করে - একটা বার্তা ঢুকল। স্ক্রিনেভেসে উঠল :   "সায়ন, ইমেল টা চেক কর , আমি যা দেখছি তা বিশ্বাস করতে পারছি না! তুই ইমেল টা দেখে আমাকে ফোন করিস। " - মুঠোফোন এর মাধ্যমে সৌরভ এর বার্তা দেখে সায়ন বিস্মিত ! বিয়ে বাড়িতে সবে নেমন্তন্ন খেতে বসেছে হঠাৎ এই বার্তা। পাতের কচি পাঁঠার থেকে মন এখন পুরো অন্যদিকে ঘুরে গেছে: -  "ধূর কিসের ইমেল, সেটা লিখতে কি দোষ ছিল সৌরভের, তাহলে কি সেই বহু প্রতিক্ষিত বার্তা এসে গেছে! জ্য়েনিং কি দিয়েই দিল অবশেষে?" কলেজ পাশ করেছে ছয় মাস হয়ে গেল সায়ন এর ; কলেজে থাকাকালীনই...

সব পদ এসে মিশে গেল শেষে।।

ছবি
দুম!ধপাস! হঠাৎ করে একটি প্রায় অন্ধকার ঘরে আছড়ে পড়ল একটি বাদামি কোট পরিহিত ছেলে।  আচম্বিতে মেঝেতে পড়ায় বেশ কিছুক্ষণ স্থিরবত নিশ্চল হয়ে ভাবলেশহীন ভাবে পড়ে রইল সে। কেমন একটি অদ্ভূৎ বিসদৃশ ঘ্রাণে তার মন প্রাণ ঘুলিয়ে উঠল। কিছু সময় পরে যখন আশেপাশের অন্ধ্কার পরিবেশ এর সাথে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিয়েছে তখন ছেলেটি বুঝতে পারল ও একটি প্যাচপ্যচে স্যাতস্যাতে ঘরের ভিতর পড়ে রয়েছে, ঘরের চারদিকে একটি লালচে পিচ্ছিল প্রাকার এর অস্তিত্বও অনুধাবন করল।   উফ্ফ, কি থেকে যে কি হয়ে গেল? প্রচন্ড গরম লাগছে, এ কোন যায়গায় এলাম রে বাবা! একটু আগেই তো সেজে-গুজে সভার মাঝে মধ্যমণি হয়ে বিরাজ করছিলাম।  সবাই আমার কত্ত প্রশংশাই না করছিল।  তারপর হঠাৎ ই দেখলাম এক কাঁটায় বিধে এক লকলকে গহ্বরে কেউ আমাকে নিক্ষেপ করল!  উফ্ফ কি পিচ্ছিল গহ্বর ধরে এই ঘরে এসে উঠলাম! কি যে হচ্ছে কিছুই বুঝলাম না।  এই সব ভাবতে-ভাবতেই হঠাৎ আরেকটা আছড়ে পড়ার শব্দ শুনতে পেল ছেলেটি। একটু কষ্ট করে অন্ধ্কারে খুঁজে দেখল ওর মতন আরেকটা ছেলেও আছড়ে পড়েছে মেঝেতে। সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখল সেই ছেলেটিও অজ্ঞান হয়েই পড়ে আছে, একটু ভালো ভাবে ঝুঁকে ...

এসো হে সার্টিফিকেশন, এসো এসো ।।

ছবি
বন্ধুরা, আজ আমিও আপনাদের দলে। হ্যা আমিও সার্টিফিকেশন এর কঠিন পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমিও দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করলাম, আজ আমিও পেরেছি। আচ্ছা বন্ধুরা আপনারা কি জানেন এই শংসাপত্র-অর্জন, ব্যুত্পত্তি লাভ এর পথ কেমন ছিল? কে কিভাবে  উত্সাহ জুগিয়েছে এই সম্মানের পথে এগিয়ে যেতে।  আসুন আপনাদের কাছে খোলসা করে সব বলছি; ওহ হ্যা লিঙ্কদিনের নিয়মে সংক্ষিপ্ত (নিভৃতে বিস্তারিত) ভাবেই বলব!  গত দুই সপ্তাহকাল ধরে আমি এই মহান কার্যে নিমগ্ন ছিলাম, হয়ত সেই সময়ে খেয়েছি-ঘুমিয়েছি, বাকি দৈনন্দিন কার্যকলাপ ও সম্পন্ন করেছি কিন্তু অবচেতনে শুধু এই মহাপরীক্ষার কথাই ভেবেছি। রবিবার দুপুরের অজমাংসের এর ম্যা-ব্যা ধ্বনি কে বর্জন করেছি যাতে লালসার ফাঁদে পড়ে একান্ত অধ্যাবসায় বিঘ্ন না ঘটে। নিজেকে মোহহীন এক ধ্যানমগ্ন তাপসে পরিণত করেছি। এই সময়ে নিপাতনে সিদ্ধ কারকের মতন নিমপাতা সেদ্ধ  গ্রহণ করেছি সামনের পরীক্ষার কথা ভেবেভেবে আকূল হয়ে। ইত্যবসরে নববর্ষের হালখাতা করতে গিয়েও বাধ্য হয়েই নিজের মন কে বুঝিয়েছি : না, এই বছর বেশী দোকানে ঘোরা যাবে না, আমি এখন এক মহা সংগ্রামে অবতীর্ণ। তাই শীঘ্র ঘরে ফিরেছি, নিজের মনকে...