এসো হে সার্টিফিকেশন, এসো এসো ।।

বন্ধুরা, আজ আমিও আপনাদের দলে। হ্যা আমিও সার্টিফিকেশন এর কঠিন পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমিও দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করলাম, আজ আমিও পেরেছি। আচ্ছা বন্ধুরা আপনারা কি জানেন এই শংসাপত্র-অর্জন, ব্যুত্পত্তি লাভ এর পথ কেমন ছিল? কে কিভাবে  উত্সাহ জুগিয়েছে এই সম্মানের পথে এগিয়ে যেতে। 
আসুন আপনাদের কাছে খোলসা করে সব বলছি; ওহ হ্যা লিঙ্কদিনের নিয়মে সংক্ষিপ্ত (নিভৃতে বিস্তারিত) ভাবেই বলব! 

গত দুই সপ্তাহকাল ধরে আমি এই মহান কার্যে নিমগ্ন ছিলাম, হয়ত সেই সময়ে খেয়েছি-ঘুমিয়েছি, বাকি দৈনন্দিন কার্যকলাপ ও সম্পন্ন করেছি কিন্তু অবচেতনে শুধু এই মহাপরীক্ষার কথাই ভেবেছি। রবিবার দুপুরের অজমাংসের এর ম্যা-ব্যা ধ্বনি কে বর্জন করেছি যাতে লালসার ফাঁদে পড়ে একান্ত অধ্যাবসায় বিঘ্ন না ঘটে। নিজেকে মোহহীন এক ধ্যানমগ্ন তাপসে পরিণত করেছি। এই সময়ে নিপাতনে সিদ্ধ কারকের মতন নিমপাতা সেদ্ধ  গ্রহণ করেছি সামনের পরীক্ষার কথা ভেবেভেবে আকূল হয়ে।
ইত্যবসরে নববর্ষের হালখাতা করতে গিয়েও বাধ্য হয়েই নিজের মন কে বুঝিয়েছি : না, এই বছর বেশী দোকানে ঘোরা যাবে না, আমি এখন এক মহা সংগ্রামে অবতীর্ণ। তাই শীঘ্র ঘরে ফিরেছি, নিজের মনকে শান্ত রাখতে বারংবার আবগাহনের মাধ্যমে এক পুণ্য আত্মা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি। 
নিজের আত্মসংযম কে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছি  গনমাধ্যম-ফেসবুক-সমাজমাধ্যম এ এই বিশেষ বিষয়ের উপরেই শুধুমাত্র মনোনিবেশ করেছি। কখনো জানতে পেরেছি যে এইবার প্রশ্নপত্র ভীম রুদ্ররূপে ধেয়ে আসছে! আবার কখনো জেনেছি এই বিষম উথকন্ঠার নাগপাশ থেকে অচিরেই মুক্ত হবো আমি।

অবশেষে আজ খবর পেলাম আমার তপস্যা র সাফল্য আর মাত্র দিন তিনেক দূরে, ভাবলাম এই সুন্দর মুহূর্তে আপনাদের এই আনন্দ সংবাদটি মনোজ্ঞ ভাবে লিঙ্কডিন পন্থায় একটু জানিয়েই রাখি  : "এইতো অগ্নিবর্ষণ এর অন্তিম পর্বে আমরা উপস্থিত হয়েছি,বাইশে এপ্রিল আবহাওয়া দপ্তর বলেছে : -একদিন গরম কমে যাবে, পৃথিবী আবার ঝড় দেখবে"।।
পুনশ্চ: এই সার্টিফিকেটের পরে আমার বিশেষ কিছু পরিকল্পনা আছে, 
নূতন সার্টিফিকেশন এর আগামী পরিকল্পনা: 

১। ঐ গোটা দশেক বৃক্ষ চারা রোপণ করব, সাথে একটি গাছের সুন্দর রচনা লিখব ফেসবুকে।
২। অত:পর, গরম কালের শেষে বেশ দশটি  চারায়  এমন জল দেব যে সেই জলের তোড়ে অন্তত তিনটে অক্কা পাবে।
৩। এরপর বর্ষা কালে আবার একটি ঝমঝম বর্ষণ মুখর সিক্ত দিনেও ছাতা মাথায় দুই বালতি জল দেব প্রতিটি গাছের গোড়ায়। এর ফলে তিনটি গাছ সমূলে উত্পাটিত হয়ে যাবে।
৪। ধীরে ধীরে প্রকৃতি তে আসবে শরত-শীত-হেমন্ত। আমি আরাম কেদারায় বপু ঝুলিয়ে হসন্ত মুখে ভাবব : বর্ষায় অনেক জল পড়েছে এখন আর জল দেবার কি প্রয়োজন, ব্যস আরো তিনটি গাছ গিলি গিলি গ্যা - ভ্যানিশ।

৫। আহা, বসন্ত এসে গেছে:  শেষে হারাধনের দশটি গাছের শেষের টির থেকে দেখব দুটি কচি পাতা সবে উঁকি দিয়েছে,ব্যস সাথেসাথে ফ্রেমবন্দী করে ফেসবুক-লিঙ্কডিন এ লিখব : 
নমস্কার আজ আমি আপনাদের জানাই  আমি আরেকটি নতুন কীর্তি স্থাপন করলাম, আপনারা জেনে খুশী হবেন : আমি সার্টিফিকেট দের দলে আরেকটি নতুন পালক জুড়লাম, সেই কাহিনী শুনুন ....

আহহা ,না মানে শুধু ফেসবুকে-ফোন বার্তায় প্রকাশ করলে কি আর স্বল্প বিবরণে বলতে পারতাম কি যেভাবে সংক্ষেপে বোঝালাম আপনাদের; আপনারাই বিচার করুন। 
তখন একটা ছবি দিয়ে দুই লাইনেই লিখে দিতাম : উফফফ এইবার গরমে বেঁচে গেলাম বাবা , আসছে বার আবার দেখা যাবে। 


ছবির প্রাপ্তি : https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=pfbid0YhaYcmrVXXL3XP9BnEXFKNriWSJZTtUzGFhG52RfoeidRh5yaCjLyZjRjpseXN5il&id=626234680722636&mibextid=Nif5oz

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"