পোস্টগুলি

বিদ্বান সর্বত্র সর্বাগ্রে পূজ্যতে

ছবি
বিদ্বান সর্বত্র সর্বাগ্রে পূজ্যতে আক্ষরিক প্রকাশ, মহাভারতে এলো আহ্বান। বিঘ্নকারী ওদের কাছে, আমি গণ প্রধান।। বহে নাই ধমনী শিরায় কুলীন দেব রক্ত জাত। পিতা শূলপাণী সন্মুখ-সমরে হয়নি মম মাথা নত।। বিদ্যা বুদ্ধি অর্জিত সিদ্ধি, আমি প্রতিভূ অনার্য। কৌশলে মজে, পূজে প্রথমে যতো দেব বিধি আর্য।। জ্ঞান আমারে দিয়েছে স্থান সকল দেবের উপর, বিদ্যাবুদ্ধি না থাকলে কেউ রাখতো কি মোর খবর? শিক্ষাজ্ঞান ই মহাশক্তি বুঝুক পিছিয়ে পড়া মানুষ কৌশল চিন্তা যুক্তি না এলে জীবন টাই যে ফানুস। আমার জীবন থাক হয়ে মানুষের কাছে উদাহরণ g k h বিঘ্ননাশক অন্তে উপাধি,বিঘ্নকারী নাম পরিবর্তন।। পুনশ্চ: বৈদিক প্রেক্ষিত বিহীন দেব গণেশ, তাঁকে প্রথমে যে আর্য রা বিঘ্নকারী হিসেবে নামকরণ করেছিল শেষে তারাই নাম পরিবর্তন করতে বাধ্য হোলো - বিঘ্ননাশক! মহাভারত লিপিবদ্ধ করতে গিয়ে আর্য দের দরকার পড়লো এক অনার্য গণপতির শব্দ অক্ষর-জ্ঞান এর! এবং তিনি হয়ে উঠলেন সর্বাগ্রে পুজো পাওয়ার একক আধিকারী, কারণ - বিদ্বান সর্বত্র সর্বাগ্রে পূজ্যতে! ওহ, হ্যা শুধু বিদ্বান ই না, তার সুকৌশল প্রয়োগ বল ও দরকার। ©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২৭ আগস্ট ২০২৫ ।। গনেশ চতুর্থী। ...

কসমোপলিটন সে কি আজ ইউটোপিয়ান?

ছবি
"কসমোপলিটন সে কি আজ ইউটোপিয়ান?"   সেই কবে কতো যুগ ধরে শুনে এসেছি বিদেশির হাতে এ শহরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা। এর সাথে ইংরেজ দের অহংকার-  চার্নক সাহেব আজকের দিনে অর্থাৎ ২৪ শে আগস্ট (১৬৯০) এ নেমে আসছেন কলকাতা প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু রবিবাসরীয় দুপুরে বৈদূর্য্য সরকার এর লেখা কসমোপলিটন কলকাতা বই টা পড়ে এই বিশ্বাস টা দুম করে ধাক্কা খেলো সত্য তথ্যের মাধ্যমে, কারণ?  ইংরেজ যখনই গর্বোদ্যত ভাবে প্রকাশ করে ওরাই কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা এবং চার্নকই জনক তখন বলতেই হয়- এবার একটু থাম ভাই ইংরেজ! আসলে উনিজি (মানে এখানে চার্নক পড়ুন) আসার আগে অলরেডি তিন চারটে বিদেশী জাতি বহাল তবিয়তে ব্যবসা করছে, হ্যা এই কলকাতার বুকেই। পর্তুগিজ রা এসে গেছে প্রায় ১৬১০ এর দিকে- আবার আর্মেনিয় রেজা বিবিকে ১৬৩০ সালের ২১ জুলাই যখন কলকাতায় সমাহিত করা হচ্ছে তখন চার্নক স্যর কিন্তু ধরাধামেই আসেননি! ওহ, হ্যা আমরা কিন্তু তখন টুক করে কলকাতায় এসে গিয়েছি রেজা বিবির সমাধি ঘুরে। ওদিকে ফরাসিরা ডাচ রাও কিন্তু ইংরেজ দের দাবিকে সব সময় ধাক্কা দিয়ে এসেছে- ১৬৬০ সালে ফ্যান ড্রেক একটি মানচিত্রে কি কুক্ষণে যে চন্দন নগরের সাথে হঠাৎ  করে কলকাতার ...

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"

ছবি
"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"  - হিন্দি ডায়লগ দিলাম বলে কি বাংলা"র"পক্ষে নেই ভাবছেন ? না, ব্যাপারটা একদমই সেরকম নয়। এই বিখ্যাত ডায়লগ টা ধার নিলাম আজকের বাংলা কে বোঝাবার জন্যেই। কিভাবে?  আসলে গতকাল এমন দুটো ঘটনা ঘটেছে যাদের ক্ষেত্রে দি এন্ড না হয়ে সময়ের সীমা পর্দায় তুলে ধরছিল- "পিকচার আভি বাকি হ্যায়" । কাদের কথা বলছি?  সেই সব-  ১।  "ওরা কাজ করে নগরে প্রান্তরে" । কাজের জন্য এসেছে"এতটা পথ পেরিয়ে"। আসলে গতকাল শহর জুড়ে এক নতুন মেট্রোর চলাচল। ঐ উপরে উল্লেখিত ১ নম্বর গ্রুপ আজ থেকে দূর প্রান্তর থেকে খুড়োর কলে চেপে পাঁচ ঘন্টার রাস্তা যাবে দেড় ঘন্টায় চলে। আহা, খুড়ো বললে শুধু রাগ করবেন না , পক্ককেশ বুদ্ধ বুড়ো থেকে মানবিক দিদি কিংবা আজকের দাদু সবাই কিছু কিছু লিড করেছে- ঐ যে বললাম ১১ বছর ধরে পিকচার ও জ্যাম এ ফেঁসে বাংলা হাল ছাড়েনি বন্ধু, আশা ছাড়েনি। তাই আজ এগিয়ে বাংলা, অনেকটা পিছিয়ে যানজট কাটিয়ে কিছুটা - এগিয়ে বাংলা। ২। কাজ করে যাও ফলের আশা কোরোনা জয়েন্ট এর পরীক্ষা দিয়ে যাও রেজাল্ট বেরোবেনা এদিকে উপরে উল্লেখিত এই দ্বিতীয় গ্রুপ জীবনের সূচনা পর...

ছাদের থেকে ঐ দেখা যায়, সবুজ নবীন পাহাড়

ছবি
ছাদের থেকে ঐ দেখা যায়, সবুজ নবীন পাহাড় সমতলের বাসিন্দার চলার পথে জীবনের কোনো এক বাঁকে যদি হঠাৎ এক টুকরো পাহাড়-জল উঁকিঝুঁকি দেয় সেই মূহূর্ত টা সার্থক মূহূর্ত হিসেবে অন্তরে ফ্রেমবন্দী হয়। জীবনে আয় ব্যায়  , কর্ম কে ধর্ম মনে করে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যাওয়া কর্তব্য বোধের সাথে মনের গহীনে একটি চাপা চাহিদা থাকে- "আনন্দ পাওয়া"। এই আনন্দ আপোসহীন অনাবিল। অনন্ত মাঝে রঙ দে বসন্তী সটাইলে সে ভিতর থেকে গেয়ে ওঠে- "আভি আভি হুয়া ইয়েকিন, কি আগ মুঝ্মে হ্যায়- রুবা রু" । তাই ঘর ছাদ জানালা থেকে পাহাড় দেখলে বাঙালি সব পেয়েছির দেশে চলে যায় সেই মূহূর্তে। সেই স্মৃতি থেকে যায় আজীবন। ©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ১০ জুলাই ২০২৫। পুনে। ইমেলের বার্তা আজ অনেক বেশী কৃত্রিম, মেঘ, সেতো প্রাকৃতিক সৃষ্টি মহা আদিম।। ল্যাপটপের উইন্ডোজ ভার্সানের সাথে দেওয়াল জোড়া উন্মুক্ত জানালা টা পাশাপাশি মিশে বসে গেছে। ল্যাপটপের ইমেল কে মেঘরাজ টুক করে উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখে নিলো। ইমেল হেসে বললো- মেঘরাজ, আমার ল্যাপটপের ছুটি আজ। তুমি আমাকে পৌছে দেবে গন্তব্যে?  দাও না ভাই একটু বার্তা টা পৌছে, আমাকে নিয়ে যাবে উড়িয়ে? আমি শুনি আমি উ...

বাবার নাম বন্ধুরা ভোলে না!

স্কুল এর উঁচু ক্লাসে কিংবা কলেজ লাইফে নিজের বাবার নাম দিনে একবার লেখা বা বলা হলো কি হোলো না, কিন্ত একাধিক বার একাধিক অন্য অনেক মুখ থেকে শোনা যেত। মানে প্রত্যেকে নিজের বাবার নাম এর থেকে বন্ধুদের বাবার নাম বেশী বার উচ্চারণ করতো। সে ভালো ব্যপার! কিন্তু এর পরে প্রত্যেক বাবার নামের সাথে এক একটি উপমা জুড়ে যেত, এটা ছিল বাবা দের নতুন নামকরণ পর্ব-  বুদ্ধি খাটিয়ে সন্তানদের বন্ধুরা কেমন যেন পুনঃ অন্নপ্রাশনের ব্যবস্থা করছে নামকরণের মাধ্যমে । এই নাম গুলো এমন হতে হবে, যার নাম বা উদ্দ্যেশে করা হবে তিনি কিন্তু সন্মুখে কোনোদিনও জানবেন না- এই নীতি টা মোটামুটি সবাই মেনে চলবে,  কিন্ত তার সন্তান যেন ভালো ভাবে জানে, বোঝে এবং যতো জানে ততো লুচির মতোন ফুলে ওঠে! বাবার নতুন নামকরণের ভাবসম্প্রসারণ শুনে সেই সন্তান ও বাধ্য হোতো আমেরিকার মতো পার্ল হারবার ধ্বংসের পরে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে নামতে। এই নব নামকরণে কি যে প্রবল উৎসাহ, এ  আবহমান কাল ধরে বয়েই চলেছে ।  পুনশ্চ: তবে একটা বয়সের পরে গিয়ে সেই নতুন নাম গুলো দেখা যায় ছেদ পড়ছে, আসলে সন্তান দের চুল পাকছে আর নতুন নামের মালিকরা তারার দেশে বড্ড তাড়াতাড়ি ...

জামাই আজি গ্রহান্তরের জীব। মহানন্দে সাজে জামাইর জিভ।।

জামাই ষষ্ঠী তে নিজেকে কেমন একটা দানিকেনের চরিত্র মনে হয়। দানিকেন মানে ঐ যে সেই সব ব্যপার যেখানে দেবতারা গ্রহান্তরের জীব। জামাই ষষ্ঠীর পুণ্য লগ্নে যখন শ্বশুর বাড়ি ল্যান্ড করি প্রতিবারই কেমন একটা দেবতার মর্ত্যে আগমন এর মতো  আবেশ ঘিরে ধরে। বছর এর এই দিনটা মিস করা তাই একদম অসম্ভব হয়ে যায়। ভানুর সেই জীবন্ত মানুষ এর মতো বলতে ইচ্ছে হয় - পুণ্যি ভোগ করছি। আহা, ভোগ মানে পরমব্রতর নতুন "ভোগ" ওয়েব সিরিজ না যেখানে চেয়ে চেয়ে বলতে হবে- ভোগ দাও, খাব। বরং সম্পূর্ণ বিপরীত এক মহাযজ্ঞ চলতেই থাকে। একের পর এক খাবার আসতে থাকে গরম উনুন থেকে নেমে। শ্বশুর বাড়িতে বাবা মা যেন গুপী বাঘার মতো হাতে হাতে তালি দিচ্ছে আর একের পর এক ভিন্ন মাছ, বিভিন্ন মাংস, পঞ্চব্যঞ্জন, মিষ্টি উড়ে উড়ে আসছে। চারিদিকে শুধু খাবার খবর, ব্রেকিঙ নিউজ এর মতো আছড়ে পড়ছে। ঘুমোতে যাওয়ার আগে খাওয়া, ঘুম থেকে উঠে খাওয়া, আহা সে কি অনন্য অনুভূতি। শ্বশুর মশাই সকাল সাড়ে পাঁচটায় খাসি আনতে চলে গেছে, শাশুড়ি মা সকালে সকল উনুন ধরিয়ে দিয়েছে আর আমি সকাল ৯ টায় ঘুম ভেঙে উঠে দেখি সে এক আনন্দ আয়োজন "যা বৃথা আমাকে ছাড়া"! তবে বারো বছরে এই ব্যপার টা...

দুই কুসুম- ওরা হিন্দু না মুসলিম জিজ্ঞাসে কোনজন? পরিচয় ভারতীয় অগ্নিকন্যা।।

ছবি
পাকিস্তান বিষধর সাপ এর মাধ্যমে ধর্ম জিজ্ঞেস করে প্রিয়জনের সামনে মেরে ভেবেছিল- ধর্ম দিয়ে উসকে হিন্দু-মুসলিম বিভাজন করে ভারত কে ভাঙ্গবে। আজকে কি দেখছে পাকিস্তান? ১। প্রথমে হঠাৎ শোকে ভেঙ্গে কিছু মানুষ হিন্দু মুসলিম বিভেদ করে তেতে উঠলেও আবার আজ এক হয়ে গেল। অনেকেই ভেবেছে আমরা-ওরা, কিন্তু এই ভাবনা টা এদেশের মাটিতে ক্ষণস্থায়ী, প্রতিবেশীর মতো মৌলবাদী না। যেই মুহূর্তে বুঝল প্রবল প্রতিশোধ দরকার, প্রত্যাঘাত প্রয়োজনে এক হয়ে গেলো। ২। বিজেপি-সিপিআইএম-তৃণমূল-কংগ্রেস সব রাজনৈতিক দল দেশের ভিতর লড়াই করে, হ্যা ধর্ম, সেকুলার সব নিয়েই লড়াই হয়। কিন্তু দেশের সিকিউরিটি ইস্যুতে সবাই মিলে মিশে এক হয়ে গেলো। নরেন্দ্র মোদি র সাথে রাহুল গান্ধী মিটিং করেছে। মমতা ব্যানার্জি , অখিলেশ সহ সব বিরোধি এক সুরে সরকার এর পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে। হতে পারে এই গণতন্ত্রে অনেক দুর্নীতি পাঁক আছে,কিন্তু দু:সময়ে কি জাদুতে এই গণতন্ত্র এক হয়ে যায়! আগেও হয়েছে , পরেও হবে। ৩। ৭৬ লক্ষ জাতি , প্রায় হাজার পঞ্চাশ ভাষার কোটি কোটি ভিন্ন মানুষ ঠিক তখনই এক হয়ে যায় যখন তার ভারতীয় পরিচয়ে কেউ আঘাত হানে- পাকিস্তান ধর্ম এর ছলে বিষ ঢেলে ভারতীয় দের ...