কসমোপলিটন সে কি আজ ইউটোপিয়ান?
"কসমোপলিটন সে কি আজ ইউটোপিয়ান?"
সেই কবে কতো যুগ ধরে শুনে এসেছি বিদেশির হাতে এ শহরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা। এর সাথে ইংরেজ দের অহংকার- চার্নক সাহেব আজকের দিনে অর্থাৎ ২৪ শে আগস্ট (১৬৯০) এ নেমে আসছেন কলকাতা প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু রবিবাসরীয় দুপুরে বৈদূর্য্য সরকার এর লেখা কসমোপলিটন কলকাতা বই টা পড়ে এই বিশ্বাস টা দুম করে ধাক্কা খেলো সত্য তথ্যের মাধ্যমে, কারণ?
ইংরেজ যখনই গর্বোদ্যত ভাবে প্রকাশ করে ওরাই কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা এবং চার্নকই জনক তখন বলতেই হয়- এবার একটু থাম ভাই ইংরেজ!
আসলে উনিজি (মানে এখানে চার্নক পড়ুন) আসার আগে অলরেডি তিন চারটে বিদেশী জাতি বহাল তবিয়তে ব্যবসা করছে, হ্যা এই কলকাতার বুকেই। পর্তুগিজ রা এসে গেছে প্রায় ১৬১০ এর দিকে- আবার আর্মেনিয় রেজা বিবিকে ১৬৩০ সালের ২১ জুলাই যখন কলকাতায় সমাহিত করা হচ্ছে তখন চার্নক স্যর কিন্তু ধরাধামেই আসেননি! ওহ, হ্যা আমরা কিন্তু তখন টুক করে কলকাতায় এসে গিয়েছি রেজা বিবির সমাধি ঘুরে। ওদিকে ফরাসিরা ডাচ রাও কিন্তু ইংরেজ দের দাবিকে সব সময় ধাক্কা দিয়ে এসেছে- ১৬৬০ সালে ফ্যান ড্রেক একটি মানচিত্রে কি কুক্ষণে যে চন্দন নগরের সাথে হঠাৎ করে কলকাতার বড়বাজার বাগবাজার এর নাম দিয়ে দেবে - সেটা ইংরেজ রাও বুঝতে পারেনি। তাই ইংরেজ রা যখন ইন দ্য ইয়ার 1690 ২৪ আগস্ট... বলে টান দিয়ে বোঝাতে গিয়েছিল এই কলকতা ওদেরই তৈরী , ঠিক তখন এতো শতো প্রমাণ ও তথ্য এটাই বলে দিলো ভাই কলকাতা আগেই ছিলো এবং বহাল তবিয়তেই ছিল।
এইবার এটুকু শুনেই থমকে থেমে না আটকে এগিয়ে যাই। শুধু পর্তুগিজ, ইংরেজ, ফরাসী, বৃটিশ ই না ক্রমান্বয়ে এ শহরে একে একে এসেছে অনেক বিদেশি- স্কটিশ , ইহুদি, পার্শি, দিনেমার, গ্রিক, চীনা, রাশিয়ান, জাপানি কিংবা মিনির কাবুলিওয়ালারা। তাই এই শহরের শুরুর দিনে একা ইংরেজ এসেছিল এই তথ্যটা সঠিক নয়, ইংরেজ রা আসার আগেই এসে গিয়েছিল পর্তুগিজ ও আর্মেনিয়ান রা। পরে এসেছিল আরো অনেকে।
আচ্ছা তাই বলে এই শহরের পরিচয়ে কি ইংরেজ দের কিছু কৃতিত্ব কম? না সেটা অনস্বীকার্য। সে যতোই বিপ্রদাস পিলাই মনসা মঙ্গলে (১৪৯৮) কলকাতার উল্লেখ করুক কিংবা গুরু নানক সাত দিনের জন্য কলকাতা ঘুরে যাক বা কালীক্ষেত্র কলকাতা থাকুক না কেন, সেই কলকাতা ছিল প্রত্যন্ত গ্রাম্য ভাবে পরিপূর্ণ। ইংরেজ রা সেই কলকাতা কে আলাদিন এর স্পর্শে এক মায়া নগরী তে পরিণত করেছিল। ঐ ব্যপারটা হয়তো আজকের দিনে মেসির মতো, জন্ম আর্জেণ্টিনীয় হিসেবে হলেও তাঁকে গোল মেশিন মেসি তৈরী করেছিল বার্সেলোনা, ঠিক যেভাবে অতি প্রাচীন কলকাতা কে তিলে তিলে তিলোত্তমা বানিয়েছে ইংরেজ রা। তাই হয়তো অনেক ব্যালন ডি আর জেতা বার্সা মেসির শ্রেষ্ঠ শিরোপা আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বজ্য়, ঠিক তেমনই বৃটিশ সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় রাজধানী কলকাতার থেকে বড়ো পরিচয় কলকাতার - ভারতের সিটি অফ জয় কলকাতা!
পুনশ্চ- কসমোপলিটনের কলকাতা বই টা পড়ে অনেক নতুন তথ্য জানতে পারলাম। এই শহরে এক সময়ে অনেক বিদেশি এসেছে, আবার কালের গর্ভে চলেও গেছে। এই বহুত্ববাদ এই শহরকে উন্নতির শিখরে পৌছে দিয়েছিল একদিন। বাইরের থেকে নতুন ভাবনা নতুন চেতনা চিন্তা আসলে নতুন প্রকাশ নিয়ে আসে সাথে। ভাবুন তো এই চারদিকে "এ ওকে খেদাও" এর যুগে এটা কেউ কি মেনে চলে? আহা, এ ওকে খেদাও বলতে বোঝাচ্ছিলাম হায়ার ভার্সনে ট্রাম্প কার্ড খেলে হাতকড়া সহযোগে দ্বেষ বিষ মিশিয়ে দেশে পাঠাবার কথা। পাশাপাশি একটু লোকাল ভার্সানে, রাজ্যে রাজ্যে দ্বন্দ্বে অমঙ্গল তোরা ভাষা নিয়ে লড়ে কি করবি কি তা বল, এটাও তো ও বেশ চলছে। তাই এখন কসমোপলিটন হয়তো ব্রাত্য, মানুষ একটু কুয়োর মধ্যে ঢুকে এই বেশ ভালো আছি গাইতে চাইছে, হয়তো।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২৪ শে আগস্ট ২০২৫
কলকাতা নিয়ে আগের কিছু লেখা-
১। https://avrasoura.blogspot.com/2022/08/blog-post_23.html?m=1
২।
https://avrasoura.blogspot.com/2023/08/blog-post_25.html?m=1
৩।
https://avrasoura.blogspot.com/2024/12/blog-post.html?m=1
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন