পোস্টগুলি

জুলাই, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে।তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সম দহে ।।

সারা রাজ্য শুদ্ধ মানুষের এখন অনেক রাগ। অনেকের রাগ ক্ষমতার অপব্যবহারের উপর , কারোর রাগ অন্যায়ে সামিল সুবিধাভোগী, পরচাকুরী খেকো মানুষ গুলোর উপর। কেউ কেউ বিষম রেগে গেছে সমাজ প্রতিবাদ ভূলে মিনমিন করে মিম-মিম খেলছে এই দেখে। প্রায় সবাই রাগ করছে সেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে যার জন্য পাঁচশ দুই দিন যোগ্যরা রাস্তায় বসে কাদছে। রেগে সবাই আছে!  কিন্তু কেউ রাগে ফেটে পড়ছে না!!!! আচ্ছা প্রায় তিনহাজার বছর আগে একবার দেখুন তো এরকম রাগ কার কার হয়েছিল? মনে পড়ল, এক বৃদ্ধের হয়েছিল । যে পরিবারের জন্য তিনি সর্বস্ব ত্যাগ করেছিলেন, পরিবার কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাইরের দুনিয়ার সাথে প্রবল পরাক্রমে যুদ্ধ করে অপরাজিত ছিলেন তিনিও নিজের নাতবৌ এর অপমানে চুপ ছিলেন। প্রচন্ড ক্রুদ্ধভাবে নিজেই নিজেকে ক্ষত বিক্ষত করেছিলেন ; কিন্তু ফেটে পড়েন নি নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে। তার পাশে বসেই আরেক বৃদ্ধ, বন্ধুর কন্যা নিজ কন্যাসমা, ছাত্রবধূ র অপমান দেখে রাগে লোহিত হয়ে উঠলেন। কিন্তু বৃত্তি ভোগের কারণে ফেটে পড়লেন না। কার বিরুদ্ধে ফেটে পরবেন ক্ষোভে? যে রাজা তাঁকে দু:সময়ে বৃত্তি দিয়েছে, কাজ দিয়েছে সম্মান দিয়েছে সেই রাজা ও রাজার পুত্রকে থা...

২৬ জুলাই: "জয় বিজয়" : যত বার যুদ্ধে আসবি। তত বার হারবি।।

২৩ বছর হয়ে গেল? এর মধ্যে কত কি হয়ে গেছে তবুও সেই ঘটনা মন থেকে মুছে যায়নি। তখন ১৯৯৯, স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ি। তখন পর্যন্ত শুনে এসেছি প্রতিবেশী পাকিস্তানের সাথে আমদের যুদ্ধ হয়েছিল তিন বার। প্রথম বার ১৯৪৭ এ, স্টেলমেট ও কাশ্মীর সমস্যার সূত্রপাত। ১৯৬৫ সালে লাহোর প্রায় দখলে এসেছিল, তারপরে তাসখন্ড চুক্তি ও লাল বাহাদুর শাস্রীর রহস্যমৃত্যু । পরের যুদ্ধ, ১৯৭১ সালে; এবার জলে, স্থলে অন্তরীক্ষে পাকিস্তান সম্পূর্ণ পরাস্ত হয়। নৌসেনার বিখ্যাত ত্রাইডেন্ট(ত্রিশূল) আক্রমণে করাচি বন্দর ধ্বংস হয়ে যায়। ৭১ এ ভারতের প্রত্যক্ষ সহায়তায় দ্বিখণ্ডিত পাকিস্তান এর মনে একদিকে বাংলাদেশ হারবার হাহাকার আরেকদিকে ভারতের প্রতি প্রতিশোধ স্পৃহা বৃদ্ধি; এই নিয়েই সময় এগিয়েছে উপমহাদেশে। শতদ্রু-সিন্ধু-গঙ্গা দিয়ে অনেক জল প্রবাহিত হবার পর এক শীতল যুদ্ধের আবরণে ঢেকে গেছে ভারত পাকিস্তান সম্পর্ক। সেই শীতল যুদ্ধে দাবানল লেগেছে যখন বুদ্ধ পুনরায় হেসেছে। ভারত বার বার অনুমান করেছে পাকিস্তানের কাছে পরমাণু অস্ত্র সম্ভার এসে গেছে। তাই নিজের আত্মরক্ষার্থে ভারত পোখরানে পরমাণু শক্তির প্রকাশ ঘটিয়ে বিশ্বকে জ্ঞাত করেছে এই শক্তি ভারত আক্রমণে ব্য...

উদ্যোগপর্ব: ১ :।। মোহ মুঠোফোন প্রকল্প ।।

"তাহলে জ্যেঠু ঐ কথাই রইল । পাঁচটা বাড়ি পেলেই পাণ্ডবরা আর যুদ্ধ করবে না", বলেই কৃষ্ণ মিটিমিটি হাসতে থাকল ধৃতরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে। ধৃতরাষ্ট্র, কৃষ্ণের বাণী শুনে মনেমনে ভাবছে আগের বারে ভূল সিদ্ধান্তের ফলে পুরো হস্তিনাপুরের ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল। মর্ত্যলোকে দেহত্যাগ করে স্বর্গে এসে ইন্দ্রকে অনেক বলে কয়ে, বহু কাঠখড় পুড়িয়ে, প্রায় হাজার তিনেক বছর অপেক্ষা করে শেষমেশ নন্দন কাননের পাশে এক ক্ষুদ্রক্ষেত্রে নিজের ছোট্ট ও প্রতিকী রাজত্ব স্থাপন করার অনুমতি পেয়েছেন; নাম দিয়েছে "স্বর্গের হস্তিনাপুর"। কিন্তু এই বেটা কৃষ্ণ আবার খুঁজে খুঁজে হাজির। পাণ্ডব দের জন্য পাঁচ ঘরের দাবি নিয়ে। কেনরে ভাই, যা না 'দেবরাজ আবাস প্রকল্পে' নাম দিয়ে বাড়ি নে, তা-না সেই আমার রাজত্ব থেকেই ভাগ চাই। এখানে আছেতো মাত্র ৩০ টা ঘর, তার মধ্যে আবার পাঁচটা দিয়ে দিলে কি করে চলবে। কিন্তু না দিলে এরা আবার যুদ্ধ করে স্বর্গ থেকেও খেদিয়ে নরকে পাঠিয়ে দিতে পারে । কি করা যায়? কৃষ্ণের দাবি মেনে পাঁচটা বাড়ি যদি দিয়েও দেই এই নব হস্তিনাপুরে আমার সিংহাসন টা বেঁচে যাবে। নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে দিয়ে দেই, আপদ বালাই নিজেই মেটাই।...

কর্মবীর ফেলে দীর্ঘশ্বাস । পরকর্মে সর্ব সুখ আমার বিশ্বাস।।

 "কিরে দীপ ! আজকে সকাল সকাল হঠাৎ এদিকে এলি, বেরোবি না আজকে? ছুটি নিয়েছিস নাকি!" -  দীপ কে সকাল বেলা চায়ের দোকানের সামনে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল অভি। কাজের দিনে সকাল সকাল চায়ের দোকানে দীপ এসেছে, এটা সত্যি বিশ্বাস হচ্ছে না অভির! অভির দুদিকে বসে থাকা রাহুল, মলয় ওরা দুজনেও অবাক হয়ে গেছে দীপকে ওদের আড্ডায় উপস্থিত দেখে। অভি, দীপ,  রাহুল , মলয় -ওরা চার বন্ধু ছোট বেলা থেকেই এক পাড়ায় আছে। এক স্কুলে এক শ্রেণীতে পড়ত, পরবর্তীকালে প্রত্যেকেই ভিন্নভাবে ভিন্ন বিষয়ে স্নাতক হেয়ে ভিন্ন পেশায় যুক্ত হলেও ওদের মধ্যে বন্ধুত্ব এখনো অটুট। অভি এখন পুলিশ বিভাগে আছে, দীপ সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার , রাহুল বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত, মলয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের আধিকারিক। প্রত্যেকেই গার্হস্থ্য পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, তবুও ছোট বেলার একটা অভ্যাস কেউ ত্যাগ করেনি : সকাল সকাল দেখা করা। আগে স্কুল লাইফে সকাল বেলায় চারজন খেলতে যেতো মাঠে। গ্রীষ্মকালে সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে বল নিয়ে মাঠে দাপাত, শীতকালে ছটা সাড়ে ছটার দিকে ক্রিকেট খেলতে শুরু করত। আরেকটু বড় হতে হতে সকালে সকলে সাইকেল নিয়ে ঘুরত। তবে এখন অভ...

চোখের আলোয় এঁকেছিলেম। এক ঝিকিমিকি তারা, এক মাধবী রাত।।

"বুবাই এইবার মোবাইলটা রাখ! সকাল থেকে সারাদিন রাত শুধু মোবাইল আর মোবাইল। চোখ দুটোতো যাবে এইবার" । বুবাইর মা রিয়া বিরক্ত হয়ে বুবাই কে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলল। বুবাই ভাবলেশহীন অভিব্যক্তিতে মায়ের কথা শুনেও না শোনার ভঙ্গিতে বলল : "মা,আজকে রবিবার; ছুটির দিন, তাই একটু গেমস খেলছি", বলেই আবার মনোযোগ দিল মুঠোফোন এর খেলায়। ছেলের এমন নির্লিপ্ত প্রত্যুত্তর শুনে রিয়া হতবাক! সাথে সাথে মেজাজ ও স্বর দুইই সপ্তমে তুলে চিৎকার করে উঠল : "বারংবার বারন করা সত্ত্বেও তুই আবার গেমস খেলছিস?" । এইশুনে পুত্র মায়ের মুখপানে চেয়ে বলল : আজকে একটু খেলছি মা, একটু খেললে কি হয় ? মা সাথে সাথে উত্তরদিল "বুবাই ,বাজে কথা একদম বলবি না। তুই প্রতিদিন গেমস খেলিস আর এই এক কথা বলিস! কেন মোবাইল টা রেখে ছবি আঁক, দাবা খেল বা গল্পের বই পড়। তোর মতন বয়সে আমরা কত ছবি আঁকতাম, বই পড়তাম। সময় টা কে ভালো কিছু করে উপভোগ কর যেটা কাজে লাগবে, নিজেও উপকৃত হবি। রাখ মোবাইলটা "। বুবাই একটু উত্তেজিত হয়ে উত্তর দিল "তোমাদের সময়ে মোবাইল ছিল না তাই এর মজা তোমরা পাওনি, তাই অন্য কিছু করে অব্সর সময় কাটাতে। আর ম...

মাস্টারমশাই , আপনি কিন্তু কিছু শোনেননি।।

"কিগো কালকে কি পরিকল্পনা করছো?  কোথাও বেড়াতে যাবে নাকি ? প্রতি সপ্তাহেই তোমাদের ফেসবুক প্রোফাইল তো নতুন নতুন বেড়ানোর ছবিতে ভর্তি হয়ে থাকে। সত্যি তারিফ করতে হয় তোমাদের পছন্দের ,কাছাকাছি বা দূরে যেথানেই যাও যায়গা গুলো চোখ আর মন দুইই জুড়িয়ে দেয়। আমি তো আমার কর্তাকেও দেখাই, বেশ ভালো লাগে আমাদের"। - পাশের সিটে জানালার দিকে বসা সহযাত্রী সোমা কে উদ্দেশ্য করে বলল রিয়া। সোমা ভুরুকুঁচকে বলল : ধন্যবাদ রিয়া দি, তবে সপ্তাহের মাঝে কাজের দিনে হঠাৎ বেড়াতে যাবার পরিকল্পনা কি ভাবে করি বলোতো! কালকে তো স্কুল আছে। রিয়া একটু বাঁকা হেসে বলল "ও মা কালকে তোমাদের ছুটি নেই! আজকাল স্কুলে তো শুনি পূর্ণিমার দিনও ছুটি দেয়" বলেই এক বিদ্রূপের হাসিতে ফেটে পড়ল। সেই কথা শুনে আশেপাশের নিত্যযাত্রীরাও মুখ টিপে হাসছে। দু একজন টিপ্পনীও কাটলো: স্কুলের চাকরির মতন চাকরি হয় নাকি? ওদের তো বারো মাসে তেরো পার্বণের মতন ছুটিই থাকে!কোভিড কালে তো বসে বসেই মাইনে পেল এরা"। সাথে সাথেই রিয়া বলল : যা বলেছেন , বুঝিনা এদের এত ছুটি দেয় কেন? এদের থেকে বেশী কাজ করে-করেও আমাদের ছুটির দেখা নাই রে ছুটির দেখা নাই। আর এরা দু...

বাস্তিলের কীট

"এই থাম থাম! ওকে একদম স্পর্শ করবি না বলে দিলাম, কথা না বাড়িয়ে সোজা পাশের গলিতে চল। ওখানে এমন জিনিষ দেবো যা চেখেদেখে আসল মজা পাবি। চল, দৌড় দে ওদিকে।"  বলেই বয়োঃজ্যেষ্ঠ সর্দার পাশের গলিতে যাবার জন্য উদ্যত হলো। সহসাই এক উঠতি বয়সের উত্তেজিত স্বর শোনা গেল, প্রত্যুত্তরে : "সর্দার তুমি বললে বলেই ছেড়ে দেব কেন আমরা ? না , এত ভালো জিনিষ না চেখে ছাড়বই না । এটা ভোগ করতেই হবে, বুঝলে। "কিইই আমার মুখে মুখে তর্ক করছিস তুই! সাহস দেখে সত্যি তাজ্জব বনে যাই! আমি দলের মাথা আমি যা ঠিক করবো ঠিক সেটাই তোদের মানতে হবে, তোরা মানতে বাধ্য আমার আদেশ । কথা না বাড়িয়ে এখান থেকে সরে যা। " : প্রচন্ড ক্রুদ্ধ রক্তচক্ষু হয়ে গর্জে উঠল দলপতি। কিন্তু সেই কনিষ্ঠ সদস্য অবিচল ভাবে বলল: দেখো,বই এর জ্ঞান তোমার একটু বেশী বলে তোমাকে মাণ্যিগণ্যি করি ; তবে তাইবলে এটা একদম ভেবে নিয়োনা, যখন যা আদেশ করবে সবসময় বিনাবাক্য ব্যয়ে মেনে নিতে হবে। আজকাল বইএর ছোয়া আমাদেরও কিছু কিছু লেগেছে বুঝলে। আজকে তোমার জন্যই সব মিস হয়ে গেল !! কি সুন্দর ডাগর চেহারা ছিল, ঐ সব পরের গলি টলি বাদ দাও। আগে এর একটা ফয়সালা হোক এখন। তোমাকে ...

"নাহি ক্ষয়, নাহি শেষ"

"কিরে সকাল সকাল খবরের কাগজে মুখ বুজে কি এত মুখস্থ করছিস ছোটন? দূর থেকে আসতে আসতে দেখছি নিমগ্ন চিত্তে কাগজের মধ্যে ঢুকে গেছিস তুই। কি ব্যাপার" বলেই ছোটন এর পাশে বেঞ্চের উপর ধপাস করে বসে পড়ল পাপাই। বসেই এক হাঁক পাড়লো "হরি দা একটা চা দাওতো জলদি জলদি "। ছোটন এবার খবরের কাগজটা ভাঁজ করে চিন্তিত  ভাবে বলল : কি আর বলব! আজ কাগজের প্রথম পাতা জুড়ে শুধু বিষাদময় মৃত্যুর হাহাকার। একদিকে প্রাকৃতিক তাণ্ডবে মেঘভাঙ্গা বৃষ্টিতে অনেক মানুষ হারিয়ে গেছেন চিরতরে আবার আরেকদিকে দেখ এক প্রাক্তন দেশপ্রধান আততায়ীর গুলিতে নিহত! কি ভয়ানক অব্স্থা ভাবতে পারছিস? এই গুলো পড়েই মেজাজটা গেল  কেমন দুমড়ে মুচড়ে। " পাপাই ছোটন এর মুখপানে চেয়ে বলল আচ্ছা এই ব্যাপার, "বাবুর আজ মানুষের মৃত্যু দেখে মন কেঁদে উঠছে"। ছোটন উত্তর দেয় : ঠিক কান্না না রে, বিচলিত বলতে পারিস! এই ভাবে এঁনারা মারা গেলেন। একদল ছিল পুণ্যার্থী আরেক জন ছিলেন সদ্য প্রাক্তন দেশপ্রধান অমিত ক্ষমতার শীর্ষে,কিন্তু কেউ আঁচও পেলেন না আগের মুহূর্ত অব্ধি যে সামনের পলকে এই বিশ্বচরাচর থেকে যাবে কিন্তু এঁরা আর থাকবেন না! কি বিস্ময়কর এক উপসংহ...

বিড়ম্বনায় বিরিয়ানি।।

"আজ রাতে আর অন্য কিছু নয়, বিরিয়ানি ছাড়া আজ আমি অন্য কিছু মুখে তুলছি না।" পরিবারের সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল রনি । সাথেসাথে রনির মা নয়না দেবী বিস্ফোরিত নয়নে রনির দিকে তাকিয়ে গম্ভীরভাবে বললেন:  মজা পেয়েছিস? সারা সকাল ধরে আমি আর বৌমা খেটেখুটে তোদের সবার জন্য চর্বচোষ্য তৈরী করলাম আর এখন বলছিস রাতে খাবি না!! আজ ঐ মতলব একদম নয় । যা হয়েছে খেয়ে উদ্ধার করো আমাকে! রনি একটু থতমত খেয়ে বলল আরে যা রান্না করেছ ফ্রিজে তুলে দাওনা মা। আজকে বিরিয়ানি ভোজনের অভিলাশ হয়েছে। দাড়াও তাহলে, গণতান্ত্রিক মতে জিজ্ঞাসা করি কে কে বিরিয়ানির পক্ষে : "সোমা তুমি কি বিরিয়ানিখেতে চাও ? এই রন্টি তুই বল। আমার ছোট্ট রাতুলসোনা তুমিও একটু খাবে নাকি সোনবাবা? আর বাবা আজ রাতে খেয়েই দেখো একদিন।  মা, চলো সবাই মিলেই খাই। " রনির স্ত্রী সোমা সাথেসাথে বলল এই তো সেদিন বাড়িতে বিরিয়ানি রান্না করলাম আজকেই আবার খেতে হবে ? চকিতে নয়না দেবী বুঝে গেল এই ভোট টা নিজের দিকে টেনে নিতে পারবেন। কুণ্ঠিত কণ্ঠে বললেন: "এই দ্যাখ সোমাও খেতে চাইছেনা আজকে, হ্যা ঠিকই তো বলেছে বাইরের কি ছাইপাশ দেবে না দেবে তার থেকে পরে একদিন বাড়িতেই আ...

ওঠো ,জাগো ।।

ছবি
"কিরে বুবাই টিভিতে কি দেখছিস এত মনোযোগ দিয়ে। একবারও মোবাইল স্পর্শ করলি না দুপুর থেকে সন্ধ্যে অব্ধি! ব্যাপার টা কি? আজকে তো কোনো খেলাও সেরকম নেই, তাহলে কি দ্খেলি এতক্ষণ।" নিজের হাতে মোবাইল টা নাড়তে নাড়তে পলাশ সেন ড্রয়িংরুমে ঢোকার মুখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল পুত্র বুবাই কে। ড্রয়িং রুমে টিভি টা বন্ধ করে বুবাই বেশ উত্তেজিত হয়ে জানালো: জানো বাবা , আজকে একটা মুভি দেখলাম, খুব ইন্টারেষ্টিং ! বুবাই আর একটি বাক্য বলবার আগেই বুবাই এর মা রিয়া মরিয়া হয়ে ঘরে ঢুকল। অগ্নিশর্মা হয়ে বলল : কী!! তুই সারা দুপুর ধরে সিনেমা দেখলি ? কি কাণ্ডজ্ঞান রে তোর ! সামনের সপ্তাহে তোদের ক্লাসটেস্ট আছে । তুই এই করছিস বসে! আমার আর তোর  বাবার মোবাইল আমাদের বিছানায় একপাশে পড়ে আছে দেখে ভাবলাম ছেলেটা ড্রয়িং রুমে বসে তার মানে পড়ছে। কাল রাতে তোর হিস্ট্রি র অব্স্থা দেখে আমার তো হিস্টিরিয়া হয়ে গেছে!! কিচ্ছু পড়িসনি এই কয় মাসে, বলে রেখেছিলাম ইতিহাস টা পড়তে। সে সব না পড়ে তুই নাকি সিনেমা দেখছিস । আর আমি ভাবছি ছেলে বসে পড়ছে দুপুরে । পুরো রবিবার ছুটির দুপুর টা নষ্ট করলি ছি: ছি: বুবাই। মায়ের বকুনি শুনে বুবাই বেশ থতমত খেয়ে গেছে...

"দুয়ারে রথ"

ছবি
"বারবার বলেছি তোদের এতগুলো গাড়িতে ট্রায়াল দিতে পারব না। এই ভাবে হয় নাকি। আমি কিন্তু খুব রেগে গেছি ছোড়দা। আমার সব সাজ একদম শেষহয়ে গেল! তোরা একটা ফিক্সড গাড়ি ছেড়ে এভাবে এই গাড়ি সেই গাড়ি করে বেড়াচ্ছিস কেন বলতো? যখন যে গাড়ি পাচ্ছিস উঠে পড়ছিস! আগে তো এরকম করতিস না!" সুভদ্রা বিরক্তির সাথে বলে উঠল। "দাদা কে বলো।" :  কৃষ্ণ বাঁশি টা হাতে নাচাতে নাচাতে উত্তর দিল বোন সুভদ্রা কে। "মানে টা কি? আমাকে ও কি বলবে রে কানাই?" বড়দা বলরাম বেশ সন্দিগ্ধ ভাবে প্রশ্ন করল। কৃষ্ণ আলগোছে বাঁশি টা ধরে সুভদ্রা কে উদ্দেশ্য করে বলল: বোন তোর  মনে পড়ে এক কালে আমাদের তিন জনের তিনটে প্রাইভেট গাড়ি ছিল। একবারে উঠতাম, তারপরে সোজা মাসির বাড়ি ল্যান্ডিং। কি কি সুন্দর গাড়ি, সুন্দর সব নাম তোর গাড়ির নাম: "দর্পদলন", বড়দার "তালধ্বজ", আর আমার "নন্দীঘোষ"। উফফ নাচতে নাচতে উঠতাম নেমে যেতাম ব্যস ৭ দিনের জন্য মুক্ত বিহঙ্গ । গুন্ডিচা মাসির বাড়ি কি আপ্যায়ন, মাসি কি সুন্দর সব খাবার দেয় আদর করে । বেশ চলছিল বছর বছর এইভাবে। হঠাৎ বড়দার কি মনে হল, না নিজেদের উন্মুক্ত করতে হবে নাকি, অ...