উদ্যোগপর্ব: ১ :।। মোহ মুঠোফোন প্রকল্প ।।
"তাহলে জ্যেঠু ঐ কথাই রইল । পাঁচটা বাড়ি পেলেই পাণ্ডবরা আর যুদ্ধ করবে না", বলেই কৃষ্ণ মিটিমিটি হাসতে থাকল ধৃতরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে। ধৃতরাষ্ট্র, কৃষ্ণের বাণী শুনে মনেমনে ভাবছে আগের বারে ভূল সিদ্ধান্তের ফলে পুরো হস্তিনাপুরের ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল। মর্ত্যলোকে দেহত্যাগ করে স্বর্গে এসে ইন্দ্রকে অনেক বলে কয়ে, বহু কাঠখড় পুড়িয়ে, প্রায় হাজার তিনেক বছর অপেক্ষা করে শেষমেশ নন্দন কাননের পাশে এক ক্ষুদ্রক্ষেত্রে নিজের ছোট্ট ও প্রতিকী রাজত্ব স্থাপন করার অনুমতি পেয়েছেন; নাম দিয়েছে "স্বর্গের হস্তিনাপুর"।
কিন্তু এই বেটা কৃষ্ণ আবার খুঁজে খুঁজে হাজির। পাণ্ডব দের জন্য পাঁচ ঘরের দাবি নিয়ে। কেনরে ভাই, যা না 'দেবরাজ আবাস প্রকল্পে' নাম দিয়ে বাড়ি নে, তা-না সেই আমার রাজত্ব থেকেই ভাগ চাই। এখানে আছেতো মাত্র ৩০ টা ঘর, তার মধ্যে আবার পাঁচটা দিয়ে দিলে কি করে চলবে। কিন্তু না দিলে এরা আবার যুদ্ধ করে স্বর্গ থেকেও খেদিয়ে নরকে পাঠিয়ে দিতে পারে । কি করা যায়? কৃষ্ণের দাবি মেনে পাঁচটা বাড়ি যদি দিয়েও দেই এই নব হস্তিনাপুরে আমার সিংহাসন টা বেঁচে যাবে। নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে দিয়ে দেই, আপদ বালাই নিজেই মেটাই। না হলে সুযোধন এসে আবার ভেস্তে দেবে পুরো বিষয় টা। এই ভেবে নীরস ভাবে কৃষ্ণকে ধৃতরাষ্ট্র বলল : হে মাধব আমি পাঁচটা বাড়ি ওদের দিয়ে দেব। পান্ডবরা ঐ পাঁচ বাড়িতেই থাকবে নিজেদের মতন। কোনো রাজকর দিতে হবে না আমাকে।
কৃষ্ণর মুখে হাসি মনে বাঁশি, ভাবছে কেস টা কি হল? এক বারেই মেনে নিল যে। এই রে, এ তো যুদ্ধ করবেই না বলছে! ওদিকে আমি যে যীশুর দেশ থেকে নতুন নতুন অস্ত্র গুলো আনবার চুক্তি করলাম, সেই গুলো ব্যবহার করব কোথায়? না না, একটা কিছু পরিকল্পনা করতেই হবে, দুর্যোধন টা কোথায় গেছে। ওক একটু উস্কে দিলেই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলবে, না ও ব্যটাকেই চাই।
মুখে স্মিত হাসি এনে কৃষ্ণ বলল : এর থেকে ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে নাকি মহারাজ, তাহলে এক কাজ করুন ; আপনি দুর্যোধন কে বলুন কোন পাঁচ টা বাড়ি ও পাণ্ডবদের দিতে চায়।
এই শুনে ধৃতরাষ্ট্র আঁতকে উঠে বলল: একদম না, ওকে এই কেসের ব্যাপারে কিচ্ছু বলা যাবে না; ও কিচ্ছু দেবে না। এটা আমি নিজের কোটা থেকে দিচ্ছি, ওকে এখন জানাবোই না এই সিদ্ধান্ত। পাণ্ডব রা যেদিন ঘরে ঢুকে যাবে তারপরে জানাব।
কৃষ্ণ মনে মনে হাসল: এই তো ফাঁদ পেয়ে গেছি। তারপর ধীরস্থির হয়ে বলল: না মহারাজ, এই ভাবে হবে না। আপনি আর কদিন? তারপরে যদি দুর্যোধন আবার ঝামেলা করে । আপনার ছেলের থেকে আগে নো অবজেকশন চিঠি সৈ-সবুদ করে দিন, আর না হলে যুদ্ধ করে মিটিয়ে নেওয়াই ভালো হবে। বলুন কি করবেন?
কৃষ্ণের মুখে নিজের ক্ষণিক ক্ষণের কথা শুনে ধৃতরাষ্ট্র হঠাৎ রেগে বলল: আমি মরব মানে? এখন তো আমরা স্বর্গে আছি। স্বর্গে কেউ মরে নাকি?
কৃষ্ণ হেসে বলল আরে জ্যেঠু, স্বর্গে মরলেই তো পৃথিবীতে আবার যেতে পারবেন। দেখি, যমুদা কে বলে, আপনার ফাইল টা কোন পজিশনে আছে!
ধৃতরাষ্ট্র প্রায় লাফিয়ে উঠে কৃষ্ণকে বলল, না না যম কে এখনই কিছু বলতে হবে না। আমি সুযোধন কে ডাকছি, দাড়াও । বলেই ব্রেইলি কি প্যাড এর ফোনে রিং করতে গেল সুযোধনকে।
কৃষ্ণ ভুরুকুঁচকে জিজ্ঞেস করল কি ব্যাপার জ্যেঠু, এই ধরনের মুঠোফোন কে দিল তোমায়? ধৃতরাষ্ট্র কৃষ্ণের দিকে চেয়ে বলল: আরে সে এক বৃত্তান্ত।
কৃষ্ণ ভুরুকুঁচকে বলল: কি বৃত্তান্ত শুনি? এ যন্ত্র তো স্বর্গে ব্যবহারের অনুমতি পায়নি। আমি টেন্ডার দিয়েছি সামনের বছর চালু করব। তার আগে আপনার হাতে এ জিনিষ এল কিভাবে?
ধৃতরাষ্ট্র আমতা আমতা করে বলল: কেশব, এতে আমার দোষ নেই। তোমায় গোড়ার থেকেই বলছি। আমার নতুন পড়ায় ভাবলাম আপেল গাছ লাগাব, সুযু কে বললাম, বাবা একটা ভালো মালি যোগাড় কর; যার আপেলের ব্যপারে ভালো জ্ঞানগম্যি আছে। ওমা সে ছেলে কি করেছে জানো, এক বিস্ময়কর লোক কে পৃথিবী থেকে ধরে তুলে নিয়ে এস্ছে। আমি তো অবাক , জিজ্ঞেস করলাম কি নাম, তুমি কোন দেশের লোক। কি বলে জান? ওর নাম নাকি : জোব। আমি প্রথমে শুনে ভাবলাম কি কিম্ভূত নাম রে বাবা। তারপরে অনুধাবন করলাম এতো মালি, তাই শস্য দানা "যবের" সাথে মিল আছে তা, ঐ জোব জানাল, ও মর্ত্যলোকে প্রাচীন মায়া সভ্যতার কাছে থাকত। আমি সঞ্জয় কে এই স্থানকাল এর বিষয়ে জানতে চাইলে বলল: এ নাকি,
ময় দানবের দেশের কাছে থাকত সাত সমুদ্র তেরো নদী পার করে। আমি ভাবলাম ইলাবৃতবর্ষ থাকতে আপেল চাষের জ্ন্য ঐ দূর দেশথেকে এ কাকে ধরে এনেছে সুযু! আমার কেমন সন্দেহ হওয়াতে সুযু কে জিজ্ঞেস করলাম: একে পেলি কি ভাবে?
সুযোধন বলল: ও যমের দুয়ারে গিয়ে দরখাস্ত করেছে মর্ত্যলোকের শ্রেষ্ঠ আপেল স্রষ্টা কে চাই। ওর দরখাস্ত মিলিয়ে চিত্রগুপ্তের লোকেরা একে মর্ত্য থেকে তুলে এনেছে।
তারপর বুঝলে কৃষ্ণ: আমি আপেল এর ব্যপারে জিজ্ঞেস করতেই কি সব বকবক করে গেল ম্লেচ্ছ্ ভাষায় প্রথমে কিছুই বুঝলাম না। তবে ছেলেটি বেশ চালাক চতুর, ও বুঝতে পেরেছে আমি ওর কথা, ভাষা বিন্দুমাত্র বুঝছি না! কিছুক্ষণ চুপ করে কি ভাবল তারপর হঠাৎ কি এক যন্ত্র এনে সামনে ধরল, আমি ভাবছি এ কি হচ্ছে রে বাবা, পিং পিং শব্দ হচ্ছে, এ কি বস্তু!
ও তারপরে কথা বলল ম্লেচ্ছ্য ভাষায় আর আমি সেটা যান্ত্রিক স্বরে বোধগম্য করলাম সংস্কৃতে। এ এক বিস্ময়কর যন্ত্র! এর মাধ্যমে যখন যাকে ইচ্ছে স্মরণ করা যায়, কথা বলা যায়। আমাকে এটা দিয়ে বলল এটা দিয়ে আমি নাকি যাকে খুশী ডাকতে পারব যখন খুশী। বেশ ভালো কাজের যন্ত্র কিন্তু কেশব।
কৃষ্ণ একটু চিন্তিত হয়ে বলল: ও! তার মানে স্টিভ তোমার কাছেই এসেছিল। একে নিয়ে তো যীশুর হেভেনে বিশাল গন্ডগোল।
ধৃতরাষ্ট্র অবাক হয়ে বলল: কিসের গন্ডগোল ওকে নিয়ে?
কৃষ্ণ গম্ভীরভাবে বলল:
হমম, যীশু বলছিল বটে ওই ছেলেটার কথা, ও জানেইনা হঠাৎ করে স্টিভ কি ভাবে ওদের হেভেন এ এসেছে? মানে, যীশুর মঞ্জুরি ছাড়া তো ঐ রিজিয়নের কেউ কি ভাবে ঢুকল বুঝেই পাচ্ছে না। এদিকে স্টিভ কে ফেরত পাঠাতেও পারছে না!
যীশু নিজেই কমিট করে রেখেছে পাপী কে ক্ষমা করো কিন্তু পাপ কে ঘৃণা করো।
ওর লিস্টে পাপী এসে গেছে কিন্ত কি পাপের দরুণ এসেছে মেলাতেই পারছে না। উফফ একটার পর একটা মিটিং করল সেদিন আমাদের সব এথিনিক ধর্মীয় গ্রুপ লিডারদের নিয়ে। কিন্তু কিছুতেই ডান দিকে পাপীর লিস্ট আর বাম দিকে পাপের লিস্ট, মিলছেই না। বেচারা উদভ্রান্ত হয়ে বসে ছিল।
আমি তখন ভাবলাম কর্মযোগেই তো মুক্তি থাকে, দেখি এর কি কর্মযোগ! একটু কৌতূহলী হয়ে যীশুর মারফত স্টিভ কে জিজ্ঞেস করি: ভাই তুই পৃথিবীতে কি করতিস ? ও বলল : আপেল তৈরী করে বেচতাম"!
এই উত্তর শুনে যীশুর হঠাৎ কি আনন্দ, আমাকে জড়িয়ে ধরে নৃত্য শুরু করছে। আমি, তো অবাক! জিজ্ঞেস করলাম: যীশু ভাই কি হয়েছে? আমাকে নিয়ে বাঘা সুটা নাচু নাচু করছ কেন?
যীশু হাসতে হাসতে বলছে বন্ধু হিসেব মিলে গেছে । আর অসুবিধা নেই।
আমি বিস্মিত! অবাক হয়ে বললাম, সেটা কি ভাবে মিলে গেল?
যীশু গম্ভীরভাবে বলল : আরে ও নিজেই তো স্বীকার করেছে ও আপেল নিয়ে করবার করত। আর আপেল মানেই আমাদের নিয়মে প্রথম পাপ, ব্যস হয়ে গেল খাপে খাপ।
যদিও আমি বুঝেছিলাম সেদিন যীশু প্রথম পাপ এর গোঁজামিল দিয়ে ডান পক্ষ সমান বাম পক্ষ প্রমাণ করেছে, তবু আমি ভাবছিলাম এ ব্যাটা ঢুকল কি করে! ওদের লিস্টে নাম ছিল না তবু প্রবেশাধিকার পেয়েছে। ব্যাপার টা বেশ কালটিভেট করতে মন চাইছিল! আজ আমি ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছি, আর দুইয়ে দুইয়ে চার ও করেছি। উফ্ফ কি করেছেন জ্যেঠু!
ধৃতরাষ্ট্র ভয় পেয়ে বলল কেন কেশব, কিছু ভূল হয়েছে আমার তরফ থেকে?
কৃষ্ণ একটু বিরক্ত ভঙ্গিতে বলল: আপনার আপেল দরকার হওয়াতে দুম করে দুর্যোধন কে বলেছেন, আর ওই মন্দবুদ্ধি এখনো স্পেসিফিকেশন শিখল না, বললেই হত আপেল ফলের মালি চাই, উল্টে লিখল আপেল স্রষ্টাকে চাই। ব্যস যমদূত গুলো লিস্ট মিলিয়ে পৃথিবী থেকে স্টিভ কে তুলে আনল টুপ করে ! সত্যি আপনি এবং আপনার ছেলে দুইই রত্ন!!!! কি যে করেন না উফ্ফ।
ধৃতরাষ্ট্র একটু চুপসে গেছে, কাচুমাচু হয়ে বলল : তাহলে কি যীশু বাবু কে আমি জানিয়ে দেব ও কিভাবে এসেছে।
এই শুনে কৃষ্ণ এক লাফ দিয়ে উঠল, চোখ বড় বড় করে দুই হাত তুলে বলল : না, একদম না। কিছু বলতে হবে না! আপনি এইসব বলুন আর ওরা আমাকে চেপে ধরবে আমরা ওদের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেন নাক গলিয়েছি। একদম চুপ থাকুন তো মশাই। আর শুনুন, কোনোদিন আবার ছেলেকে বলে বসবেন না এক ছুতোর ডাক, ভালো কয়েকটা জানলা বানাব!!!
ধৃতরাষ্ট্র ভ্যাবাচাকা খেয়ে বলল, না না আমি কাউকে কিছু বলব না। তবে কেউ যদি আমার এই মুঠোফোন এর ব্যপারে জানতে চায় আমি বলব মর্ত্য জন্মের কর্মফলে খুশী হয়ে কৃষ্ণ আমাকে দিয়েছে।
কৃষ্ণ মাথা নাড়তে নাড়তে বলল: দেখেছেন তো, নিজে সামলাতে পারলেন না সাথে সাথে আমাকে দেখিয়ে দিলেন। এইবার সবাই এসে আমাকে ধরুক!
আর আমি কি যুক্তি দেখাব তখন, তবুও যদি মেটাভার্স নিতেন যুক্তি দিতাম এক দৃষ্টিহীন কে আমরা অপার্থিব কল্পলোকে দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রকল্প নিয়েছি।
ধৃতরাষ্ট্র জিজ্ঞাসা করল :মেটাভার্স কি কেশব? ইউনিভার্স কথাটা ঐ জোবের মুখে শুনেছি বটে! কিন্তু এটা কি? তোমার বিশ্বরূপ টাইপের কিছু?
কৃষ্ণ চিন্তামগ্ন হয়ে বলল: এটা নিয়ে পরে একদিন বলব জ্যঠু, তবে এটা ভবিষ্যত।
আমি এখন ভাবছি মুঠোফোন এর সাথে আপনার মেলবন্ধন টার উদ্দেশ্যে একটা সুন্দর ট্যাগ লাইনে ফেলতে হবে। একটু ভাবি। বলেই কৃষ্ণ ভাবতে থাকল গালে হাত রেখে। তারপরেই হঠাৎ বলে উঠল: হমম পেয়েছি "মোহ মুঠো প্রকল্প"।
ধৃতরাষ্ট্র বিস্মিত হয়ে বলল: এর মানে কি?
কৃষ্ণ স্মিতহেসে বলল, বলছি শুনুন। আপনি আগের জন্মে নিজে ক্ষমতার মোহপাশে আবদ্ধ ছিলেন, নিজের মুষ্টি থেকে সেই ক্ষমতা হস্তান্তরিত করতে আপনি বীতরাগ ছিলেন। এই মুঠোফোন হাতে নিয়ে নিজের মনে যদি কেউ অঙ্কুশ না চালায় সে আপনার মত নিজেকে ক্ষমতাশালী ভেবে মোহমায়া তে আবদ্ধ হবে।
ধৃতরাষ্ট্র প্রকল্পের নাম অনুধাবন করে সন্তুষ্ট হলো।
কৃষ্ণ সন্দিগ্ধ চোখে তাকিয়ে আবার বলল: তবে, আমি যা বুঝেছি আপনার ছেলের কাছেও এক পিস এই বস্তু আছে, ঠিক কিনা?
ধৃতরাষ্ট্র হেসে বলল, মোহ টা বললে আর পুত্রস্নেহে অন্ধ সেই বিষয় টা ভুলে গেলে? হ্যা ওকেও একটা দিয়েছি স্টিভের থেকে।
কৃষ্ণ হেসে হেসে বলল : বেশ করেছেন, ছেলেকে দিয়েছেন ভালোই করেছেন। তা এইবার ওকে একটু ডাকুন, মানে পান্ডবদের পাঁচটা বাড়ির কেস এর ফয়সলা করি।
ধৃতরাষ্ট্র হেসে বলল: হ্যা করছি, বলেই সুযোধন কে ফোন করল।
ফোনের অপর প্রান্তে গভীর গম্ভীর স্বর ভেসে এল: প্রণাম পিতাশ্রী, আদেশ করুন।
ধৃতরাষ্ট্র: পুত্র, একবার আসবে, মানে একটু দরকার।
দুর্যোধন: আমি সদলবলে যে এখন উত্তেজক ক্রীড়া উপভোগ করছি পিতা!
ধৃতরাষ্ট্র : এই বয়সে ক্রীড়া উপভোগ করছ কাজ ফেলে! কি ক্রীড়া, যা ফেলে আসতে পারবে না ,এদিকে রাজকার্য যে অপেক্ষমান!
দুর্যোধন: এ হল আমাদের মর্ত্যধামে কর্মভূমি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়া, ক্রিকেট।
ধৃতরাষ্ট্র : স্ট্রেঞ্জ, আমার পুত্র হয়ে রাজকার্য উপেক্ষা করে তুমি ক্রিকেট দেখছ।
দুর্যোধন: ক্রিকেট নিয়ে আপনার এই ধারনা ভূল পিতা।
ধৃতরাষ্ট্র : তুমি কি বলতে চাও তুমি ঐ ক্রিকেট খেলাই দেখবে রাজকাজ ছেড়ে।
দুর্যোধন: "যেই না এক চেহারা, নাম তার পেয়ারা "। ৩০ ঘরের রাজ্যে হঠাৎ কি এমন রাজকার্য উপস্থিত হলো পিতা?
ধৃতরাষ্ট্র : তুমি খেলাই দেখো তাহলে! এদিকে কেশব এস্ছে, আমাদের নব হস্তিনাপুরের থেকে পাঁচ পান্ডবদের জন্য পাঁচটি বাড়ি চাইছে। আমি ভাবছি দিয়েই দেই। আগের বার যেভাবে ওরা আমাদের চূনকাম করেছে মর্ত্যলোকে, এইখানে আর ঐ হতশ্রী লজ্জায় ঝামেলায় জড়াতে চাইছি না।
দুর্যোধন বলল: বাবা, আপনি শীঘ্র ফোন স্পিকারে দিন। আমি একবার বলেছি তো আমি সবাইকে সব দিয়ে দেব কিন্তু পান্ডবদের কিচ্ছু দেবনা। বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী।
দুর্যোধন নিজেও স্পিকারে দিল নিজের ফোন। শকুনি, কর্ণ, দু:শাশন সবাইকে ডেকে বলল: কৃষ্ণ এসেছে, পাঁচ ভাই এর জন্য পাঁচটা বাড়ির দাবি নিয়ে, নব হস্তিনাপুরের অংশে।
এই শুনেই কর্ন উত্তেজিত হয়ে বলছে: চল সখা, আজ একটা হিসেব নিকেশ হয়ে যাক। দুর্যোধন ও বলছে হ্যা একদম।
পাশ থেকে শকুনি খিকখিক করে হেসে দুর্যোধনকে বলছে,প্রিয় ভাগ্নে, তুই আবার ওর কথায় নাচছিস! একবার উদম পিটুনি খেয়েছিস, তার ফলে এখন নন্দন কাননে বিনামূল্যে ফল-মিষ্টি পাচ্ছিস, দেবরাজের থেকে পৌরাণিক ভাতা পাচ্ছিস। সেই সব ছেড়েছুড়ে পাগল নাকি আবার লড়ব! ওরা যেভাবে আমাদের পিটিয়েছে , আর যুদ্ধ নয়। এইবার অন্য বুদ্ধি, অন্য কৌশল। আমাকে ফোন টা দে, আমি কৃষ্ণের সাথে কথা বলছি।
আর তোর বন্ধুটা কে বল শান্ত হতে, হ্যান করেঙ্গে ত্যান করেঙ্গে আসল কাজের সময় কৌরব দের গুষ্টির পিণ্ডি চটকে দিয়ে এসেছে। দে ফোন টা দে।
দুর্যোধন চুপচাপ ফোনটা শকুনি কে দিল।
শকুনি: জামাইবাবু, আপনি ফোন টা কৃষ্ণ কেই দিন।
ধৃতরাষ্ট্র কৃষ্ণ কে বলল, দুর্যোধন আবার রাজি হচ্ছে না বাড়ি দিতে। তবে ওর পক্ষ থেকে আমার বড় কুটুম শকুনি তোমার সাথে কথা বলে ডিল ক্লোস করবে। একটু কথা বলো দয়া করে । ফোনটা কৃষ্ণের হাতে তুলে দিল ধৃতরাষ্ট্র।
কৃষ্ণ: আরে মামা, কি খবর তোমার।
শকুনি: ভালো আছি ভাগ্নে, তা বলছি আবার সেই পাঁচ ভাই এর হয়ে এসেছ! তা আমরা এইবার আর শুধু পাশা খেলা বা শুধু যুদ্ধের মাধ্যমে মীমাংসা করব না, অন্যভাবে করব।
কৃষ্ণ একটু ভ্রুকুটি কুটিল করে বলল : সেটা কি রকম?
শকুনি: হেসে উত্তর দিল আমরা এইবার টি২০ ক্রিকেট খেলে মীমাংসা করব। কি রাজি তো কেশব?
কৃষ্ণ স্মিতহেসে কিছু ভেবে ধীরলয়ে বলল: তথাস্তু মামাশ্রী! সামনের সপ্তাহে নন্দন কাননেই ম্যাচ হবে। সময় আর বাকি বিষয় নিয়ে কালকে একটা সভা ডাকছি ,তাতে দুপক্ষের সবাই উপস্থিত থাকবে। সেখানেই খেলার নিয়ম কানুন আর বাকি সব নিয়ে তাহলে আলোচনা করব। এখন রাখছি , ভালো থাকবেন।
বলেই ফোনটা কেটে নন্দন কাননের সবুজ গলিচার দিকে তাকিয়ে রইল কৃষ্ণ। মনে মনে বলল: সামনে অনেক কাজ আছে পরিকল্পনা করে ফেলি,
তবে একদিকে ভালো এইবার কেউ মরবে না, এবার মাঠেই খেলা হবে।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন