বিড়ম্বনায় বিরিয়ানি।।

"আজ রাতে আর অন্য কিছু নয়, বিরিয়ানি ছাড়া আজ আমি অন্য কিছু মুখে তুলছি না।" পরিবারের সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল রনি । সাথেসাথে রনির মা নয়না দেবী বিস্ফোরিত নয়নে রনির দিকে তাকিয়ে গম্ভীরভাবে বললেন:  মজা পেয়েছিস? সারা সকাল ধরে আমি আর বৌমা খেটেখুটে তোদের সবার জন্য চর্বচোষ্য তৈরী করলাম আর এখন বলছিস রাতে খাবি না!! আজ ঐ মতলব একদম নয় । যা হয়েছে খেয়ে উদ্ধার করো আমাকে!
রনি একটু থতমত খেয়ে বলল আরে যা রান্না করেছ ফ্রিজে তুলে দাওনা মা। আজকে বিরিয়ানি ভোজনের অভিলাশ হয়েছে। দাড়াও তাহলে, গণতান্ত্রিক মতে জিজ্ঞাসা করি কে কে বিরিয়ানির পক্ষে :
"সোমা তুমি কি বিরিয়ানিখেতে চাও ? এই রন্টি তুই বল। আমার ছোট্ট রাতুলসোনা তুমিও একটু খাবে নাকি সোনবাবা? আর বাবা আজ রাতে খেয়েই দেখো একদিন।  মা, চলো সবাই মিলেই খাই। "

রনির স্ত্রী সোমা সাথেসাথে বলল এই তো সেদিন বাড়িতে বিরিয়ানি রান্না করলাম আজকেই আবার খেতে হবে ? চকিতে নয়না দেবী বুঝে গেল এই ভোট টা নিজের দিকে টেনে নিতে পারবেন। কুণ্ঠিত কণ্ঠে বললেন: "এই দ্যাখ সোমাও খেতে চাইছেনা আজকে, হ্যা ঠিকই তো বলেছে বাইরের কি ছাইপাশ দেবে না দেবে তার থেকে পরে একদিন বাড়িতেই আবার তৈরী করা যাবে।"
সোমা সাথেসাথেই বলেওঠে:  তবে মা, আজকের দিনটা কিন্তু স্পেশাল। আজকে বিরিয়ানি খাওয়া যেতেই পারে।
চন্দনা দেবী ভুরু কুঁচকে বললেন:  কি এমন আছে আজকে যে স্পেশাল? বাড়ির কারোর তো জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকী আজকে নয়।
সোমা হাসতে হাসতে বলল: আহা মা বাড়ির কারোর জন্মদিন কেন হতে যাবে, আজ যে স্বয়ং বিরিয়ানির জন্ম দিন! ৩ রা জুলাই।

"কিইইই! বিরিয়ানির আবার জন্মদিন । এ আবার হয় নাকি?" : নয়না দেবী বেশ বিস্মিত।
ছোটছেলে রন্টি বলল:  হবে না কেন মা, বস্তু বলে কি তাকে নিয়ে আলাদা উৎসবের দিন থাকতে নেই নাকি? বৌদি আমিও তোমার সাথে একমত আজ ৩রা জুলাই আমরা বিরিয়ানি খেয়ে বিরিয়ানির প্রথম জন্মদিন পালন করব।  সেই শুনে ছোট্ট ভাইপো বলে উঠল "আমিও খাব বিরিয়ানি। "
নয়না দেবী নাতি কে একটু শাসন করে বললেন: না দাদুভাই বাইরের জিনিষ খেতে নেই ও গুলো পচা, ভালো না। ওরা খেলে খাক আমি আর তুমি আজকে মাছ ভাত খাব। তারপর শেষে আম দিয়ে টকদই দিয়ে আর তালের গুড় দিয়ে ভাত খাব কেমন?
সেই শুনে ছোট্ট রাতুল গাল ফুলিয়ে বলল :
"না, আমি মাছ খাব না, আম খাব না। বিরিয়ানিই খাব শুধু।"

নয়না দেবী বুঝলেন তার ডাকে কেউ সাড়া দিচ্ছে না। শেষ ভরসা পতিদেব। তিনি যদি না বলেন তাহলে হয়তো এই বিরিয়ানির মোচ্ছব বন্ধ হতে পারে। কোমলভাবে বললেন: কিগো তুমি তো আর ঐ সবখাবে টাবেনা, বলো?
বাবা সুনির্মল বাবু বেশ গম্ভীর হয়ে বলল :  রাত বিরেতে এই সব আমার সহ্য হবে না রে রনি। তবে এত করে সবাই যখন বলছিস ঐ আমার জন্য একটুকরো ফেলেই রাখিস পাতে। আলাদা করে আমার জন্য এক্সট্রা প্যাকেট  আনতে হবে না তোদের থেকেই হয়ে যাবে আমার।
রনি বলল:  আচ্ছা তাই না!! এক প্যাকেট থেকে একটুকরো মাংস ফেলে রাখলে সেই প্যাকেটে আর থাকবে টা কি বাবা?  বলেই হো হো করে হেসে দিল।
রনির বাবাও হাসতে হাসতে সম্মতি দিল যা নিয়েই আয় তাহলে, আমিও আছি।

সাথে সাথে নয়না দেবী গর্জন করে উঠল: তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে নাকি! এই রাত বিরেতে বিরিয়ানি খেয়ে সহ্য করতে পারবে নাকি? গলা বুক জ্বলে যাবে। দরকার নেই এই সব খাবার।
সুনির্মল বাবু সাথে সাথে বজ্রনির্ঘোষ কণ্ঠে ঘোষণা করলেন: আমি আজকে বিরিয়ানিই খাব।
নয়না দেবী  রেগেমেগে বলল হ্যা পুরো হাঁড়ি ধরে নিয়ে আয়  জীবনে খায়নিতো এমন ভাব করছে লোকটা!
- সেই বিয়ের দিন থেকে এই বিরিয়ানির জ্বালায় জ্বলছি আমি!

হঠাৎ ছেলেরা আর বৌমা অবাক। বিয়ের দিন থেকে বিরিয়ানি কি করে নয়না দেবী কে জ্বালিয়েছে সেটা ওদের কারোরই বোধগম্য হল না।
রনি চোখ গোলগোল করে বিস্মিত হয়ে বলল : এ কি কথা মা! বিয়ের সাথে বিরিয়ানির কি সম্পর্ক বুঝলাম না তো? রন্টি তুই কিছু জানিস?  রন্টিও মাথা নেড়ে বলল:  নাতো , জানিনা তো! কি ব্যাপার মা এটাতো বলোনি। সোমাও কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল কি ব্যাপার মা?
মা ম্লান মুখে বলল তেমন কিছু না ছাড় তোরা। আমি যাই চা করে নিয়ে আসছি। আর বিরিয়ানি আনলে পাঁচ প্যাকেটই আনবি। আমি খাব না।

না মা, চা আমি করে নিয়ে আসছি। আগে তুমি বলোতো কি ব্যাপার এই বিরিয়ানি আর বিয়ের! বেশ কৌতূহল হচ্ছে। যদি অসুবিধা না থাকে শেয়ার করতে পারো , একথা বলে সোমা চা নিয়ে আসার জন্য উদ্যত হলো।  একথা শুনে সুনির্মল বাবু একটু কেশে নিয়ে বললেন:  তোদের মা হয়ত বলতে চাইছে না , মানে এই ব্যাপার টা নিয়ে সত্যি আর কোনোদিন আমরা আলোচনাই করিনি। দেখ তোদের মা বলতে রাজি হয় কিনা। তবে চাইলে বলতেই পারে; এতবছর তো হয়েই গেছে। বলো নয়না কোনো অসুবিধা নেই।

মা স্থিরবৎ হয়ে বলল:  আচ্ছা বলছি তাহলে , শোন  । এ ঘটনা আমার বিয়ের রাতের। সে আজ থেকে প্রায় ৩৮ বছর আগে যখন আমার বিয়ে হয় মোটামুটি ধর ১৯৮৪ সালে। তখনকার দিনের বিয়েতে প্রীতিভোজে খাওয়া দাওয়ার একটা বিশেষ রীতি ছিল। ভাত, লম্বা লেজের বেগুন ভাজা, ডাল, নবরত্ন তরকারী, মাছ যাচাই, একটু সম্ভ্রান্ত সচ্ছ্বল পরিবার হলে মাংস তাও সেটা এক দুবার, চাটনি, বাড়ির ভিয়েনে তৈরী অঢেল মিষ্টি সন্দেশ। লম্বা লম্বা টেবিল পড়বে , কাঠের চেয়ার বসানো হবে। পরিবেশন করবে কোমরে গামছা বেধে পাড়ার ছেলেরা । তদারকি করবে বাড়ির বয়োঃজ্যেষ্ঠ, পাড়ার গুরুজনেরা।
তোর দাদুদের অব্স্থা তখন মোটামুটি নিন্ম মধ্যবিত্ত । প্রথমে গতানুগতিক মেনুতেই এবং নিয়মেই আপ্যায়ন এর ব্যবস্থা এগোচ্ছিল। হঠাৎ একদিন তোদের ছোড়দাদু এসে বলল : বাড়ির মেয়ের বিয়ে একটা নতুনত্ব কিছু করতে হবেতো নাকি! এই পুরনো মেনুতে আপ্যায়ন চলবে না! ছোড়দাদু তখন ভালো উচ্চপদে সরকারী চাকরী করেন, অর্থনৈতিক ভাবে বেশ সচ্ছ্বল। আর সবাই ছোড়দাদু কে পরিবারের বাইরে ভেতরে মান্যিগণ্যি করে । তার উপর দিয়ে কেউ কিছু বিশেষ বলল না। সুতরাং তিনি নিজের কাঁধে সম্পূর্ণ দায়িত্ব  তুলে নিলেন। দায়িত্ব দিলেন ক্যটারিং এর দলকে, সেই যুগে আমাদের পরিবারে প্রথম। আর মেনু হল বিরিয়ানি, ফিশ ফিঙ্গার সাথে মিষ্টি। একদম নতুনত্ব ব্যাপার। তোর দাদু একবার শুধু বলল এতকিছুর কি দরকার ছিল! বাকিরা সবাই ভাবল কি জানি না কি এক ব্যাপার হতে চলেছে!!
"মা তোমার বিয়েতে বিরিয়ানি হয়েছিল ঐ যুগে!"
- দুই ভাই বিস্ময়ের সাথে বলে উঠল। এতো বিশাল ব্যাপার মা, এটা তো আগে কখনো বলোনি। তা অসুবিধার কি হল এতে?
সোমা ওদের থামিয়ে বললেন : উফফ মা তো বলছে। বলতে দাও তোমরা।
মা ঢোক গিলে আবার শুরু করল:
এরপর আমি যা জেনেছি তা সেই বিয়ের দিন, মানে  বিয়ে হয়ে যাওয়ার একটু পরে যখন সবাই বসে আছি ঠিক সেই সময়।
তোর মেজো মাসি এসে কানে কানে বলল খাবার যায়গায় গোলোযোগ হচ্ছে। শুনলাম কেউই নাকি বিরিয়ানি বিশেষ খাচ্ছে না। বরযাত্রী রা প্রচন্ড বাজে কথা বলছে, এই সব অখাদ্য কুখাদ্য কেন করেছে! তারা থালা ভর্তি করে নিচ্ছে আর ফেলে দিচ্ছে , বারংবার নিচ্ছে কিন্তু না খেয়েই ফেলে দিচ্ছে।  জিনিষ নিয়ে প্রচুর নষ্ট করছে! তাই দেখে ক্যটারিং এর লোকেরাও ক্ষেপে গেছে প্রচণ্ড। আমাদের বাড়ির সব লোক মুখচুন করে দাড়িয়ে আছে অসহায়ের মতন।
কিন্তু বিকেল থেকে এরা সবাই বেশ উত্তেজিত ছিল। একদম ফিটফাট সাজে ক্যটারর দেখে সকলে বিস্মিত ছিল! সাথে এক অন্যরকম আয়োজন সহযোগে বিরিয়ানির প্রস্তুতি পর্ব। এক এলাহি ব্যাপার।
তবে প্রথম ব্যাচ থেকেই দেখা যাচ্ছিল লোকে কেমন একটা সন্ধিগ্ধ ভাবে বিরিয়ানি পাতে নিচ্ছে কিন্তু ঠিক আত্মস্থ করতে পারছে না!
কিন্তু আসল তাল কাটল বরযাত্রীর দল যখন খেতে বসল ঠিক তখন। অপমান ও বিরিয়ানি অপচয় এক সাথেই শুরু হল।
আমাদের বাড়ির সবাই ততক্ষণে অনুধাবন করেছে এ এক মহালজ্জার সম্মুখীন হতে চলেছেন তারা। এর পরের ব্যাচে যে নিমন্ত্রিত অভ্যাগতরা খেতে বসবেন তাদের হয়ত আর কিছু দেওয়াও যাবে না।
যাই হোকএই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে দেখলাম তোর বাবা আর জ্যেঠুদের কানেও কথাটা হয়ত গেছে । নিজদের মধ্যে দ্রুত কিছু বলে জ্যেঠুরা উত্তেজিত হয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেল আপ্যায়ন স্থানে।

পরে  শুনেছিলাম তোর জ্যেঠুরা সিংহবিক্রমে গিয়ে বরযাত্রী দের সামনে বলেছিল: " কে দেখি মাংস ফেলছে ভাত ফেলছে? নষ্ট করছে খাবার? একটাও যদি ভাত মাংস আর না খেয়ে নিয়ে নষ্ট করেছ তো আবর্জনা থেকে তুলে খাওয়াব। অসভ্যতামির সীমা থাকা উচিৎ ছি:, যদি না খাও তাহলে অতিরিক্ত নিয়ে কেউ একদম আর নষ্ট করবে না বলে দিলাম । "
এরপর আর কেউ সাহস করেনি খাবার নষ্ট করার। এইভাবে এক লজ্জাজনক অপমানের হাত থেকে সেদিন রক্ষা পেলাম আমরা।
যজ্ঞেশ্বর এর যজ্ঞ যেন সত্যি হয়ে নেমে এসছিল আমাদের বাড়িতে সেই দিন। রবি ঠাকুরের যুগেও যা হয়েছিল তার ১০০ বছর পরেও এক ঘটনা!! এই বলে নয়না দেবী চুপ হলেন।

সোমা বিস্ফোরিত নয়নে বলে উঠল: মা এ কথা শুনে আমার খারাপ লাগছে। সেদিন এক আনন্দ উৎসবের দিন সত্যি কি এক অসহায় পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলে তোমরা !! মানুষ  কি করে অন্যকে এভাবে অপমান করতে পারে? আনন্দ কে ধূলিস্যৎ করে দিতে পারে ভাবলেও ঘৃণা হচ্ছে!! এদের আসলে মনুষ্যত্ব বলে কিছুই নেই।
নয়না দেবী সজল চোখে বললেন : সেদিন যদি তোর বাবা, জ্যেঠু দের কাছে খবর টা না আসত কি জানি কি হত! তোদের জ্যেঠুরা তো আজ সবাই পরপারে চলে গেছেন তবুও আমি ওদের এই বলিষ্ঠ  চরিত্র আমৃত্যু মনে রেখেছি, মনে রাখব।

রনি, রন্টি দুই ভাই বলল এ যুগে হলে ঐ আইটেম সবাই চেটেপুটে খেত। আর খাবার নষ্ট করলে সেই ছবি প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে তারপরে আইনানুগ উচিৎ শিক্ষা দেওয়া হতো।কি অদ্ভুত পাবলিক সব !! কে কে ছিল বলোতো বাবা ?

সুনির্মল বাবু হলকা ভাবে বলে উঠলেন: নাম জেনে কি করবি ?  সেটাও মানুষেরই তো একটা সমাজ ছিল। আসলে কি জানিস ভালো জিনিষ সে যত ভালোই হোকনা কেন মানুষ প্রথমে মেনে নিতে পারেনা, পরিবর্তন কে স্বীকার করতে বাধে।
তবে এই ঘটনা থেকে একটা শিক্ষার ব্যাপারও আছে। যে যেই গুণের কদর জানেনা তাকে সেই গুণ এর মাধ্যমে খুশী করা যায়না, সব গুণের একটা শ্রেণীমান থাকে। অযোগ্য হাতে - অজ্ঞের হাতে সেই জন্য সব কিছুতুলে দিতে নেই। সম্যক বিচার বিশ্লেষণ করে কাজ করা উচিৎ।
আর একটা কথা, নাম বলছি না তবে আজকে এটা দেখে অজান্তেই আমার ভিতর থেকে হাসি বেরিয়ে আসে: সেদিন যারা ঐ বিবাহ আপ্যায়ন পণ্ড করতে উদ্যত হয়েছিল তাদের মধ্যে দুইজনের এখন চালু বিরিয়ানির দোকান এই অঞ্চলে । সেদিন যে খাদ্য না বুঝেই সবাই দূরে সরিয়ে দিয়েছিল আজ দেখি সেটাই পরম ঈপ্সিত সবার কাছে।
রনি একটু রেগে বলে উঠল : আর বলতে হবে না। বুঝে গেছি কোন দোকান! এতদিন জানতামই না  ওরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছিল!!

এর মধ্যেই হঠাৎ নাতি এসে নয়না দেবীর গলা জড়িয়ে ধরে বলল
"ঠাম্মু তুমি কানি করছ কেন? আচ্ছা, আমি বিরিয়ানি খাব না, দুজনে মাছ ভাত খাব, আম খাব। ঠিকআছে, আর কানি কোরো না": ।
রনিও ছোট্ট রাতুলের কথা শুনে বলল : আজকে বিরিয়ানি উৎসব বাতিল করছি, সত্যি মনটা কেমন যেন ভারী হয়ে গেল এই ঘটনাটা শুনে।
এই কথা শুনেই নয়না দেবী ছলছলে চোখে আদুরে গলায় নাতি কে বলে উঠল:  কে বলেছে আমরা আজকে মাছ আম খাব? ওসব বাদ। আজ আমরা সব্বাই বিরিয়ানিই খাব।
এই রনি কোনো বাতিল না,  ৬ প্যাকেট বিরিয়ানি আনবি, আজকে আমিও খাব কিন্তু। বেশ বড় বড় মাংসের পিস থাকে যেন। তোদের বাবার বন্ধুর দোকান থেকেই আনিস। শুনেছি ওদের বিরিয়ানি ভালো হয় , সেদিন পাশের বাড়ির বৌদি বলল, ওরা তো মাঝেমধ্যেই ওদের দোকান থেকে আনিয়ে নেয়।

রনি বিস্মিত হয়ে বলল: মা ওদের দোকান থেকে আনা বিরিয়ানি তুমি উদরসাৎ করবে? ঐ  বিরিয়ানি নামবে তোমার গলা দিয়ে? ওরা না তোমার বিয়ের আপ্যায়ন অনুষ্ঠান প্রায় পণ্ড করেছিল?
নয়না দেবী হেসে বলল: শান্ত হ রনি । তোদের ঠাকুমা একটা ভালো কথা বলত: লোকের উপরের রাগটা কখনো খাবারের উপর ফলাবে না। খাবার কে সম্মান করবে। আর ওদের উপর আমার আর রাগ নেই শুধু ভিতরে একটা নি:স্ব কষ্ট এতদিন জমে ছিল, আজ তোদের কে বলার পরে সেই কষ্টটাও চলে গেল!!
সবাই  শুনে বিস্মিত হল !!

রনি হেসে বলল তথাস্তু মাতে ! বিরিয়ানি উৎসব হোক আজকে। সবাই একসাথে হেসে বলে উঠল জয় বিরিয়ানির জয় ।।

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"