চোখের আলোয় এঁকেছিলেম। এক ঝিকিমিকি তারা, এক মাধবী রাত।।

"বুবাই এইবার মোবাইলটা রাখ! সকাল থেকে সারাদিন রাত শুধু মোবাইল আর মোবাইল। চোখ দুটোতো যাবে এইবার" । বুবাইর মা রিয়া বিরক্ত হয়ে বুবাই কে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলল। বুবাই ভাবলেশহীন অভিব্যক্তিতে মায়ের কথা শুনেও না শোনার ভঙ্গিতে বলল : "মা,আজকে রবিবার; ছুটির দিন, তাই একটু গেমস খেলছি", বলেই আবার মনোযোগ দিল মুঠোফোন এর খেলায়।

ছেলের এমন নির্লিপ্ত প্রত্যুত্তর শুনে রিয়া হতবাক! সাথে সাথে মেজাজ ও স্বর দুইই সপ্তমে তুলে চিৎকার করে উঠল : "বারংবার বারন করা সত্ত্বেও তুই আবার গেমস খেলছিস?" ।
এইশুনে পুত্র মায়ের মুখপানে চেয়ে বলল : আজকে একটু খেলছি মা, একটু খেললে কি হয় ? মা সাথে সাথে উত্তরদিল "বুবাই ,বাজে কথা একদম বলবি না। তুই প্রতিদিন গেমস খেলিস আর এই এক কথা বলিস! কেন মোবাইল টা রেখে ছবি আঁক, দাবা খেল বা গল্পের বই পড়। তোর মতন বয়সে আমরা কত ছবি আঁকতাম, বই পড়তাম। সময় টা কে ভালো কিছু করে উপভোগ কর যেটা কাজে লাগবে, নিজেও উপকৃত হবি। রাখ মোবাইলটা "।
বুবাই একটু উত্তেজিত হয়ে উত্তর দিল "তোমাদের সময়ে মোবাইল ছিল না তাই এর মজা তোমরা পাওনি, তাই অন্য কিছু করে অব্সর সময় কাটাতে। আর মোবাইল এ গেম খেললে একাগ্রতা বাড়ে, আমার এখন গল্পের বই পড়তে বা আঁকতে ভালো লাগছে না মা, এখন গেমসই খেলব!" বলে বুবাই গেমস খেলতে থাকলো নিমগ্ন চিত্তে।

"দাড়া, আজ তোর একদিন কি আমার একদিন, তুই মোবাইল রাখবি না তোর ঘাড় রাখবে" বলেই বুবাইর মা রণংদেহী মেজাজে এগিয়ে এল বুবাইর দিকে। বুবাই ও পরিস্থিতি উপলব্ধি করে এক লাফে বাবার পড়ার ঘরে উপস্থিত।
বুবাইর বাবা পলাশ ওকে দেখে মুচকি হেসে চোখ টিপে বলল:  মার হাত থেকে বাঁচতে চাইলে তাড়াতাড়ি আমার চেয়ারের পিছনে চলে আয়। বুবাই এক লাফে চলে এল বাবার চেয়ারের পিছনে , নিরাপদ আশ্রয়ে।
সাথে সাথেই রিয়া ঝড়েরবেগে পলাশের পড়ার ঘরে আছড়ে পড়ল, ঢুকেই বজ্র নির্ঘোষ আছড়ে পড়ল: "কোথায় লুকিয়েছিস বুবাই? বাঁচতে চাইলে বেরিয়ে আয় বলছি। পঞ্চম শ্রেনীর পুচকে! তার কথার কি ছিরি! - তোমাদের সময়ে মোবাইল ছিল না তাই তোমরা ছবি আঁকতে, বই পড়তে। মোবাইলে গেমস খেলে একাগ্রতা বাড়াচ্ছে হতভাগা! আজ তোর একদিন কি আমার একদিন। মোবাইল এর ভূত আজ আমি নামিয়েই ছাড়ব। বেরো তুই" ।

রিয়ার রুদ্রমূর্তি দেখে পলাশ বলল : ধীরে রিয়া ধীরে। শান্ত হও আগে তুমি। এই ভাবে মেরে ধরে হবেনা। আমি সব শুনেছি, অন্যভাবে কিছু ভাবতে হবে।  আমি দেখছি ব্যাপারটা।
বলেই কিছুক্ষণ মৌন হয়ে চোখ বুজে কিছু একটা ভাবতে থাকল পলাশ; তারপর মনেমনে বলল: হমম,পেয়েছি সমাধান।
তারপর বুবাইর দিকে চেয়ে বলল : চল তোকে আমাদের সময়ের একটা মজার খেলা শেখাব। এই কথা শুনে বুবাই মুখভার করে বলল: বাবা তোমাদের সময়ের খেলা গুলো সেকেলে, বোরিং লাগে।  রিয়া সাথে সাথে বলে উঠল: শুনলে ছেলের কথা শুনলে, ওর নাকি বোরিং লাগে আমাদের খেলা! আজ খেলা বোরিং লাগছে কয়েকদিন পরে বাবা মা কেই বোরিং লাগবে!
পলাশ হাসতে হাসতে বলল : রিয়া, তুমি এইবার থামো, তিল কে তাল করতে তোমার আর জুড়ি নেই। আর, বুবাই আজকে যে খেলাটা শেখাব সেটা খেলেই দেখ,এটা কিন্তু অন্যতম আদিম খেলা; মানুষ পশু পক্ষী কীট সবাই খেলে! এই খেলাটা আজকে শেষ হয়েও কালকে খেলতে যাবি আবার নতুন লাগবে। খেলাটা প্রবীণ, কিন্তু চিরনবীন । বলেই বুবাইর হাত ধরে প্রায় টানতে টানতে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল।
রিয়া কিছুক্ষণ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ভাবল কি হচ্ছে! পলাশ কি করতে চেলেছে?   তারপরে অবাক হয়ে বলল এই ভর সন্ধ্যে বেলায় ছাদে যাচ্ছ নাকি! কি আক্কেল তোমার পলাশ।
পলাশ পিছনে না তাকিয়েই ছাদের সিঁড়িতে উঠতে উঠতে উত্তর দিল: হ্যা ছাদেই যাচ্ছি। গেলে তুমিও এসো। বলেই হনহন করে পিতা পুত্র ছাদে চলে গেল।

ছাদে উঠেই সবার প্রথমে আলো গুলো বন্ধ করে দিল পলাশ। বুবাই একটু বিস্মিত হয়ে বলল: বাবা আমরা ছাদে এলাম কেন? তুমি লাইট অফ করলে কেন! পলাশ হেসে উত্তর দিল : কেনরে বীরপুরুষ, ভয় করছে নাকি? আমি যে খেলাটা খেলব তার জন্য অন্ধকার যে প্রথমিক শর্ত। বুবাই একটু ভয়ে ভয়ে বলল: কি খেলা বাবা? অন্ধকারে কি এমন খেলা খেলব আমরা? 
পলাশ বলল : যখন খেলা শুরু হবে তখন বুঝবি।  নে উপরের দিকে , মানে আকাশের দিকে তাকা।
বুবাই বিস্মিত হয়ে বলল: মানে? কি দেখব উপরে। শুধুই তো অন্ধকার। কিচ্ছু বুঝতে পারছি না এটা কি খেলা!

পলাশ স্থিরকণ্ঠে বলল: বুবাই,  একটু অপেক্ষা কর । যা যা বলছি সেই গুলো প্রথম ১০ মিনিট মেনে চল। তারপর তুই নিজেই বুঝে যাবি কি খেলা খেলছি!
এখন প্রথমেই একটা কাজ কর। যেই ভাবে একাগ্রচিত্তে ১৫ মিনিট আগে মোবাইল দেখছিলি ঠিক সেই ভাবে চেষ্টা কর শুধু অন্ধকারের দিকেই তাকিয়ে থাকতে। নে শুরু কর।
বুবাই কিছুই বুঝঝে না কি হচ্ছে। অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে আবার কি খেলা এটা? যাইহোক তবুও বাবা আজকে মায়ের রোষানল থেকে বাচিয়েছে, সুতরাং অনিচ্ছা সত্ত্বেও হা করে আঁধারে চেয়ে রইল।
কিছু সময় পরে পলাশ খুব আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করল: বুবাই, কিছু দেখছিস আকাশে?
বুবাই কিছুক্ষণ চুপ, তারপর উত্তর দিল: বাবা অনেক অন্ধকার আর তার মাঝে অনেক তারা ।
পলাশ জিজ্ঞাসা করল: আচ্ছা, আর কিছু মনে হচ্ছে এই তারা গুলো দেখে?
বুবাই কিছুক্ষণ ভেবে বলল বাবা মনে হচ্ছে কেউ যেন অনেক গুলো ছোট ছোট আলো জ্বেলেছে। কিন্তু বাবা এই তারা গুলো দেখে আমরা কি করব?

পলাশ মুচকি হেসে বলল আমরা ছবি আঁকব। বুবাই আকাশ থেকে মুখ নামিয়ে পলাশকে বলল: কিসের ছবি বাবা? এতো শুধু অন্ধকার আর বিন্দু বিন্দু আলো। পলাশ বুবাইর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল এটাই তো খেলা। তোর হাতে পেন্সিল নেই, কোনো কাগজ নেই কিন্তু তোকে ছবি আঁকতে হবে।   চোখ হবে পেন্সিল ,তোর মস্তিষ্ক হবে খাতা; তোর মন যা উপলব্ধি করবি সেটাই হবে রঙ।

বাবার কথা শুনে বুবাই হতবাক, বাবা কি বলছে! চোখ দিয়ে ও ছবি আঁকবে! বাবা এটা কি ভাবে সম্ভব? 
পলাশ উত্তর দিল: বলছি,  তবে তার আগে বল তুই মাঝে মাঝেই পেপারে বা শিশু পত্রিকায় দেওয়া  বিন্দু বিন্দু যোগ করে বিভিন্ন ছবি তৈরী করিস তাইতো? বুবাই বলল: হ্যা করি তো। পুরো ছবিটা ১ থেকে ২০ বা ৩০ টা বিন্দু তে সাদা খাতার উপর থাকে, আমি ১ থেকে ২, ২ থেকে ৩ এই ভাবে বিন্দু গুলো যুক্ত করি আর এক একটা মজার ছবি তৈরী হয়ে যায়। তারপর সেটা কে রঙ করি। কিন্তু সেটার সাথে চোখ দিয়ে ছবি আঁকার কি সম্পর্ক?

পলাশ উত্তর দিল আছে, সম্পর্ক আছে। বলেই দুই হাতে বুবাইর চোখ দুটো ঢেকে উত্তর আকাশে র দিকে মাথাটা ধীরে ধীরে একটু তুলে ধরল;
বুবাই,আস্তে আস্তে এইবার চোখ খুলবি। মাথা যে যায়গায় স্থির আছে আর বেশী পরিবর্তন করবি না, নড়বি না, চোখ খুলে সোজা উত্তর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাক, চোখ সরিয়ে নিবি না, নে দেখ।

বুবাই অন্ধকারে উত্তর আকাশ পানে কিছু সময় চেয়ে রইল। পলাশ পাশ থেকে আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করল, বুবাই কত গুলো তারা দেখতে পাচ্ছিস? বুবাই একটু থেমে এক এক করে গুনতে থাকল: এক, দুই তিন থেকে সাত। বাবা সাতটা তারা আছে!
পলাশ বলল বা: খুব ভালো। এইবার উপর থেকে নীচে তারা গুলোকে নম্বর দে নিজের মনে মনে এক থেকে সাত অব্ধি । ধীরে ধীরে মনে মনে নম্বর দিয়ে এক একটা তারার অবস্থান চিহ্নিত কর।
বুবাই অপলক ভাবে তারার পানে চেয়ে এক হাতের       তর্জনী নির্দেশিকায় তারা গুলো কে চিহ্নিত করল। প্রত্যেকটি তারা কে উত্তর থেকে দক্ষিণে ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় নামাঙ্কিত করল। তারপর বেশ উত্তেজিত হয়ে বলল:  বাবা তারা দের সজ্জিত করেছি সাংখ্যমানে, এইবার কি করব?
বাবা বলল: এক রেখায় মনে মনে যোগ কর।
বুবাই  এক এক তারা কে এক বিন্দু থেকে আরেক বিন্দু যুক্ত করার মতন করে সংযুক্ত করল বেশ কয়েকবার প্রচেষ্টা করার পরে । তারপর হঠাৎ উত্তেজনায় উল্লাসে চিৎকার করে উঠল: "বাবা, আকাশে এক বিশাল জিজ্ঞাসা চিহ্ন আছে, দেখো বাবা দেখো তুমি দেখতে পাচ্ছ? "
পলাশ বুবাই কে জড়িয়ে ধরে বলল হ্যা রে বুবাই ঠিক বলেছিস, আকাশ নিজে এক জিজ্ঞাসা চিহ্ন আবার মনের কল্পনায় এক জিজ্ঞাসা চিহ্ন আছে যা র সন্ধান তুই এই মাত্র পেলি। একে বাংলায় বলে সপ্তর্ষি মন্ডল, নাম শুনেছিস তো?
বুবাই হেসে বলল হ্যা বাবা আমি জানি সাত ঋষির নামে কিন্তু সেটা যে এইখানে ছিল তা জানতামই না একদম চোখের সামনেই আছে।
ঠিক বলেছিস বুবাই, তবে তুই একটা তারা কিন্তু দেখতে পাসনি।  দেখ উপর থেকে শুরু করে দ্বিতীয় তারা টার পাশে একটা তারা মিটিমিটি হাসছে, জানিস ওটা কি তারা?
বুবাই আবার দেখল ভালো ভাবে। মুখটা কাচুমাচু করে বলল হ্যা তাইতো, আরেকটা তারা আছে, আমি দেখতে পেলাম না কেন? ওর নাম কি বাবা?

ওটা অরুন্ধতী, পলাশ কিছু বলার আগেই হঠাৎ পেছন থেকে বুবাই মায়ের স্বর শুনতে পেল । বুবাই মা কে দেখে খুব খুশী। দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বলল জানো মা, আমি আজকে আকাশের বুকে বিশাল জিজ্ঞাসা চিহ্ন খুজে পেয়েছি, সপ্তর্ষি মন্ডল, শুধু ঐ অরুন্ধতী তারা কে দেখতে পেলাম না ।
মা আদর করে বুবাই কে জড়িয়ে ধরে বলল হ্যা আমি জানি। তোদের পিছু পিছু আমিও উঠে এসেছিলাম ছাদে। আড়াল থেকে চুপচাপ দেখছিলাম তোদের কে, খুব ভালো লাগছিল। নিজের ছোটোবেলার কথাও মনে পড়ছিল।
বুবাই অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল: মা তুমিও ছোটবেলায় তারা দেখতে?
রিয়া উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল: হ্যা রে আমিও তারা দেখতাম। জানিস বুবাই আমাদের ছোটো বেলাতে গরমের রাতে লোডশেডিং হলে তোর দাদু আমাকে, তোর মামা মাসিদের নিয়ে ছাদে চলে আসত , আর ঠিক এইভাবেই আকাশ চিনতাম আমরা, তারা চিনতাম ,গ্রহ চিনতাম।
তবে আকাশ চিনতে গিয়ে আজকে তোকে আরেকটা কথা বলে দেই , মনে রাখিস। আকাশের নীচে তুই যদি পুর্ণ অহং মনে, অন্যকে তাচ্ছিলের চোখে দেখে আসিস আকাশ নিজের আকারে বাহারে বুঝিয়ে দেবে এই বিশাল আকাশের নীচে তুই নগন্য- তুই শূন্য, অতি তুচ্ছাতিতুচ্ছ ।
আবার তুই যদি শূন্য মনে আসিস আকাশ তোকে বুঝিয়ে দেবে আকাশের মতন শূন্য কিন্তু কিছুই নেই।
বুবাই কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইল: সেটা কিভাবে মা?
রিয়া উত্তর দিল: এই দেখ, যেমন তুই আজকে প্রথমে ভেবেছিলিস আমাদের সময়ের খেলা তুচ্ছ, কিন্তু সপ্তর্ষি দেখার আনন্দ পেয়ে মনে মনে পরিপূর্ণতা পেলি। আবার, অরুন্ধতী কে দেখতে না পেয়ে বিষণ্ণও হলি। আকাশ সবাইকে সমান ভাবে দেখে।
কথা বলতে বলতেই হঠাৎ রিয়ার নজর গেল পলাশের দিকে। পলাশ মোবাইল বের করে খুটখাট কি করছে?

"তুমি  আবার ওর সামনে আবার মোবাইল টা বের করলে? ছেলে তো এত ভালো একটা বিষয়ে মজা পেল আর তুমি কিনা সেই মুহূর্ত থেকেই আবার ওর সামনেই মোবাইল বের করছ । ওর আর কি দোষ বলো? আমরা নিজেরাই তো ঠিক থাকতে পারিনা।"
পলাশ মোবাইল থেকে মুখটা তুলে বলল, বলেছি না তুমি তিল কে তাল বানাতে ওস্তাদ। আরে মোবাইল এ কি করছি সেটা তো আগে দেখো। আমি বুবাইর জন্য আকাশের তারা পর্যবেক্ষণ এর  জন্য একটা  অ্যাপ ইন্সটল করলাম।
বুবাই ছো মেরে বাবার হাত থেকে মন্ত্রমুগ্ধের মতন মোবাইল টা হস্তগত করল।

রিয়া অবাক হয়ে বলল: তুমি আবার ওর হাতে মোবাইল তুলে দিলে?
পলাশ গম্ভীরভাবে বলল: দেখো আমি তুমি দুজ্নেই তো ওকে অনেক বারন করেছি তবুও ও মোবাইল ধরছে, গেমস ও খেলছে । একবার ভেবে দেখেছ কেন? কারণ ও ওতে মজা পায়। আজকে ও আকাশ দেখে মজা পেয়েছে। সেই মজা টা কে উৎসাহে পরিণত করতে গেলে মোবাইল এর এই অ্যাপ ওকে সাহায্যই করবে।
ছোটবেলায় রচনা লিখতে - বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ, ভেবে দেখোতো সেটা নির্ভর করে ব্যবহার কারীর উপর। আজকে আমরা যদি টিভি না দেখতাম তাহলে কি জানতে পারতাম ঐ বয়সে গিনিস বুকে কি হচ্ছে? আমদের মা বাবা রা আমাদের টিভি, কেবেল সব দিয়েছে; সাথে বুঝিয়ে দিয়েছে ব্যবহারের নিয়ম, কি কি দেখব তার নির্দেশিকাও ভালো ভাবে বুঝিয়েছে। সেইখান থেকেই তো ব্যুতপত্তি তৈরী হবে, ভালো মন্দ সব থাকবে, ভালোর থেকে কি নেবে, মন্দ কে কিভাব এড়িয়ে চলবে সেটাও নিজেকেই তো শিখতে হবে। অবশ্যই কি দেখছে না দেখছে একটা বয়স অব্ধি আমাদের পর্যবেক্ষণ এর মধ্যেই রাখতে হবে। শুধু যদি বলো মোবাইল দেখবি না, ধরবি না তাহলে ছেলে হয়ত অনেক খারাপ বিষয় থেকে দূরে থাকবে তার সাথে সাথে যুগোপযোগী ভালো বিষয় গুলো থেকেও দূরে সরে যাবে, শেষে দেখবে :
দ্বার বন্ধ করে মিথ্যা টারে রুখি।
সত্য বলে আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি।।

গম্ভীর কথপোকথনের মাঝে হঠাৎ বুবাই এর উত্তেজিত কণ্ঠ শোনা গেল:  মা - বাবা, এই দেখো মোবাইলে আকাশের নতুন অ্যাপ এ সপ্তর্ষি র যায়গায় একটা বিশাল ভল্লুক দেখাচ্ছে। পলাশ হেসে বলল হ্যা বুবাই, আমরা যাকে সপ্তর্ষি বলি ইউরোপে তাকে উস্রা মেজর নামে একটা ভল্লুক বলে, তবে ওতে সপ্তর্ষির থেকে অনেক বেশী তারা থাকে। এরকম সারা আকাশ জুড়ে দেখবি সিংহ, যোদ্ধা, সারস, সাপ, খরগোশ, মানুষ ঘোড়া, পক্ষীরাজ ঘোড়া, তিমি মাছ, মাছ, মেষ, বিছে আরো কত কি আছে। এই যে, বিভিন্ন আকারের তারার মেলবন্ধন দেখছিস; এর মাধ্যমে আকাশ তোকে ধীরে ধীরে শিখিয়ে দেবে কল্পনার মোড়কে সত্য বাস্তব লুকিয়ে আছে, অনেক অনেক তারা অন্তরালে আছে, অনেক গল্প আছে দেশ বিদেশের ;অনেক বিজ্ঞানীর সাধনা আত্মত্যাগ মিশে আছে এদের অনুসন্ধানে। এরকম জানার আনন্দ খুব কম বিষয়েই লক্ষণীয়। আর এই চিত্রনাট্য অনাদি কাল থেকে প্রতি রজনী তেই আবির্ভূত হয়ে চলেছে।এ এক অমোঘ আকর্ষণ।
বুবাই উত্তেজিত হয়ে বলল সত্যি বলেছ বাবা। এ এক অন্য রকম মজা অন্য ধরনের আনন্দ হচ্ছে মনের ভিতর। মনে হচ্ছে নিজে কিছু আবিষ্কার করছি, খুঁজে বের করছি প্রকৃতির গুপ্তধন। চলো, আরো কিছু তারা চিহ্নিত করি আমরা। মা বাবা সোত্সাহে বলে উঠল : চল খুঁজি তাহলে!
তিনজনেই আজ খুব উৎসাহিত,  অনুসন্ধিৎসুক দৃষ্টিতে ওরা ধ্রুবতারার সন্ধানে উত্তর আকাশ পানে চেয়ে রইল, চেয়ে রইল উত্তর পশ্চিমে ব্রহ্মহৃদ থেকে উত্তর পূর্বের অভিজিৎ নক্ষত্রের দিকে।।

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"