পোস্টগুলি

আভি আভি, হুয়া ইয়াকিন

ছবি
"আভি আভি, হুয়া ইয়াকিন কি আগ হ্যায় মুঝমে কহি" একটা মেডেল পেয়েছি গতকাল অফিস থেকে, তবে এটা আসল আনন্দ প্রকাশ কারণ না। আনন্দ কারণ অন্য, অনন্য! হ্যা মেডেলটি অবশ্যই একটা সম্মান, এবং ভালো লেগেছে মেডেল পেয়ে। তবে আসল মন ভরানো খবর টা অন্য! এই মেডেল প্রাপ্তির সাথেই যখন শুনলাম এই আমার মতো, "দশ হাজার" এলটিআইমাইন্ডট্রির সহকর্মী রা যে যেরকম পেরেছে দুমাস ধরে নিয়মিত হেঁটেছে এবং হেঁটে এক বিলিয়ন স্টেপ কমপ্লিট করে দেশের ৪ লক্ষ মানুষের সামনে কিছু সময়ের জন্য পেট ভরে এক বারের এক বেলার জন্য হলেও খাবারের বন্দোবস্ত করেছে!! জাস্ট একটা অনন্য সুখ অনুভূতিতে মন টা ভরে গেলো!! ব্যাপারটা হোলো প্রথমের দিকে নাম ই রেজিস্টার করিনি এই হাঁটাচলায়। একের পর এক ইমেল আসছিল আর ইগনোর করছিলাম। তারপর দেখি আমাদের ডেটা প্র্যাক্টিস এর দাদা ইমেল করে ভদ্র ভাবে বলে দিলো নাম টা দিতে। কিছু মানষ এর থেকে ইমেল বা বার্তা এলে সেটা মন থেকেই করতে ইচ্ছে হয়। যাই হোক, নাম টা তো দিলাম! নাম রেজিস্ট্রশন এর পরে অফিসে আয়োজিত এই দুই মাস ব্যাপী প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটার প্রকৃত উদ্দেশ্য টা জানতে পারলাম তারপরে। প্রতি পদক্ষেপ এর কাউন্ট ছোট্ট ...

প্রণাম ধর্মেন্দ্র ❤🙏🏼💔

ছবি
প্রণাম ধর্মেন্দ্র ❤🙏🏼💔 খুব ছোট, মা র সাথে রমা সিনেমা হলে একটা সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। সিনেমা টার ভাষা বোঝার ক্ষমতা তখনো আয়ত্ত হয়নি, (ক্লাস ওয়ান ও হয়নি)।"মা"- নামক ঐ সিনেমায় মা হাতি আর শিশু হাতির গল্প ছিলো। আর একটা মুগ্ধতা ভরিয়ে  দিয়েছিলো। আজ এই চালশের আশে পাশে এসে বুঝতে পারি এক অনবদ্য অভিনয় - সেই অভিনয় ক্লাস ওয়ান এ না ওঠা বাচ্চা কেও, হিন্দি না জেনেও বুঝিয়েছিলো মানুষ কিংবা প্রাণী সব ক্ষেত্রেই মা সন্তান এর স্নেহ-আদর এক স্বত:সিদ্ধ বন্ধন। সেই প্রথম পরিচয়-  ধর্মেন্দ্র; হিন্দি সিনেমার প্রবেশ দ্বার এক শিশুর জগৎ এ। এর পরে শোলের গল্প শুনতাম মা এর মুখে। যে হিরো বাঁচবে না তাঁকে তাই ভালো লাগতো না, তাই ধর্মেন্দ্র কে নিয়েই এগিয়ে চলছিল সময়। ক্লাশ থ্রি বা টু, টিভিতে প্রথম শোলে দিলো। দেখার পরে কিভাবে যেন হিন্দি হিরোর স্থান টা চেঞ্জ করে দিলো একটা লম্বা মানুষ, শিশু হৃদয়ে বেঁচে থাকা হিরোর থেকে চলে যাওয়া হিরোর জন্য শোকের মাধ্যমে একাত্মতা তৈরী হোলো, বিরু একটু পিছিয়ে গেলো সেদিন থেকে। আজ এতো বছর পরে দেখলাম সেই বিরু চলে গিয়ে মনের মধ্যে আবার জেগে উঠলো! পথের পাঁচালীর অপু কিংবা ক্লাশ ওযান টু এর হিন...

ঘুড়ি টা কেউ ধরতে আসেনি আজব্যস্ত সময়ে হিসেব এর খাতায় বাকি অনেক কাজ।

ছবি
ঘুড়ি টা কেউ ধরতে আসেনি আজ ব্যস্ত সময়ে হিসেব এর খাতায় বাকি অনেক কাজ। ঘুড়িটা একটু আগে সেই বাড়িটা পার করেছে, বছর পঁচিশ আগেও ঐ ছাদে ঘুড়ি উড়েছে। কেটে যাওয়া ঘুড়ি সুতোয় টানে কেটে যাওয়া সময় এখনো কি ওদের ঘুড়ি ওড়াতে ইচ্ছে হয়? দেখল না ওরা, ছাদের উপর সুতো বয়ে এলো সেই ঢিললঙ্গা-সুতো টান, কোথায় মিলিয়ে গেলো? আর কেউ দৌড়বে না জেনে ঘুড়ি নিশ্চিন্ত নিশ্চুপ ইঁদুর দৌড়ে আটকে গেছে, বাতিল এই রূপ। ঘুড়িটা ভেসে এসে গাছে আটকে লটকে ঝুলছে তবুও তো কেউ উড়িয়েছে, কেউ কেটেছে খেলেছে! আর? অনেকে হারিয়ে যাওয়া সময়ের ম্যাপে দেখেছে!! পুনশ্চ: বিশ্বকর্মা পুজোর প্রাক্কালে ঘুড়ি টা আমাদের পাড়ায় এসেছিল কেটে উড়ে। ও যেই বাড়ি গুলো অতিক্রম করলো সেই বাড়ি গুলোতে এক সময়ে সব ঘুড়ি ওড়ানো  রথী মহারথীর ভোকাট্টা রবে পাড়া কেঁপে  কেঁপে উঠতো। স্পষ্ট মনে পড়ে আশে পাশে বাবুসোনা দা, সোনাই দা, সোমনাথ দা, রাজীব দা, পাপ্পু দা, বান্টি দা, অনুপম দা গোবিন্দ এরা ছিল প্রথম সারির। তুতুন দা, শঙ্কু দা এরাও বেশ কিছুটা ওড়াতে পারতো। আরো অনেকে ছিলো। এদের মধ্যে একমাত্র আমিই ছিলাম যে শুধু ঘুড়ি ওড়ানো দেখে আনন্দ পেতাম, তার থেকেও বেশী মজা পেতাম দৌড়ে কা...

বিদ্বান সর্বত্র সর্বাগ্রে পূজ্যতে

ছবি
বিদ্বান সর্বত্র সর্বাগ্রে পূজ্যতে আক্ষরিক প্রকাশ, মহাভারতে এলো আহ্বান। বিঘ্নকারী ওদের কাছে, আমি গণ প্রধান।। বহে নাই ধমনী শিরায় কুলীন দেব রক্ত জাত। পিতা শূলপাণী সন্মুখ-সমরে হয়নি মম মাথা নত।। বিদ্যা বুদ্ধি অর্জিত সিদ্ধি, আমি প্রতিভূ অনার্য। কৌশলে মজে, পূজে প্রথমে যতো দেব বিধি আর্য।। জ্ঞান আমারে দিয়েছে স্থান সকল দেবের উপর, বিদ্যাবুদ্ধি না থাকলে কেউ রাখতো কি মোর খবর? শিক্ষাজ্ঞান ই মহাশক্তি বুঝুক পিছিয়ে পড়া মানুষ কৌশল চিন্তা যুক্তি না এলে জীবন টাই যে ফানুস। আমার জীবন থাক হয়ে মানুষের কাছে উদাহরণ g k h বিঘ্ননাশক অন্তে উপাধি,বিঘ্নকারী নাম পরিবর্তন।। পুনশ্চ: বৈদিক প্রেক্ষিত বিহীন দেব গণেশ, তাঁকে প্রথমে যে আর্য রা বিঘ্নকারী হিসেবে নামকরণ করেছিল শেষে তারাই নাম পরিবর্তন করতে বাধ্য হোলো - বিঘ্ননাশক! মহাভারত লিপিবদ্ধ করতে গিয়ে আর্য দের দরকার পড়লো এক অনার্য গণপতির শব্দ অক্ষর-জ্ঞান এর! এবং তিনি হয়ে উঠলেন সর্বাগ্রে পুজো পাওয়ার একক আধিকারী, কারণ - বিদ্বান সর্বত্র সর্বাগ্রে পূজ্যতে! ওহ, হ্যা শুধু বিদ্বান ই না, তার সুকৌশল প্রয়োগ বল ও দরকার। ©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২৭ আগস্ট ২০২৫ ।। গনেশ চতুর্থী। ...

কসমোপলিটন সে কি আজ ইউটোপিয়ান?

ছবি
"কসমোপলিটন সে কি আজ ইউটোপিয়ান?"   সেই কবে কতো যুগ ধরে শুনে এসেছি বিদেশির হাতে এ শহরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা। এর সাথে ইংরেজ দের অহংকার-  চার্নক সাহেব আজকের দিনে অর্থাৎ ২৪ শে আগস্ট (১৬৯০) এ নেমে আসছেন কলকাতা প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু রবিবাসরীয় দুপুরে বৈদূর্য্য সরকার এর লেখা কসমোপলিটন কলকাতা বই টা পড়ে এই বিশ্বাস টা দুম করে ধাক্কা খেলো সত্য তথ্যের মাধ্যমে, কারণ?  ইংরেজ যখনই গর্বোদ্যত ভাবে প্রকাশ করে ওরাই কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা এবং চার্নকই জনক তখন বলতেই হয়- এবার একটু থাম ভাই ইংরেজ! আসলে উনিজি (মানে এখানে চার্নক পড়ুন) আসার আগে অলরেডি তিন চারটে বিদেশী জাতি বহাল তবিয়তে ব্যবসা করছে, হ্যা এই কলকাতার বুকেই। পর্তুগিজ রা এসে গেছে প্রায় ১৬১০ এর দিকে- আবার আর্মেনিয় রেজা বিবিকে ১৬৩০ সালের ২১ জুলাই যখন কলকাতায় সমাহিত করা হচ্ছে তখন চার্নক স্যর কিন্তু ধরাধামেই আসেননি! ওহ, হ্যা আমরা কিন্তু তখন টুক করে কলকাতায় এসে গিয়েছি রেজা বিবির সমাধি ঘুরে। ওদিকে ফরাসিরা ডাচ রাও কিন্তু ইংরেজ দের দাবিকে সব সময় ধাক্কা দিয়ে এসেছে- ১৬৬০ সালে ফ্যান ড্রেক একটি মানচিত্রে কি কুক্ষণে যে চন্দন নগরের সাথে হঠাৎ  করে কলকাতার ...

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"

ছবি
"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"  - হিন্দি ডায়লগ দিলাম বলে কি বাংলা"র"পক্ষে নেই ভাবছেন ? না, ব্যাপারটা একদমই সেরকম নয়। এই বিখ্যাত ডায়লগ টা ধার নিলাম আজকের বাংলা কে বোঝাবার জন্যেই। কিভাবে?  আসলে গতকাল এমন দুটো ঘটনা ঘটেছে যাদের ক্ষেত্রে দি এন্ড না হয়ে সময়ের সীমা পর্দায় তুলে ধরছিল- "পিকচার আভি বাকি হ্যায়" । কাদের কথা বলছি?  সেই সব-  ১।  "ওরা কাজ করে নগরে প্রান্তরে" । কাজের জন্য এসেছে"এতটা পথ পেরিয়ে"। আসলে গতকাল শহর জুড়ে এক নতুন মেট্রোর চলাচল। ঐ উপরে উল্লেখিত ১ নম্বর গ্রুপ আজ থেকে দূর প্রান্তর থেকে খুড়োর কলে চেপে পাঁচ ঘন্টার রাস্তা যাবে দেড় ঘন্টায় চলে। আহা, খুড়ো বললে শুধু রাগ করবেন না , পক্ককেশ বুদ্ধ বুড়ো থেকে মানবিক দিদি কিংবা আজকের দাদু সবাই কিছু কিছু লিড করেছে- ঐ যে বললাম ১১ বছর ধরে পিকচার ও জ্যাম এ ফেঁসে বাংলা হাল ছাড়েনি বন্ধু, আশা ছাড়েনি। তাই আজ এগিয়ে বাংলা, অনেকটা পিছিয়ে যানজট কাটিয়ে কিছুটা - এগিয়ে বাংলা। ২। কাজ করে যাও ফলের আশা কোরোনা জয়েন্ট এর পরীক্ষা দিয়ে যাও রেজাল্ট বেরোবেনা এদিকে উপরে উল্লেখিত এই দ্বিতীয় গ্রুপ জীবনের সূচনা পর...

ছাদের থেকে ঐ দেখা যায়, সবুজ নবীন পাহাড়

ছবি
ছাদের থেকে ঐ দেখা যায়, সবুজ নবীন পাহাড় সমতলের বাসিন্দার চলার পথে জীবনের কোনো এক বাঁকে যদি হঠাৎ এক টুকরো পাহাড়-জল উঁকিঝুঁকি দেয় সেই মূহূর্ত টা সার্থক মূহূর্ত হিসেবে অন্তরে ফ্রেমবন্দী হয়। জীবনে আয় ব্যায়  , কর্ম কে ধর্ম মনে করে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যাওয়া কর্তব্য বোধের সাথে মনের গহীনে একটি চাপা চাহিদা থাকে- "আনন্দ পাওয়া"। এই আনন্দ আপোসহীন অনাবিল। অনন্ত মাঝে রঙ দে বসন্তী সটাইলে সে ভিতর থেকে গেয়ে ওঠে- "আভি আভি হুয়া ইয়েকিন, কি আগ মুঝ্মে হ্যায়- রুবা রু" । তাই ঘর ছাদ জানালা থেকে পাহাড় দেখলে বাঙালি সব পেয়েছির দেশে চলে যায় সেই মূহূর্তে। সেই স্মৃতি থেকে যায় আজীবন। ©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ১০ জুলাই ২০২৫। পুনে। ইমেলের বার্তা আজ অনেক বেশী কৃত্রিম, মেঘ, সেতো প্রাকৃতিক সৃষ্টি মহা আদিম।। ল্যাপটপের উইন্ডোজ ভার্সানের সাথে দেওয়াল জোড়া উন্মুক্ত জানালা টা পাশাপাশি মিশে বসে গেছে। ল্যাপটপের ইমেল কে মেঘরাজ টুক করে উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখে নিলো। ইমেল হেসে বললো- মেঘরাজ, আমার ল্যাপটপের ছুটি আজ। তুমি আমাকে পৌছে দেবে গন্তব্যে?  দাও না ভাই একটু বার্তা টা পৌছে, আমাকে নিয়ে যাবে উড়িয়ে? আমি শুনি আমি উ...