পোস্টগুলি

এই ভাবেও ফিরে আসার আশা জাগায় - এক বিশ্বজয়ের বিনিদ্র রাতে (রাত ২ টো ২০ মিনিট)

ছবি
চক দে ইন্ডিয়ার কোচ এর স্বপ্নপূরণ- ১। রাহুল দ্রাবিড়: ২০০৭ এর এই ওয়েস্ট ইন্ডিজে অধিনায়ক হিসাবে ভারতের ব্যর্থতম নিদর্শন রেখে সরে গিয়েছিলেন। ২০০৩ এ ভাইস ক্যাপ্টেন, ২০২৩ এ ভারতের হেড কোচ হিসাবে ফাইনালে পরাজিত।  সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাটিতেই কোচের শেষ ম্যাচে বিশ্বজয়ের সম্মান ফিরিয়ে দিলো। ২। হর্দিক এর অশ্রু ছলছল চোখ আর চোয়াল টা নির্বাক প্রত্যুত্তর দিলো- সম্পর্ক-পরিবার-অফফর্ম থেকে উত্তরণের নির্বাক উত্তর।। ৩। দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার হে- দিন শেষে কান্ডারী জয় হে।।   রোহিত শর্মার শুরুর দিনে ২০০৭ এ ওয়ার্ল্ড কাপ স্পর্শ থেকে শুরু। তারপর জন-গণ-মনের অধিনায়ক হিসাবে বার বার অন্তিম যুদ্ধে হেরে আজ রক্তাক্ত, তীরে এসে তরী ডোবা। আর আজ-  ২০২৪ এ সেই বিশ্বজয়ের অন্তিম স্পর্শ।। ৪। বৃদ্ধ সিংহ রাজার মতোন শেষ বিশ্ব যুদ্ধে নিজের শক্তি সঞ্চয় করে রেখেছিল। অন্তিম যুদ্ধে দল যখন বিপক্ষের আক্রমণে বিপর্যস্ত সেই সময়ে অফ ফর্ম ভেঙ্গে বেরিয়ে এলো একটাই কথা- "কোনি" ফাইট!- কোহলি ফাইট। এটা ছিল অন্তিম যুদ্ধ। সেরার সেরা হবার যুদ্ধ। যেদিন সব কিছু প্রতিকূল নিজের ফর্ম নিজে...

চোকার্স - সেমি চোকার্স এর ফাইনাল খেলার সুযোগ আসবে যাবে ভবিষ্যতে।এই বিশ্বকাপ একবার হলেও উঠুক মিস্টার দেওয়াল এর নির্ভরশীল হাতে।।

ছবি
সাউথ আফ্রিকা হোলো খানদানি চোকার্স। এরকম না আগে চোকার্স ছিলো, তারপর দুই একটা কাপ জিতলো, আবার চোক করতে শুরু করলো, না! সেরকম একদমই না। বিশুদ্ধ আদর্শ চোকার্স। ৯২ এর সেমিফাইনাল এ সেই যে স্টার্টিং প্রব্লেম বিগ প্রব্লেম বলে শুরু করেছিল সেটা এখনো ঘোচেনি। আর ৯৯ এর সেমিফাইনাল এ ডোনাল্ড এর সেই দৌড় তো নব্বই এর দশক এর ঐতিহাসিক ভুল!! এরপরেও বারং বার সুযোগ এসেছে কিন্তু সেই সেমিফাইনালের সেমিস্টারে হারু হেরে গোল্লা পেয়ে ফিরেছে। ডোনালড, কর্স্তএন, কালিনান, ক্রনিয়ে, ডেভিলিয়ারস, স্টেন, স্মিথ - আরো কতো শতো বিখ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকান দের স্বপ্নভঙ্গ দেখে আপামর বিশ্ববাসী কষ্টের ঢোক গিলেছে! হ্যা-আমি আপনি আমরা সবাই সেই দলে ছিলাম। আজ ওদের বিরূদ্ধে নিজের মন-মাথা দুজনেই জিততে চাইছে আকুল ভাবে! কিন্তু একটু পুরনো স্মৃতিচারণ এ দক্ষিণ আফ্রিকার কথাও মনে পড়ছে। ওদিকে আমরা, ভারতীয় ক্রিকেট দল হলাম হাইব্রিড চোকার্স। "মাঝে মাঝে তব দেখা পাই"- বলে তিনটে বিশ্বকাপ মুঠোবন্দী করেছি। তারপর ২০১১ থেকে বেজে গেলো ভাগ্যের বারোটা-বারো। ফাইনাল-সেমিফাইনাল এ উঠছি মোরা। তারপর কাপ টাকে "তোমাকে ছুঁতে পারিনি প্রভু"- বলে বারংবার...

পোলারাইজড পোল

ছবি
"পোলারাইজড পোল" পশ্চিমবঙ্গে পোলারাইজড ভোট হচ্ছে এটা প্রমাণিত। তাই এই মার্কেট এ দুর্নীতি, চাকরী, বেকারি র থেকেও মূল হয়েছে পোলারাইজড অবস্থান।  এর প্রত্যক্ষ এবং অন্যতম উদাহরণ বহরমপুর কেন্দ্র। এখানে ইউসুফ পঠান ও বিজেপি দুই দিকে পোলারাইজদ ভোট এর তীব্র লড়াই হয়েছে।ফল  অধির এর বলি।এই রেজাল্ট এর পরে বিজেপি বঙ্গে টিকে থাকবে অবশ্যই কিন্তু নির্ভর করছে মুখ মোদি থাকবেন কি না? মোদি সরে গেলে এই পোলারাইজড ভোট এর এক দিকে শুধু মমতা ব্যানার্জি থাকবেন। তখন হয়তো দুর্নীতি, চাকরী, বেকারি ইস্যু গুলো ফিরে আসবে ভোটের মেইন ইস্যুতে যা এইবার প্রধান হয়নি।  মোদি-মমতা একজন কেউ না সরলে বঙ্গে এই ভাবেই ভোট হবে- এবং মোদি নিজেই সেটা অনুধাবন করেছিলেন, তাই দৃঢ় প্রত্যয় এর সাথে বলেছিল বঙ্গে বেস্ট রেজাল্ট হবে। এখন প্রশ্ন উঠছে সেটা কেনো হোলো না? কং সিপিএম ভোট কাটুয়া বলে ? হয়তো সরল ভাবে সংখ্যা তত্ত্ব দেখে সেটাই অতি স্বাভাবিক বলে মনে হলেও হয়তো এর পিছনে একটি অন্য কারণও হয়তো বিদ্যমান। সেটা কি হতে পারে? - বাংলায় কিছু লোক এখনো পোলারাইজড হয়নি। তাদের সমর্থিত দলের আসন 0 অথবা নোটা ।কিন্তু বিচার করে দেখলে তাদের ভোট এর মূ...

ঘরের মধ্যে লাল সবুজ গেরুয়া র যুদ্ধ।।

ছবি
আহা না। ভোটের মরশুমে এ একদমই ভোট যুদ্ধ না, বরং ভোটের মতোন অনেক ক্ষেত্র দেখা যাবে এই ঘরোয়া যুদ্ধে। দেখতে চান নাকি? চলুন তবে ঘুরে ফিরে দেখি শতরঞ্জ কা খিলাড়ি দের মধ্যে "খেলা হবে" এর উত্তেজনা। কাজের শেষে আজ ঘরে ঢুকে দেখি এক যুদ্ধ শুরু হয়েগেছে। অন্যদিন ও হয়।প্র্তিদিন সে অপেক্ষমান থাকে বাবার অথবা কাকাইর সাথে যুদ্ধ করবে বলে।  আজ যুদ্ধ অলরেডি শুরু হয়ে গেছে- এক হেভিওয়েট আজ মঞ্চে বহু যুগ পরে ফিরে এসেছে।  পক্ষে বিপক্ষে কে? এক দিকে লাল-সবুজ জোট কাকা-ভাইপো। আরেক দিকে অপ্রতিরোধ্য দাদাই। এদিকে তার ঠাকুমা - "মি" সাধারণ জনগণ সেজে নিজ নিজ পাঠে মন দিয়েছে।তার মা দিনের শেষে স্কুলের ক্লান্তি ভুলে আয়াশ করছে মোবাইল নিয়ে এক কোণে।  এদিকে ফিকে গেরুয়া জামা গায়ে তার বাবা দেখলো এই যুদ্ধের সময় সরাসরি লাল-সবুজ শিবিরে সে এন্ট্রি পাবে না। ওদিকে বার বার জয়ী হবার ক্ষমতাশালী চেজ চ্যম্পিয়ন দাদাই এর সাথে জোট ও বাধা যাবে না। সুতরাং সে বেছে নিলো  দাদাই র ই পক্ষ- অন্য ভাবে। ক্যামেরা অন করে মিডিয়া রূপে। প্রতি চালে ফুট কেটে এক্সিট পোল এর মতন রায় দান করেই চলল।তারপর যুদ্ধ হোলো বিষম। রাজায় রাজায় যুদ্ধে অনেক উলুখ...

বিচার বুদ্ধি যার-যার, তার তার।।ভোটের কালি তর্জনী ছুয়ে যাক সবার।।

ছবি
না, এইবার আর ছাড় পাবেনা। বছর পাঁচেক একটু এদিক সেদিক করে বেশ কিছুটা সময় পাশ কাটিয়ে পরম আহ্লাদে নির্গত হয়েছে সেই বাণী- "আমার আবার রাজনীতি টা দাদা আসে না" : কেটেছে একেলা বিরহের ও বেলার মতোন! কিন্তু এখন যে শিয়রে শমন। বাজলো ভোটের ঘন্টা- আর এপলিটিক্যাল রা পড়ল বেশ মুশকিলে- উফ্ফ কি জ্বালা, কাকে দেই ভোট এই বেলা? এতদিন সুন্দর ভাবে নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে দেশ রাজনীতি সব থেকে দূরে সরে নিজেকে এপলিটিক্যাল ভাবার সময় শেষ। কিন্তু না, মন আবদার করে উঠল-এই কদিনে কিছু একটা ভেবে নিয়ে শেষ মুহূর্তে কিছু একটা দাড় করিয়ে ফেলি। অন্তত এইবারের মতোন ভোট বৈতরণী টা তো পার করি আগে। প্রতিজ্ঞা করছি সামনের বার পাঁচ বছর ধরে খুঁটিয়ে খুঁজে  ভেবে তারপর না হয় ভোট দেবো।  দেখিতো, ভাবনারে কি হাওয়ায়  মাতালো? কিন্তু আপনি সংশয়ে পড়লেন- এতো অল্প সময়ে কি নিয়ে ভাবব। দেশ নিয়ে ভাবতে গেলে পাঁচ বছর লাগবে, রাজ্য নিয়েও প্রায় তাই। এই দুই সপ্তাহে র শর্ট কোর্সে ঐ বিশাল প্রশ্ন গুলো নিমেষে সিলেবাস থেকে বাদ দেই বরং। তাহলে, রইল বাকি কি? - ওমা কেনো, সে আছে তো। সেই একটাই বিষয়- আমার একান্ত আপন- ব্যক্তিগত প্রায়রিটি। উফ্ফ কি সহজে পেয়ে গেলাম ভো...

"আইপিল এর গুরু-গম্ভীর অমল দত্ত।"

ছবি
সে একজন আছে বটে যে ডাটা চচ্চড়ির মশলা দিয়েও বিরিয়ানি রেঁধে দিতে পারে। হ্যা সত্যিই পারে। বিডিং শেষে বাজার এর থলে থেকে যে মশলা-তরিতরকারী বেরিয়েছিল তা তো অন্য সব দলের সামনে একদম নিরামিষ। কিন্তু সেই মাল-মশলা দিয়ে দক্ষ রাঁধুনির মতন সুব্যঞ্জন তৈরী করে পৌছে দিল প্লে অফে। ওর মতন এতো ভালো ম্যাচ রিডিং অনেকেই করতে পারেনা। কে বলুনতো? ঐ যে ঐ মানুষ টা। যার অন্তরে অন্তরে আছে হৃদয় জুড়ে- দুটো বিশ্বকাপ ফাইনাল এ জ্বলে উঠে ব্যাকে চলে যাওয়া, কেকেআর কে দুই বার চ্যাম্প করা, এই বার প্রায় অপ্রতিরোধ্য ভাবে একটা স্বল্প পরিচিত টিম কে প্লে অফে তুলে দেওয়া- তেমন দামী টিম না হয়েও নামি টিমে পরিণত করার কারিগর! দুর্ভাগ্য, দেশের ক্যাপ্টেনসি তেমন ভাবে পেলো না। সেই সময় ও সুযোগ টা উনি সঠিকভাবে পাননি। হয়ত সম্ভব ও ছিল না- স্বয়ং তিনি- মানে ধোনি; থাকতে ভাবেও নি কেউ গম্ভীর এর কথা।  হ্যা তিনি গৌতম গম্ভীর।  এই যুগে ক্রিকেটের কর্ণ- সব আছে,জয় ও আছে কিন্ত যশ নেই ভাগ্যে। "দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভূলিতেছে মাঝি পথ, ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?" -হ্যা দুই বিশ্বকাপের ফাইনাল এর সেই অপরিহার্য ব্যটার গম্ভীর। জলে-স...

হাতুড়ি অনেক আছে শ্রমিক দেবতার সাথে।একটি ছাড়া, বাকি গুলোর দাম নেই শ্রমিকের হাতে।।

ছবি
হাতুড়ির হাতল টা ছিটকে পড়ল মাটিতে। ভেঙ্গে দুই খন্ড হয়ে গেছে। দিনের নিভু আলোয় ভাঙ্গা হাতুড়ির দিকে তাকিয়ে দুশ্চিন্তার কালো রেখার ভাঁজ টা গাঢ় হোলো কপালে - এখনো বেশ কিছুটা কাজ বাকি, দিনের আলোও প্রায় শেষ হতে চলল। হায় ভগবান! কি করব এখন? আজ কাজ শেষ না করলে তো বাড়িতে চুলাও ধরবে না রাতে। মালিক তো একটা পয়সাও দেবে না অর্ধেক কাজের জন্য। আবার কি একটা অভুক্ত রাত আসতে চলেছে? কিন্তু কি উপায় হবে এখন, হাতুড়িই তো ভেঙ্গে গেলো। পাথর ভাঙ্গব কিভাবে? দুশ্চিন্তায়-হতাশায়-ভয়ে ইষ্ট দেব কে ডাকতে শুরু করলো। সেই কাতর ডাক শুনে বিশ্বকর্মা র ঘুম ভেঙ্গে গেলো। সে তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাবে তাকিয়ে দেখছে কাতর হয়ে আকুল ভাবে তাঁকে ডেকে চলেছে পাথর ভাঙ্গা মানুষ টা। অগত্যা ভক্তের প্রাণের ডাকে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে এলো সমস্যা সমাধানে। সেই অভাগার সামনে আভির্ভূত হয়ে বললো- হমম, তোমার হাতুড়ি ভেঙ্গে গেছে তাই তো? একটা হাতুড়ি দিলেই ঝামেলা মিটে যাবে। কিন্তু তুমিই বলো বদলে তুমি আমাকে কি দেবে?  সেই হতভাগ্য মানুষ টা হঠাৎ সামনে ইষ্ট দেব কে দেখে বিহ্বল। সেই বিহ্বলতা র আবেশেই বললো হে দেব বলুন কি চাই আপনার? আমারতো দেবার তেমন কিছু নেই। আপনি আরাধ্য ,আপনি...