"আইপিল এর গুরু-গম্ভীর অমল দত্ত।"

সে একজন আছে বটে যে ডাটা চচ্চড়ির মশলা দিয়েও বিরিয়ানি রেঁধে দিতে পারে। হ্যা সত্যিই পারে। বিডিং শেষে বাজার এর থলে থেকে যে মশলা-তরিতরকারী বেরিয়েছিল তা তো অন্য সব দলের সামনে একদম নিরামিষ। কিন্তু সেই মাল-মশলা দিয়ে দক্ষ রাঁধুনির মতন সুব্যঞ্জন তৈরী করে পৌছে দিল প্লে অফে। ওর মতন এতো ভালো ম্যাচ রিডিং অনেকেই করতে পারেনা। কে বলুনতো?
ঐ যে ঐ মানুষ টা। যার অন্তরে অন্তরে আছে হৃদয় জুড়ে- দুটো বিশ্বকাপ ফাইনাল এ জ্বলে উঠে ব্যাকে চলে যাওয়া, কেকেআর কে দুই বার চ্যাম্প করা, এই বার প্রায় অপ্রতিরোধ্য ভাবে একটা স্বল্প পরিচিত টিম কে প্লে অফে তুলে দেওয়া- তেমন দামী টিম না হয়েও নামি টিমে পরিণত করার কারিগর! দুর্ভাগ্য, দেশের ক্যাপ্টেনসি তেমন ভাবে পেলো না। সেই সময় ও সুযোগ টা উনি সঠিকভাবে পাননি। হয়ত সম্ভব ও ছিল না- স্বয়ং তিনি- মানে ধোনি; থাকতে ভাবেও নি কেউ গম্ভীর এর কথা।  হ্যা তিনি গৌতম গম্ভীর। 
এই যুগে ক্রিকেটের কর্ণ- সব আছে,জয় ও আছে কিন্ত যশ নেই ভাগ্যে।
"দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভূলিতেছে মাঝি পথ, ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?" -হ্যা দুই বিশ্বকাপের ফাইনাল এর সেই অপরিহার্য ব্যটার গম্ভীর। জলে-স্থলে-ফাইনালে যখনই ভারত বিপদে পড়বে গম্ভীর কে স্মরণ করবে; এখন ছায়া প্রকাশনীর বিজ্ঞাপনের মতোন মনে হয় - ইশশ, ২০২৩ এর ফাইনালে আমাদের দলে যদি একটা গম্ভীর থাকতো!  গম্ভীর বারং বার প্রমাণ করেছে - আমার মন বাধবি, মুখ বাধবি, ব্যাট বাধবি কেমনে? তাই সেই জীবনদায়ী ৯৭ রথচক্র গেঁথে যায় উচ্ছ্বাসের ৯১ এর শেষ ছয়ে জয়ের মাটিতে। হতাশ চোখ তাকিয়ে দেখে অঙ্কের বাস্তবের ৯৭ অনেক অনেক কম ঝলমলে ৯১ এর কাছে। 
তবুও ফিনিক্স ফিরে আসে ; কখনো সে কেকেআর এর ক্যাপ্টেন, কখনো সে কেকেআর এর মেন্টর কোচ- এবং এসেই প্রমাণ করে সে ক্রিকেট টা বেশ ভালো বোঝে। মনের গভীরে গম্ভীর স্বরে উচ্চারিত হয়-
জয়লোভে যশোলোভে রাজ্যলোভে, অয়ি,
বীরের সদ্‌গতি হতে ভ্রষ্ট নাহি হই।

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।। ১২/০৫/২০২৪
ছবিসূত্র- ইন্টারনেট 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"