তবুও কৃষ্ণ কে আসতে হয়- একটা কুরুক্ষেত্রের জন্য!
তিনি যখন জন্ম গ্রহণ করছেন তখন সে রাতে জন্মানো আরেক শিশু কন্যা সেই মুহূর্তেই জীবনের শেষ প্রহর গুণছে। একজন বাঁচবে একজন মরবে। আহা শুধু একজন? একটু ভেবে দেখুন - নারী পুরুষ এর দ্বন্দ্ব সরিয়ে সেখানে প্রকাশ পাবে এক অন্য রূপ! আগে ছয় পর্যায়ে ছয় জন চলে গেছে, তারাও পুরুষ ছিল; সেই দিন আরেক নারীও চলে গেল- আসলে সাত টা প্রাণ চলে গেল এক অন্যায় অত্যাচারীর হাতে। সেই অত্যাচারী সাজাও পেলো, তিনি বড়ো হয়ে সেই অত্যাচারের শিকড় উপড়ে দিলেন, তারপর? না গল্প শেষ নয়- আরেকটু চলুক গল্প?
এবার ফিরে দেখাযাক সেই মানুষ টার সেই জন্মে সব থেকে বড়ো রাজনৈতিক কূটনীতি লড়াই যার বিরুদ্ধে বিপরীতে লড়েছিল, সেই লোকটার বৃত্তান্তে- শকুনি। সে ছিল পরিবারের সবার ছোট ভাই, তার বোন কে জোর করে এক জন্মান্ধের সাথে বিয়ে দেওয়া হোলো, প্রতিবাদ করায় পিতা সহ বাকি নিরানব্বই ভাই কে কারাগারে নিক্ষেপ করা হোলো - এক মানুষ সমান খাবার দেওয়া হোলো একশ এক জন কে, পিতা সহ বাকি নিরানব্বই জন সেই খাদ্য ছোট ভাইকে খাইয়ে নিজেরা শেষ হয়ে গেল, ছোট ভাই পরিবারে ঘটে যাওয়া একের পর এক অন্যায়ের প্রতিবাদে কুরু বংশ ধ্বংস করবে শপথ গ্রহণ করলো। আচ্ছা তার বিরুদ্ধে এই অন্যায় টা ঘটিয়েছে কে? সেও কিন্তু ভীষণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এক মানুষ যে জন্মের আগে একে একে সাত ভাই কে হারিয়েছে মায়ের নৃসংশ আচরণে!
কি অদ্ভুৎ তাই না? মহাভারতে তিন প্রধান চরিত্রে ঘুরে ফিরে দেখলে দেখা যাচ্ছে নিজের ভাই বোন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, পরিবার হারিয়েছে অন্যায় অত্যাচারের মাধ্যমে। এখন প্রশ্ন তিনজন কি এক পথ বেছে নিয়েছে, প্রতিবাদে?
২। প্রথমে আসি দ্বিতীয় পুরুষ ক্ষেত্রে- এক জন প্রতিশোধের আগুনে আরো বড়ো অন্যায় ঘটিয়েছে, সমূলে বংশের সবার ধ্বংস ঘটিয়েছে - ভেবেও দেখেনি সবাই ভুল করেনি , ভুল ছিল শুধু একজনের। এক জনের ভুলের হিসেব নিরপরাধ দের শেষ করে নিয়েছে শকুনি।
৩। তৃতীয় পুরুষ ক্ষেত্র- একজন অন্যায় দেখেছে, প্রতিবাদ করেনি - সে মা য়ের অন্যায় হোক কিংবা সিংহাসনের, কিংবা নারী সম্মান অবমাননার ক্ষেত্রে। নিশ্চুপ কাঁটার দায়িত্ব পালন করেছে শুধু, শ্রদ্ধা করেছে, প্রতিবাদ করেনি ভীষ্ম।
১। আর আরেকজন ?উত্তম পুরুষ- যখন দরকার যতটুকু দরকার পরিমিত বোধে করেছে। যাকে দরকার মেরেছে, বাকি ক্ষেত্রে পালন এর ভূমিকা নিয়েছে। এক জনের ভুল বংশের ভুল হিসেবে না দেখে ব্যক্তি কে শাস্তি দিয়েছে- সে কংস, শিশুপাল,জরাসন্ধ যেই হোক। সেই মানুষটাই আবার যখন দেখেছে সমাজ নীরবে এক নারীর উপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ে কেউ প্রতিবাদ পর্যন্ত করেনি তখন সবাই কে দোষী সাব্যস্ত করে কুরুক্ষেত্রে ধ্বংসে করেছে পচে যাওয়া সমাজ কে।
পুনশ্চ- আসলে যুগে যুগে শকুনি, ভীষ্ম আসে , তাদের জীবনে পরিবারে আঘাত নেমে আসে। কেউ একের দোষ কে সম্পূর্ণ জাতের গোষ্ঠীর দোষ হিসেবে দেখে, আবার কেউ অন্যায় হচ্ছে দেখেও আনুগত্য শ্রদ্ধার ভারে চুপ থাকে। কৃষ্ণ আসে কালে ভদ্রে, কোনো এক অষ্টমী নিশি ভাদ্রে । আসে, সমাজে পরিবর্তন বিপ্লবের বার্তা নিয়ে। আসলে, উপরের দুই জন যদি দায়িত্ব প্রতিহিংসায় রাশ লাগিয়ে দোষের বিধানে দশের কথা ভাবতো কৃষ্ণ কে একটা কুরুক্ষেত্র করতে আসতে হোতো না, হয়তো! সে এসে মানুষকে শুধু প্রেম শেখাত, বাঁশী শেখাত আর বাঁচতে প্রতিবাদ করতে শেখাত। তবুও কৃষ্ণ কে আসতে হয়- একটা কুরুক্ষেত্রের জন্য!
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন