SIR তথ্যপ্রযুক্তি আর কিছু MDM, মিসিং মাস্টার ডেটা ম্যানেজমেন্ট-
SIR তথ্যপ্রযুক্তি আর কিছু MDM, মিসিং মাস্টার ডেটা ম্যানেজমেন্ট-
শোনা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন এইবার নাম ঝাড়াই বাছাই করেছে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বশেষ এবং আধুনিকতম AI এর মাধ্যমে । বেশ ভালো ব্যপার, কিন্তু যেভাবে একের পর এক নাম, বানান, মধ্য নাম ও তথ্য বিচ্যুতির কারণে সমন পাঠানো হচ্ছে তখন কিছু বেয়াড়া প্রশ্ন মনের মধ্যে উঁকিঝুঁকি দিলো। আহা না ভোট রাজনীতি নিয়ে নয়, অতি সাধারণ বিষয়- এই ধরুন নাম-ধাম-তথ্য নিয়েই বলছি। (আসলে এই করে কুলিয়েই তো পেটের ভাত জোগাড় করছি- তথ্য পরিশোধন , সংযুক্তিকরণ ও বিসর্জন এটাই আমার দীর্ঘ ষোলো বছরের কর্ম ক্ষেত্র তথ্য বিষয়ে) - ও হ্যা বাংলায় তো আমরা এই গুলো বলি না কর্মক্ষেত্রে, সেখানে ডেটা কোয়ালিটি, মাস্টার ডেটা ম্যানেজমেন্ট কিংবা ডেটা লিঙ্ক আনলিঙ্ক, এরকম কিছু নামেই কাজগুলো সারা হয়।
সোজা ভাবে বলতে গেলে - ধরুন,
১। আপনি কোথাও কিছু সার্চ করছেন বা নিজের তথ্য দিচ্ছেন। সেখানে নিজের নাম এর বদলে দুটি অদ্ভুৎ ক্যারেকটার দিয়ে দিলেন। উদাহরণ স্বরূপ আমি- "অভ্র জ্যোতি ঘোষ" এর বদলে শুধু দিলাম "@ভ্র ঘোষ" । "@" একটি বিশেষ চিহ্ন দিলাম ; নিজের "অভ্র" নাম থেকে "অ" কে লুকিয়ে রেখে। ঐ আর কি আমি যদি দুষ্টুমি ক'রে , চাঁপার গাছে চাঁপা হয়ে ফুটি, -- তখন কি চিনতে আমায় পারো? না , সত্যি চেনা সম্ভব নয় সোজা ভাবে। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটাই খুব সহজে করা সম্ভবপর আমার সাথে যোগাযোগ না করেই - "@ভ্র ঘোষ" থেকে নাম টা সঠিক ভাবে "অভ্র জ্যোতি ঘোষে" নিয়ে আসার জন্যেই ডেটা ম্যানেজমেন্ট ইউজ করা হয়। কিভাবে?
২। ধরুন আপনার পাঁচটি ভিন্ন সরকারি আইডি আছে। পাসপোর্ট, আধার, প্যান, মাধ্যমিক এর এডমিট, গাড়ির লাইসেন্স ইত্যাদি। এইবার সব আই ডি তে তো আপনার বিষয়ে সম্পূর্ণ তথ্য থাকবে না, যেমন প্যান এ ঠিকানা যেমন নেই তেমন আবার অন্য কার্ড এ পাসপোর্ট এ ফোন নম্বর হয়তো নেই। এখন এর মধ্যে ধরুন ভোটার আইডি তে আবার কোথাও নামের বানান ভুল। কিন্তু পাঁচটি কার্ড কে একত্রিত করলে সেখান থেকে প্রতিটি মানুষের সঠিক তথ্য সমন্বয় সহজেই সম্ভবপর।
৩। এখন এই পাঁচ ছয়টি আইডি গুলি থেকে সব পরিশুদ্ধ তথ্য গুলো তুলে নিয়ে আমার আপনার একটিই মাত্র ডেটা তৈরি হবে, সেখানে আমি যদি ভুল করে কোথাও "@ভ্র ঘোষ" লিখেও ফেলি ডেটা ম্যানেজমেন্ট সেটা অটোমেটিক পরিবর্তন করে নিজের থেকেই লিঙ্ক করে দেবে- "অভ্র জ্যোতি ঘোষ" করে দেবে-
৪। এরপর রণে বনে জলে জঙ্গলে যেখানেই আপনার নাম ধাম খোঁজা হোক সেই সঠিক নির্ভূল তথ্য পাওয়া যাবে।
আসলে এটা কিন্তু আধুনিক ai না, এবং এই ডেটা ম্যানেজমেন্ট প্রায় ১৫-১৬ বছর বা তারও আগে থেকেই চলছে।
তাই,যখন নির্বাচন কমিশন বলছে ai ব্যবহার করছে; কিন্তু নামের সাধারণ বানান মিসিং কেও পরিশোধন করতে পারছে না দেখে মনে হচ্ছে ai এর থেকে বহু যোজন দূরে কমিশন এর কর্ম পদ্ধতি হয়তো আটকে আছে! সেটা না হলে, এতো এতো ম্যানুয়াল হিয়ারিং এর দরকার হোতো না! এরকম ম্যানুয়াল লোক ডেকে ডেকে তথ্য পরিশোধন কে বলা হয় ডেটা স্টুয়ার্ডশিপ এক্টিভিটি, এবং মাস্টার ডেটা ম্যানেজমেন্ট এক সময়ে মার্কেটে এই জন্যেই শুরু হয়েছিল যাতে ম্যানুয়াল কাজ গুলো অনেকটাই কমে যায়। আর আধুনিক ai তার থেকেও অনেক এগিয়ে, সেখানে মানবিক হস্তক্ষেপ মিনিমাম এর থেকেও কম হবে।
তাই যখন নির্বাচন কমিশন বলছে ai দিয়ে এই সব নাম ঝাড়াই করছে সত্যি প্রশ্ন জাগে মনে- কমিশন ২০০২ এর লিস্ট এর সাথে কি ২০০২ এর টেকনলজি তেই আজও আটকে আছে?
পুনশ্চ- থ্রি ইডিয়টস এর একটা কথা মনে পড়ছে, র্যঞ্চো ভাইরাস কে বলছে "স্যর সাইন্স তো আপনি আমাদের থেকে অনেক অনেক বেশী জানেন, ভালো জানেন; আমি শুধু বলছিলাম সেই সাইন্স টা কিভাবে পড়াতে শেখাতে হোতো"।- হয়তো মনে হচ্ছে একটা মাস্টার ডেটা ম্যানেজমেন্ট দরকার ছিলো এতো বড়ো sir এর আগে, হয়তো। তাহলে এরকম ল্যাজেগোবরে হোতো না কিংবা এতো লোক কে শুধু বানান ভুল এর জন্য কিংবা শর্ট নেম, মধ্য নেম এর জন্য ডাকতে হোতো না। এমনকি হায়ারর্কি ডেটা ম্যানেজমেন্ট করলে এক পরিবারে কতো সদস্য, কে কিভাবে লিঙ্ক সেগুলোও বের করা যেত অটোমেটিক ভাবেই, এতো ম্যানুয়াল কাজের দরকার হোতো না।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ । ২০ জানুয়ারি ২০২৬
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন