লোহার বাসর ঘর রিকোয়েরমেন্ট ডেলিভারি আর বাগ
শিব ঠাকুর বিশ্বকর্মা কে রেফার করল চাঁদ সওদাগর এর কাছে। বিশ্বকর্মা প্রজেক্ট সাইন করে বললো- হ্যাঁ স্যার যা ঘর বানিয়ে দেব কিচ্ছু ঢুকবে না। চাঁদ বললো আহা , না না এমন ভাবে বানাও যাতে আমার পুত্র আর পুত্রবধূ অন্তত ঢুকতে পারে। বিশ্বকর্মা মাথা চুলকে বুঝল রিকোয়ারমেন্ট- মানুষ ঢুকবে বাকি কিছু “sir” এ বাদ । ব্যাস শুরু হয়ে গেল, ঢাই ঢাই লোহার ঘর রেডি হচ্ছে। বিশ্বকর্মার ত্রুটিবিহীন কোড দেখে মা মনসা চাপে পড়ে গেছে ।সোজা মনসা কি বাত শুরু করল রবিবার সকালে -ভাই বিশু, পুরো কোডে একটা বাগ না রাখলে তোকে দুইবেলা এনাকন্ডা আর অজগর দিয়ে মালিশ করব কিন্তু। বিশ্বকর্মা চাপে পড়ে গেছে, দুটো দেশী বিদেশী সাপ যদি দলাই মালাই করে সেটা ভীম বলরাম সহ্য করে নেবে, কিন্তু ওর পক্ষে সম্ভবপর নয় । মনসা র কথা টা কাটাবার চেষ্টা করলো।- কিন্তু জেনেশুনে সিকিউরিটি ব্রেক করানো কি ঠিক হবে ম্যাডাম, এথিকস এর ব্যাপার! সেই শুনে মা মনসা হো হো করে হেসে বললো- তোর আবার এথিক্স? বেশী বললে জগন্নাথ ফাইল টা নারদ কে ওপেন করতে বলবো? (দেব মূর্তি বানাতে দিয়েছে , কিন্তু হঠাত স্টেটাস কলে ভিডিও অন করায় কাজ অর্ধেক করে জগন্নাথ এর নামে ফুল অদৃশ্য) এই কথা উঠলে কেউ আর নতুন প্রজেক্ট দেবে না!
বিশ্বকর্মা চমকে উঠে বলে উঠল- আচ্ছা আচ্ছা, একটা খুব ছোট ছিদ্র রাখবো। uat টেস্ট এ ধরা পড়বে না, হালকা রং মেরে দেব। ফাইন আর্টস এর ব্যাপার তো সাদা গেরুয়া মিশিয়ে কিছু একটা দেবো , সবাই খুশী হয়ে যাবে।
মনসা হেসে বললো- সোনা ছেলে। এরপরে সেই ছিদ্র টা মা মনসা কালনাগিনী কে দেখিয়ে বললো যা সাবাড় করে দে! কিন্তু দেখিস তোকে আঘাত না করলে মারবি না কিন্তু। এই শুনে কালনাগিনী বেশ উষ্মা নিয়ে বলে উঠল পাইথন ফ্যামিলি বলে যখন তখন যেখানে সেখানে ইফ এলস কেস কন্ডিশন লাগিয়ে দেবেন? যাচ্ছি খুন করতে সেখানে আবার ওয়েট করতে হবে, কি না মার খাবো সেই জন্যে। এরকম করলে পৃথিবীতে ভবিষ্যতে গান্ধী লিংকন কেনেডি কেউ মরবে? মা মনসা হেসে বললো- আহা চটিস না বাছা, কেস টা এমন ভাবে সাজাতে হচ্ছে যাতে সুপ্রিম বিচারে তুই বেকসুর খালাস হয়ে যাস।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ১৮ আগস্ট ২০২৬
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন