বন্ধুত্ব আর সিস্টেম হিডেন ফাইল সিডি রাইট
আমরা ফ্রেন্ডশিপ ডে পালন করতাম কি না মনে নেই, তবে হ্যা পরীক্ষার আগে দল বেঁধে পড়তাম, মানে সারা সেম এর পড়া স্রেফ ১৫ দিনে তুলতে হবে। এবার এতো চাপের মধ্যে মন অন্যদিকে যাতে ডাইভার্ট না হয় তাই কম্পিউটর (ওটা ডেকস্টপ উইন্ডজ 2000 সিরিজ এর প্রাথমিক বিদ্যালয়) এর সিস্টেম ফোল্ডার এর দশ টা সাগর নদী পেরিয়ে তৈরী লুকানো ফোল্ডার টাও পরীক্ষার আগে আদর করে বলতো, আহা আমি কি চলে যাচ্ছি? আপাতত পড় পাস কর তার পর নীল সাদা অনেক রঙ্গীন ছবি দেখতে পাবি। যাই হোক, এইভাবে কোনো এক সেমে পরীক্ষা শেষ হোলো। ক্লান্ত শ্রান্ত এক বন্ধু, হতাশ জীবনে আশার আলো জ্বালো বলে সে যুগের মহার্ঘ্য মোশারবিয়ার এর একটি cd দিয়ে বললো- সিস্টেম ফোল্ডার এ ধন সম্পদ যা আছে পাচার করো জলদি! যাই হোক, সেই বন্ধুকে রাইট করে দিলাম।
এরপর পরীক্ষা শেষের সেদিন গভীর রাত, ২ ! রিলায়েন্স মোবাইল চেচিয়ে উঠেছে, ফোন ধরেছি। ওপার থেকে ভেসে আসে কি মধুর সব বাণী, পুরো ভালোবাসা আহা ভাষা কি খাসা!! আমি কিন্তু সেই সব ভাষা শুনেও নিবিষ্ট চিত্তে স্থিত বুদ্ধ- শুধু মুচকি হেসে উত্তর দিলাম দেখ কেমন লাগে! সে ঐ শুনে আরো রেগে বলতে থাকল- সেম শেষ, তোকে নতুন সিডি দিলাম ভালো সিস্টেম হিডেন ফাইল দিবি, মন প্রাণ ধরে ভরে দেখব!!! এ সব কি দিয়েছিস??? কতগুলো sql ফাইল আর একটা c ক্ম্পৈলর!!! হতভাগা, বরাহ....
এবার ধীর স্বরে ব্ল্লাম -লাস্ট তিনমাস যখন আমি সিডি দিয়েছিলাম সেই একটা সিডিও রাইট হয়ে ফেরত পাইনি, যা একটা দিয়েছিলি সেটা শতছিদ্র , কম্পুটার টাই বসে যায় ওটা চালালে। আর তখন বলতিস পড়াশুনা কর, তাই তোকে পড়ার জিনিষ ই দিয়েছি। আজকে এই এক্সম শেষ রাতে সেম বলছি -পড়তে বস। উদম খিস্তি দিয়ে ফোন রেখে দিল,
তারপর?
না বন্ধুত্ব শেষ হয়নি। বরং পরদিন ভোর সকালে আরেকটা সিডি নিয়ে হাজির আর এবার বসে থেকে সঠিক হিডেন ফাইল রাইট করিয়ে নিয়ে গেল। ও হ্যা আমার দুটো সিডিও রাইট করে এনেছিল ৩ মাস পরে।
পুনশ্চ- এই এরকম টুক টাক গল্প গুলাই জীবনে স্মৃতির ওয়েসিস হয়ে আছে।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২ আগস্ট ২০২৬
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন