পোস্টগুলি

জানুয়ারি, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বইমেলা ২০২৪ সংগ্রহ -ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই! ছােট সে তরীআমারি সােনার ধানে গিয়েছে ভরি

ছবি
বই মেলার আলো নিভে আসছে, একটু একটু করে নিষ্প্রভ হয়ে আসা শেষ দশ বারো দিনের স্মৃতির ধুলো মেখে বাড়ির পথ ধরল শহর। কিছুক্ষণ গিল্ড অফিসের দিকে চেয়ে সোনাই বলে উঠল  -সমবৎসরের ন্যায় বই এর উৎসব সম্পন্ন হোলো তাহলে, চল ফেরা যাক এইবার। দাদার কথা শুনে টুবলুর অন্তর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। তারপর মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে বলল- হ্যা ফেরা যাক। চল,বেরোই এবার। দুজনেই চুপচাপ মেলা প্রাঙ্গণ থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে, শেষ বেলায় বই এর স্টল গুলো নিজেদের লাভ ক্ষতির আলোকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে। কিছুদূর এগিয়ে সোনাই ভাই কে একটু বিষণ্ণ দেখে কথা বলতে চাইল। "এইবার কিন্তু বেশ ভালোই বই কেনা হয়েছে বুঝলি, শেষ করতে পারবি তো?" - টুবলু দাদার প্রশ্ন শুনে ঝুঁকে থাকা মাথা টা তুলে মুখে একগাল হাসির আভা ছিটিয়ে দিয়ে বলল- হ্যা সে সবই পড়া হয়ে যাবে। সব বই তো শুধু একা আমি পড়ব না। তুই পড়বি, বাড়িতে মা-বাবা-বৌদি পড়বে , ছোটুও তো পড়তে পারছে এখন। সবাই ঠিক ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে পেরিয়ে যাব সেই বই এর পাহাড়, শেষ হয়ে যাবে। এই দশ দিনে আমার নিজেরই তো প্রায় সাত টা বই-গল্প-উপন্যাস শেষ হয়ে গেলো। তুইও তো শুরু করেছিস? এই কথা শুনে ...

"পাঠপ্রতিক্রিয়া বইমেলা সিরিজ: ২০২৪" : দ্বিতীয় পর্ব- [ রবে নীরবে ??, রক্ত গোলাপ]

ছবি
প্রথম পর্বের পাঠপ্রতিক্রিয়া ছিল হাস্যরস-নতুন সৃষ্টি- মানবিক আসুরিক কাহিনীর প্রেক্ষিতে। এইবার আবার কিছু নতুন লেখা-নতুন লেখকের সৃষ্টি সন্ধানে সচেষ্ট হলাম। যা বুঝলাম যেভাবে কল্পনায় ভাবলাম একদম সেই মননেই লেখার চেষ্টা করলাম। এইবারের বিষয় গুলোত একান্ত আপন কিছু ভালো লাগার যায়গা। প্রেম এর লেন্সে ৯০-২০০০ প্রজন্মের কোচিং এর সময় টা ঘুরে দেখা;  পরের পাঠপ্রতিক্রিয়া টি ৭০ এর দশকে রাজনীতির মোড়কে নকশাল বারুদে বেড়ে ওঠা ভালোবাসা এক অন্য মোড়কে। চতুর্থ পাঠপ্রতিক্রিয়া:  সৃষ্টি : রবে নীরবে ?? স্রষ্টা: প্রতীক দে সরকার।  প্রকাশক : ইতিকথা পাবলিকেশন।   অত্যন্ত কাজের ভারে ন্যুব্জ হয়ে আপনি মনে মনে ভাবছেন ইশ্শ কেনো বড়ো হয়ে গেলাম? ছোট্ট বেলার সেই খেলার দিনে যদি ফিরতে পারতাম তাহলে কাজের দুনিয়া থেকে এক্ষুণি ভোকাট্টা হয়ে উড়ে মাঠে পড়ে যেতাম অথবা গাছের ডালে ঝুলতাম। কিন্তু আপনার তো ইচ্ছে পূরণবর প্রাপ্তি নেই, সুতরাং আপনি টেবিল থেকে আর মাঠে ফিরতে পারলেন না। অগত্যা চোখ রাখলেন "উইন্ডোজে"। আরে না, মশাই কাজ করতে করতে  উইন্ডোজ বললে ল্যাপটপএর স্ক্রিন টাই যে কেনো ভাবেন-বোঝেন কে জানে? আচ্ছা, ঐ যে ঐ দিক...

"পাঠপ্রতিক্রিয়া বইমেলা সিরিজ: ২০২৪" : প্রথম পর্ব- [ লসাগু গসাগু, ক্যালাইডোস্কোপ,আসুরী]

ছবি
সারা বছরের রসদ সংগ্রহের মধ্যেই নতুন বই পড়া শুরু হলো। আমার একটা অত্ভুৎ বাতিক বা স্বভাব হোলো বইমেলায় সংগৃহীত নব্য লেখক দের সৃষ্টি একটু আগে পড়ে ফেলা। সানন্দে বলছি: এতো বছরে একবারও আমার সিদ্ধান্তের জন্য হা-হুতাশ করিনি । নতুন মানুষ-নতুন লেখা-নতুন স্রষ্টার সৃষ্টি আমাকে প্রতিবছর সেই বিশ্বাস যোগায়। আবার নতুন এর কাছে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানায়- নতুন ভাবে নব্য জ্ঞানের সন্ধানে। যাই হোক একে একে তিনটি বই এর নাম উল্লেখ করব, না মানে একটু আধটু চেষ্টা করব ক্ষুদ্র স্পর্ধায়।সংক্ষেপে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি রহস্য স্পর্শ করার প্রচেষ্টা বলা যেতে পারে।একে একে তিনটি বই শেষ করলাম।প্রতিটিই প্রায় একলপ্তে, একটি হাসে- একটি শেখায়- আরেকটি সে মন কে ভাবায়- চলুন শুরু করি তাহলে......... প্রথম পাঠপ্রতিক্রিয়া:  সৃষ্টি : লসাগু গসাগু  স্রষ্টা: আর যে নীলাঞ্জন  প্রকাশক : কচি পাতা প্রকাশন। না  নিষেধ করছি, একদম রাতে-রণে-বনে-কালী পুজোর দিন এই বইটা পড়বেন না! কেনো? জিজ্ঞেস করছেন ভালো কথা, আমার উত্তর দেবার একদম দম নেই! কেনো বলুন তো? আচ্ছা লিখেই ফেলি তাহলে- ধরুন আপনি বনে লুকিয়ে আছেন হিংস্র পশুর ভ...

"নেতার বাক্যবাণে আক্রান্ত বিভীষণ - বিভীষণ পেনে?"

ছবি
পরীক্ষা হলে এরকম অদ্ভুত প্রশ্ন কখনো ফেস করেছেন? মানে হতেও তো পারে এরকম বিস্ময়কর প্রশ্ন হয়ত অনেকেই পেয়েছেন। আমি কিন্তু প্রথম বার ফেস করলাম। তবে প্রথমেই প্রশ্ন পত্র দেখে মনে হলো তীব্র প্রতিবাদের ভাষায় লঙ্কাকান্ড ঘটাই। আহা না রামায়ণ না, লঙ্কা কাণ্ডই! এইতো মানে-মনে পক্ষে-বিপক্ষে ভেবে নিলেন আমি রামচন্দ্র কে এইবার আলোচনায় নিয়ে আসব! না, একদমই না। ৫০০ বছর ধরে ওনাকে নিয়ে অনেক টানাটানি হয়েছে, থাকুন উনি এখন একটু বিশ্রাম নিন। আমি বরং লঙ্কার প্রসঙ্গ ধরেই এগিয়ে যাই। আসলে প্রশ্নটাও ছিল আংশিক লঙ্কা কেন্দ্রিক ঝাঁঝালো, কিন্তু মনন টা বেশ আধুনিক। কি, জানতে ইচ্ছে করছে নাকি প্রশ্ন টা? আচ্ছা বলেই ফেলি বরং সেই প্রশ্ন এবং তার পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত ঘটনা।  পরীক্ষা চলছে একটি আবদ্ধ ঘরে- সেখানে একটি মাত্র দরজা; তাও আবার বাইরে থেকে বন্ধ। শুধু যাওয়া-আসার অনুমতি আছে। বাইরে দেখার নিয়ম নেই, তাই জানালাও নেই সেই কক্ষে। সেই আবদ্ধ কক্ষে আরো আশ্চর্যজনক ব্যপার হলো যে সেখানে আমি একাই পরীক্ষার্থী। শুধু আমার জন্য আলাদা একটা ঘর দিলো কেন? নিজেকে দুষ্টু বাঁদর ভেবে "ভরা ভাদর শূন্য মন্দির মোর" একরাশ  দুশ্চিন্তা কে পাথে...

বিরাট নাটকের রাত, কেয়া বাত! কেয়া বাত!

ছবি
হঠাৎ অন্ধ্কার, তার মধ্যে ফুটে উঠছে কিছু ফুটনোট ;কিছু ছবি: সেই ছবিটাই ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে- শহুরে মননে বড় হয়ে ওঠা মন হঠাৎ ইট কাঠ পাথরের খাঁচা থেকে মেঠো স্পর্শে পৌছে যাচ্ছে! যে  সমস্ত সমস্যা শহরের দৃষ্টিভঙ্গিতে মনে হোতো আরে এর তো সহজ-সরল সমাধান বিদ্যমান সেই গুলোর মুখোমুখি হয়ে অনুধাবন করছি এতো অত্যন্ত জটিল-কুটিল প্রেক্ষাপট! দিল্লী তো কোন ছাড়, শহর কলকাতাও সেখানে এক অলীক জ্গৎ। এই সব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ দেখি গর্জে উঠল কানাইলালের বন্দুক! বুলেটের ছোবলে ছিটকে পড়ল শরীর টা-মনের মধ্যে গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙা মাটির প্রলেপ সরিয়ে অগ্নিযুগের রক্তরাঙা  আগুন জ্বলে উঠল!  না , এই কানাইলাল কে আমরা হয়ত চিনি না , মনেও রাখি না । তাই আমি আপনি প্রথমে ভাবব: আরে, এ হবে কেউ একজন পুলিশ অথবা সমাজ বিরোধি যাদের লড়াই অথবা কোনো খুন জখমে বন্দুক গর্জে ওঠে! না হলে হবে কোনো এক কেচ্ছা কেলেঙ্কারি দুর্নীতি মণ্ডিত রাজনৈতিক হত্যার ব্যপার- হবে হয়তো বদলার ব্যপার! হ্যা ক্ষেত্র টি রাজনৈতিক ই ছিল- পরে অনুধাবন করলাম, এটি একটি রাজনৈতিক খুন, তবে অগ্নিযুগের আক্রমণ; না ভুল বলা হোলো! নিজেকে রক্ষায় প্রতিআক্রমণ- প্রতিরক্ষা! অত্যাচারী শাস...

হর্ষে মেতে বছর পরে হাজির হলেম হট্টমেলার দেশে।

ছবি
ছুটির সকালে শহরের শীতলতম দিনেও লেপ-কম্বল ছাড়বেন কি ছাড়বেন না এই দোনোমনা কাটিয়ে আপনি কিছুতেই যখন অনন্ত শয্যা ত্যাগ করতে পারছেন না হঠাৎ ই টুং করে আপনার মনের কোণে উদয় হলো : "আরে আজ অফিস বন্ধু রা তো আমার জন্য অপেক্ষমান - বেঁধে দিয়েছে সময় ধরে গন্তব্যে উপস্থিতির নিদান"। ব্যস,সাথেসাথে আপনি পড়িমড়ি করে উঠে পড়লেন "ওঠো গো ভারত লক্ষ্মী" বলে- ছাড়ো ছাড়ো শয্যা। উঠেই ব্যস্ততার সাথে ছুটোছুটিও শুরু হোলো আপনার। যেন-তেন প্রকারেণ অফিস বন্ধু দের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে পৌছতেই হবে ! কিন্তু যদি"সাধিতে মনের সাধ,ঘটে যদি পরমাদ": আপনি এইবার একটু চিন্তা গ্র্স্ত হলেন- যদি সময়ে পৌছতে না পারেন সেক্ষেত্রে লাল কালি কিন্তু সদা জাগ্রত চির উদ্যত - দেরীতে পৌছলে আপনি আজ  হয়ত কিছু হারাবেন! এরপরেই আপনি এইবার নিজেকে নিজে এক প্রচন্ড ধাক্কা দিলেন : না আজ, এসব নিয়ে ভাবনার কোনো অবকাশ নেই!  আজ কোনো হার নয়, আজ শুধুই জেতার দিন। "হারকে জিত্নে ওয়ালো কো বাজিগর কহেতে হ্যায়"- আত্মবিশ্বাসে ভরপুর মনের হর্ষে কয়েক লক্ষ হর্সের পাওয়ারে চার্জড হয়ে আপনি এইবার সেজেগুজে সপরিবারায়-সবাহনায় বেড়িয়ে পড়লেন।    আচ্ছ...

বিএ নির্বাসিত মাস্টার। আদর্শ অনুপ্রেরণা হোক সবার ।।

ছবি
আচ্ছা টুয়েলভথ ফেল এর শেষের দিকে সেই রোমহর্ষক ইন্টারভিউ এর কথা গুলো মনে পড়ছে? "যদি আমি সিলেক্ট না হই তাহলে গ্রামে ফিরে শিক্ষক হবো, দেশ কে শেখাবো" : এরপরের গল্পটা  আমরা জানি কি হয়েছে। কিন্তু যদি বলি সত্যি এরকম একটি ঘটনা আজ থেকে প্রায় একশ দশ বছর আগে ঘটেছিল। না সেই মানুষটি কিন্তু আই পি এস- পুলিশ আধিকারিক কিছুই হননি বা কোনো ইন্টারভিউ দিতেও বসেননি- বরং একটি পরীক্ষা দিতে গিয়ে নির্বাসিত হয়েছিলেন। তারপর?  হ্যা, এক বাঙালী ছাপোষা মাস্টার এর বেশে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন- সর্বকালের অনুপ্রেরণায় ;শিক্ষক সমাজে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছিলেন! বুঝতে পারছেন না কে? দেখবেন নাকি অতীত ঘেঁটে?চলুন তাহলে একটু খুঁজেই দেখি: যদি কিছু ছাই চাপা আগুন এর সন্ধান পাওয়া যায় নাকি? ব্যপারটা ঘটেছিল ১৯১৫ সালে - একজন কৃতী ছাত্র তৃতীয় বর্ষের বিএ পরীক্ষায় ভূলবশত পরীক্ষা চলাকালীন বইটি নিজের টেবিলে রেখেই লিখছিলেন-না তিনি কিন্তু খুলেও দেখেননি বইটি বা সেরকম ইচ্চাও ছিলনা তাঁর। কিন্তু বিধিবাম- বিধিনিষেধ উলংঘন হেতু দোষী সাব্যস্ত হলেন এবং সরাসরি বিতাড়িত-নির্বাসিত। তিন বছরের জন্য ফেল! তিনি কি ভেঙ্গে পড়লেন? না একদম না। বরং নিজের...

লক্ষ মালের লক্ষ্য বদলে মল ছেড়ে চলো লাক্ষায় এবার ঘুরি। লক্ষ হীনের স্বপ্নে আসে কাজুর দীঘা -গজার পুরী।। (রাজনৈতিক পর্ব: ২)

রাজনৈতিক পর্ব: ২ এইরে,এইবার তো রে রে করে উঠবেন! প্রধানের কথার উপর কথা! এত্ত বড়ো সাহস হয় কি করে। আহা, না ওনার কথার উপর কোনো কথা বলছি না। উনি সম্মানীয় মহামান্য, আমরা তো তুচ্ছাতিতুচ্ছ নগণ্য। তবে রিসেন্টলি প্রধান সিনেমা টা দেখে এলাম তো; তাই এই ছাপোষা বাঙালীর পোষ না মানা মনটা এই সব উল্টোপাল্টা ভাবে। যাই হোক কিছু মনে করবেন না আপনারা।আর, উনিতো ভালোই বলেছেন- যারা পয়সা খরচ করে মলদ্বীপ যায় সেই টাকা-পয়সা টাই দেশের মধ্যেই ঘুরুক ফিরুক। ভালো উদ্যোগ। তবে ব্যপার টা হচ্ছে ঐ লক্ষপতি যায়গা গুলির প্রমোশনে সেজেগুজে যখন পোজ দিচ্ছেন দেখতে ভালো লাগছে, কিন্তু ধরবো-ধরবো করছি ধরতে পাচ্ছি কই হয়ে যাচ্ছে  ব্যপারটা? কেমন যেন অনেক দূরের  মনে হচ্ছে- দূর দ্বীপবাসিনী,চিনি তোমারে চিনি। দারুচিনির দেশের তুমি বিদেশিনি গো, সুমন্দভাষিণী॥ ঠিক মনের কোণে যায়গা পাচ্ছে না, তাই ভাবছি-  হাজারে হাজারে হাজরার স্বপ্ন টাই দেখি ভীষণরকম। দেখুন না যদি দুই হাতের দুটি কাজু নিয়ে বেশ চাঙ্গাসি চওড়া হাসি তে কাছের দীঘার জন্য আর কিছু ক্ষণ না হয় রহিলে কাছে বলে দেশবাসী কে আবেদন করলেন! না হলে আরেকটু দূরে চলো চলে যাই ঘুরে আসি বলে না হ...