বিরাট নাটকের রাত, কেয়া বাত! কেয়া বাত!

হঠাৎ অন্ধ্কার, তার মধ্যে ফুটে উঠছে কিছু ফুটনোট ;কিছু ছবি: সেই ছবিটাই ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে- শহুরে মননে বড় হয়ে ওঠা মন হঠাৎ ইট কাঠ পাথরের খাঁচা থেকে মেঠো স্পর্শে পৌছে যাচ্ছে! যে  সমস্ত সমস্যা শহরের দৃষ্টিভঙ্গিতে মনে হোতো আরে এর তো সহজ-সরল সমাধান বিদ্যমান সেই গুলোর মুখোমুখি হয়ে অনুধাবন করছি এতো অত্যন্ত জটিল-কুটিল প্রেক্ষাপট! দিল্লী তো কোন ছাড়, শহর কলকাতাও সেখানে এক অলীক জ্গৎ। এই সব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ দেখি গর্জে উঠল কানাইলালের বন্দুক! বুলেটের ছোবলে ছিটকে পড়ল শরীর টা-মনের মধ্যে গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙা মাটির প্রলেপ সরিয়ে অগ্নিযুগের রক্তরাঙা  আগুন জ্বলে উঠল!  না , এই কানাইলাল কে আমরা হয়ত চিনি না , মনেও রাখি না । তাই আমি আপনি প্রথমে ভাবব: আরে, এ হবে কেউ একজন পুলিশ অথবা সমাজ বিরোধি যাদের লড়াই অথবা কোনো খুন জখমে বন্দুক গর্জে ওঠে! না হলে হবে কোনো এক কেচ্ছা কেলেঙ্কারি দুর্নীতি মণ্ডিত রাজনৈতিক হত্যার ব্যপার- হবে হয়তো বদলার ব্যপার! হ্যা ক্ষেত্র টি রাজনৈতিক ই ছিল- পরে অনুধাবন করলাম, এটি একটি রাজনৈতিক খুন, তবে অগ্নিযুগের আক্রমণ; না ভুল বলা হোলো! নিজেকে রক্ষায় প্রতিআক্রমণ- প্রতিরক্ষা! অত্যাচারী শাসকের পরিকল্পনায় হিংসাত্মক পদক্ষেপ! স্বাধীনতার সুরে যা একদিন ছিল বিপ্লব তাই কি স্বাধীনতার পরে নামবদলে হোলো হিংসা-অরাজক? কিন্তু কেন? কিভাবে?

ভাবছিলাম, ভাবতে ভাবতে হঠাৎ দেখলাম একদম  একই ধরনের দ্বিচারিতা-বিচার-চিন্তা আগেও হয়েছে ইতিহাসের পাতায়; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে! দেখছি- সেদিন জার্মানী ছিল শয়তানের তরোয়াল- কিন্তু সেই তরোয়ালটি তাহলে ভঙ্গ হোলো কিভাবে? বিপরীতে যারা ছিল তারা কি সত্যি দেবদূত না কি "লোহা ই লোহা কে কাটতে পারে" মন্ত্রে দীক্ষিত কোনো আরেক শয়তানের তরোয়াল! যে, সেদিন হয়ত বাইনরি নিয়মে জিতে গেছে? ন্যাক্কার জনক ইহুদি নিধন নরসংহারকে বিচারের পাল্লায় তুলে ভুলে গেছে আণবিক দানবিক কার্যকে হিরো সম বীরধর্মে।
যাক,
আপনি তাহলে এতঅব্ধি এইসব হিজিবিজি যদি পড়েও থাকেন এইবার আপনি নিশ্চিত ভাবছেন আমার মস্তিষ্কটির বোধ হয় পঞ্চত্ব প্রাপ্তি ঘটেছে! আসলে ব্যপারটা একদম ই তা নয়। ব্যপার টি হোলো, শেষ তিন-চার দিন ধরে বিরাটি পুরোবাসী আমি-আপনি -আমরা-আপনারা- সপরিবারে- সবান্ধবে মিলেমিশে একসাথে আঞ্চলিক ভাবে এক স্বপ্নাবেশে মেতে উঠেছিলাম - কেন বলুন তো? আসলে শেষ চারদিন ধরে এই সব কাহিনীই বিরাটি সান্ধ্য আকাশে আলো ছড়িয়েছে সাঁঝের তারকা হয়ে -২০ বছরের বিরাটি নাট্যেৎসব - ২০২৪ এর মঞ্চে।
প্রথম দিন সৌমিত্র চ্যাটার্জি র লেখা, তাঁর কন্যা পৌলমী চ্যাটার্জির নির্দেশনায় দেবদূত , সঞ্জিতা র অভিনয় আমাদের শহর থেকে গ্রামের সমস্যার গভীরে পৌছে দিয়েছিল "জন্মান্তর" নাটকটির মাধ্যমে। পরের সন্ধ্যা উপহার দিয়েছে "অন্য থিয়েটার" গ্রুপের মাধ্যমে অগ্নিযুগের প্রেক্ষাপটে আজকের রাজনৈতিক সমস্যা তুলে ধরেছে কানাইলাল ও সত্যেন্দ্রনাথ এর মাধ্যমে বাংলার "প্রথম রাজনৈতিক খুন" নরেন গোসাই হত্যাকাণ্ড।
আর, গতকাল শেষ রজনীতে বসেছিল চাঁদের হাট! দেব শঙ্কর হালদার-সুপ্রিয় দত্ত-বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়- বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী অভিনীত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে নাজি জার্মানির কোর্ট রুম ট্র্যায়াল "দায় আমাদেরও"। প্রাচ্য গ্রুপের এই নাটকটি হিটলার জামানার সাথে বর্তমানের অনেক ঘটনা কে বুঝিয়ে দেয়- ঐ ক্রোনোলোজির লিনিয়েজ হিসাবে: দেশ-কালের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই নাটক হয়ে ওঠে আপামর জনসাধারণের।
তিনটি নাটকই খুব ভালো ভাবে অনুভব করেছি। অনেক ভালো মুহূর্ত-অভিনয়-সংলাপ-আলোক স্মৃতির খাতায় স্থান পেয়েছে মনের ভালোবাসায়-ভালোলাগায়। বিরাটি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র সাধারণ পাঠাগার কে অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা; এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এর মাধ্যমে আমাদের এই সুন্দর মুহূর্ত গুলি উপহার দেওয়ার জন্য। আসছে বছর আবার হবে....

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ
পুনশ্চ: (দ্বিতীয় দিনের নাটক গুলি শুধু এইবার মিস হয়ে গেছে!)


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"