বিএ নির্বাসিত মাস্টার। আদর্শ অনুপ্রেরণা হোক সবার ।।

আচ্ছা টুয়েলভথ ফেল এর শেষের দিকে সেই রোমহর্ষক ইন্টারভিউ এর কথা গুলো মনে পড়ছে? "যদি আমি সিলেক্ট না হই তাহলে গ্রামে ফিরে শিক্ষক হবো, দেশ কে শেখাবো" : এরপরের গল্পটা  আমরা জানি কি হয়েছে। কিন্তু যদি বলি সত্যি এরকম একটি ঘটনা আজ থেকে প্রায় একশ দশ বছর আগে ঘটেছিল। না সেই মানুষটি কিন্তু আই পি এস- পুলিশ আধিকারিক কিছুই হননি বা কোনো ইন্টারভিউ দিতেও বসেননি- বরং একটি পরীক্ষা দিতে গিয়ে নির্বাসিত হয়েছিলেন। তারপর? 
হ্যা, এক বাঙালী ছাপোষা মাস্টার এর বেশে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন- সর্বকালের অনুপ্রেরণায় ;শিক্ষক সমাজে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছিলেন! বুঝতে পারছেন না কে? দেখবেন নাকি অতীত ঘেঁটে?চলুন তাহলে একটু খুঁজেই দেখি: যদি কিছু ছাই চাপা আগুন এর সন্ধান পাওয়া যায় নাকি?
ব্যপারটা ঘটেছিল ১৯১৫ সালে - একজন কৃতী ছাত্র তৃতীয় বর্ষের বিএ পরীক্ষায় ভূলবশত পরীক্ষা চলাকালীন বইটি নিজের টেবিলে রেখেই লিখছিলেন-না তিনি কিন্তু খুলেও দেখেননি বইটি বা সেরকম ইচ্চাও ছিলনা তাঁর। কিন্তু বিধিবাম- বিধিনিষেধ উলংঘন হেতু দোষী সাব্যস্ত হলেন এবং সরাসরি বিতাড়িত-নির্বাসিত। তিন বছরের জন্য ফেল!
তিনি কি ভেঙ্গে পড়লেন? না একদম না। বরং নিজের অজান্তে অনিচ্ছাকৃত হঠাৎ এত বড় ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে চোয়াল শক্ত করলেন। দৃঢ় সংকল্প চিত্তে প্রতিজ্ঞা করলেন সমাজকে সেই অমোঘ বার্তা পৌছে দেওয়ার: মানুষের মন যদি সৎ সংকল্পে অটুট থাকে সে দূর্গম গিরিও অতিক্রম করবে- শত প্রতিকূলতা-বিরোধ-অপশাসনের মধ্যে অবিচ্ল থেকে এগিয়ে যাবে অমৃত কুম্ভের সন্ধানে। তিনিও এগিয়ে চললেন। আবার তিন বছর নতুন ভাবে পড়াশুনা করে বিএ পাশ করলেন ১৯১৮ সালে। 
এর পরের গল্প টা আমরা সবাই জানি: তিনি পরবর্তী তে শিক্ষক হয়েছিলেন- শিক্ষক নামেই তিনি সকলের হৃদয়ে এখনো বাস করেছেন। কি ধীরে ধীরে চিনতে পারছেন তাঁকে?
ধুতি পরিহিত বাংলার ছাপোষা গড়নে অন্যরকম মাস্টার ছিলেন তিনি; দুর্দমনীয় শাসক ব্রিটিশ সিংহ কে তাদের চরম অবস্থায় চার দিনের জন্য সমূলে উৎপাটিত করে এক অসম্ভব কে সম্ভব করেছিলেন। তিনি ১৯৩০ এর চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের মাস্টার মাইন্ড! লোকনাথ - অনন্ত সহ ৬৫ জন বীর ছাত্রদলের শিক্ষক - দেশীয় বিপ্লবে মাতৃশক্তিকে প্রীতিলতা-কল্পনার মাধ্যমে মৃন্ময়ী থেকে বাস্তবিক চিন্ময়ী রূপ প্রদানকারী শিক্ষক- বিনয় বসুর মাধ্যমে ঢাকার অত্যাচারী ইংরেজ লেম্যান হত্যার নির্দেশক। হ্যা ঠিক চিনেছেন:  তিনি আমাদের সবার প্রিয় সবার প্রণম্য মাস্টার দা সূর্য সেন। আজ চারদিকে শিক্ষক সমাজ যখন অবমাননা-অপমান-বঞ্চনা- দুর্নীতির নাগপাশে আবদ্ধ-হতোদ্যম , ঠিক সেই সময়ে তাঁর অনুপ্রেরণা বিশেষ ভাবে প্রয়োজন।তাঁর মৃত্যু দিনে তাই তাঁকে স্মরণ করে সৎ নিষ্ঠাবান শিক্ষক সমাজ গর্জে উঠুক: 
"মাস্টারমশাই আপনি হারিয়ে যাননি, আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে মাস্টার সত্বায় আপনি বেঁচে আছেন, আমরা সবাই মাস্টারদার শিবরাত্রির সলতে হতে রাজি আছি! আমরা সব প্রতিকূলতা জয় করবই।"  এক মাস্টার দা সেদিন এক সমুদ্র অন্যায় এর বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছিল, 
হাজারে-হাজারে মাস্টার দা সংঘবদ্ধ হলে কি হবে ?কে জানে!
©️ অভ্রজ্যোতি ঘোষ।।
ছবি: ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"