পোস্টগুলি

আগস্ট, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

পরীক্ষা কেন্দ্রের গণেশ!

না ,গণেশ কে প্রণাম করে পরীক্ষা উতরে যাবার বিষয় নিয়ে বলছি না, সেটা দিদি সরস্বতী, মা দুর্গা থেকে শনি দেব সবাই ভাগ করে নিয়েছেন। বরঞ্চ বলছি পরীক্ষা কেন্দ্রে কি ভাবে আপনার সামনে জলজ্যান্ত গণেশ উপস্থিত হয় সেটা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?  আহ্হা  না না, এ কোনো দিব্য অলৌকিক বিষয়ই নয়; একদম সাধারণ। আচ্ছা এক কাজ করুন,মহাভারত এর শুরুর পর্ব মনে করুন দেখি! মহাভারত এর রঙ্গীন বই শুরু হচ্ছে গণেশ নিবিষ্ট চিত্তে মহাভারত লিখছে, ব্যসদেব ডিক্টেশন দিচ্ছে, কিন্তু যা বলছেন গণেশ কে সেটা বুঝে তারপর নিজের মতন করে লিখতে হচ্ছে; ওদিকে ব্যসদেব অন্য শ্লোক , অন্য পটভূমির প্লট আঁকছে মনে মনে।। এইবার আপনি সোজা মহাভারত থেকে লাফ দিয়ে  চলে আসুন পরীক্ষা কেন্দ্রে,  এই পরীক্ষা কেন্দ্রেই এমন কিছু পাবলিক এর খোঁজ পাওয়া যায় যারা লুকিয়ে থাকা ছোট্ট  গণপতি। পরীক্ষা শুরুর আগে তারা  দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সেরে বলবে : আমরা সবাই ভাই ভাই। পরীক্ষার সময়ে হাত মেলাই।। এই অব্ধি ঠিকই আছে , আপনি ভাবলেন যাক মিথোজীবীর উদাহরণ জীবনেই আছে। এর পরে আপনার সেই সুহৃদ সখা স্মিত হেসে বলবে," কিচ্ছু দেখাতে হবে না শুধু ভবনা টা ধরিয়...

অমরত্বের প্রত্যাশা নেই নেই কোন দাবী দাওয়া। জীবনের মানে কি শুধু জন্মের দিন মনে রাখা?

আচ্ছা, একটা কথা বলুন তো, প্রতি বছর আগষ্ট মাসের ২৪ তারিখ এলেই আপনাদের হঠাৎ মনে পড়ে আরে, উল্লাস দাদা উল্লাস! ১৬৯০ এ চার্নক সাহেব একে গঙ্গা-হুগলী ছেঁচে বের করেছিলেন, আজকেই চল এর জন্মদিন পালন করি। ধূর মশাই আমার জন্মদিন আজকে না! সাহেব বাবু আমাকে গঙ্গা-হুগলী ছেঁচে তুলে আনেনি। আমি অনেক আগে থেকেই এখানে আছি। হ্যা একদম ঠিক শুনেছেন, নিমাই যখন কিতকিত খেলছে আমি তখন ইতোমধ্যে বিপ্রদসের হাত ধরে  চাঁদ সওদাগরের সাথে ঢুকে পরেছি "মনসাবিজয়" কাব্যে। এরপরে মুকুন্দরাম এর মাধ্যমে আবার উঁকিঝুঁকি দিলাম ধনপতির সিংহল যাত্রায়: চন্ডীকাব্যে। আলাওলের পদ্মাবতী: দাদা, এটা ঘুমর ঘুমর এর বাংলা ভার্সন - জায়সি র অনুপ্রেরণায় আরাকান সভায় আলাওল বাংলায় নিয়ে আসেন পদ্মাবতী কে। সেই খানেও ঢুকে গেলাম আমি। এরপর কৃষ্ণরামদাসের "কালিকামঙ্গলে" ও আমাকে দেখতে পাবেন। সব কিন্তু ১৬৯০ সালের আগেই রচিত হয়েছিল স্যর। জানি উচ্চমাধ্যমিকে "বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস" ফাঁকি দিয়েছেন বিস্তর, যাক লজ্জা পাবার কিছু নেই, নিজের মায়ের কাছে কি আর লজ্জা পেতে আছে? মাতৃভাষার সামনে লাজ-লজ্জার ধার ধারতে নেই দাদা! নাহলে দেখবেন হঠাৎ উরুভঙ্গ...

হারিয়ে যাওয়া সাপ।

গভীর রাত। সারাদিন কাজের শেষে পরিশ্রান্ত বিধ্বস্ত হয়ে ঘরে ফিরে সুনীল সবে একটু বিশ্রাম নিচ্ছে, হঠাৎ শুনতে পেল ঢাকের আওয়াজ! হঠাৎ ঢাক বাজছে কেন? এমনিতে আজ অফিসের বিশ্রী ঘটনায় মনটা তিত্কূট হয়ে গেছে। "অসৎ উপায়ে উৎকোচ এর বিনিময়ে কাজ করতে পারবে না" বলার সাথেসাথে ওর উপর নেমে এসেছে সহকর্মী দের রক্তচক্ষু। একযোগে সবাই জিজ্ঞাসা করে : সবাই যদি উৎকোচ নিয়ে সানন্দে কাজ করতে পারে তাহলে সুনীলের অসুবিধা কোথায় উৎকোচ নিতে, ও কি ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির নাকি? সুনীল স্থিরচিত্তে জানায়: অসুবিধা আমার মনে,  আমি পারব না এ অন্যায় করতে, আমার মনের বিরুদ্ধাচরণ সম্ভব নয়। সাথেসাথে কেউ শাসিয়ে,কেউ ব্যঙ্গ করে ওকে সারাদিন ধরে উত্যক্ত করে গেছে।শেষ সন্ধ্যায়  জানতে পেরেছে ওক বদলি করা হবে দূর প্রান্তরে! - এই বিধ্বস্ত অভিজ্ঞতার পরে; দিনের শেষে পুজোর আগেভাগে এমন সুন্দর ঢাকের বাদ্যি ওর মনে বেশ দোলা লাগিয়েছে। কিন্তু কিসের জন্য এই রাতবিরেতে বাদ্যি বাজছে? অবাক হয়ে সুনীল মা কে জিজ্ঞাসা করল :  মা এই রাতে ঢাক পেটায় কে? কি ব্যাপার আজকে? সুশীলা দেবি রাতের রান্না করতে করতে মুখ না ঘুরিয়ে উত্তর দেয় আজকে তো শ্রাবণ সংক্রান্তি রে। সাহা...

সত্য স্বাধীন বার্তা।।

স্বাধীনতা দিবস আসছে। অপেক্ষা শুরু। পলাশ, মনে মনে ভাবছে: কখন পাব সেই দুটো বার্তা ? এই দুটো বার্তাই যেন স্বাধীনতা দিবসের মহালয়া; এরা যতক্ষণ না- মুঠোফোনে ঝাঁপ দিচ্ছে মনেই হবে না স্বাধীনতা এসে গেছে! বলতে না বলতেই টিং টিং করে দুটো বার্তা ঢুকল মুঠোফোনে!আচ্ছা; কি সেই দুই অমোঘ বার্তা ?  প্রথম বার্তা: "বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করব প্রাণ দিয়ে"। আর এর ঠিক একশ আশি ডিগ্রি বিপরীতে আরেকটি বার্তা : "আমরা কি সত্যি স্বাধীন?" পলাশ  মুচকি হেসে বলল এইতো এসে গেল স্বাধীনতা দিবসের বার্তা! স্বাধীনতা দিবস এলেই দুই ধরনের বার্তা দেখতে পাই মুঠোফোনে নেচে-নেচে ঘুরছে। পলাশ এক গভীর ভাবনায় নিমজ্জিত হল: বার্তা আসুক, অসুবিধা নেই। প্রথম প্রেরক তো বললই : স্বাধীনতা রক্ষা করব প্রাণ দিয়ে। কি উচ্চ ভবনা! নিশ্চয়ই যুদ্ধ হলে, শত্রু আক্রমণ করলে, কেউ সমস্যায় পড়লে এই মহামানব নিজের জীবন দিয়ে দেশ কে রক্ষা করবে! কিন্তু  কিছুদিন পরেই আবার দেখে সেই প্রেরকই ফোন করে বলে:  বুঝলি পলাশ, কার কি হোলো ভাবতে বসলে আমার চলবে কি করে ? হাজার হাজার মানুষ আছে দেশের কথা ভাবার জন্য, আমি আমার পরিবারের কথা ভাবি আগে,...

তথ্যপ্রযুক্তির সংসার।।(পর্ব ২ : পর্ব এক এর লিঙ্ক গল্পে)

প্রথম পর্ব পূর্ববর্তী পর্বে বলেছিলাম তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে - ভগীরথ এর মর্ত্যধামে গঙ্গা অবতরণের মতন; "প্রজেক্ট" নামক কর্মকাণ্ডকে সংস্থায় নিয়ে আসার কাহিনী। তা, প্রজেক্ট তো এসে গেল! কিম্তু এইবার এই বিশাল কর্মকাণ্ড কি ভাবে শুরু হবে বলুন তো? চারদিকে সেই বার্তা রটে গেল ক্রমে। স্ক্র‌্যচ থেকে একটি কর্মশুরু হবে এবারে।। প্রথমেই, এই বিশাল কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য একটি দলের প্রয়োজন।  খোঁজ খোঁজ , কি-কি কাজ করতে হবে তার জন্য কিছু বিশেষ ধরনের মানুষ খোঁজা হয়। না-না, গুরুগম্ভীর নামের আড়ালে আমরা এদের চিনব না। বরং দেখব আর বুঝব এই ভূমিকা গুলো, এই চরিত্র গুলো আমাদের খুব চেনা, খুব আপন। বিশ্বাস হচ্ছে না! চলুন দেখি। প্র‌জেক্টে প্রথমেই আসবেন এমন এক ব্যক্তিত্ব যে সব বিষয়ে স্থির, প্রশ্ন করুন স্থির - কোড চালাতে বলুন স্থির। তিনি সদা নির্বিকার নিত্যানন্দ, কোনো বিষয়ে হেলদোল নেই। তিনি হলেন প্রজেক্ট এর বড়দা। দিনান্তে, তার হাত দিয়েই ধর্মরাজ্য স্থাপনের মতন স্টেটাস বার্তা দিকে দিকে প্রচারিত হয়। দিনের সব বিষয়-আশয় গম্ভীর বেজায়, খাটনি তে দিন কেটে যায়: লেখা একটা সুন্দর বার্তা উপর মহলে ও ক্লায়েন্ট এর কাছে ...

"বন্ধু চল, বলটা দে"

"উফ্ফ, আজ আবার বন্ধুত্বের দিন। চারদিকে সবাই নিজের নিজের বন্ধুদের শুভেচ্ছা কামনা করে বেশ পুলকিত হচ্ছে! পিং পিং করে হোয়াটসঅ্যাপ এর লেফট গ্রুপেও নিশ্চয়ই এতক্ষণে আদিখ্যেতার ঝড় বয়ে চলেছে। ধুস, এই সব মাখো মাখো ব্যাপার পোষায় না" - বলে নিজেই মোবাইল টা বিছানায় ছুড়ে ফেলেদিল সুনীল। নিরলস ভাবে উদাস হয়ে চেয়ে রইল ৪৩ ইঞ্চি টিভির বিশাল স্ক্রিনে। আজ রবিবার তাই, অফিসের তাড়াহুড়ো নেই সেক্টর ফাইভের এক বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত সুনীলের। সারা সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের মধ্যেই কেটে যায় ওর। শনি-রবি পরিবারের সাথে সময় কাটায়। পরিবার বলতে স্ত্রী-পুত্র-বাবা-মা নিয়ে সুখী সংসার। সপ্তাহভর অফিসের এতো কাজের মধ্যে বাড়ির কাজে বিশেষ  সময় দিতে পারে না। তাই, সপ্তাহান্তে বাড়ির বিভিন্ন কাজ, বাজার করা থেকে টুকটাক এদিক সেদিক ঘুরে আসতে আসতেই আবার নতুন সপ্তাহ এসে কড়া নাড়ে শিয়রে। এই একভাবেই বয়েচলেছিল সুনীল এর সময় সারণী। একঘেয়ে জীবনপথে নিজের জন্য একটু সময় বের করতে গিয়ে বিফলরত সুনীল মানসিক ভাবে হাফিয়ে উঠছিল। মন মরুভূমি তে এক মরূদ্যানের সন্ধানে আকুল হয়েছিল সুনীলের মন। তখনই সুনীলের জীবনে একটি বিশেষ ঘটনা ঘটল। সুনীলের স্মৃতিতে ধরা ...

ময়দানের জার্মান।।

"কিরে, তোরা তো আই লিগ স্পর্শ করতে পারিস নি!  তোরা তো আজকাল নিজেদের যোগ্যতায় টুর্নামেন্টও খেলতে পারিস না।"-  পাড়ার চায়ের দোকানে ইস্টবেঙ্গল সমর্থক পল্টুকে উদ্দেশ্য করে এক-এক বক্রোক্তি ছুঁড়ে দিচ্ছিল রনি , টুবলু। বেচারা পল্টু,  মুখ কালো করে ফুঁসছে।  সদুত্তর খুঁজে পাচ্ছে না, মনে মনে ভাবছে এক ঘুষি তে এই ব্যাটা দের দেই চুপ করিয়ে, রাগের চোটে বলে ওঠে : চুপকর, বেশী কথা বলছিস! নির্লজ্জ ভাবে নিজের মাতৃসম ক্লাব কে তোরা অন্যের নামে ব্যবহার করছিস, কি সব রিমুভ-রিমুভ করে বেড়াচ্ছিস। তোদের মতন নির্লজ্জ অন্তত নই আমরা। বলেই অন্যদিকে তাকিয়ে রইল পল্টু।রবিবার সকাল সকাল, পাড়ায় চায়ের দোকান  বাংলার চিরন্তন ময়দানি লড়াই এর গনগনে আঁচ অনুভব করছে। পল্টুর কথা শুনে টুবলু চোখ পাকিয়ে বলল : ভাই, নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা কথাটা তোদের জন্যেই খাটে। নিজেরা পারিস না খেলতে , আগে খেল ভালো করে ! পল্টু নিরাসক্ত ভাবে বলে:  সে তোরা এখন জিতছিস তোদের খই ফুটবেই। টুবলু উত্তর দিল: দেখ জেতা-হারা না। তোরা দেখেছিস তোরা কিভাবে খেলছিস? তোদের দলে প্লেয়ার গুলো কে নিচ্ছিস, কিন্তু যে যার মতন আপন মনে খেলছে! দেখে মনে হচ...