পরীক্ষা কেন্দ্রের গণেশ!

না ,গণেশ কে প্রণাম করে পরীক্ষা উতরে যাবার বিষয় নিয়ে বলছি না, সেটা দিদি সরস্বতী, মা দুর্গা থেকে শনি দেব সবাই ভাগ করে নিয়েছেন।

বরঞ্চ বলছি পরীক্ষা কেন্দ্রে কি ভাবে আপনার সামনে জলজ্যান্ত গণেশ উপস্থিত হয় সেটা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?  আহ্হা  না না, এ কোনো দিব্য অলৌকিক বিষয়ই নয়; একদম সাধারণ। আচ্ছা এক কাজ করুন,মহাভারত এর শুরুর পর্ব মনে করুন দেখি!
মহাভারত এর রঙ্গীন বই শুরু হচ্ছে গণেশ নিবিষ্ট চিত্তে মহাভারত লিখছে, ব্যসদেব ডিক্টেশন দিচ্ছে, কিন্তু যা বলছেন গণেশ কে সেটা বুঝে তারপর নিজের মতন করে লিখতে হচ্ছে; ওদিকে ব্যসদেব অন্য শ্লোক , অন্য পটভূমির প্লট আঁকছে মনে মনে।।
এইবার আপনি সোজা মহাভারত থেকে লাফ দিয়ে  চলে আসুন পরীক্ষা কেন্দ্রে,  এই পরীক্ষা কেন্দ্রেই এমন কিছু পাবলিক এর খোঁজ পাওয়া যায় যারা লুকিয়ে থাকা ছোট্ট  গণপতি। পরীক্ষা শুরুর আগে তারা  দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সেরে বলবে :
আমরা সবাই ভাই ভাই।
পরীক্ষার সময়ে হাত মেলাই।।
এই অব্ধি ঠিকই আছে , আপনি ভাবলেন যাক মিথোজীবীর উদাহরণ জীবনেই আছে। এর পরে আপনার সেই সুহৃদ সখা স্মিত হেসে বলবে," কিচ্ছু দেখাতে হবে না শুধু ভবনা টা ধরিয়ে দিলেই হবে, বাকি সব লিখে নেব নিজে"।
আপনিও আহ্লাদিত হলেন-  যাক লেখার কপিরাইট যারযার-তারতার, আপনিও মিলে সুর মেরা তুমহারা করে বললেন- "হ্যা বলে দেব, বুঝে লিখে নিস তাহলে। যাক আর পুরো খাতা ধরে বসতে হবে না"।  মুখে বলেদিলেই আপনার সুহৃদ বন্ধুটি লিখে ফেলবেন ঝপাঝপ।
এই যে আপনি আহ্লাদিত হয়ে চুক্তি টা করে ফেললেন গদগদ হয়ে, কিন্তু কিয়তকাল পরে বুঝবেন আপনি হয়ে উঠেছেন শ্রীলঙ্কার বন্দর আর পরীক্ষা হলে তথ্য বিনিময় চুক্তিপত্র হল চীনের ঋণের ফাঁদ! কিভাবে?
এই দেখুন পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে, আপনি একের পর এক প্রশ্ন কমন এসেছে দেখে লিখে চলেছেন ঝড়ের বেগে, হঠাৎ অনুভব করলেন পাশ থেকে এক মনের টান পিঠের টান। আপনার সেই সুহৃদ বন্ধু ত্রাহিমাং ত্রাহিমাং বলে আপনাকে স্মরণ করছে।
আপনি সাথেসাথেই চুক্তিপত্র অনুসারে তাঁকে প্রথমে দুলাইনে বললেন , "এই পয়েন্ট গুলো লেখ, হয়ে যাবে"। কিন্তু একই সাথে তার মুখপানে চেয়ে দেখলেন এক ভাবলেশহীন শূন্যতা, বিস্মিত  চাহনী।
আপনি বুঝলেন বন্ধু এই পয়েন্ট গুলো জানে না। ঠিক আছে সময় নষ্ট না করেই অপশান বি মাথায় খেলে গেল আপনার:  আপনি খাতার পৃষ্ঠা সরবরাহ করতে উদ্যত হলেন। সাধারণ মানুষ-বন্ধু হলে আপনার এই মহানুভবতায় ধন্য মনে করত নিজেকে। কিন্তু আপনার এই সুহৃদ বন্ধু যে মনুষ্যরূপী গণপতি!
তৎক্ষণাৎ আপনার বন্ধু বলে উঠবে- "তিষ্ঠ ক্ষণকাল- চুক্তি অনুসারে আমি বুঝেই লিখব, তুই আমাকে বুঝিয়ে দে, খাতা দেখে লিখব না", - এই শুনে আপনি হতবাক ! এ ছেলে বলে কি!  এক বছরের সিলেবাস ছোকরা এখন আমার থেকে বুঝে বুঝে লিখবে!
আপনি অনুনয়-বিনয় করে বললেন- "ভাই আমার, পরীক্ষা তো শেষ হয়ে যাবে এইভাবে বুঝতে বোঝাতে বসলে, তুই খাতা দেখে নামিয়ে দে"! সে চিতোর রানার মতন পণ করে বলে চুক্তি ভঙ্গ করবে না!
ব্যস এর পর আপনি ব্যসদেব হয়ে সূত্র ডিক্টেশন দিচ্ছেন, কিন্তু যা বলছেন বন্ধু রূপী গণেশ সেটা বুঝে তারপর নিজের মতন করে লিখছে: কপি পেস্ট নৈব নৈব চ, নিজের মনের মাধুরী মিলায়ে মহাভারত রচনা করছেন গণেশ। আর আপনি পরের প্রশ্নের উত্তর নিজের মনে নিজের জন্য বন্ধুর জন্য খূঁজে চলেছেন।জ্যান্ত গণেশ পরীক্ষার মহাভারত লিখছে!

তবে এই শ্রেনীর গণেশ রা কিন্তু জীবনের পরীক্ষায় উদিত হলে ভালো; এবং ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকলে মাঝে মাঝেই জীবনের পরীক্ষাতেও উদয় হয় , এরা বিষয় হৃদয়ঙ্গম করে তবেই লিখবে, হুবহু আপনার কপি একদম করবে না: কপিরাইট সুরক্ষিত থাকবে আপনার। এরকম পবিত্র পাপী জীবনে দুটো পাবেন না হলফ করে বলতে পারি!
তাই পরীক্ষা হলে না হলেও জীবনের পরীক্ষায় এমন গণেশ বন্ধু বারবার আসুক, মালের দায়িত্ব আরোহীর এই বিশ্বাস বজায় থাকুক গণপতির কৃপায়।।🙏🏼

©️অভ্র‌জ্যোতি ঘোষ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"