সত্য স্বাধীন বার্তা।।

স্বাধীনতা দিবস আসছে। অপেক্ষা শুরু। পলাশ, মনে মনে ভাবছে: কখন পাব সেই দুটো বার্তা ? এই দুটো বার্তাই যেন স্বাধীনতা দিবসের মহালয়া; এরা যতক্ষণ না- মুঠোফোনে ঝাঁপ দিচ্ছে মনেই হবে না স্বাধীনতা এসে গেছে! বলতে না বলতেই টিং টিং করে দুটো বার্তা ঢুকল মুঠোফোনে!আচ্ছা; কি সেই দুই অমোঘ বার্তা ? 

প্রথম বার্তা: "বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করব প্রাণ দিয়ে"।

আর এর ঠিক একশ আশি ডিগ্রি বিপরীতে আরেকটি বার্তা : "আমরা কি সত্যি স্বাধীন?"

পলাশ  মুচকি হেসে বলল এইতো এসে গেল স্বাধীনতা দিবসের বার্তা! স্বাধীনতা দিবস এলেই দুই ধরনের বার্তা দেখতে পাই মুঠোফোনে নেচে-নেচে ঘুরছে। পলাশ এক গভীর ভাবনায় নিমজ্জিত হল:

বার্তা আসুক, অসুবিধা নেই। প্রথম প্রেরক তো বললই : স্বাধীনতা রক্ষা করব প্রাণ দিয়ে। কি উচ্চ ভবনা! নিশ্চয়ই যুদ্ধ হলে, শত্রু আক্রমণ করলে, কেউ সমস্যায় পড়লে এই মহামানব নিজের জীবন দিয়ে দেশ কে রক্ষা করবে!
কিন্তু  কিছুদিন পরেই আবার দেখে সেই প্রেরকই ফোন করে বলে:  বুঝলি পলাশ, কার কি হোলো ভাবতে বসলে আমার চলবে কি করে ? হাজার হাজার মানুষ আছে দেশের কথা ভাবার জন্য, আমি আমার পরিবারের কথা ভাবি আগে, আমি না থাকলে এদের কি হবে?

পলাশ তাকে একটা পাল্টা ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করে :  "প্রাণ দিয়ে স্বাধীনতা করবি বলে বার্তা পাঠিয়েছিলিস। এখন যে কথাটা বললি সেটাও অস্বীকার করছি না, তোর উপর তোর পুরো পরিবার নির্ভরশীল।
কিন্তু তোর থেকে মাত্র ১০০ বছর আগে একটা প্রজন্ম ছিল যারা বার্তা তো দূর কাকপক্ষী কেও জানতে দিতনা তারা দেশের জন্য বলিপ্রদত্ত। নিশ্চুপ নীরব থেকে দেশের জন্য জীবন সঁপে, পরিবার কে কাদিয়ে ভাসিয়ে চলে গেছেন কিন্তু শেষ মুহূর্ত অব্ধি ছলনার বার্তা দেননি! দেশকে ছদ্ম ছলনার বার্তা দিসনা!
তুই যেটুকু পারবি সেটাই কর , দেশ তোর থেকে তোর প্রাণ চায়না, তোর থেকে তোর ভিতরের সত্যি টা জানতে চায়, তুই যদি কিছু নাও পারিস সেটাও সত্যি; এতে কোনো লজ্জার প্রশ্ন নেই, কারণ তুই আজকে একটা ছলনার মাধ্যমে দেশ কে বার্তা দিলি তুই অনেক কিছু করবি, কিন্তু কাজের সময়ে কিছুই করলি না সেটা দেশের জন্য অনেক বেশী ক্ষতিকর!"
প্রথম বার্তা প্রেরক আমতা আমতা করে বলে: সেটা না, টুক করে  কি আমরা প্রাণপণ করতে পারি, পলাশ? ওটা তো বার্তা হিসেবে দিয়েছি কিন্তু তাহলে কি স্বাধীনতা দিবসে বার্তা দেবনা?

উত্তরে পলাশ স্মিতহেসে বলে: প্রাণ দিতে হবেনা আপাতত, একটু ধনসম্পদ দে, সমাজসেবা মূলক কাজে, দেশের দশের কাজে দানধ্যান কর।
সেই প্রথম প্রেরক মোবাইল এর স্ক্রিনে দুই চোখ বড় করে এক অদ্ভুৎ চাহনি দিয়ে বলে:  আমি এখানে দেশের কাজে নিজের পয়সা দিতে যাব কেন? এ তো সরকারের দায়িত্ব। আমি উপার্জন কর- বাকি সব কর নিয়মিত দিচ্ছি, এটাই অনেক।
পলাশ হেসে বলে:  দেখ পরোপকারে তুই অর্থ দিবি কি দিবি-না সেটাও তোর দিক থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত, আবার এটাই সত্যি যে তুই সৎ ভাবে কর দিচ্ছিস।
এ এক মহান কাজ। তুই এটাই বল তাহলে স্বাধীনতার বর্তায়, "সাধ্য মত নিজের থেকে কর দেব স্বাধীনতা বজায় রাখতে", দেশ তোর থেকে শুধু তোর সততা-সত্যতা চায়।

ওদিকে, দ্বিতীয় বার্তা দেখে পলাশের মনে হয় আচ্ছা প্রেরক স্বাধীন নয়, দেশ বলে হয়ত কিছু নেই, সবার উন্নতি একসাথে হয়নি! সত্যি অভিমান এর কথা; হয়ত প্রেরক এর দিক থেকে সত্যি কথা!

কিন্ত সেই দ্বিতীয় বার্তা প্রেরক আবার কিছুদিন পরে ফোনে জানায়, ভাই আজকে আমরা মঙ্গলে চক্কর কাটছি,বিশ্বকাপ জিতে সারা দেশের সাথে আনন্দে উদ্বেলিত হচ্ছি। তখন পলাশ তাকে প্রশ্ন করে :
তোর বার্তা অনুসারে  দেশ তো স্বাধীন নয় তাহলে বয়ানে স্বাধীন দেশের মানুষ এল কি ভাবে আর সেইদেশ, সেই মানুষ একসাথে কিভাবে আনন্দে আত্মহারা হল?
অন্তরথেকে নিজের দেশ কে নিজের না ভাবলে আত্মহারা হতে পারতিস কি?
বার্তা প্রেরক উত্তর দেয়: সারা দেশের মানুষ খেতে পায় না দুবেলা, এটা কে স্বাধীনতা বলবি , পলাশ ?
পলাশ একটু  ভেবেনিয়ে বলে: ১৯৪৭ এ দেশ যখন যাত্রা শুরু করে সেদিন দেশটার তখনকার অব্স্থা পর্যবেক্ষণ কর আর আজকে মিলিয়ে দেখ! এক লুণ্ঠিত দেশ আজ ৭৫ বছরে দেশের মানুষের সাহায্যে বিশ্বের প্রথম পঞ্চ অর্থনীতি ও শক্তিশালী দেশের মধ্যে এসেছে।
তোর কি মনে হয় দেশের মানুষের সাহায্য ছাড়া এত গুলো সরকার নিজে নিজে এখানে পৌছতে পারত? দেশের মানুষ দেশ কে ভালোবেসে খেটেছে। তাই দেশ এগিয়েছে, যাত্রা শুরুর সময়ে কেউ ভেবেছিল একটা দেশ ৭৫ বছরে শূণ্য থেকে শুরু করে এত বৈচিত্রময়  মানুষকে নিয়ে এগিয়ে প্রথম সারিতে আসতে পারবে? তবে ,তোর ক্ষোভেরও যথেষ্ট কারণ আছে। অনেক দূর হয়ত আমরা এগিয়ে যেতে পারতাম যদি উচ্চপরিকল্পনাকারী রা একটু সৎ হতেন ভ্রষ্ট না হতেন। যা করেছে এই স্বাধীন দেশের মানুষ ই করেছে! বার্তায় এটাও তো বলতে পারিস:

আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম তারার উদ্দ্যেশে, পৌঁছেছি চাঁদে।
একদিন ছোট্ট ছোট্ট পায়ে পৌঁছে যাব তারার কাছে।।

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"