চল চল অরুণাচল - প্রথম দিনের ট্যুর । পর্ব -১,২,৩,৪ গৌহাটি তেজপুর

চতুর্থ স্থান- গৌহাটি থেকে তেজপুর ২০ এপ্রিল ।
এইবার ধীরে সুস্থে আমরা এগিয়ে চললাম আমাদের ট্যুর এর মূল গন্তব্যে- অরুণাচল এর উদ্দেশ্যে। যাত্রাপথে তেজপুর ছিল একরাতের হল্ট। যাই হোক চলার পথে কুড়িয়ে নিলাম কিছু ভ্রমণ স্পট এর অভিজ্ঞতা। একদিকে জুবিন গর্গ এর সমাধি তো আরেকদিকে বিশাল মৃত্যুঞ্জয় শিব লিঙ্গ এবং ভৈরব মন্দির আর সঙ্গে বিশাল ব্রহ্মপুত্র পারাপার।

১। জুবিন গর্গ এর সমাধি- হৃদয় বিদারক ঘটনার পরে জুবিন গর্গ কে স্মরণ। অসমে প্রায় প্রতি বাড়ি তে কিংবা গাড়ির সামনে কিংবা পিছনে প্রিয় শিল্পীর হারিয়ে যাওয়ার স্মৃতি- এমনকি এক ভৈরব মন্দিরে দেখলাম দেব আরাধ্যের পাশে জুবিন গর্গ এর ছবি- ওখানে দেব জ্ঞানে সকলে প্রাণের প্রিয় জুবিন গর্গ কে মনে রেখেছেন।

২। কি বিশাল শিব লিঙ্গ মন্দির- মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্দির । এতো বৃহৎ স্থাপত্য কর্ম দেখে বিস্ময়ের উদ্রেক হতে বাধ্য! 

৩। মন্দির থেকে বেরিয়ে 

৪। মন্দির এর ভিতরে- উপরে কি সুন্দর সব ছবি এঁকেছে মন মুগ্ধকর! 

৫। বিশালাকৃতি 

৬। বিশাল ব্রহ্মপুত্র পারাপার- এখানে তাজপুরে ঢোকার মুখে ব্রহ্মপুত্র গৌহাটির থেকেও অনেক বিস্তৃত- প্রথম দেখায় গৌহাটি তে বিস্মিত হয়েছিলাম কিন্তু তাজপুরে ঢোকার মুখে এই বিশালতার সামনে নীরবে শুধু পর্যবেক্ষণ করলাম 

৭। তেজপুরে পৌঁছে ভৈরব মন্দিরে- এখানে মোটামুটি মন্দির পর্বের সমাপ্তি হোলো । এর পরের পর্বে শুরু হবে বুদ্ধ ভূমি দর্শন- অরুণাচল প্রবেশ 

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ । ১ লা মে ২০২৬

তৃতীয় স্থান- কামাখ্যা মন্দির, গৌহাটি । ১৯ এপ্রিল বিকেল ।
পড়ন্ত দুপুরে এবার সবাই এসে পৌঁছলাম গৌহাটির প্রধান স্থান কামাখ্যা মন্দিরে। পরিবারে আস্তিক ও নাস্তিক দুই ব্যক্তিত্বই দেখলাম কামাখ্যায় আসার ব্যাপারে প্রচন্ড আগ্রহী ছিল, আস্তিক চেয়েছে পুজো দিতে নাস্তিক এর আশা-একবার হলেও যেন মন্দির টা দেখে আসা যায়। আসলে, এতো প্রাচীন, তন্ত্র মন্ত্রের কেন্দ্র বিভিন্ন সময়ে ছোট থেকে বেড়ে ওঠার কালে বিভিন্ন অলৌকিক রহস্য কাহিনী হয়তো প্রভাব ফেলেছে মনে! তাই, বিশ্বাস অবিশ্বাস এর সীমা রেখার উপরে কামাখ্যা মন্দির এর অবস্থান- তাই কেউ ভক্তি ভরে পুজো দিলো তো কেউ ঘুরে ফিরে দেখল এই প্রাচীন পীঠস্থান।

১। সন্ধ্যে কালে সকলে কামাখ্যা মন্দিরে
২। এটা বেশ ভালো লাগলো আসামের অধিকাংশ মন্দিরে দেখলাম গর্ভগৃহ ব্যতীত বাকি মন্দিরে মন প্রাণ ঢেলে ছবি তোলা যায়, আমরাও ফ্রেম বন্দী করলাম, তবে সেতো বাহ্যিক- প্রকৃত ছবি তো রয়ে যায় মনের গভীরে!
৩। এক জনে পুজো দেয়, এক জনে প্রণাম জানায় ভক্তি ভরে, আরেক জন দেখে বেড়ায় সারা মন্দির ঘুরে- সবার সহাবস্থান এক পরিবারে এক মনে এক ঘরে এক মন্দিরে।
৪। দুইয়ে মিলে মন্দিরে, কেউ পুজো দেয় কেউ অভিজ্ঞতা খুঁজে ফেরে- শেষে একসাথে ছবি তোলে ।
৫। মন্দির মাঝে আনন্দে মেতে 
৬। হৃষ্ট চিত্তে -পুলকিত মন মন্দিরে এসে 
৭। কর্ম করে যাও, ছবি তুলে যাও ফল ও নিজের ছবির আশা কোরোনা- ফল ও মিলবে, অন্য কেউ তোমারও ছবি তুলবে ।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ ।এপ্রিল ২০২৬।
দ্বিতীয় স্থান- বশিষ্ঠ আশ্রম গৌহাটি ১৯ এপ্রিল দুপুর ।
উমানন্দ থেকে সোজা চলে গেলাম বশিষ্ঠ আশ্রম। আসার আগে বিরাটি তে একজন জানিয়েছিল গৌহাটির কাছেই এরকম একটি স্থান আছে, একটা প্রাকৃতিক ঝর্ণা আছে । ব্যাস শুনেই স্থির করলাম শুধু মন্দির দেখার থেকে এরকম একটি স্থান যেখানে প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীও রয়েছে দেখা যেতে পারে। 

১। এখন বেশ সুন্দর ভাবে দাড়িয়ে একজন ছবি তুলছে, কিন্তু ঠিক কিছুক্ষণ আগেই এপাং ওপাং করে ঝর্ণা দেখতে গিয়ে উনি ঝপাং হয়েছেন জলে পাথরে ।  ওই আর কি উত্তেজিত হয়ে মোজা না খুলে মজা করার ফল পেয়েছেন। একদম সোষ্টাঙ্গে ধপাস- চারদিক থেকে গেল গেল শুনে সত্যি বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । ট্যুর শুরুর আগেই না ট্যুর শেষ হয়ে যায়- কিন্তু অযথা চিন্তা করলাম, দেখলাম পড়ল, খোড়ালো আবার ধাই ধাই করে পাথরে উঠে ছবি তুলল। ব্যথা কিন্তু এখনো আছে, তবে সেটা অতিক্রম করে ট্যুর এর শোভাযাত্রা সুন্দর ভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছে মা!
২। হঠাৎ একটা বিস্ময়- ঝরণা ধারায় সিদ্ধি দাতা উঁকি দিচ্ছে! বুঝলাম মানুষ ই দেবতা গড়ে !!
৩। বশিষ্ঠ মূর্তি- এই পৌরাণিক চরিত্র দেখি মোটামুটি সর্বত্রই ঘুরেছেন, হয়তো একটি গোষ্ঠী ছিল কিংবা এক জন জ্ঞানী ব্যক্তিত্ব যিনি ঘুরতে এবং বিস্ময় কর কাণ্ড করতে সিদ্ধ হস্ত ছিলেন ।
৪। কি বিশাল মূষিক মহারাজ!
৫। মাতা পুত্র একত্রে 

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


ভ্রমণের প্রথম স্থান -১৯ এপ্রিল- গুয়াহাটি থেকে যাত্রা শুরু । 
প্রথম বার বিশাল ব্রহ্মপুত্রের বুকে ভেসে ভেসেল ভ্রমণ শুরু । প্রথম গন্তব্য উমানন্দ দ্বীপ- বৃহ্মপুত্রের বুকে জেগে থাকা এক স্থল যেখানে দেবী কামাখ্যার ভৈরব হিসেবে উমানন্দ চির জাগ্রত। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন এখানে মানে কলকাতার মিষ্টি মিস হলেও একটি অপূর্ব স্মৃতি নিয়ে ভেসে রইলাম ব্রহ্মপুত্রের বুকে । আর মন্দিরের ভিতরে অনেক টা নেমে এসে দেখি এক আলো অন্ধকার পরিবেশে উমানন্দ আছে বসে! কেউ দেখা করলো, কেউ প্রণাম করলো কেউ আবার বিশ্বাস ভরে পুজো দিলো- বিশ্বাস-অবিশ্বাস ,পাপ -পুণ্য ,আস্তিক-নাস্তিক পরিবারে থাকলেও সব এসে মিশে গেলো ব্রহ্মপুত্রের স্রোতে। তারপর আর কি যাত্রা শুরু হোলো ভ্রমণের!

১। মলয়ও বাতাসে টাইটানিক বেশে ভেসে ব্রহ্মপুত্র মাঝে ভেসেলে 
২। এবারের এই ট্যুর সিনেমার ঋত্বিক ঘটক- সদ্য পরিবর্তিত নব্য ক্যামেরায় সিনেম্যাটিক মুহূর্ত গুলো ধরার মুহূর্তে তার নিজস্ব ছবি 
৩। কেউ পুজো দিলো ভক্তি ভরে, কেউ ঘুরে দেখল বিশ্বাস সম্বল করে, কেউ ঘুরে দেখল মন্দির টাকে,কেউ খুঁজে ফেরে প্রসাদ ভান্ডারে- আসলে এদেশের মতো সব কিছু মিশে যায় পরিবারের মধ্যে- বিশ্বাস, আস্তিক,নাস্তিক সব একসাথে থাকে দেখে ঘোরে ফেরে ঘরে ।
৪। অবাক হয়ে দেখছে ব্রহ্মপুত্রের বিশালতা 
৫। খুশীর মেজাজে ভেসেলে ভেসে ব্রহ্মপুত্রে

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"