যুদ্ধ শুধু অস্ত্র দিয়ে নয় বুদ্ধি, শৌর্য, পরিকল্পনায় জিততে হয়- প্রথম ও দ্বিতীয় উদাহরণ

যুদ্ধ শুধু অস্ত্র দিয়ে নয় বুদ্ধি, শৌর্য, পরিকল্পনায়  জিততে হয়- 

প্রথম পর্ব: মেজর সোমনাথ শর্মা

শত্রুর তুলনায় ভান্ডারে তব অস্ত্র যখন  ক্ষীণ , কিংবা বেশ কিছুটা হলেও পিছিয়ে তখন সেই যুদ্ধজয়ের সম্ভবনা কতোটা? আহা, অতো কামান ট্যাঙ্ক ভারী বিমান জাহাজ প্রথমেই জটিল হিসেবে ভাবতে হবে না, একবার হাতের কাছে দাবার বোর্ড টার কথায় না হয় ভাবুন একবার। আপনি খেলতে গিয়ে দেখছেন প্রতিপক্ষ হয়তো মন্ত্রী, নৌকা নিয়ে এডভান্টেজ পয়েন্ট পেয়ে বসে আছে, আর আপনার হাতে রয়েছে স্রেফ জোড়া ঘোড়া কিংবা সাদা কালো হাতি, তখন কি হবে? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যুদ্ধ জয় তো দূর, কিভাবে কতোক্ষণ টিকে থাকা সম্ভবপর সেটাই লক্ষ্য হয়ে দাড়ায়। এরই মধ্যে সারা পৃথিবীতে কিছু স্বল্প কিছু উদাহরণ তখনই রচিত হয় যখন এই যুদ্ধ গুলো জেতা সম্ভবপর হয়েছিল, অসম্ভব কে অতিক্রম করে। একদম ঠিক সেরকম ভাবেই বেশ অনেক গুলো গুরুত্বপূর্ণ অসম্ভব জয় সম্ভবপর হয়েছিল ভারতীয় সেনার  দাবায় ঘোড়ার আড়াই চালের স্ট্রাটেজিক আঘাত স্টাইলে।
আসলে ৬০-৭০ এর সময়ে পাকিস্তান আমেরিকার থেকে উন্নত সব বিমান, ট্যাঙ্ক একের পর এক মিত্রভাবে পেয়ে এসেছিল। ঠিক সেই সময়ে আমাদের অস্ত্র গুলো সেই তুলনায় অত্যন্ত পিছিয়ে। তবুও সেই যুদ্ধ গুলো আমরা জিতলাম স্ট্রাটেজি, প্রবল পরাক্রম আর সাহসে ভর করে। এছাড়াও কার্গিল যুদ্ধ কিংবা ১৯৪৭ এর যুদ্ধ গুলোতে স্ট্রাটেজিক প্রয়োগে জয় গুলো সত্যিই

রোমহর্ষক - ঘটনা- ১
১৯৪৭ - প্রায় ৭০০ পাঠান হানাদার, পাকিস্তানি সেনা কে মেজর সোমনাথ শর্মা, ল্যান্স নায়েক বলবন্ত সিং সহ আরো চার সৈনিক প্রায় ৬ ঘন্টা আটকে রেখেছিল। নিজেদের প্রাণের বিনিময়ে মূল্যবান ৬ ঘন্টা সময় দিয়েছিল ভারতীয় বিমান বাহিনী কে শ্রীনগরে নেমে যুদ্ধ প্রস্তুতির জন্য। সেদিন যদি ঐ প্রতিরোধ না হোতো তাহলে হয়তো শ্রীনগরে পাকিস্তান পাকাপাকি ভাবে দখল করে নিতো।সেটা সম্ভবপর হয়নি, মেজর সোমনাথ শর্মা আটকে দিয়েছিল প্রায় ৭ গুণ বেশী সংখ্যক পাকিস্তানি সৈন্য কে।

পুনশ্চ - বাকি আরো কিছু ঘটনা উদাহরণ অসম যুদ্ধ জয়ের খবর ২৬ জানুয়ারি দিনভর অল্প স্বল্প তুলে ধরার প্রচেষ্টা করবো।
ছবিসূত্র- ইন্টারনেট
রিপাবলিক ডে ছবি- সৌরজ্যোতি ঘোষ।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ রাত 00:00

দ্বিতীয় যুদ্ধ উদাহরণ- উড়ন্ত হকার হান্টার লেফট্যানান্ট কুক - এক হান্টার প্লেনে নয় প্লেন এর তেজ!

৭ সেপ্টম্বর ১৯৬৫- কলাইকুন্ডা এয়ারবেস এ অতর্কিত আক্রমণ করে পাকিস্তান (পূর্ব- আজকের বাংলাদেশ এর) দিক থেকে। ৬ খানা সেবর এফ-৮৬ এর হামলায় ইন্ডিয়ার প্রায় ৬ টি বিমান পুরোপুরি ধ্বংস, রানওয়ে ও ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, এই আক্রমণ যুঝতে না যুঝতে আবার আরো চার পাক বিমান এগিয়ে আসতে শুরু করলো কলাইকুন্ডা বেস এর দিকে। ঠিক সেই সময়ে দমদম এয়ারপোর্ট থেকে হান্টার বিমান নিয়ে এগিয়ে গেলেন ফ্লাইট লেফটেনান্ট এলফ্রেড কুক। সাথে ফ্লাইং অফিসার সুবোধ চন্দ্র মামগাই। মামগাই কে ব্যাকআপ হিসেবে রেখে কুক একা এগিয়ে গেল আক্রমণে, উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এয়ার ডগ ফাইট শুরু হোলো এক ইন্ডিয়ান হানটার এর সাথে চার পাক সেবর  বিমান এর অদ্ভুত লড়াই। কুক হান্টার নিয়ে নিধন যজ্ঞ তে মেতে উঠল- একটি বিমান কে আকাশেই ধ্বংস করলো, দুটি কে প্রচন্ড আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং চতুর্থ টি কে তাড়া করে সীমানা থেকে বের করে দেওয়া- এরকম দৃষ্টান্ত পৃথিবীর বায়ু যুদ্ধে বিরলতম ঘটনা। শোনা যায় সেদিন হান্টারে শুধু ট্রেনিং এর জন্য ব্যবহৃত বলের মতো গোলা ছিলো, উচ্চ আক্রমণাত্মক গোলার পরিবর্তে। কিন্তু সেই ট্রেনিং গোলা দিয়েই এক বায়ু সৈনিক অদ্ভুৎ ভাবে চার প্রতিপক্ষ কে ঘায়েল করে ছাড়লো। ১৯৬৫ তে কুক কে স্যভিয়র অফ কলাইকুন্ডা নামে অভিহিত করে বীর চক্রে ভূষিত করা হয়। কিন্তু এর থেকেও বড়ো সম্মান আসে অন্য ভাবে- পাকিস্তান নিজের চার জেট এর পরাজয় এর ঘটনা লুকানোর জন্য প্রচার করে- সেদিন ৯ টি ভারতীয় হানটার আক্রমণ শানিয়েছিল চার পাক সেবর জেট কে! সেটা শুনে কুক এর প্রতিক্রিয়া ছিলো- "অসাধারণ কম্প্লিমেন্ট, ধন্যবাদ পাকিস্তান- তোমরা কি সত্যিই সেদিন ৯ টা ইণ্ডিয়ান হানটার প্লেনের আঘাত অনুভব করেছিলে?"

ছবিসূত্র- ইন্টারনেট।
রিপাবলিক ডে ছবি- সৌরজ্যোতি ঘোষ।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, সকাল ৮:৩০




মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"