বইমেলা ২০২৫ - পাঠপ্রতিক্রিয়া


##পাঠ প্রতিক্রিয়া ৪ - বইমেলা ২০২৫
"ঐতিহাসিক রচনাসমগ্র"
স্রষ্টা - গজেন্দ্রকুমার মিত্র।
প্রকাশক - মিত্র ও ঘোষ
পৃষ্ঠা- ১০০৮
কিছু বই পড়ার পরে এই অনুভূতি টা হয়: একসাথে অনেকগুলো মনুষ্যচরিত্র কখন অজান্তে আঁকা হয় ছাপার পাতা থেকে মনের খাতায়। 
আচ্ছা, ঐতিহাসিক গল্পের অন্যতম উপাদান কি বলুন তো?আমরা অনেকেই ভাবি ঐতিহাসিক উপন্যাস মূলত বীররসের সাহিত্য কাহিনী নিয়ে অতীত পথে ভ্রমণ-স্মৃতিচারণ। কিন্তু বর্তমান কালে দাড়িয়ে ঐতিহাসিক গল্প বা তার চলচ্চিত্রায়ন দেখলে মনে হয়- ঘুঘু , ঘৃণা বেচতে গল্প প্রকাশ করছে! সে সিনেমাই হোক কিংবা গল্প; শুধু ঘৃণা বিক্রি হচ্ছে! ঠিক এই সময়ে দাড়িয়েই দেখলাম এই  উপন্যাস গুলো বর্তমান কালের কালনাগিনী হিংসা ঘৃণা "বিকৃত" বিক্রি কে সপাট চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে!কিভাবে? একদম নিপাট প্রেম-ভালোবাসা দিয়ে।
আর সেই ভালোবাসার মৌতাতে তাই কাহানী গুলো হয়ে উঠেছে চিরকালীন। পুরো বই টা শেষ করার পরে যে বিষয় গুলো স্পর্শ করেছে বলে মনে হয়েছে- 
১। নারীর পুরুষ দুইয়ের নজরেই প্রত্যেকটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রচিত সমান ভাবে আলোচিত। 
২।প্রত্যেকটি উপন্যাসেই প্রেম, ভালোবাসা অন্যতম চালিকা শক্তি। আজকাল ঐতিহাসিক ক্ষেত্র উল্লেখে(গল্প, কিংবা চলচ্চিত্র) একরাশ রগরগে রাগ কিংবা ঘৃণার আবহ সৃষ্টি করে সেখানেই এই বইটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী স্রোতে ভালবাসা প্রেমের আঙ্গিকে গল্প বলে যায়। সেই গল্প পথে নিয়ম মেনে রাজা-গজা-প্রজা-সেপাই সান্ত্রী মন্ত্রী, যুদ্ধ, প্রতিহিংসা, কূটনীতি, লোভ মিলেমিশে একাকার এক পরিস্থিতি হলেও গল্পের কেন্দ্রে রয়ে গিয়েছে প্রেমরস। 
উপন্যাস সমূহের অতি অতি সংক্ষিপ্ত উল্লেখ- 
১। নাগকেশরের মধু- এটা ক্লাসিক পর্যায়ের। অওরঙ্গজেব এর বোন রৌশনারা আর কন্যা জিনতউন্নিসা র মধ্যে এক সাধারণ কে নিয়ে বিকৃত প্রেম বনাম স্বর্গীয় ভালোবাসার অনুভূতির লড়াই। 

২। নারী ও নিয়তি- অওরঙ্গজেবের হিংস্র কুটিলতার বিরূদ্ধে হেরে যাওয়া ভালোবাসার লড়াই। লেখক উল্লেখ করেছেন অনেকাংশেই এই গুলি সত্য ঘটনার উপর নির্মিত কাহিনী। এখানে সরস্বতী বাঈ চরিত্রটি একদিকে ভালোবাসার মাধ্যমে হেরে যাওয়া শাহজাদা মুরাদ এর শেষ সম্বল হয়ে উঠেছে; মুরাদ ও সরস্বতী বাঈ এর হাজার মারাত্মক জীবননাশী ভুল কে ভুলে গিয়ে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছে।

৩। সোহাগপুরা - এই গল্পের নায়ক, থুড়ি নায়িকা লালকুয়া বেগম, অতি সাধারণ ঘর থেকে প্রচুর অর্থের উচ্চাশা তাকে বাদশা পত্নী বেগম হতেই হবে, সেই সুত্রধরে গল্প এগিয়ে চলে এবং জাহান্দার শা নামক মদ্যপ বাদশার বেগম হয়ে উঠে -বেলাগাম ক্ষমতা অর্থ অনর্থ ডেকে আনে জীবনে। এইখানেই সেই কুখ্যাত গল্পের খোঁজ পাওয়া যায়- বেগমের ভয়ঙ্কর মজা দেখার অজুহাতে ভরা যমুনায় নৌকা ডুবিয়ে সাধারণ মানুষের ডুবে মড়ার হাহাকার শোনার গল্প। এইকাহিনী তে ফারুকশিয়ার, সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয়, আসাদ খা এই চরিত্র দের দেখা যায়। শেষ অব্ধি এই গল্প অর্থ ভুলে ভালোবাসার বার্তাই দিয়ে যায়। 

৪। দহন ও দীপ্তি- বাজিরাও ও মস্তানি র প্রেম কাহিনী নিয়ে মারাঠা প্রেক্ষাপটের বিখ্যাত গল্প। সিনেমা তো অসাধারণ লেগেছিলো, কিন্তু গল্প টা পড়ে আরো ভালো লেগেছে আরো অনেক নতুন আঙ্গিকে বিভিন্ন চরিত্র প্রকাশিত হয়েছে। এই নিয়ে আগে একদিন একটা পোস্ট ও করেছিলাম ফেসবুকে। (নীচে সেটা দিলাম লিঙ্ক সহ)

৫। বহ্নিবন্যা- এই কাহিনী তে দেখা যায়  দুই বোন এর মাধ্যমে সিপাহী বিদ্রোহ দানা বাঁধছে । এক বোন আমিনা চরিত্র নানাসাহেব এর অত্যন্ত স্মার্ট সহচরী, তার মাধ্যমে গল্পে বাঙালি থেকে ইংরেজ, পঠান অনেক চরিত্র জুড়ে যায়। এই উপন্যাস টি বেশ ভালো লেগেছে পড়তে, প্রচুর চরিত্র সুবিন্যস্ত ভাবে বিরাজ করছে।

৬। রাণী কাহিনী তে ভারতের পূর্ব প্রান্তেও যে এক কালে শক্তিশালী রাজশক্তি বিরাজ করেছে সেই রাজনৈতিক কথা উল্লেখ এর সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন প্রেম ভালোবাসা বিরহ আত্মত্যাগ প্রতিশোধের ছবি।

৭। রাখাল ও রাজকন্যা- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্ররা কাল্পনিক হলেও মুঘল অন্তিম পতন এর ছবি ফুটে উঠেছে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের মতো ঐতিহাসিক চরিত্রের মধ্যে দিয়ে। দরিদ্র পঠান আর  শাহজাদির প্রেম এর মধ্যে দিয়ে মুঘল শাসন এর শেষ দিন গুলো উল্লেখিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

চারটি উপন্যাস মুঘল সময়ের , একটি পূর্ব ভারতের, একটি মারাঠা উত্থান কাল ও আরেকটি মারাঠা পতন কালের মোট সাতটি উপন্যাসের  এই রত্ন সংকলনটি সত্যি অসাধারণ।।

 ©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ১৯ মার্চ ২০২৫।।
- ৪। দহন দীপ্তি নিয়ে আগের পোস্ট :
https://www.facebook.com/share/p/1BCLkqXhsU/
"সিনেমার দৃশ্য আর গল্পের বই এর মধ্যে পার্থক্য- 
ফিশফ্রাই এর কোটিং আর ভিতরের পুরু ফিশ ফিলেট এর মতো। ফিশফ্রাই এর কোটিং এর কদর থাকলেও আসল আকর্ষণ ভিতরে মাছের পুরুত্বে। গল্পের বই হোলো সেই মাছের ফিলেট, এই যে দেখুন এই পৃষ্ঠায় এসে বাজিরাও এর মৃত্যুর পরে মস্তানি এবং কাশীবাঈ এর কথোপকথন পড়ার পরে মনে হবে সঞ্জয় লীলা বনশালী র মাসটার পিস "বাজিরাও মস্তানির" শেষ দৃশ্য টা এরকম হলেও হয়তো ভালো হোতো, আরেকটু বেশী মন ছুয়ে যেত হয়তো! 
পুনশ্চ: গজেন্দ্রকুমার মিত্রের এই বইটার চতুর্থ উপন্যাস ছিলো এটি, এতো সুন্দর ঐতিহাসিক বিবরণ গোগ্রাসে গিলছি। ১০০৮ পেজ এর বই টার সবে এক তৃতীয়াংশ শেষ হোলো এই তিন চার দিনে। একের পর এক অসাধারণ ঐতিহাসিক ভ্রমণ হচ্ছে, সামনের কয়েক দিন উইকেন্ড এ ভালোই অভিজ্ঞতা হবে আশা করছি। "
##পাঠ প্রতিক্রিয়া ৩ - ২০২৫ বইমেলা
পুস্তক নাম - প্রথম দেখা (মনীষী ও খ্যাতিমানদের)
স্রষ্টা- সৈকত নিয়োগী।
প্রকাশক- Patra Lekha পত্রলেখা  
মূল্য- ২৯০
পৃষ্ঠা- ১৬০

একটা সম্পূর্ণ অন্য ধরনের বই পড়লাম, পড়ার পরে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে বেশ কিছু সময় অবচেতনেই ভেবে শিহরিত হলাম! প্রায় ৩৫ জোড় ল মনীষী প্রথম বার একে অপরকে দেখছে-জানছে; আলোচনায় যুক্তি-প্রতিযুক্তি তরঙ্গের মতো সমুদ্রতটে আছড়ে পড়ছে। পড়তে গিয়ে নিউটনের সেই উপমা টা মনে হচ্ছে- এই মহান জ্ঞান সমুদ্রের তটে- তরঙ্গেও পৌছতে পারিনি, শুধু নুড়ি পাথর কুড়িয়েছি- না, নুড়ি পাথর ও অনেক বেশী; সেখ্ত্রে সমুদ্রটা তো দেখা যায়। আমি বোধ হয় দূর থেকে শুধুমাত্র জ্ঞান সমুদ্রের আহ্বান শুনেছি- এবং সেই বিশেষ প্রক্রিয়া টাও সম্পন্ন হয়েছে এই "প্রথম দেখা" পুস্তকের মাধ্যমে। বিখ্যাতদের দার্শনিক মননে প্রথম আলোচনার আলো- 
আচ্ছা,কোন আলোচনা রেখে কোন আলোচনাটার কথা বলি বলুন তো? - কখনো হিটলার কে ধ্যনচাঁদ সবিনয়ে সন্মুখে প্রস্তাব প্রত্যাখান করছেন তো কখনো ভগিনী নিবেদিতা মুখের উপর নন্দলাল বসুর চিত্র সমালোচনা করছেন, ভুল ধরিয়ে দিচ্ছেন। এদিকে চে গ্যভেরা যদি নেহেরু কে চীন নিয়ে জানতে চান তো নেহেরু লাল আপেল এর স্বাদ এর মাধ্যমে দার্শনিক উত্তর দিচ্ছেন। বিপ্লবীদের বড়দা হেমচন্দ্র ঘোষ স্বামী বিবেকানন্দ কে কাছ থেকে দেখে শিখছেন, আর সমাজ কে শেখাচ্ছেন স্বামীজি রক্ত মাংসের অনুপ্রেরণা, তিনি ভগবান নন তিনি বিপ্লবীদের প্রধান বিপ্লবী! সুভাষচন্দ্র রোমা র‌্যলার আলোচনা বেশ অন্যরকম- মহত্মা গান্ধীর প্রভাব ও অসহযোগ শেষে বাস্তব মেনে আক্রমণাত্মক প্রতিবাদ এর বীজ বপন। রবীন্দ্রনাঠ ঠাকুর এবং আইনস্টাইন যদি হয় দর্শনের বৈজ্ঞানিক প্রতিফলন তাহলে রামমোহন লোহিয়া এবং আইনস্টাইন এর আলোচনা দেখায় রাজনৈতিক ও সমাজিক দর্পণে বৈজ্ঞানিক যুক্তি। 
আরো অনেক এরকম অসাধারণ আলোচনার আকর নিয়ে বই টি সাজিয়েছেন সৈকত নিয়োগী। আগের বার লেখকের নেতাজীর গুপ্তচর পড়ে বেশ ভালো লেগেছিল, এইবার এই বইটি পড়ে অসাধারণ সব অভিজ্ঞতার সন্ধান পেলাম। ধন্যবাদ লেখক এবং প্রকাশক কে, এই ভিন্ন বিষয়ের বই সবার সন্মুখে নিয়ে আসার জন্য। 
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
##পাঠ প্রতিক্রিয়া ২- ২০২৫ বইমেলা

পুস্তক নাম - টিকিট টু পাকিস্তান।
স্রষ্টা- সুপ্রিয় সাহা।
প্রকাশক- খসড়া প্রকাশনী।
মূল্য- ২২৫
পৃষ্ঠা- ১০৬

বই টার নাম টা একটু ঘিলু তে ধাক্কা দেয়- টিকিট টু পাকিস্তান! আহা, পাকিস্তান শুনেই কুর্সি কে পেটি বেশ শক্ত করে বেঁধে ফেলেছেন! হ্যাঁ বইমেলায় নতুন লেখক দের নতুন বই ঘুরে দেখার সময়ে এই হেডিং টায় চোখ দুটো আটকে গেলো খসড়া প্রকাশনী র স্টলে। ভিতরের বিষয় দেখতে গিয়ে আবার আরেকটা ধাক্কা! ", আপনাকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া উচিৎ"- বর্তমানে প্রচলিত ও প্রচারিত দেশ-পক্ষে-বিপক্ষের বাণী! ব্যস একটু ভালোভাবে এইবার বই টা দেখতে শুরু করলাম। অনেক গুলো ছোট গল্পের সমাহার। সংগ্রহ করে নিলাম। বাড়ি ফিরে পড়ে দেখি লেখক সুপ্রিয় সাহা মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা দ্বন্দ্ব, মানসিক জটিলতার বিষয় গুলো রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক ক্ষেত্রে একদম দৈনন্দিন গল্পের আকারে প্রকাশ করেছেন। প্রতিটি গল্প আমাদের সাভাবিক জীবনে ঘুরে ফিরে আসে কিন্তু এক গভীর জীবনবোধের অবলম্বনে। 

১। টিকিট টু পাকিস্তান- এক মধ্যবিত্ত নিজের কানে নিজের মনের থেকে বিস্ময়কর ভাবে শোনে আপনাকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া উচিৎ"
২। অমিতের মধ্যবিত্ততা- মধ্যবয়সে সংসারি পুরুষের মনের ক্রাইসিস।
৩।আজ মালতির বিয়ে- পোস্টমাস্টার গল্প সটাইলে এক সরকারী কর্মচারী যখন ভোটের কাজে গিয়ে সন্তান সম কারো কাছে করা নিজের প্র্মিস ভুলে যায়!
৪।পেপার বিভ্রাট- সব অপমান সয়েও বৃদ্ধ মনে পেপার পড়ার আকুতি!
৫।অবিনাশকে কেউ চেনে না - কর্মবিহীন উদ্যমহীন  এক বছর ৩৫ এর কিছু না করেও এক মহানুভব কাজের মধ্যে নিজেকে চিনিয়ে দেওয়া।
৬। আয়না মানুষ- নিজের অবচেতনে নিজের অপছন্দ কে অনুভব করে বিচলিত হওয়া
৭।চার্জার - এক নবীন উকিলের এক উৎকেন্দ্রিক অসহায় ক্লায়েন্ট এর অদ্ভুত কেস না লড়েও মনের মধ্যে কেস নিয়ে শুধু ভেবে যাওয়া!
৮।পোভার্টি লাইনের এপার ওপার- সরকারি সার্ভে কর্মীর বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা যা বাস্তবে ঘটে যায় 
৯। মেয়েটা- একটি মেয়ের মেট্রো আত্মহত্যা চোখে দেখে তার মধ্যে অনুশোচনা এবং আত্মপক্ষ সমর্থন , আত্মহত্যার আগে অজানা অচেনাকে যৌন লোলুপ দৃষ্টিতে দেখে হঠাত সেই দেহের আত্মহত্যায় বিস্মিত হওয়া।
১০। পরিবর্তন- শান্ত মনে হিংসুটে দৈত্যের আবির্ভাব, ছোট গুমটি চায়ের দোকানের বিজনেস রাইভ্যালরি!
১১।বিজ্ঞানের হাত- টেকনলোজির আগমনে শিল্পীর হাত আর পরিবার এর বোঝা বয়ে নিয়ে চলা হাতের মধ্যে সুতীব্র টানাপোড়েন! 
১২। সংক্রমণ- মধ্যবয়সী সাংসারিক হোমমেকার মহিলা মধ্যে জীবন ভোগের ইচ্ছে গোপন সংক্রমণ।

প্রত্যেকটি গল্পই অন্য ধরনের,গভীর মানসিক দিক সহজে প্রকাশিত হয়েছে। 

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

বইমেলা ২০২৫ - পাঠপ্রতিক্রিয়া 
প্রতিবছর বইমেলা থেকে অমূল্য সম্পদ সংগ্রহ করার পর শুরু হয় রস আস্বাদন। আর, নতুন লেখক লেখিকার নতুন ধরনের লেখা দিয়েই আমি বই বছরের নববর্ষ এর শুভারম্ভ করি। নতুন মানুষের নতুন বই এক নতুন আমেজ এনে দেয়, যা  নতুন ভাবে জাগিয়ে দেয়। চলুন প্রথম পাঠ প্রতিক্রিয়া দিয়ে শুরু করা যাক। 

##পাঠ প্রতিক্রিয়া ১
আমার মন বেড়ায় গো
লেখিকা: মানসী গুহ Manasi Guha
প্রকাশক: ঋত
দাম: ১৮৯

আমাদের প্রজন্মে সিংহভাগ বাঙালির চিরপরিচিত নিকট বেড়ান বলতে "দীপুদা" বা বড়োজোর পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় ভেসে ওঠে। কিন্তু এর বাইরেও বাঙালির dna তে আরেকটা যায়গা ছিল যা এখন প্রায় ভুলে বসে আছে- বাঙালির একান্ত আপন পশ্চিমে ভ্রমণ।
এখানেই লেখিকা সুন্দর সহজ সরল শব্দ জাদুর মাধ্যমে উজাড় করে দিয়েছেন তার দীর্ঘকালের গিরিডি-শিমুলতলা-মধুপুর এর অভিজ্ঞতা।  এই লেখার মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে হঠাত মনে হবে হয়তো দাদার কীর্তি র কোনো চরিত্র হয়ে গেছেন পাঠক, এবং চুটিয়ে বাংলার পশ্চিম উপভোগ করছে মনের ভিতরে। শেষের দিকে ছত্রে ছত্রে উঠে এসেছে সেই বিশাল সব বাঙালি প্রাসাদ, বাঙালি পাড়া আজ বাঙালি কে হারিয়ে জলসাঘরের জমিদার বাড়ির মতো অসহায় অপেক্ষায় বছর গুণে চলেছে- বাঙালির নতুন প্রজন্ম যেন বারেক ফিরে চায়, আবার আরামের স্বাস্থ্যোদ্ধারের পশ্চিমে ফিরে আসে, আবার! 
বেশ ভালো লাগলো বইটি, সাথে খুব সুন্দর সব স্কেচ। প্রত্যেকটা লেখা কে যোগ্য সঙ্গত দিয়ে গেছে। এইবারের বইবছরের একদম প্রথম ক্ষণে বাঙালির হারিয়ে যাওয়া পশ্চিম ভ্রমণের মিষ্টি মধুর গল্পে মন ভরিয়ে দিলো।

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"