পরীক্ষার রাতে গীতার বাণী মাতার মুখে অন্তে সপরিবার ঘুমাইল শান্তিতে সুখে

গতকাল গভীর রাতে এক বাবার মনে হোলো সে ছোটবেলায় ফিরে গেছে, টিভি তে মহাভারত সিরিয়াল দেখছে! বিশেষ করে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের আগের পরিস্থিতি। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে গীতার বাণী শুনিয়ে যুদ্ধের জন্য তৈরী করছে। যাই হোক, তখন ঐ বয়সে গীতার বাণী আর কি বুঝবে! সেই পুঁচকে বেলায় নিজের সাথে অর্জুন কে মিলিয়ে বাবা ধরেই নিয়েছিল অর্জুনের এটা এনুয়াল এক্সাম। পরীক্ষার দিন ভয় পাচ্ছে, আর শ্রীকৃষ্ণ ওকে বুঝিয়ে পরীক্ষা দিতে পাঠাচ্ছে। 
যাই হোক, কাট টু সেই বাবার গতরাতের গল্পে-  অনেকদিন পরে প্রায় সেম দৃশ্য ফিরে পেয়েছে বাবা। রাত সাড়ে এগারোটা বেজে গেছে, সাইডলাইন থেকে থেকে এনুয়ালের ক্ষুদে ক্লাশ থ্রির পরীক্ষার্থী হঠাত গাণ্ডীব ভঙ্গ করে চেচিয়ে উঠল- "কাল সকালে পরীক্ষা তে মনে হয় কিছুই পারবো না"। তারপর ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে সে- ওদিকে তার মা পুরো এসকালেশন মোডে ঝাপিয়ে পড়েছে! ছেলে কে এখন বুঝিয়ে ঘুম পাড়াতেই হবে। এইবার ছেলে এক এক করে অদ্ভুত সব দার্শনিক প্রশ্ন শুরু করছে; ঘড়িতে বাজে বারো টা পাঁচ। - "কাল আমার বন্ধু রাও তো পরীক্ষা দেবে মা, ওদেরও কি চিন্তা হচ্ছে মা? চিন্তায় ঘুম আসছে না যে আমার।" ব্যস, মা সাথে শুরু করলো জ্ঞান যোগ। "শোনো, সোনা:  সবাই সমান ভাবেই পরীক্ষা দেবে, তুমি যাদের কথা ভাবছো তারাও এখন ঘুমোচ্ছে। তুমি তাদের জন্য ভেবো না। এই পরীক্ষা সবার। তার জন্য আজকের রাতে নিশ্চিন্ত ঘুম দরকার। নাও, এইবার শুয়ে পড়ো!"
রাত ১২:২৫ : হঠাত তড়াক করে উঠে 
এইবার পরের প্রশ্ন ছুড়ে মারলো পুত্র- "মা, আমি যে প্রশ্ন গুলো পড়েছি, সেইখান থেকেই কি সব আসবে? না এলে কি হবে, মা?" একটু ভয় ভীতি মিশ্রিত প্রশ্ন। মা এইবার জ্ঞানযোগ থেকে কর্মযোগে ঢুকলো- "কেনো, মনে ছিলো না যখন রিল্স দেখতে, ধেই ধেই করে খেলে বেড়াতে তখন তো এই গুলো মনে আসেনি। যে যেমন পড়েছে, সে তেমন ফল পাবে। তোমার যদি সব পড়া থাকে তাহলে চিন্তা কিসের!" 
ছেলে প্রায় কেঁদে দিচ্ছে সেই সময়ে মা আবার ত্রাতা হয়ে বলে উঠলো- "আমি তো তোমাকে সব পড়িয়ে দিয়েছি, চিন্তা নেই ওর মধ্যে থেকেই যা আসার আসবে।নাও, ঘুমাও এবার।"
এদিকে রাত সাড়ে বারোটায় এরকম গুরুত্বপূর্ণ গুরুগম্ভীর আলোচনা শুনে বাবার মধ্যেও ভাব এসে গিয়েছে- সে হঠাত ছেলে আর মা কে উদ্দেশ্য বলে উঠল- "তোমরা শুধু পড়েই যাও, ফলের আশা কোরো না! এই রাত বিরেতে না ঘুমিয়ে তত্ত্ববোধিনী সভা বসালে রেকর্ড মার্কস নিয়ে ফেল করবে। ঘুমোও এখন এই সব আবোলতাবোল আলোচনা বন্ধ করে!" 
এরপরেই হঠাত; ট্রাম্প এর কোলে যেন জ্যান্ত জেলোনোস্কি ছিটকে পড়লো ইউক্রেন থেকে! ছেলে শায়িত বাবার বুকের উপর উঠে বসে বলছে- "তার মানে তুমি বলতে চাও আমি ফল পাবো  না! ফেল করবো!"
- রাত বিরেতে ঘুম ভাঙ্গিয়ে ছেলে যদি ভীম-কীচক খেলে, ছেলের মা যদি গীতা পাঠ করে তখন সেই বাবার মধ্যে একটা কমল মিত্র ভর করবেই করবে। ছেলের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বাবা বলে উঠলো- "বলতে চাইছি না, বলছি।
বাবার বুকেউপর না বসে নিজের বিছানায় শুয়ে আমাদের উদ্ধার করলে ভালো হোতো না কি? আজ এখন না ঘুমালে কাল পরীক্ষার খাতায় ডিম পেড়ে আসবি।" 
পরমুহূর্তেই হঠাত কেমন একটা অশনী নীরবতা, যেন ঝড় আছড়ে পড়বে। "ভ্যা-ভ্যা-ভ্যা-ভ্যা  মাআআ, বাবা বলছে আমি কাল ফেল করবো।"
ব্যস মাদার ইন্ডিয়ার অগ্নিদৃষ্টি পুরো ছাই করে দিলো বাবা কে। মা কঠিন স্বরে বলে উঠলো- "এমন অমানবিক লোক ও হয়, বাচ্চা ছেলে কাল পরীক্ষা দেবে তাকে কিনা বলছে ফেল করবি! ছি ছি ছি!"- বাবা সেই "ছি ছি" শুনে প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় প্রত্যুত্তরে  বলে ফেলেছে "ননী"। 
ব্যস মা কেশব রূপে অভিশাপ দিলো - "এই বিছানায় আজ এই লোক টা ত্যাজ্য মানুষ। আজ আমি ঘুমাবো, ছেলে ঘুমাবে কিন্তু এক্সাম শেষ না হওয়া অব্ধি এই বিছানায় ঠাই নেই আর তোমার!" এমন অভিশম্পাত শুনে বাবা সাথে সাথে ক্ষুদ্র দলের সাথে জোট বাধার চেষ্টা করলো। "সোনাবাবা আমাকে ছাড়া ঘুমাবেই না" । ছেলে সাথে সাথে বলে উঠলো - না বাবা, এখন এই কদিন দরকার নেই, এমনিতেও ক্রিকেট-দাবা-তারা দেখা হবে না, গল্প শোনা হবে না তাই এই কদিন আড়ি।" ছেলের কথা শুনে বাবা বুঝলো যাকে ছোট বন্ধু ভাবছিলো সে হঠাত শুভেন্দু হয়ে গেছে! 
তারপর আর কি! অশ্বত্থামার মতো টুক টুক করে বাবা একা জাগো "অনিদ্রা অভিশাপ" নিয়ে পাশের ঘরে গ্যারেজ হোলো।
পুনশ্চ: কিছু সময় পরে মোটামুটি রাত দুটোর দিকে মা আর ছেলে এসে বাবা কে টেনে নিয়ে গেলো, তারপর তাহারা সুখে শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়লো। 
ওহ হ্যা সব চরিত্র কাল্পনিক হলেও অনেক কিছু গল্প হলেও সত্যি। গল্পের চরিত্রদের সাথে কারো মিল খূঁজে পেলে নিজ গুণে এইবারের মতো মাফ করে দেবেন!

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ৩ মার্চ ২০২৫

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"