ফিরে দেখি এক যুগ এক সাথে পার।গিফ্ট অফ ম্যজাই থেকে বক শিয়ালের উপহার।।
দাম্পত্যে অন্যতম আকর্ষণীয় দিকটি হোলো দুজন দুজন এর প্রয়োজন টা বোঝা, এবং সেই অনুসারে কাজ করা। ওহ না ,এইখানেই শেষ না! এরপরেই আসল ট্যুইস্ট আসে প্লটে - "ধুশ, তুমি বোঝোই না আমার কি দরকার"।
আহা, বুঝলেন না তো? তাহলে ঝেড়েই কাশি। বারো বছরের যাত্রায় এই উপলব্ধি দুই পক্ষেই সমানে সমানে। এই ধরুন এক পত্নী এক যুগের দাম্পত্য উপলক্ষে স্বামী র জন্য প্রয়োজনীয় একটি উপহার সংগ্রহ করেছে। বর্তমান মুঠোফোন এর থেকে অনেক আপডেটেড অনেক উন্নত- একটি খাওয়া "আপেল"। ব্যপার টা হোলো বর্তমান মোবাইল টি আর সেইভাবে সাড়া দিচ্ছে না, তাই পতির প্রয়োজনে নতুন ফোনের আমদানি। ফোন টা উপহার হিসাবে দেওয়ার পরে পত্নী খুব খুশী,"কাজের জিনিষ দিয়েছি!" এদিকে বর বাবাজি এতো ভালো গিফ্ট পেয়েও হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছে না! একদিকে উদ্ভাসিত, উৎফুল্ল! আরেকদিকে শঙ্কিত- সে গোড়ার থেকে প্রায় স্যামসাঙ্গ এন্ড্রয়েড ফোনের ভক্ত। এখন তাঁকে আচমকা একদম অন্য ধরনের বিষয় শিখতে হবে। এই বয়সে আবার নতুন শিক্ষা! - " গিফ্ট টা খুব ভালো , কিন্তু গুচ্ছের নতুন জিনিষ শিখতে হবে, আগে জানলে বলতাম এটা না অন্য টাই দাও"। - এই শুনে পত্নীর ও সটান প্রত্যুত্তর- " আগেভাগে জানিয়ে দিলে সেটা আবার গিফ্ট কি? জানি তো ভালো জিনিষ সহ্য হবে না। আমার উচিৎ ছিল একটা পায়রা কিনে দেওয়া, ওটাই ফোন হিসাবে ব্যবহার করতে, চিঠি পাঠাতে। ভুল করেছি এইসব আপেল জোগাড় করে"!
যাই হোক বিমর্ষ পত্নী। পতি ভাবলো, হতাশ মুখে আশার আলো ফোটাতেই হবে। টুং করে আইডিয়া দিয়া র মতোন হিয়ার মাঝে জ্বলে উঠলো। পতি পর্যবেক্ষণ করেছে- পত্নী এই ডিজিটাল যুগেও, প্রশ্ন লেখা থেকে গুচ্ছের স্কুল বা পড়াশুনার কাজ এখনো খাতা অথবা মোবাইলে ঠেলে-ঠুকে করে। সুতরাং আব কি বার, ল্যাপটপ উপহার!" যেমন ভাবনা তেমন কাজ, ব্যস লেনোভো ল্যাপটপ লেলিয়ে দিয়ে পতি হাসি হাসি মুখে দাড়িয়ে আছে। স্ত্রী একবার ল্যাপটপ টা নেড়েচেড়ে দেখে বললো- "গিফ্ট ভালো, কিন্তু এ দিয়ে আমি কি করবো? এ সামলানো অনেক হ্যাপা! এসবে তো তুমি কাজ কোড করবে , আমার কাজেই লাগবে না। তুমি বোঝোই না কি দরকার, ধুশ! আগে থেকে একটু বলতে তো পারতে" - স্বামী বোঝাবার চেষ্টা করলো সে নয় আসামী!- আরে, তোমার কাজে সুবিধা হবে তাই ভাবলাম সেটা কাজে লাগবে। কিন্তু পত্নী র এক্সপ্রেশন বুঝিয়ে দিলো দায়িত্বশীল ছড়ানো হয়েছে।
না, এই খানেই আপনারা ভাবছিলেন গল্প ইতি গজ হবে। হবার কথা থাকলেও সেটা হোলো না, কারণ এক তৃতীয় শক্তি নজর রাখছিলো পরিস্থিতির উপর। সে অবস্থা বুঝে সুঁচ হয়ে ঢুকল। এসেই দুজনকেই বললো- "বাবা, মা তোমাদের আই ফোন আর ল্যাপটপ নিয়ে চিন্তা নেই! ওদের ব্যবহার একদম ঠিকঠাক হবে"। অভিভাবক রা এই শুনে চোখ কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো- "মানে কি বলছিস তুই? এই গুলোর ব্যবহার তো শিখতে হবে। সে বেশ হ্যাপার ব্যপার আমাদের দুজনের জন্যেই।" সেই শুনে একটা বাচ্চা জটায়ু লাফিয়ে উঠে দুজনের হাত থেকে ল্যাপটপ ব্যাগ আর মোবাইল কেস দখল করে বলে উঠল- "এগুলো এখন আমার"!
পুনশ্চ: গিফ্ট অফ ম্যজাই পড়ে বড়ো হওয়া যুগল ভুলে গেছিল তার আগেও আরেকটা গল্প আছে বক আর শিয়াল এর নিমন্ত্রণ এর। এরকম নিমন্ত্রণ একমাত্র দাম্পত্যেই সম্ভব এক সাথে ভালোবাসা, আবেগ এবং টাইট দেওয়ার অপূর্ব মিশ্রনের নাম দাম্পত্য।ও হ্যা এখন বাংলা, ফ্রন্ট ইনস্টল করতে মাত্র তিরিশ মিনিট সময় দিলাম- সতপাত্র পুরো, যা হোক এবার পাত্র পেলে - এমন কি অর মন্দ ছেলে?
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২৩ নভেম্বর ২০২৪।।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন