প্রতিবাদ পর্ব ১ (১৪ আগস্ট - ১লা সেপ্টেম্বর)
পদাতিক পথে নামছে প্রতিদিন।
বিচার এর দাবিতে গুণছে দিন।।
মানুষ হেঁটে চলেছে দিনে রাতে,
মিছিল টা দিন দিন বেড়েছে বহরে তে।
কেউ হেঁটেছে পাড়ার গলির পথে,
মিশে গেছে অচেনা অজানা সাথে।
কেউ হেঁটেছে রাজপথে বহুজন মাঝে।
বিঁধছে কাঁটা সকাল বিকেল সাঁঝে।।
প্রহর গুণছে অন্তিম ক্ষণ প্রতীক্ষার
সে দিন আসবে কবে, কবে পাবে বিচার?
কেউ হেঁটেছে রাজনীতি বা অরাজনৈতিক মতে
শাসক তখন বিভেদ দেখেছে আরাম কেদারাতে।
আজকে যখন আসছে মানুষ আগল খুলে মনে
প্রতিধ্বনি শুনছে সময় জাষ্টিস হবে আর জি করে ।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ । ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪।।
২।।
অন্যায় যে করে,
আর অন্যায় কাজে যে প্রমাণ লোপাটে
জনগণ ঘৃণা যেন তারে "তৃণ"সম দহে।।
রবিঠাকুরের "ন্যায়দণ্ড" থেকে শেষ লাইন দুটো ধার করে সময়ের রথে উঠিয়ে দিলাম। দেখলাম এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর্দায় পর্দায় জড়িয়ে গেছে খল অভিসন্ধি। আচ্ছা, আপনার আমার জীবনে যদি প্রামাণ্য বিষয় হারিয়ে যেতো আপনি আমি কি ভাবতাম বলুনতো? এই পরিস্থিতিতে সবার জীবনের একটা উদাহরণ মনে আসছে।
ধরুন, ক্লাশ এইট-নাইন বা টেন এ অঙ্কে জ্যামিতিক আকার থেকে প্রামণ্য বিষয় টিই লোপাট করে দিয়েছে প্রশ্নকর্তা। এখন কি প্রমাণ করবেন আপনি?
কিছু প্রমাণ করার নেই! প্রশ্নকর্তা নিজের গাফিলতি ঢাকতে ঘোষণা করলো - প্রশ্ন টাচে, পুরো দশে দশ জনতা আবার আমার অমর বশ! তাই না?
এইভাবে পর্যায়ক্রমে প্রমাণ্য বিষয় বিলুপ্ত হতে হতে এইবারে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম হয়ে গেছে। পরীক্ষার্থী বুঝে গেছে এই অঙ্ক টাচ করে উত্তর না দিলে অনুদানে ভাতায় দশে দশ পেলেও পূর্ণমানে পাশ মার্ক সে পাবে না। কারণ বাকি প্রশ্নের উত্তর অলরেডি খারিজ হয়ে গেছে প্রশ্নকর্তার সিদ্ধান্তে। সেই দশ পেয়ে বারংবার ফেল করে আবার একই স্থানে ফিরে আসার পদ্ধতি শুরু হবে।
জনগণ এর উপলব্ধি তে জাগ্রত হয়েছে -
এইবার সঠিক বিচার হোক,
প্রামাণ্য বিষয় লোপাট করলে মহাশাস্তি হোক।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ৩১ আগস্ট ২০২৪।।
৩।।
ফোঁস এর ফাঁসে।
মনুষ্যত্ব হাসে।।
কেউ যদি করে ফেলে ফোঁস
বাবুরাম সাপুড়ে করেছে কি তারে বশ?
বিনের তালে মত্ত নাচন নাচায় তোরে আজ
বিষের থলি হারিয়ে গেলে, সে দেবে না আর কাজ।
সাপুড়ে সদা আপন মনে সাজায় বিষের ছবি,
সে বিষ গিলে তোরাও কি বল- পাপের ভাগী হবি?
তবুও তোরা, করবি আজ অনেকেই ফাঁস ফোঁস?
ভাব, ভেবে দেখ- করবি কিনা-"যদি সত্যি মানুষ হোস!"
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ৩০ আগস্ট ২০২৪।।
৪।।
জনগণ কি এমনি শক্তিমান?
অন্যায়ের বিচারে নিভৃতে কাঁদে ওদের ও প্রাণ।
খবর টা দেখে খুব খারাপ লাগলো, কোন খবর টা? - এক পুলিশ কর্মীর চোখ এর আলো চিরদিনের জন্য কালো হয়ে আঁধারে হারিয়ে গেলো। এই দু:খ জনক ঘটনার আবহে সেই কর্তব্যরত পুলিশ এর প্রতি সমবেদনা হয়তো কিছুই না, কারণ যে ক্ষতি ওনার হয়েছে তা পূরণ হবার নয়।
যদিও, এই কয়েক সপ্তাহে পুলিশ অনেক অপ্রত্যাশিত বেশ কিছু ভুল করেছে। কিন্তু সেই ভুল এর সূত্র উৎস কি?
দিনের শেষে পুলিশ একটা মানুষ, তাই আমরা সাধারণ মানুষ রা ভাবি- কেনো পুলিশ এর বিবেক জেগে উঠল না? কেনো সে আমাদের মিছিলে পা মেলালো না। কেনো সে প্রতিবাদে সামিল হোলো না। হ্যা ঠিক, একদম ঠিক, আমাদের প্রেক্ষিতে হয়তো ঠিক। পুলিশ ও মানুষ, যতক্ষণ উর্দি ও ডিউটির বাইরে ততোক্ষণ পুলিশ এর সব মানবিক দিক গুলোই বিদ্যমান, এবং নিভৃতে আলোচনায় দেখবেন পুলিশ মানুষ টাও ঠিক আমার আপনার মতোই বিচলিত। সেই মানুষ গুলো হয়তো প্রকাশ করতে পারছে না, রাষ্ট্রের হুকুম পরোয়ানা বারন আছে।
কিন্তু, যেই মুহূর্তে ডিউটি তে ঢুকে গেলো , হয়তো পুলিশ এর দায়বদ্ধতা তখন চেয়ার এর প্রতি। যে কেউ ই এসে সেই চেয়ারে বসুক পুলিশ সব ভুলে আলাদিন এর শক্তিশালী সেবক। সেই চেয়ার যে নির্দেশ দেবে ভুল ঠিক না বুঝে কর্তব্যের খাতিরে মেনে চলতে হবে। পুলিশ এর দৃষ্টিতে তার আনুগত্য প্রশাসন এর উপর। প্রশাসন যখন সমাজ কে পরিচালন করে সেই ভিত্তিতে পুলিশ সমাজ বন্ধু। এখন,কিছু পুলিশ এর বেশ কিছু জঘন্য অপকর্ম যেমন আমাদের মনে বিদ্বেষ এর উদ্রেক করে আবার কোনো বিপদ-আপদ এর সঙ্গে মোকাবিলার প্রশ্ন আসে প্রথমেই পুলিশ এর কথা মনে পড়ে - মানুষের যেকোন হঠাৎ সমস্যার প্রাথমিক সমাধান হয়ে দাড়ায়।
ও হ্যা- ঠিক, পুলিশ হোলো শাসক এর শেষ ডিফেন্স! আচ্ছা ডিফেন্স ও কি কখনো ইচ্ছাকৃত ভুল করে না? মাঝেমধ্যে ফুটবলেও তো সেমসাইড গোল হয়। কখন বলুন তো? ঐ যখন গোলকিপার এর পাশে থাকা ডিফেন্স ও মনে প্রাণে " অন্যায় এর বিচার চায়"। তখন গোলকিপার হঠাৎ দেখে সামনে ডিপ ডিফেন্স গড়ের মাঠ হয়ে গেছে। এক গোলকিপার কে একুশ জনের চাপ সামলাতে হয়। পরমুহূর্তেই গোলকিপার দেখে বিধির বাঁধন ছিড়ে জালে আটকে গেছে বল।
জনগণ কি এমনি শক্তিমান?
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২৯ আগস্ট ২০২৪
৫।।
ফুলে ফুলে দোলে দোলে
বাকিদের প্রতিবাদ কি গেলে ভুলে?
আজ টিভি খুলে মনে হতেই পারে দ্বৈত দৈত্য এর লড়াই এর পূর্বাভাস দেখছি! কিন্তু ভেবে দেখুন তো বছর বছর চলে আসা বাইনরি র বাইরেও একটা বিশাল লড়াই প্রতিবাদ এর জাগরণ দেখতে পেয়েছে সমাজ-সময়।
সেই লড়াই টা কখনো নাগরিক, কখনো পেশাগত, কখনো রাজনৈতিক। তাই একটাই কথা কেউ যদি বাইনারি ভাবে বা বলে তাঁকে সুস্পষ্ট ভাবে আঙ্গুল দিয়ে দেখান বিভিন্ন ভাবে-মতে প্রতিবাদ হয়েছে। এখনো হচ্ছে এবং সেই প্রতিবাদ আরো তীব্রতর হবে। মিডিয়া তে চলা দুটি ফুলের লড়াই না, এটা এখন সবার লড়াই। যদিও, দুই ফুলের মধ্যেও অনেকে এই লড়াই এর সৈনিক-প্রতিবাদী ।
একটু স্মৃতিচারণ করে দেখুন এই প্রতিবাদ পুরো সমাজ এর
১। ডাক্তার দের তীব্রতর প্রতিবাদ মিছিল।
২। মীনাক্ষী ও dyfi দের মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ার।
৩। ১৪ তারিখ রাজ্য জুড়ে রাত দখলের ডাক মা মেয়ে বোন স্ত্রী দের।
৪। ডার্বির আবহে ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান মহামেডান সমর্থক দের প্রতিবাদ।
৫। একে একে অঞ্চলে গণ নাগরিক মঞ্চে নাগরিক জনের ।
৬। মীনাক্ষী ও dyfi দের মাধ্যমে হসপিটাল এর ঘর ভাঙ্গা রুখে দেওয়ার।
৭। আইটি কর্মী দের বিশাল প্রতিবাদের
৮। বিভিন্ন পেশা থেকে এগিয়ে এসে মিছিলে হাঁটার।
৯। স্কুলের দিদিমণির মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হ্বার।
১০। বিভিন্ন স্কুলের প্রাক্তনী দের বিশাল মিছিল।
১১। শিক্ষক দের মিছিল।
১২। যৌনকর্মী দের দুর্গা মূর্তি তৈরী তে মাটি না দেওয়া, এবং মিছিল করা।
১৩। রূপান্তরকামী দের মিছিল।
১৪। নাট্য ও সাংস্কৃতিক জগত এর মিছিল।
১৫। কংগ্রেস এর লালবাজার অভিযান।
১৬। মেটিয়াবুরুজ এর মাটিতে প্রতিবাদ মিছিল।
১৭। লালবাজারে বামেদের মিছিল
১৮। বিজেপির স্বাস্থ্য ভবন অভিযান
১৯। ছাত্রদলের মাধ্যমে বিজেপির প্রভাবিত নবান্ন অভিযান মিছিল, da আন্দোলন কারী ও চাকরী প্রার্থী দের মিলিত যোগদান।
২০। বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষ দের মিছিল।।
আরো অগুণতি মানুষের প্রতিবাদ এটা। সবাই আসুন🤝 "বিচার হবেই"
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ । ২৮ আগস্ট ২০২৪।।
৬।।
একটু আগে, আজ ঘটে যাওয়া একটি প্রতিবাদ মিছিল এর ব্যপারে বলেছি। হয়তো অনেক বিষয়েই সেই দলের সাথে মতের মিল হয়না, তবুও আজকের প্রতিবাদ মিছিলের পক্ষে মত দিয়েছি। এখন,মোবাইল স্ক্রল করতে গিয়ে দেখলাম মহা প্রতিদ্বন্দীর জয়। তার থেকেও মহৎ আরেকটি প্রতিবাদ দেখলাম। চোখ দুটো স্ক্রিনে আটকে গেলো!
মোহনবাগানের খেলায় আর জি করের বিচারের আর্জি। সাথে দুই প্রতিদ্বন্দী মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গল এর উপস্থিতি টিফোতে। মনে মনে আউড়ে নিলাম জাষ্টিস ফর আর জি কর!
ওহ, দেখলাম এই বিচারের দাবি করতে গিয়ে এক চেঞ্জ এসে গেছে মনে। কি চেঞ্জ? প্রতিদ্বন্দী- মত বিরোধি তাদের সাথেও কন্ঠ তুলে সোচ্চার হচ্ছি- জাস্টিস চাই। কি হোলো বলুনতো?
কই এতো বছরে, এতো কিছু তে এই মনের আগল তো খোলেনি। আজ কেনো খুলে গেলো? আজ কেনো মিলে গেলো একটাই স্বরে- বিচার চাই আর জি করে। শোক-দু:খ থেকে হয়তো এরকম হয়। সে যে যেভাবে করুক, যে পক্ষ ,যে যে ভাবে আওয়াজ তুলবে একসাথে বলবো- বিচার চাই আর জি করে।। বিচার চাই এই অন্যায়ের। এই উন্মুক্ত আবেগ প্রতিবাদ যেন দল-মত দেখে বিচলিত না হই। দলদাস না হই কভু।।
পুনশ্চ: মোহনবাগান অভিনন্দন। জিতে ফেরো ফাইনাল।❤💛💚🤎
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২৭ শে আগস্ট ২০২৪
৭।।
এক দ্রৌপদীর সম্ভ্রম হরণে কুরুক্ষেত্র জাগে
লক্ষ জনতা সুদর্শন বেগে বিচার আজই মাগে।।
নিশীথ রাতে নির্লজ্জ সভা বসেছে ,
নিশির ডাকে সব মহারথী দ্রুত এসে জুটেছে।
মাঝে পড়ে আছে যাজ্ঞসেনীর নিভে যাওয়া অগ্নি,
ভুলে গেছে সভা; ঘরেতে ও তাদের আছে মা-মেয়ে-স্ত্রী ভগ্নী।
পেয়াদা আজ দ্যুতি হারিয়ে দ্যূতসভার পাণ্ডব
অন্যায় হয়েছে দেখেও এককোণে নিষ্প্রভ নীরব।
"লুকিয়ে ফেলো- মিটিয়ে দাও" আছে যতো প্রমাণ,
সভা মাঝে নিথর দেহে লুণ্ঠিত সমাজের সম্মান।
সব লুকিয়ে, বিজয় গর্বে অট্টহাসে কৌরব সহ কর্ণ
হঠাৎ দেখে জনগণ এর মধ্যে জেগেছে সব বিকর্ণ।
ভীষ্ম দ্রোণ কৃপের সক্ষম নীরবতার মাঝে,
জনগণ আজ বিকর্ন প্রতিবাদে সামিল সকাল বিকেল সাঁঝে।
শকুনির মন্ত্রণায় ধৃতরাষ্ট্র সিংহাসনে বিচার করে বসে,
অন্ধ রাজার বন্ধ বিচারে রাজপুত্র প্রকাশ্যে হাসে।
অনেক দূরে খবর পায়নি তখনও কৃষ্ণা সখা
তাইতো আজ অবিচারে ঝরে গেলো ধন্বন্তরী-কাদম্বিনী শাখা।
কৃষ্ণ কি আজ চুপ রবে তার অভির্ভাব দিনে?
লক্ষ কোটি ডাকছে আজি এসো হে জনার্দনে।
এক দ্রৌপদীর সম্ভ্রম হরণে কুরুক্ষেত্র জাগে
লক্ষ জনতা সুদর্শন বেগে বিচার আজই মাগে।।
পুনশ্চ: এই ভিডিও দেখার পরে আর কি কিছু প্রশ্ন বাকি থাকে? আর কিছু জিজ্ঞাস্য থাকে? অভয়া র চারিপাশে ঘিরে আছে আজকের কৌরব, মান হারিয়ে সাদা পোশাকে নীরব পান্ডব। বাকি কৃষ্ণ কোথায়? ঐ যে আমার আপনার মাঝে- নারীসম্ভ্রম পুনরুদ্ধারে যুগে যুগে এসেছেন পুরুষোত্তম, এসেছেন জনতার মধ্যে।
জনতা জেগে উঠছে দিনে দিনে -
আর জি করে বিচার মোরা ঠিক নেব ছিনিয়ে।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।। ২৬ শে আগস্ট ২০২৪
৮।।
দাবি উঠল আরেকবার।
আর জি করের চাই বিচার।।
বঙ্গজীবন পরিবর্তিত দুই সপ্তাহে। দুই সপ্তাহ কাল আগেও মধ্যবিত্ত বাঙালির রবিবার বিকেল জুড়ে থাকতো সুসিদ্ধ পাঠা-ভাত ঘুম- একটা সিনেমা- পরিবার নিয়ে সুখ আহ্লাদ- একটা ভালো বই- ইণ্ডিয়ার ক্রিকেট ম্যচ, খেলা- ব্যাস দিন শেষ। জীবন এইভাবেই অতিবাহিত হচ্ছিল। এদিকে, তখনো কিন্তু কালসাপ ধীরে ধীরে ছোবল মেরেছে। মধ্যবিত্ত ভেবেছে সাপ তো জঙ্গল মাঠের প্রাণী, সে আসবে না ঘরে। চোখ বুজে গুষ্টিসুখ উপভোগ করি, আন্ডাবাচ্চা নিয়ে।
কিন্তু এক লহমায় সেই ভুল ভেঙ্গে গেলো- হিংস্র সাপের ছোবল আছড়ে পড়লো "এই বেশ ভালো আছি ধারণায়" ! সব ভুল ভেঙ্গে গেলো- সেই অভিশাপ ছিটকে পড়লো ঘরে- আর জি করে, শহরের প্রাণ কেন্দ্রে। ঘরের মেয়ের এই অকল্পনীয় নির্যাতন বুকে ঝড় হয়ে উঠলো,বাঙালি জেগে উঠল - জাস্টিস চাই!! সবাই একসাথে গর্জে উঠল। ওহ, অনেকেই ভাবলো এতো দুই দিনের প্রতিবাদ, ও ঠিক থেমে যাবে।আচ্ছা, প্রতিবাদ থামলো কি?- না থামেনি।
সিবিআই-সুপ্রিম বিচারালয়- প্রশাসন - শাসক যখন কেউই কিছু এখনো সঠিক ভাবে প্রকাশ করতে পারছে না তখনো কি সবাই চুপ হয়ে ম্রিয়মাণ হয়েছে? না হয়নি। বরং প্র্তিদিন- দিন দিন ঝাঁঝ বাড়ছে। আজও কিন্তু রবিবার ছিলো, আজও আনন্দ করার দিন ছিলো। কিন্তু কোথায় কি - কিসের সুখ যখন মনেতে জমে একরাশ দু:খ। আজ দুই সপ্তাহ পরেও একের পর এক আন্দোলন আছড়ে পড়ছে। দিকে দিকে মিছিলে, আন্দোলনে , জমায়েতে মানুষের ভিড় অকল্পনীয় ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে উত্তরোত্তর। সবার দাবি বিচার চাই।
পুনশ্চ: লোকালে- বিরাটি বণিক মোড়ে প্র্তিদিন প্রতিবাদ মঞ্চ হচ্ছে। আজ সেই প্রতিবাদ আন্দোলনের আরেকটি অধ্যায় যুক্ত হোলো বিরাটি হাই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র, বর্তমান ছাত্র , অভিভাবক , শিক্ষক দের দ্বারা সংগঠিত এক বিশাল মিছিলে। আজ বিভিন্ন ব্যচ এর প্রাক্তনী দের মাধ্যমে। বিদ্যাপীঠ, মহাজাতি, আরো অনেক স্কুলের প্রাক্তনীদের মাধ্যমে এক আওয়াজ উঠেছে, এবং সেই দাবি দিনকে দিন বেশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজ্য জুড়েই অনেক স্কুল এর প্রাক্তনী দের এই দাবি আরো বৃদ্ধি পাবে। সবাই এগিয়ে আসুন-
দাবি উঠল আরেকবার।
আর জি করের চাই বিচার।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২৪শে আগস্ট ২০২৪
৯।।
একুশ আইনজ্ঞের প্রতিরোধে,
বিচার চলে আস্তে ধীরে
মানুষ তখন রাস্তা জুড়ে
এক সাথে সব দাবি করে
বিচার পাবোই আর জি করে।।
সুকুমার রায় সে কোন যুগে লিখেছিলেন একুশে আইন। আজ হঠাত দেখি একুশে আইন, প্রতিরোধ করছে একুশ পোষ্য, যারা আইনের দুয়ারে প্যাচ কষছে জনগণের টাকায়। কোথায় বলুন তো হচ্চে এসব?-
ঐ যে গো, ঐ দেশে
যেখানে আইন কানুন সর্বনেশে !
কেউ যদি মিটিং-মিছিল-বিরোধিতা করে
প্যায়দা এসে পাক্ড়ে ধরে,
কাজির কাছে হয় বিচার
— ওহ না বড়ো-মেজো দুই কাজি খুব বকে দিয়েছে পেয়াদা দের। তাই মিটিং মিছিলে আটকানো তে রাশ পড়লো, ভালো। যাইহোক এগিয়ে চলি ..আইন মানে একুশে আইনের পথে।
ডার্বি খেলার ঠিক আগের রাতে,
শাসক বলে- বন্ধ খেলা এবার মাঠে ;
বিচার চাই টিফো বানালে —
দম্দমাদম্ লাগায় পিঠে,
কোটাল এসে উদম ঝাড়ে—
দুই প্রতিদ্বন্দী আজ জোট বাঁধে ৷৷
যে সব লোকে পদ্য লেখে,
তাদের ধ'রে খাঁচায় রেখে,
কানের কাছে নানান্ সুরে,
নামতা শোনায় রাজ্য ঘুরে,
সামনে রেখে হেনস্থার খাতা
হিসেব কষায় বিরোধিতা ৷৷
হঠাৎ সেথায় রাত দুপুরে,
হারিয়ে যায় সে মেয়ে ঘুমের ঘোরে।
কাজের পরে কাজের ঘরে,
হিংস্র পিশাচ ধ্বংস করে।
নৃশংসতার পাক ঘুরিয়ে
আত্মহত্যার হিসাব রাখে ৷৷
তাইতো আজি কাজির ঘরে
একুশ শকুন উঁকি মারে
বিচার সভার আয়োজনে
প্যাঁচকষে যায় নিখুত প্ল্যানে।
জাগছে মানুষ, জাগছে মনে ঘৃণা নিয়ে দিনেরাতে,
জাগছে আগুন-ক্ষোভ মনের ভিতর রাস্তাতে।
একসাথে সব গর্জে উঠে দাবি করে
বিচার পাবোই আর জি করে।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।। ২৪ আগস্ট ২০২৪
১০।।
এই বোঝা বাড়বে কতো আর?
আর জি কর এর বিচার চাই এইবার।।
বাঙালী জাতি, মানে আমাদের বর্তমান সময়ের সাথে জটায়ুর প্রথম সিন - স্ক্রিনে আবির্ভাব এর বেশ ভালো মিল আছে। মনে পড়ছে:জটায়ু, সোনার কেল্লায় ট্রেনে উঠে বসলেন সিটে। তারপর বললেন সেই কথা টা-
ওহ, আপনি এদিকে ভাবছেন- আমাদের বর্তমান এর সাথে এই দৃশ্যের মিল কোথায়?
কেন! ভেবে দেখুন দেখি মিল পাবেন- অনেক খেটে কষ্ট করে একটা সরকার এর পরিবর্তন করেই আমরা ভাবি অনেক কাজ করে ফেলেছি। এইবার "মারিব মৎস খাইব সুখে", পরিবর্তন এর পরে আয়েশ করে ভাবতে ভালোবাসি :
"তাঙ্গ মত কারো, বহুত হো গায়া, যাদা হো গায়া"। তাই তো, একটা সরকার পরিবর্তন হলে আমরা ১৭ বছর- ৩৪ বছর- ১৫ বছর- চুপচাপ কাটিয়ে দেই। যদিও মাঝে একটা অশান্ত সময় এসেছিল(তখন মানুষ এর ক্ষোভ উগরে একের পর এক পরিবর্তন দেখেছিল বাংলা )পরপর অস্থির পারাবার পার হবার জন্য।
ওহ, জটায়ুর দৃশ্যে তো আরেক জন আছে। বলতেই ভূলে গেছি- উল্টো দিকে বঙ্গ সমস্যা স্তূপীকৃত হয়ে কুলির পিঠে ওঠে বসে আছে। এদিকে কুলি কালের গান গায় বিষাদে-
এই বোঝা বাড়বে কতো আর?
আর জি কর এর বিচার চাই এইবার।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২৩ শে আগস্ট ২০২৪
১১।।
নিজেদের ফেরার আর কোনো উপায় নাই।
আর জি কর এর বিচার এইবার চাই।।
আগ্নেয়গিরি র অগ্ন্যুৎপাত স্বচক্ষে দেখিনি। ঐ ন্যাশনাল জিওগ্রাফি বা আফ্রিকান সাফারির শেষ দৃশ্যই সম্বল ছিলো, ভাবছিলাম বর্তমান পরিস্থিতি কে বর্ণনা করতে সেই উপমাই ব্যবহার করবো। কিন্তু না, ভেবে দেখলাম ঠিক মনমতোন হচ্ছে না - ঠিক অনুভবে আসছে না ব্যপারটা। তাহলে কি ভাবে বর্ণনা করি! হঠাৎ দেখি রান্না ঘরে দুধ জ্বাল দেওয়া হচ্ছে; যেই ভয়ানক উত্তাপে দুধের বাটি উপচে পড়ছে প্রায় ঠিক তখনই উনুনের আঁচ কমে যাচ্ছে এবং আবার ছিটকে বেরিয়ে আসতে উদ্যত দুধের স্তর ফিরে নেমে আসছে বাটির ভিতরে। উপরে একটা একটু গাঢ় আস্তরণ ও উঁকি দিচ্ছে, সর পড়ছে। এই দেখে জাস্ট মাথা ঘুরিয়েছি-মনের মধ্যে জামা পরা অর্কিমিডিস যেনো নেচে উঠল- ইউরেকা ইউরেকা। বুঝতে পারছেন না তো কি বলছি? এই অশান্ত সময়ের কথা বলছি!
"অভয়া" র বিচারের দাবিতে উদ্যত আন্দোলন এখন উত্তাপে বাইরে ফেটে বেরোতে উদ্যত;গনগনে আঁচে ফুটন্ত দুধের স্তরের মতোন ছিটকে বেরিয়ে আসতে চাইছে সমাজ থেকে। ঠিক সেই সময়ে কোর্ট-পুলিশ-সিবিআই-প্রশাসন বিচারের প্রেক্ষিতে অনেকটা সময় ব্যয় করে ঐ আঁচ টা কমিয়ে দিচ্ছে। তখ্ন মনে হচ্ছে, তাহলে কি এইবারও হবে না হোলো না সুবিচার!
মানুষের লড়াই কি বিফলে যাবে জাঁতাকলে পড়ে? ঠিক তখনই একটা সরের মতোন খাঁটি ব্যুত্পত্তি ছেয়ে যায় সমাজের মননে, কি? - এতো লোকের একসাথে পথচলার মহাশক্তি। হতে পারে সব বিচার এর বাণী নিভৃতে মিলে মিশে চুপ হয়ে গেছে কিন্তু মানুষের এই প্রতিবাদ টা তো খাঁটি। এতে রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক, নারী-পুরুষ, প্রবল প্রতিদ্বন্দী ক্লাব, সমাজ সব এক হয়ে শুধু একটাই দুধের সরের মতোন খাঁটি দাবি পেশ করছে - বিচার চাই! আর এই দাবির শক্তি এতোই প্রবল, রাষ্ট্র তাঁকে উপেক্ষা করতে চাইলেও শেষ করতে পারছে না। ভুলিয়ে দিতে চেষ্টা করলেও করলে ভূল করবে, দুধের বাটি আবার উঠলে উঠবে ভয়ঙ্কর ভাবে। আসলে উনুনের আঁচ তো নিজের গায়ে লেগেছে সমাজের, এইবার আর ফেরার যায়গায় নেই। আজ কেউ এই দাবি র থেকে সরে নিত্য নৈমিত্তিক জীবনে ফিরে গেলেও অভয়া কাণ্ডও তাঁকে শান্তি দেবে না। ফিরে ফিরে আসবে ভয়ে-আশংকায় যেকোন রূপে যে কোনো ঘরে। কারণ বিচার বাকি ছিলো! তাই-
নিজেদের ফেরার আর কোনো উপায় নাই।
আর জি কর এর বিচার এইবার চাই।।
পুনশ্চ: আজ সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই কি বলে তার উপর নির্ভর করবে তদন্তের গতি। তাই দেখা যাক কি হয়, আশা করা যাক অভয়া বিচার পাবে।
আর যদি আগের কেসের মতোই সি বি আই আবার ঝোলায়? খেলুক যে,যেখানে যা, খেলা র।মানুষ তো রাস্তায় আছে ,
রাষ্ট্র নির্মাণ এর কাজ জারি আছে, অসুবিধের জন্য দু:খিত।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২২ আগস্ট ২০২৪
১২।।
বিচার চাই আর জি কর।
পুণ্যমাটি বিচারের অপেক্ষা কর।।
এই পোস্ট টা করতে গিয়ে প্রথমে ইতস্তত করছিলাম। ঠিক হবে কি? মধ্যবিত্ত মানসিকতায় বেড়ে ওঠা শ্যাম ও কুল দুই দিক রক্ষা করে চলার মধ্যে ফেসবুক স্ক্রল করতে গিয়ে চক্ষু স্থির হয়ে গেলো। একটা গনগনে আগুনে প্রতিবাদ, ভেবে দেখলাম এর থেকে পুণ্য প্রতিবাদ কি হতে পারে?
একটি পেজে একজন উল্লেখ করেছেন এইবার যৌনকর্মীরা অভয়া নির্যাতনের প্রতিবাদে এক অনন্য উপায় নিয়েছেন। প্রতিজ্ঞা করেছেন- প্রথাগত চৌকাঠ এর পুণ্যতম মাটি দেবেন না পুজোর সময়। চমকে উঠলাম!
তারা বাঙালি সমাজ এর ভিতমর্মে আঘাত হেনেছে মা দুর্গার মূর্তিতে। কেন বলুন তো?আসলে প্রবাদ আছে, মানুষ তার সব ভদ্রতা-শিক্ষা-আচার ভালো কিছু যৌনকর্মী র বাড়ির চৌকাঠে রেখে তারপর ঢোকে। এই বিশ্বাস থেকে জাগ্রত হয়েছে সেই ধারণা যৌনকর্মীর চৌকাঠের মাটি পবিত্রতম, এবং দেবী মূর্তিতে তা অপরিহার্য। কিন্তু না, এইবার সেই প্রথা হয়তো হবে না। সেই মাটির পবিত্রতার অধিকার এইবার এই নষ্ট সমাজের নেই; যতক্ষণ না নরপিশাচ দের শাস্তি হবে এই মাটির অধিকার সমাজ হারাবে।তাহলে, মা এর মূর্তি অসম্পূর্ণ থাকবে? হয়তো সেটাই ভবিতব্য। অসম্পূর্ণ রূপের মাতৃ মূর্তি বারং বার জানান দেবে আমাদের চরম ব্যর্থতার, অভয়া বেদনা রূপে!
পুনশ্চ: এই পোস্টটা র সত্যতা আমার জানা নেই, কিন্তু পোস্টের গুণ যেন বিচারের দাবি কে শতগুণ বাড়িয়ে দিল। যৌনকর্মী দের প্রতি সম্মান অনেকগুণ বেড়ে গেলো। তারা উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদে বলে উঠল-
বিচার চাই আর জি কর।
পুণ্যমাটি বিচারের অপেক্ষা কর।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২১ আগস্ট ২০২৪
ছবি: স্ক্রিনশট রেখেছি (বাস্তবিক সত্যতা বিচার করা হয়নি, কিন্তু যৌনকর্মী দের এই মনোভাব কে কুর্নিশ জানাই
সূত্র: লিংক https://www.facebook.com/share/p/DBp8FBZaYMxetQRR/?mibextid=oFDknk
)
১৩।।
"মাঠের বিপক্ষ আজ একটাই, হবে তার পরাজয়
কল্যাণ এসে পাশে দাড়িয়েছে নেই আজ ভয়"
কিছু বিক্ষুব্ধ সময় অবিবেচক সিদ্ধান্ত ভাসে,
শাসক ভয় পায় আশেপাশে প্রতি নিশ্বাসে।
অঙ্গুলিহেলনে ভেস্তে যায় ক্রীড়াভূমির আয়োজন,
ওরা তো প্রতিদ্বন্দী সদা থাকবে দূরে কর্ণ-অর্জুন।
কুরুক্ষেত্রের অধিকার কাছে টানে দুই হৃদয়,
শান্তিপর্বে পথে টংকারে ধনু গাণ্ডীব-বিজয়।
সূতপুত্রের কাঁটাতার পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাসে মিশে
বিচারের দাবিতে দুই ভাই ক্রোধে আজ অট্টহাসে।।
দেব-দ্বিজ-রক্ষ-দানো কে না ত্রাসে ডরায়।
দুই চিরপ্রতিদ্বন্দী যখন হাতে হাত মেলায়।।
"বিপক্ষ আজ একটাই হবে তার পরাজয়,নিশ্চয়।।"
ইস্ট-মোহন ময়দানের কর্ণ-অর্জুন। আজ এই দুই চির প্রতিদ্বন্দীর কুরুক্ষেত্র ডার্বি নির্বাসিত।এই প্রেক্ষিতে, তাদের বোনের বিচারের দাবিতে শান্তি পূর্ণ মিছিলে লাঠি দিয়ে আক্রমণ শানালো প্রশাসন। ঠিক সেই সময়ে যখন একের পর এক সদস্য কে প্রিজন ভ্যানে তুলছে আর বেদম লাঠি চার্জ চলছে দেখলাম এক লিডার এর আগমন। সামনে এসে উপস্থিত হোলো কল্যাণ চৌবে। সামনে দাড়িয়ে প্রিজন ভ্যান থেকে মুক্ত করলো দুই দলের সমর্থক দের, লাঠি চার্জ ও থেমে গেলো। আই এফ এর প্রধান কে লাঠি পেটা করলে ফিফা অব্ধি হয়তো জল গড়াতো- সেই আন্তর্জাতিক ভয়, হয়তো কাজ করলো। খেলার মাঠের বাইরে এক অন্য রূপে সন্মুখ সমরের লিডার হিসাবে দেখা দিলো কল্যাণ চৌবে।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২০ আগস্ট ২০২৪
১৪।।
আজকের রাখী পূর্ণিমা : সেদিন ১৯০৫ এ বঙ্গভঙ্গের বিরূদ্ধে পরাক্রমী বৃটিশ এর বিরূদ্ধে গর্জে উঠেছিল বাঙালি, কবির কলম রাখি বন্ধন কে বাঙালি ভাই-বোনের সম্পর্কে উপস্থাপিত করেছিলেন। আজ একশ কুড়ি বছর পরে সমাজ সময় অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। বাঙালি হয়ত অনেক দিকে নি:স্ব হয়েছে, তবুও ধিকিধিকি আগুন জ্বলে।যখন, এক বোনের নির্মম বিদায় বুকে শেল এর মতোন বেঁধে ঠিক তখন বাঙালি র ডি এন এ জেগে ওঠে- ফাইট বাঙালি ফাইট।
বাংলার মাটি বাংলার জল
বাংলার ঘটি বাংলার বাঙাল
এক হোলো এক হোলো,হে ভগবান।
বাংলার ঘর, বাংলার হাট,
আর জি কর, বিচার পাক।
বাঙালির পণ, বাঙালির আশা,
এইবার মরা গাঙে বিদ্রোহের স্রোতেভাসা।
বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন,
বাঙালির ঘরে যত ভাই-বোন
সুবিচারের আশায় আন্দোলিত সর্বক্ষণ।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ১৯ আগস্ট ২০২৪
১৫।।
সেদিন বুদ্ধবাবুর অন্তিম যাত্রা কালে এই ঘটনা ঘটে, সবাই যখন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শেষ শ্রদ্ধায় শোকে নিমগ্ন সেই সময়ে খবর পায় এই নারকীয় ঘটনার। মিনাক্ষী এসে পথ রুখে দেয় গাড়ির, চুপিসারে নির্গমন রুখে দেয় । "অভয়া" র নিদারূণ নির্মম বিসর্জন ছড়িয়ে পড়ে, জনমানসে। সেই শুরু, এটাই প্রথম স্ফুলিঙ্গ!
তারপর থেকে আজ যা গণজাগরণে পরিণত!
বিচার চাই আর জি কর।
১৬।।
যুগেযুগে পৃথিবীর সকল প্রতিদ্বন্দী লড়াই করে মাঠের।
নিভৃতে বিপদে নিজেরাই নিজেদের সব থেকে বন্ধু কাছের।।
❤💛💚🤎🤍🖤
এই ছবিটা দেখে কি বলবো ভাবছি, না কিছু বলার নেই। এরকম ছবি লাইফটাইম লকারের ভল্টে থাকবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেখবে একটা বাঙালী জাতি নিজের পরিচয় রক্ষায় এক হয়েছিল। ১৮ ই আগস্ট- তিন প্রধান মিলেমিশে প্রতিবাদ করেছিল নিজের বোন এর উপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের, দাবি জানিয়েছিল বিচারের।
❤💛💚🤎🤍🖤
মহাসংকট কালে পৃথিবীর সব প্রতিদ্বন্দী আসলে সব থেকে বড়ো বন্ধু, এই ছবিটা জানান দেবে।।
জার্সি তেও শেষে লাঠি মারলি!
এতো সাহস কোথায় পেলি?
ইস্ট মোহন কে ডরাস না!
তুই আর বাংলার কেউ না।
আর নেই কোনো উপায়
হায় পুলিশ হায় হায়।
মালিক এবার নাও বিদায়।।
পুনশ্চ: পুলিশ ফুটবল সমর্থক দের প্রিজন ভ্যানে তুলে দিয়েছিল। সেই দেখে প্রিজন ভ্যান আটকে দিয়েছে সমর্থকরা। বেরোতে দেয়নি- বলছে, তাদের ভাই বোনদের পুলিশ কে নিয়ে যেতে দেবে না। আজ ইস্ট মোহন মহামেডান সব এক হয়ে লড়ছে।।
১৭।।
একটাই "একতাই বল"!
আপনি জানেন না আঘাত টা কোথায় হেনেছেন। একসাথে বাঙালীর দুই ভিত্তি -ফুটবল ও রাজনীতি কে এক আসনে নিয়ে এলেন- আপনার বিরোধিতায়। হঠাৎ ভাবলেন; আজ থেকে পাঠশালা বন্ধ এর মতোন -খেলা ও বন্ধ, ছুটি তোদের ইস্ট-মোহন। ভাবলেন এই দুটো তো নিজদের মধ্যে মারামারি করে শেষ হয় সেরকমই কিছু করবে কিন্তু জোট বাঁধবে না, এঁরা যে বিপরীত!
কিন্তু আপনি ভুল করলেন। দুই বিপরীত প্রান্তে থাকা দল সাধারণত এক হয়না। কিন্তু জানেন কি ওরাও জোট বাঁধে। বাস্তবের চাহিদা মেটাতে- একটা হিটলার কে রুখতে ইতিহাস রুজভেল্ট-চার্চিল-স্তালিন কে এক করে দেয়। একটা ইন্দিরা এমার্জেনশি কে রুখতে সংঘ-বাম-সেকুলার হাত মেলায়। এক দোর্দন্ডপ্রতাপ এর আধিপত্য রুখতে এই ২০২৪ সারা ভারত এক হয়ে তার শক্তি প্রশমিত ও নিয়ন্ত্রিত করে দিতে পারে।
আপনি যা ভাবেন নি সেটাই হয়েছে, ইস্ট মোহন সমর্থক জোট বেঁধেছে। আপনি ইস্ট মোহন কে এক করে দিলেন , এঁরা প্রকাশ্যে আপনার বিরোধিতা করবে। বাঙালী সমাজ এক হয়ে বিরূদ্ধে যাবে।
ও হ্যা, আপনি কিন্তু নিজেই রাম-বাম-শ্যাম কে এক হবার কথা বলেছেন। এতদিন এই বক্তব্য রাজনৈতিক ডিভিডেন্ড দিয়েছে,কিন্তু আজ পরিস্থিতি বিপরীত। আজ বাস্তব চাইছে আপনার এই কথাও সত্য হোক। কারণ- এই সময়ে স্রেফ দুই পক্ষ; শাসক ও বিপক্ষ। ভাবুন তো সেটা কি করলেন? মিলিয়ে দিলেন বাম-রাম-শ্যাম যা এইসময়ের দাবি ছিলো। বাঙালি রাজনৈতিক বিরোধিতাও হয়তো জোট বেঁধে করবে।
ছোটবেলায় পড়া, সেই একটা লাঠি ভঙ্গ হলেও চারটে লাঠি একত্রে না ভাঙ্গার গল্প টা পড়ে নিন আরেকটি বার। একটাই -একতাই বল!
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ১৮ আগস্ট ২০২৪
১৮।।
"উত্তরাধিকার"- আগের দিনের মিছিল এর সূত্রপাত।
"কালবেলা" - আজকের মিছিল এর ভাষ্য।।
"কালপুরুষ"- উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে কি?
আজকের মিছিল বেশ আক্রমণাত্মক, মুখ্যমন্ত্রীকে এবং পুলিশ কমিশনার কে বিঁধে ডিরেক্ট স্লোগান হোলো। আগের দিনের থেকে মধ্যম স্তরে উত্তীর্ণ হয়তো।
ও হ্যা "দ্রোহকালে" এপলিটিক্যল বলে কিছু হয় না,
হয় আপনি পক্ষে না হলে বিপক্ষে!!! নিরপক্ষেতা বলে এখন কিছু নেই!
পুনশ্চ: পুলিশমন্ত্রী ও পুলিশ নগরপাল কে যখন বাক্যবাণে বেঁধা হচ্ছে তখন এক পুলিশ কে দেখলাম ছবি তুলল ভিড়ের-জমায়েত-
"সব পুলিশ কি কাল্পনিক"?
ঘটি-বাঙ্গাল চাইবে বিচার অভয়ার আর-জি-করে!!
বন্ধু চল বল টা দে,
এগারো-র বারুদ ঢাল আশিয়ান আগুনে।
পাল খুলে দে নৌকা খানি ভাসুক নির্ভয়ে,
জ্বলন্ত মশাল পথ দেখাবে দারুণ আঁধারে।
আয়রে সবুজ আয়রে হলুদ মিলুক লাল-মেরুনে
ভয় পেয়েছে তাই তো আজ ডার্বি বন্ধ সমনে।
পারবে কি সে, রুখতে আগুন ব্যঘ্র যবে হুংকারে?
ঘটি-বাঙ্গাল চাইবে বিচার অভয়ার আর-জি-করে!!
পুনশ্চ: প্রতিবাদ এর ভয় পেয়ে ডার্বি বন্ধ করে দিলো
ছবি : ইনটারনেট থেকে প্রাপ্ত। ঋদ্ধিমান ভট্টাচার্য্য এর আঁকা
২০।।
শেষ এর দিকে লাইন টা দেখুন বন্ধু,
বন্ধ দুচোখ খুলে।
রায় পরিবার বুঝেছে সব,
বলে গেছে যা প্রযোজ্য সর্ব কালে।
বাবা লিখে জনগণ জাগান-জানান, পুত্র ফিল্ম দেখান।
"দড়ি ধরে মারো টান হীরকের রাজা শয়তান" ।।
সুকুমার রায়- বিচার।।
ইঁদুর দেখে মাম্দো কুকুর বল্লে তেড়ে হেঁকে-
"বল্ব কি আর, বড়ই খুশি হলেম তোরে দেখে ।
আজকে আমার কাজ কিছু নেই, সময় আছে মেলা,
আয় না খেলি দুইজনেতে মোকদ্দমা খেলা ।
তুই হবি চোর, তোর নামেতে করব নালিশ রুজু"-
"জজ্ কে হবে ?" বল্লে ইঁদুর, বিষম ভয়ে জুজু,
"কোথায় উকিল, প্যায়দা পুলিশ, বিচার কিসে হবে ?"
মাম্দো বলে, "তাও জানিস্নে ? শোন বলে দেই তবে ।
আমিই হব উকিল হাকিম, আমিই হব জুরি,
কান ধ'রে তোর বল্ব, "ব্যাটা, ফের করেছিস্ চুরি ?"
সটান দেব ফাঁসির হুকুম অম্নি একেবারে-
বুঝ্বি তখন চোর বাছাধন বিচার বলে কারে ।"
২১।।
বাঙালী একটা বড়ো ভুল করেছে এ যাবত কালে!
না ২০১১ এর কথা বলছি না। ওটা মস্ত ঐতিহাসিক ভুল!ওর আগেও আরেকটা বড়ো ভুল যা আপামর বাঙালী করেছে, কি বলুন তো?
মনে পড়ছে, একটা নিপাট ভদ্রলোক ক্যাপ্টেন কে আমরা ঘরের ছেলের বাদ দেওয়ার জন্য গো ব্যাক বলেছিলাম! "নো সৌরভ নো সাপোর্ট"।
সেদিনের সেই ক্যাপ্টেন ছিলেন রাহুল দ্রাবিড়।
আজ অনেক দূর হেটে এসে মনে হয় বুদ্ধবাবু কে হারাবার মতো বাঙালী মানসিক ভিত্তি সেদিন ঐ ভদ্রলোক মানুষ টা কে হারাবার মধ্যে দিয়ে তৈরী হয়েছিল- রাহুল দ্রাবিড়, ক্ষমা করবেন।
আপনি অন্য পর্যায়ের ভালো ভদ্রলোক, আমরা ভুল পক্ষ নেওয়া সেদিন থেকে শুরু করেছিলাম!
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৪।।
ছবি: ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত
২২।।
মানুষের জন্য লড়েছে যে সব পুলিশ।
বর্তমান ভবিষ্যত তাঁকে করবে কুর্নিশ।।
সাত দিন পরে অনেক সমালোচনার পরে কলকাতা পুলিশ এর কোনো পোস্টে কুর্নিশ জানালাম।কারণ ইনি, এবং আরো কিছু পুলিশ সেদিন অকুতোভয়ে লড়েছেন এগিয়ে গেছেন। দ্বিতীয় বার পুন: আক্রমণ রুখে দিয়েছেন রক্তে ভিজে। বাকি অনেক পুলিশ হয়তো ওনার মতোন লড়েনি। সেদিন বাকি পুলিশ একত্রে এঁদের সঙ্গে রুখে দাড়ালে ভাঙচুর কারীরা নিজেরাই হয়তো ভেঙ্গে পড়তো।
স্যর স্যলুট 🙏🏼❤
বাকি পুলিশ দের জন্য সমালোচনা চলছে, থামবে না।
২৩।।
না ,রচনা লিখব না!
হ্যা প্রথমে দেখে মনে হোলো তাইতো তেড়ে রচনা কে নিয়ে একটা গ্লিসারিন এর রচনা লিখি। তারপর দেখলাম ফ্ল্যাশবাকে ধোনি সিনেমায় সুশান্ত সিং রাজপুত এর সেই বাণী- জানো, আমরা কোথায় ম্যচ হেরে গেছি- এটি"চ্যূডে"!
বলছি এরকম অনেক প্রভাব- প্রক্ষেপ আসবে সামনে। কিন্তু সেই গুল উপেক্ষা করুন। এরা চায় আমরা রচনা-নুসু-নাচু কে নিয়ে করেনি-বলেনি খেলি। তাহলেই তো ফোকাস সরে গেলো।
এই স্ট্রাটেজি আগেও হয়েছে পরেও হবে।
কিন্তু এইবার এইসবে কাজ হবে না- বিচার চাই। আর, "যারা তার ধামাধারী তাদেরও বিপদ ভারী"।
- শুধু নজর রাখুন কে এই কদিন বিচারের পাশে ছিল আর কে ছিল নিশ্চুপ। সব মনে থাকবে।।
২৪।।
থার্ড ফ্লোর আর তিনতলার মধ্যে পার্থক্য টা বলে দেয়নি। গ্রাউন্ড ফ্লর টাও কাউন্ট করে ফেলেছে!
বোঝাই যাচ্ছে কোন দল পাঠিয়েছে।
২৫।।
ঠিক ছিল আমি, Dhruba Jyoti Ghosh , Sutapa Ghosh Tarafder যাবো, বেরোবার ঠিক আগে দেখি আরেক জন গুটি গুটি পায়ে হাজির।
মা বললো- "চল আমিও যাবো"!
মনে ভাবলাম : বৃষ্টি হয়েছে অনেকটা হাটতে হবে মিছিলে। পারবে কি?
কিছু না বলে দেখলাম নিজে এগিয়ে এলো সবার আগে, বেরিয়ে দাড়ালো বাইরে।
বুঝলাম আজ সত্যি মা মেয়ে স্ত্রী দের এগিয়ে যাওয়ার দিন।
৪ জনে যোগ দিলাম বিরাটি বণিক মোড়ের প্রতিবাদ সভায়।
তারপর মিছিলে হেঁটে যাওয়া ...
মায়ের সাথে স্ত্রী এর সাথে মিছিলে , ভাই এর সাথে প্রতিবাদে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন