###অলিম্পিক কড়চা- ৬ : অপরাজিতা ভিনেশ।
ভিনেশ কুস্তির প্যাচে বিশ্বচ্যম্পিয়ন ভ্যানিশ।।কোয়ার্টার সেমি থেকে ফাইনালে পৌছে নাও কুর্নীশ।।
অপরাজিত এর সেই সংলাপ টা মনে পড়ছে? ধরুন,আপাত দৃষ্টিতে এই সংলাপ টা যদি একটু উল্টে-পাল্টে গেলো। কি হবে বলুন তো? অনেক ছোট গল্পের শেষে এক বিশাল উপন্যাস।আর সেই উপন্যাস এর নাম কি?
"সেটাই শেষ কথা না! তার ২০১৬ অলিম্পিকে চোটের কারণে সরে যাওয়ার দু:খ মিটছে না , তার সাসপেনশনের আগুন নেভানো যাচ্ছে না- বৃজভূষণের অসভ্যতার বিরুদ্ধচারণে পুলিশের লাথি-লাঠি গ্রেফতারিতেও তাঁকে থামানো যাচ্ছে না, কেন্দ্রের রক্তচক্ষু কে উপেক্ষা করে রাস্তায় বসে অন্যায়ের সাথে সে লড়ছে- তা সত্ত্বেও সে জীবন বিমুখ হচ্ছে না, সে লড়তে চাইছে- তার ফল ?
প্রবল প্রতিদ্বন্দী ৮২ ম্যাচ বিশ্বচ্যম্পিয়ন কে ফ্যুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে সে বলছে- না! সে বলছে না,)! শুধু কাজের মাধ্যমে সে করে দেখাচ্ছে, সে জিতে দেখাচ্ছে একের পর এক কঠিন ম্যচ। এর মধ্যে সেমিফাইনাল থেকে ফাইনাল এ পৌছেও গেছে একের পর এক ম্যাচ জিতে।সে নিশ্চুপে বার্তা দিয়ে যাচ্ছে :লড়াই এর মধ্যেই বাঁচার সার্থকতা- প্রতিবাদের মধ্যেই আনন্দ ... উপন্যাস এর নাম : ভিনেশ ফোগত!
অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ৬ আগস্ট ২০২৪
####অলিম্পিক ২০২৪ কড়চা- ৫:।।সেয়ানে সেয়ানে সেন সেন।।
লক্ষণ সেন ব্যস্তসমস্ত হয়ে বাবা বল্লাল সেন কে জিজ্ঞেস করছেন- এই ছেলেটার সাথে কি আমাদের কোনো মিল আছে? বল্লাল সেন রবিবার সকালে নিজের লেখা বই গুলো উল্টে পাল্টে দেখছিলেন। ছেলের অদ্ভুৎ প্রশ্ন শুনে "অদ্ভুৎসাগর" বই এর থেকে মাথা তুলে বললেন কোন ছেলেটা ভেল ভেলেটা? লক্ষণ সেন ব্যস্তসমস্ত হয়ে বলে উঠলেন ছেলেটার নাম "লক্ষ্য সেন"। বল্লাল সেন নাম শুনে মুচকি হেসে বললেন ওহ, সেই নতুন তারকা? হ্যা বেশ ভালো খেলে ছেলেটা। তা ওর নাম শুনে পদবি দেখে প্রশ্ন টা আমারও মনে এসেছে। কিন্ত ওর বাবার নাম শুনে আমি ঠিক ঠাওর করতে পারছি না ও আমার তৈরী কৌলিন্য প্রথার প্রডাক্ট কি না। বাবা র নাম তো "ডি কে সেন"। তাই আর বেশী ভাবি নি। লক্ষণ সেন এই শুনে হেসে বলে উঠল - আহা,ওটা আজকাল কার ফ্যাশন! নাম টা ছোট করে যবন স্টাইলে উচ্চারণ। বাবার নামে আটকে না থেকে ধোয়ী কে দিয়ে খূঁজে ঠাকুরদার নাম টাও পেলাম- দাদুর নাম চন্দ্র লাল সেন। এঁরা বাংলা ছেড়ে বহু পুরুষ আগে প্রবাসী হয়েছে আলমোড়ায়। তাই ভাবছিলাম এর সাথে একটা যোগসুত্র আছেই। এই সেদিন পরিবারের সবাই অলিম্পিক দেখছিলাম- হঠাৎ সুচিত্রা সেন আব্দার করে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠল ও দাদুর দাদু আদি দাদু- এই লক্ষ্য ছেলেটা কি মিষ্টি গো, এ আমাদের বংশেরই তো, তাই না?
সেই আব্দার শুনে একটু তত্ত্ব তলাশ করছি আর কি। বল্লাল সেন শুনে খুশী হয়ে বলল হ্যা, এ আমাদের ই হবে। তা আবার কবে ওর খেলা? কার সাথে?
লক্ষণ সেন বিগলিত হয়ে বললো আজ দুপুরেই ওর খেলা আছে। প্রতিপক্ষ প্রবল শক্তিশালী, পূর্ববর্তী চ্যম্পিয়ন! ওর নাম - ভিক্টর এক্সেলসেন।
বল্লাল সেন প্রতিপক্ষের নাম শুনে বেশ আশ্চর্য হোলেন- একটু ভেবে জিজ্ঞেস করলেন এই বিদেশী ধারার নামের শেষ এও "সেন"? বাবা লক্ষণ- আমি তো জানি আমাদের সাম্রাজ্য বাংলার মধ্যেই ছিলো, তা এই এক্সেল এ "সেন" কি ভাবে আপডেট হোলো?
লক্ষণ সেন কিছু ভেবে গম্ভীরভাবে বললো- দেশ এর থেকে বিদেশে প্রভাব বিস্তার এর বিষয় আমাদের পরিবারে একজন সনামধন্য মানুষ এখনো ধরাধামে রয়েছেন। দেখি যোগযোগ করে উনি কিছু বলতে পারে কিনা?
একটু পরে ধরা ধামে একটা মন্ত্রসিদ্ধ ফোন কল উড়ে এলো- লক্ষণ সেন কলিং অমর্ত্য সেন,
"জানতে ব্যকুল লক্ষ্য এর বিপরীতে এলেক্স ও কি "সেন"?"
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ৪ আগস্ট ২০২৪
#### কড়চা: ৪
https://avrasoura.blogspot.com/2024/08/blog-post.html
হকি-র লাঠিতে ঔপনিবেশিক তুমি দাও গোল ৪ খান।
রাজা-র দম্ভ খানখান, খেলবো না আজ হয়েছে খুব অভিমান।।
আগামিকাল ভারত ব্রিটেন পুরুষ দের হকি কোয়ার্টার ফাইনাল এর আগে একটি বিস্ময়কর ঘটনা হঠাৎ রেকর্ড বই খুলে স্মৃতির ব্যালকনি থেকে এক ঝাঁপ দিয়ে সামনে এসে বললো- এবার অবগুণ্ঠন খোলো। আচ্ছা ভাবুন দেখি বৃটিশ দের জন্য সে দিন টা এক অলুক্ষুণে দিন ছিলো, কি না! তারা পরপর দুই বার হকি অলিম্পিকে চ্যম্পিয়ন(১৯০৮ ও ১৯২০), সেই সোনা জয়ীরা বললো - না ভাই মাফ করে দেন! এইবার আর খেলবো না আমরা অলিম্পিকে।
সেই দিন বৃটিশ রা কি ভেবেছিলো বলুন তো?উৎসুক মন কি কারণ জানতে চাইছে ? চলুন তাহলে মিলেমিশে স্মৃতিচারণ করা যাক সেই বিশেষ ঘটনার।
- বৃটিশাধীন ভারতবর্ষ! তোরা সবে সবে অলিম্পিকে নাম তুলেছিস। তোদের এ কি আস্পর্ধা! ১৯২৮ অলিম্পিকে হকি টিম নিয়ে যোগ দিচ্ছিস, তাও এমন অর্থাভাব যে ১৫ জনের যায়গায় ১৩ জনকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলি! বাকি দুজন এর ১৫০০০ টাকা নেহাত বৃটিশ যুগের বাঙালী রা এগিয়ে এসে ব্যাবস্থা করায় শেষ অব্ধি রক্ষা পেলি। এখন অলিম্পিক তো হবে আমস্টারডমে-হল্যান্ড এ। তা তোরা আমাদের অধীন, তাই মনে বড়ো ইচ্ছে হোলো আয় তবে সহচরী তোদের গোলে বল মারি; হারিবি তোরা জানি তো। আয়, তোরা লন্ডন এ এসে একটু হেরে যা আগে- বাকি দুনিয়া হারাবার আগে আমরা শাসক হিসাবে তোদের হারিয়ে নেই! এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু এ কি করলি রে তোরা?
লন্ডন ঘুরেফিরে "ফোকস্টন ইস্টার ফেস্টিভাল" এর মাঝে আমাদের, বৃটিশ হকি দল কে চার গোল দিবি!
ডিপলি ভেবে দেখ তো এটা কি মানা যায়? তোদের কাছে হেরে আমাদের গাত্রদাহ শুরু হোলো। উহ কি জ্বালা! মনে হোলো গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদি। এ জীবন যখন ব্যাকুল হয়ে কখন তোরা গোকুলে বেড়ে উঠেছিস বুঝতেই পারিনি! আমাদের কেই পেড়ে ফেললি। যা আর খেলবই না!
কোথাকার এক নেটিভ দেশ ভারত, সে সুখহীন নিশিদিন পরাধীন হয়ে কিনা বৃটিশ দের হারিয়ে দেবে। আহা লজ্জা মরি এ কি লজ্জা! - যা আড়ি, খেলবই না!
ব্যস বৃটিশ রা রাগ-অভিমান করে সটান পিছটান দিয়ে অলিম্পিকের থেকে হকি দল তুলে নিলো। পরাধীন ভারত এর হকি দল শাসক এর বিধির বাধন ওদের দেশের মাঠে কেটে দিয়ে শক্তিমান হয়ে আত্মপ্রকাশ করলো পরবর্তী কয়েকদিনের মধ্যেই আমস্টারডাম এর হকি অলিম্পিকে।
বিশ্বহকি তে আত্মপ্রকাশ করলো অজেয় ভারতীয় হকি বাহিনী।
ও হ্যা, সেই ১৯২৮ এর দলের মধ্যমনি ছিল ধ্যানচাঁদ। আরো কয়েকজন বিখ্যাত প্লেয়ার হোলো পতৌদির সিনিয়র নবাব ইফতিকার আলি(আজকের অভিনেতা সইফ- আলি খানের ঠাকুরদা, নবাব পতৌদির পিতা), জয়পাল সিং, বাংলার সৌকত আলি, মধ্যপ্রদেশ এর আর এ নরিস।
পুনশ্চ: এটা না বললে শান্তি নেই-
কাল হাম হারেঙ্গে জিতেঙ্গে পাতা নেহি, লেকিন ইয়ে সত্তর মিনিট টিম ইয়াদ রাখনা ইস বৃটিশ কো হাম হারায়ে থে- হ্যা সেদিন আমাদের একটা পতাকা ছিলো না, একটা স্বাধীন দেশ ছিলো না! তবুও বৃটিশ অহং ভেঙ্গেছিলাম যখন আমাদের সাথে কোনো সমর্থন ও ছিলো না! আজ স্বাধীন দেশের ১৪০ কোটি স্বাধীনতার মাসে চিত্কার করে বলতে চাইছে
... চক দে!
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ৩ আগস্ট ২০২৪
হকি সংক্রান্ত পূর্ববর্তী লেখার লিঙ্ক: কমেন্ট এ
https://avrasoura.blogspot.com/2023/08/blog-post_29.html?m=1
ছবি: ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত
####অলিম্পিক কড়চা: ৩
শেষ ৫২ বছরের হিসাব টা দেখলে বোঝা যাবে কি এক বিশাল বোঝা বয়ে চলেছি আমরা! শেষ ৫২ বছর এক তরফা মার খেতে খেতে আজকে পাল্টা মার- হ্যা ৭-১ এও হেরেছি আমরা।
পদাঘাত এর বদলে পদাঘাত যদি ফুটবলের প্রত্যাঘাত হয় তাহলে লাঠির-"বলে" বদলা একমাত্র হকিতেই সম্ভব!❤🇮🇳🏑
আজকের অস্ট্রেলিয়া বধ এর গুরুত্ব অবশ্যই এই অলিম্পিকে থাকবে।
অলিম্পিকে অস্ট্রেলিয়া বরাবর ভয়াবহ প্রতিপক্ষ। ৭০ এর দশকে অলিম্পিকে ভারতীয় পুরুষ হকি দল লাস্ট হারিয়ে ছিল।
প্রায় ৫২ বছর পরে অলিম্পিকে হকিতে অস্ট্রেলিয়া কে হারিয়ে কোয়ার্টারে উঠে গেলো।
❤🏑🇮🇳
#### অলিম্পিক কড়চা: ২
স্বপ্ন স্পর্শে মেতে উঠল দিল্।
তৃতীয় সুরে মেতে উঠল স্বপ্নিল।।
🥉🇮🇳 তৃতীয় পদক
#####অলিম্পিক কড়চা : ১
দ্বিতীয় সুর দ্বিতীয় বার।
মিলিয়ে দিলো মিষ্টি প্যারিস, আরেকবার।।
(১২৪ বছর পরে )
নরম্যন পিচ্যর্ড, যে ১৯০০ সালে প্যারিস ঘুরতে গিয়ে কাকতালীয় ভাবে বৃটিশ অধীন ভারতের হয়ে নাম লেখায় এবং ভারতের হয়ে দুটি পদক জেতেন।
ঠিক ১২৪ বছর পরে সেই রেকর্ড স্পর্শ করল মানু ভাকের। এক অলিম্পিকে ব্যক্তিগত ইভেন্ট এ দুটি পদক জেতা ভারতীয়, নরম্যন ছিলেন বৃটিশ।
হ্যা দুটি ঘটনাই প্যারিসে ১৯০০ ও ২০২৪
দ্বিতীয় সুর, মনু চলবে বহুদূর।।
🥉দ্বিতীয় পদক এলো ঘরে ❤🇮🇳 মনু,সরবোজ্যোত জুটি তে
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন