হকি-র লাঠিতে ঔপনিবেশিক তুমি দাও গোল ৪ খান।রাজা-র দম্ভ খানখান, খেলবো না আজ হয়েছে খুব অভিমান।।

আগামিকাল ভারত ব্রিটেন পুরুষ দের হকি কোয়ার্টার ফাইনাল এর আগে একটি বিস্ময়কর ঘটনা হঠাৎ রেকর্ড বই খুলে স্মৃতির ব্যালকনি থেকে এক ঝাঁপ দিয়ে সামনে এসে বললো- এবার  অবগুণ্ঠন খোলো। আচ্ছা ভাবুন দেখি বৃটিশ দের জন্য সে দিন টা এক অলুক্ষুণে দিন ছিলো, কি না! তারা পরপর দুই বার হকি অলিম্পিকে চ্যম্পিয়ন(১৯০৮ ও ১৯২০), সেই সোনা জয়ীরা বললো - না ভাই মাফ করে দেন! এইবার আর খেলবো না আমরা অলিম্পিকে।

সেই দিন বৃটিশ রা কি ভেবেছিলো বলুন তো?উৎসুক মন কি কারণ জানতে চাইছে ? চলুন তাহলে মিলেমিশে স্মৃতিচারণ করা যাক সেই বিশেষ ঘটনার।
-  বৃটিশাধীন ভারতবর্ষ! তোরা সবে সবে অলিম্পিকে নাম তুলেছিস। তোদের এ কি আস্পর্ধা! ১৯২৮ অলিম্পিকে হকি টিম নিয়ে যোগ দিচ্ছিস, তাও এমন অর্থাভাব যে ১৫ জনের যায়গায় ১৩ জনকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলি! বাকি দুজন এর ১৫০০০ টাকা নেহাত বৃটিশ যুগের বাঙালী রা এগিয়ে এসে ব্যাবস্থা করায় শেষ অব্ধি রক্ষা পেলি। এখন অলিম্পিক তো হবে আমস্টারডমে-হল্যান্ড এ। তা তোরা আমাদের অধীন, তাই মনে বড়ো ইচ্ছে হোলো আয় তবে সহচরী তোদের গোলে বল মারি; হারিবি তোরা জানি তো। আয়, তোরা লন্ডন এ এসে একটু হেরে যা আগে- বাকি দুনিয়া হারাবার আগে আমরা শাসক হিসাবে তোদের হারিয়ে নেই! এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু এ কি করলি রে তোরা?
লন্ডন ঘুরেফিরে "ফোকস্টন ইস্টার ফেস্টিভাল" এর মাঝে আমাদের, বৃটিশ হকি দল কে চার গোল দিবি!
ডিপলি ভেবে দেখ তো এটা কি মানা যায়? তোদের কাছে হেরে আমাদের গাত্রদাহ শুরু হোলো। উহ কি জ্বালা! মনে হোলো গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদি। এ জীবন যখন ব্যাকুল হয়ে কখন তোরা গোকুলে বেড়ে উঠেছিস বুঝতেই পারিনি! আমাদের কেই পেড়ে ফেললি। যা আর খেলবই না!
কোথাকার এক নেটিভ দেশ ভারত, সে সুখহীন নিশিদিন পরাধীন হয়ে কিনা বৃটিশ দের হারিয়ে দেবে। আহা লজ্জা মরি এ কি লজ্জা! - যা আড়ি, খেলবই না!
ব্যস বৃটিশ রা রাগ-অভিমান করে সটান পিছটান দিয়ে অলিম্পিকের থেকে হকি দল তুলে নিলো।  পরাধীন ভারত এর হকি দল শাসক এর বিধির বাধন ওদের দেশের মাঠে কেটে দিয়ে শক্তিমান হয়ে আত্মপ্রকাশ করলো পরবর্তী কয়েকদিনের মধ্যেই আমস্টারডাম এর হকি অলিম্পিকে।
বিশ্বহকি তে আত্মপ্রকাশ করলো অজেয় ভারতীয় হকি বাহিনী।
ও হ্যা, সেই ১৯২৮ এর দলের মধ্যমনি ছিল ধ্যানচাঁদ। আরো কয়েকজন বিখ্যাত প্লেয়ার হোলো  পতৌদির সিনিয়র নবাব ইফতিকার আলি(আজকের অভিনেতা সইফ- আলি খানের ঠাকুরদা, নবাব পতৌদির পিতা), জয়পাল সিং, বাংলার সৌকত আলি, মধ্যপ্রদেশ এর আর এ নরিস।

পুনশ্চ: এটা না বললে শান্তি নেই-
কাল হাম হারেঙ্গে জিতেঙ্গে পাতা নেহি, লেকিন ইয়ে সত্তর মিনিট টিম ইয়াদ রাখনা ইস বৃটিশ কো হাম হারায়ে থে- হ্যা সেদিন আমাদের একটা পতাকা ছিলো না, একটা স্বাধীন দেশ ছিলো না! তবুও বৃটিশ অহং ভেঙ্গেছিলাম যখন আমাদের সাথে কোনো সমর্থন ও ছিলো না! আজ স্বাধীন দেশের ১৪০ কোটি স্বাধীনতার মাসে চিত্কার করে বলতে চাইছে 
... চক দে!

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ৩ আগস্ট ২০২৪

হকি সংক্রান্ত পূর্ববর্তী  লেখার লিঙ্ক: 

 https://avrasoura.blogspot.com/2023/08/blog-post_29.html

ছবি: ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"